উদিত নক্ষত্র আমি। শূন্যতার বিরুদ্ধগামী, পূর্ণ করে তুলেছি বিস্তার।
আমি আলো, দীপ্ত করে তুলেছি পৃথিবী।
আমি তাল মাত্রা বাদ্যযন্ত্র ছাপিয়ে ওঠা আত্মার ক্বেরাত।
আরম্ভ ও অন্তিমের মাঝখানে স্বপ্ন দেখি সূর্যের সিজদারত নিঃশেষিত
আগুনের বিনীত গোলক।
নবী ইব্রাহিমের মতো অস্তগামীদের থেকে আমি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি।
আমিও জেনে গেছি কে তুমি কখনো অস্ত যাও না। কে তুমি চির বিরাজমান!
তোমাকে সালাম। তোমার প্রতি মাথা ঝুকিয়ে দিয়েছি। এই আমার রুকু,
এই আমার সিজদা
হ্যাঁ, আমি জেনে গেছি একটা ঘায়ে ভরা, রক্ত ক্লেদ, প্রাণীদের বিষ্ঠায় আকীর্ণ
পৃথিবী নামক গ্রহটি কিছুই নয়। তবুও এতে বাস করি কেবল
কেবল তোমার জন্য। কারণ
এর চেয়ে উত্তম কোনো নক্ষত্র তুমি শূন্যে ভাসাও নি। আমার
চারপাশে যারা সাঁতার কাটে-মঙ্গল, বৃহস্পতি, শুক্র,
শনি, প্লেটো- অনন্ত অগ্নিময় কালের পুকুরে। আমি তোমারি বুদবুদ!
২
দেখি শুধু মানুষের ঘরকান্না। জন্ম, মৃত্যু, আহার, মৈথুন। আর শুনি
দিকভ্রান্ত বাঁচার কসরৎ। মনে হয় মৃত্যু নেই। আছে
শুধু মৃত্যু যাতনা। শুধু জন্ম ও যাতনা। কিন্তু মৃত্যু আসে
চুপি চুপি। তাদের প্রেমের মত। তাদেরই উদর ছিঁড়ে
বেরিয়ে আসা সন্তানের মত। মৃত্যু আসে।
মাটিকে মোরব্বার মত ছিদ্র করে ভরে তোলে নিজেদেরই কবরের ঢিবি।
কবরের গর্তে গিয়ে কোথায় লুকায়? কাফনের আবরণে তাদেরই
বিষণœ বিব্রত মুখখানি কীভাবে আড়াল করে চলে যায় তারা।
অনন্তের খেয়াঘাটে চলে যায় পারানির কড়ি না নিয়েই।
৩
হে আমার আরম্ভ ও শেষ। অনন্তের কিনারা আমার
এবার আমাকে নাও। অপ্রস্তুত আত্মা আমি। কিন্তু জানি তুমি ছাড়া আমার
দোদুল্যমান শরীরের নৌকাখানি অন্যঘাটে জমায়নি পাড়ি।
পারানির কড়ি নেই। কিন্তু ছিল তোমাতে ভরসা।
পাপী আমি। কিন্তু জানি বহুদূরে আছে এক ক্ষমার তোরণ।
ভ্রান্ত আমি। কিন্তু জানি আছে এক দয়ার্দ্র হাসির দীপ্তি অনন্তে, অসীমে।
হে আমার আরম্ভ ও শেষ।