রাত এগারোটা। মুকিত ‘জাতীয় মুদ্রণ’ থেকে রাস্তায় নামে। হাতে একটা কাল বান্ডিল। নামতেই সামনে রিক্সা। রিক্সাওয়ালা হাঁক মারে-‘যাইবেন নি সাব।’ মুকিত বিরক্ত হয়। মাথাটা টন টন করে ওঠে ওর। মুখে কিছু বললো না। লেনের রাস্তা। হৃষিকেশ দাস রোড। পাশাপাশি দুটো রিক্সার চলাই কষ্ট। দিনের বেলা প্রায় সময়ই জ্যাম থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের তখন ঠায় রিক্সা-গাড়িতে বসে থাকতে হয়। ও যখন কাগজে কাজ করতো, তখন লিখেছিল, “নারিন্দায় ওভার ব্রিজ চাই”। কথাটা মনে হতেই ওর খুব হাসি পায়। মনে মনে ভাবে কি উদ্ভট প্রস্তাবই না দিয়েছিলাম। আবার ভাবে, না তেমন আর উদ্ভট কি- উদ্দেশ্য তো ছিল বিষয়টা সোচ্চারে তুলে ধরা। তাতে তো সে সফল হয়েছিল। খুব খুশি-খুশি লাগে ওর। ভাবে, আহা ওমন করে যদি কাগজে কাজ করা যেত। কাজ করা যেত মানুষের জন্য। কত উপকার, ছাই উপকার হতো- মেজাজটা ওর তিরিক্ষি হয়ে ওঠে। কতজন তো কাগজে কত কিছু লেখে, তাতে কাজ হয় কই? কেউ তো কারো কথা কানে নেয় না। ‘যাইবেন নি সাব’- পিছন থেকে রিক্সাওয়ালা হাঁক মারে; মুকিত কেঁপে ওঠে। রাগে গড় গড় করতে করতে বলতে থাকে, ‘দিনে যখন রিক্সা খুঁজি, তখন পাই না এখন যাইবেন নি সাব, যাইবেন নি সাব। রাত হলেই ‘যাইবেন নি সাব’। দিনের বেলা ‘যামু না’। যত্তসব। রিক্সাওয়ালা: ‘ক্ষ্যাপেন ক্যা সাব, বললেই তো হয় যাইবেন না’, বলেই দ্রুত বেগে রিক্সাটা ডানে দয়াগঞ্জের দিকে মোড় নেয়। মুকিত কটমট করে সে দিকে তাকায়।
নারিন্দার মোড় পার হতেই ওর চোখে পড়ে নতুন আরও দুটো বিরানির দোকান। ছাগল ও মোরগের ছবি দিয়ে বেশ বড় বড়। বেমানান। সাইনবোর্ড টাঙানো রয়েছে। দোকানগুলোতে খুব ভিড়। জোয়ান জোয়ান ছেলেরা খুব খাচ্ছে। ও যখন শরৎগুপ্ত রোডে থাকতো, দেশ তখন মাত্র স্বাধীন হয়েছে। এ এলাকায় তখন কোনো বিরানির দোকান ছিল না। কিছুদিন পরে মোড়ে একটা বিরানির দোকান খুলেছিল। তখন থেকেই দেখছে বিরানির অনেক খরিদ্দার। এখন এই মোড়েই পাঁচটি দোকান। দেদার চলছে। ছেলেরা খালি বিরানি খাচ্ছে। কি কুদুম কুদুম স্বাস্থ্য ছেলেগুলোর। নিজের দিকে তাকায় মুকিত। কারো সঙ্গেই তুলনা হয় না। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কোনো বাড়ন নেই বরং দিন দিন ভাঙছে। সারা শরীরে ক’খানা মাত্র হাডডি। চোখ কোটরাগত। ভাবে, আচ্ছা দেশের অবস্থা তো দিন দিন খারাপ হচ্ছে, কিন্তু এই ছেলেগুলো এত পয়সা পাচ্ছে কোথায়? দেখে তো মনে হয় না কাজকর্ম করে। হাইজ্যাক, ব্যাংক লুটও তো এখন কমে গেছে। স্বাধীনতার পর না হয় এসব করেই খেয়েছে। এখন পয়সা পাচ্ছে কোথায়? হঠাৎ মনে পড়ে রকিব- (ওর বন্ধু) সেদিন বলেছিল, জানিস, এখন ছেলে-ছোকরারা না সব সাপ্লাইয়ের ব্যবসায় নেমেছে। খুব সোজা ব্যবসা। পারসেন্টেজ অনুযায়ী ঘুষ দিয়ে শুধু মাল-পত্র সাপ্লাই করা। দেদার কামাই করছে ব্যাটারা। তা করুক, তাতে আমার কি ভাবতে ভাবতে সামনে এগুতেই দেখে একটা জটলা- একটা রিক্সা এবং একজন মেয়ে মানুষ : মুকিত বুঝতে পারে, আবার আগায়। কিছু দূর এগোতেই ভয়ে অস্থির হয়ে ওঠে সে, কাছাকাছি হতেই কানে ভেসে আসে-তোর মায়েরে…।
চোখ তুলে তাকাতেই দেখে, চলন্ত রিক্সায় বসা একটা ১৮-২০ বছরের ছেলে, পরনে সাদা লুঙ্গি, হাতে দামি ঘড়ি, খুব হাম্বি-তম্বি করছে। পাশে বসে একজন তাকে আগলাচ্ছে। রিক্সাটা পাশ দিয়ে যেতেই মুকিত তীব্র এবং ঝাঁঝালো একটা গন্ধ পায়। মুকিত কিছু ভাবে না। ক’বছর ধরে প্রতিদিনই তো সে এমন দৃশ্য দেখছে। হঠাৎ তার গৌড়ীয় মঠের কথা মনে পড়ে। কি আস্পর্ধা নিয়ে বুক ফুলিয়ে মঠটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে। অথচ এটা ভাঙার জন্য কি চেষ্টাই না ওরা করেছিল- মনে হতেই মনটা ওর ঘৃণা-লজ্জায় নুয়ে পড়ে। পরিষ্কার মনে আছে ওর ৭১-এর ২৬ কি ২৭ শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা এই মঠে আগুন লাগিয়েছিল। গোলাবারুদ ব্যবহার করে এটা উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি। মুকিতের স্মৃতিতে ভেসে ওঠে- সেদিন ও খুব দুঃখ পেয়েছিল, কার সঙ্গে যেন মনে নেই- এ নিয়ে তুমুল কথা কাটাকাটির সময় ও বলেছিল: মুসলমান হয়ে ইসলামের নামে মঠ-মন্দির তো নয়, ওরা মসজিদ ভাঙছে। মসজিদ ভাঙার এই শাস্তি ওদের পেতেই হবে। খুব মনে পড়ে ওর, রেসকোর্সের মাঠ কিভাবে ওরা ধ্বংস করেছিল। মুহূর্তে ওর কানে যেন শব্দ হতে লাগল ইন্দু কিদার হ্যায়, ইন্দু কিদার হ্যায়… ইত্যাদি।
ধীরে ধীরে আগায় মুকিত। বলধা গার্ডেন ও খ্রিস্টান গোরস্তানের তেমাথায় পৌঁছতেই কোণের চা দোকান থেকে বিকট চিৎকার ভেসে আসে ‘হাম-তুম এক কামরেমে বন্ধ হো।’ কি বিচ্ছিরি গান। মনটা খিচিয়ে ওঠে মুকিতের। গলা ফাটিয়ে ওর বলতে ইচ্ছে করে: আজকাল খুব হিন্দি-উর্দু গান গাওয়া হচ্ছে! অথচ হিন্দি-উর্দু গানের রেকর্ডগুলো কি হারেই না ভাঙা হয়েছে। একটু চা খেতে ইচ্ছে করে ওর। গলাটা শুকিয়ে আসে। পকেট হাতড়ায়। পকেটে পঁত্রিশ পয়সা। না, চা খাওয়া হলো না। মনটা আরো বিষিয়ে ওঠে। কি লাভ এত খেটে, এত কাজ করে। দুটো চাকরি করেও ইচ্ছামত চা খাওয়া যায় না। দূর ছাই, চা কি? রেশন তুলা যায় না, বাচ্চার দুধ কেনা হয় না, বউয়ের জন্য ওষুধপত্র কিনা যায় না। রিক্সায় চড়া যায় না। মনটা ছিঁড়ে ছিঁড়ে খান খান হয়ে যায়। সবল কুঠারী যেন কাঠ চিড়ে খণ্ড খণ্ড করে ফেলেছে।
স্বাধীনতার আগে বড় একটা সে হাঁটেনি। হাঁটতে পারতোও না। রিক্সায় চড়ে যাতায়াত করেছে। এই কিছুদিন আগ পর্যন্ত প্রতিদিন ১০-১২ টাকা করে রিক্সার পিছনে খরচ করেছে। বাসে না চড়ে রিক্সায় চড়েছে। এর একটা যুক্তি সে দাঁড় করেছিল নিজের মনকে প্রবোধ দেয়ার জন্য। মনকে সে বলতো : সিনেমা দেখি না, নাটক দেখি না, মদ খাই না, মাগিবাজি করি না, আড্ডাবাজি করে পয়সা উড়াই না। শুধু একটু রিক্সায় চড়ি, এইতো। মন এটুকু তুমি মেনে নাও। মনে মনে এ কথা বলে এমনভাবে সে মাথা নাড়তো, মন যেন এতে পুরোপুরি সায় দিয়েছে। এই তো কিছুদিন আগে সহকর্মী সারওয়ার সহানুভূতির সুরে বলেছেন : মুকিত সাহেব, আপনি একটা আস্ত বোকা, কষ্ট করে বাড়তি যা আয় করেন, তার তো সবই রিক্সার পেছনে ঢেলে দেন। মুকিত ঝটপট জবাব দিয়েছিল : কষ্ট করে আয় করি, আরাম করে ব্যয় করার জন্য। কষ্ট করে আয়ও করবো, আবার কষ্টে থেকে ব্যয় করবো- এটা হয় না। সারওয়ার আর কথা বাড়ায়নি। খুব হাসি পায় মুকিতের। বুঝতে পারে, নিজের কাছে সে নিজেই ধরা পড়েছে। সহকর্মীর সাথে সে যা বলেছে, তার মধ্যে একটা অহংবোধ ছিল। একটা অহংকার ছিল। কানগুলো ওর গরম হয়ে ওঠে। কানের মধ্যে একটা সাধুবাক্য আইঢাঁই করে ওঠে : অহংকার পতনের মূল।
পাশ দিয়ে দ্রুত বেগে রিক্সাগুলো চলে যায়। মুকিতের সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই। তার দৃষ্টি শান্ত-সমাহিত গোরস্তানের দিকে। ওর কাছে মনে হয়, আহা এরা কত আরামে আছে। কোনো চিন্তা নেই-ভাবনা নেই। শুধু নিশ্চিন্তে পড়ে পড়ে ঘুমানো। গোরস্তানের দেয়াল ঘেঁষে সে দাঁড়ায়। চারদিকে দৃষ্টি ফেলে। একবার প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে যায়। একরাশ ধুলো নাকে-মুখে ঢুকে পড়ে! সশব্দে কাশি বেরিয়ে আসে। হঠাৎ তার মনে পড়ে কে যেন বলেছিল, মুসলমান ছাড়া আর কেউ বেহেস্তে যাবে না। সৎ-সাধু-সন্ত-হিন্দু-খ্রিস্টান কেউ বেহেস্তে যেতে পারবে না। মুহূর্তে মনটা ওর কবরে শুয়ে থাকা খ্রিস্টানদের জন্য গলে যায়। সামনে পা বাড়াতেই হাত পাতে। একজন পরিপূর্ণ পুরুষ। সাথে তার দু’জন মহিলা আর দু’টি শিশু। ফরিদপুর থাইক্যা লঞ্চে কইরা আইতাছিলাম, পথে সব চুরি হইয়া গিয়াছে। যামু আড়াইহাজার। পয়সা-কড়ি কিছুই নাই। ছেলেগুলো না খাইয়া কাহিল হইয়া পড়ছে।” কেমন সন্দেহ হয় মুকিতের। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় রাতেই তো এমন দলের মুখোমুখি হয় সে। তবে কি বন্ধু মারুফের কথাই ঠিক। ও বলেছিল, ‘তুমি জানো না মুকিত, এগুলো স্রেফ ব্যবসা। হাসি পায় মুকিতের। কত রকম ব্যবসা এখন। হাজারো রকম ব্যবসা। আগে এসব ছিল না। মন্দ কি, এভাবে যদি কিছু লোক বেঁচে যায়- যাক না। সবাইতো এখন এমন ব্যবসাই চালাচ্ছে। এদের আর দোষ কী? আর এভাবে এরা কত পয়সাই আর লুট করছে? কিছু না। বাচ্চাগুলোর দিক তাকিয়ে ওর মন গলে যায়। পকেট হাতড়ায় সে। সেই পঁয়ত্রিশ পয়সা। লজ্জা পায় সে ! কেমন করে দিবে এ ক’টা পয়সা! মুহূর্তের চিন্তা, তারপর জোয়ান মানুষটার হাতে পয়সাগুলো খুঁজে দিয়ে মুখে বলে, আমার কাছে আর কিছু নেই।
হাটখোলায় লোকজন নেই। রাস্তার মাঝখানের পুলিশ ফাঁড়িতে ২-৩ জন পুলিশ। ছোট-পাকা ফাঁড়িটা মুকিতের কাছে স্মৃতিসৌধ বলে মনে হয় । খুব মনে আছে ওর। এখানে এই আম গাছটার নিচে উপুড় হয়ে পড়েছিল একটা লাশ। ’৭১-এর ২৫ কি ২৬শে মার্চে সে বুলেট বিদ্ধ হয়েছিল। একতাল রক্ত পড়েছিল ওখানে। ২৭শে মার্চ সকালে মুকিত দেখেছিল সে দৃশ্য। কেমন ভয় ভয় লাগে ওর। মনে হয়, সেই অজানা-অচেনা লোকটির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই বোধ হয় এই সৌধ। অভিসারের সাইনবোর্ডে বিকট ন্যাংটা ফটো। রাস্তায় কয়েকটা কুকুর ঘুরঘুর করছে। ওর কেবলই মনে হয় দেশটা দিন দিন যেন রসাতলে যাচ্ছে। মানুষগুলোও কেমন ধূর্ত শিয়ালের মত হয়ে উঠেছে। পাশ দিয়ে মুরগির বাচ্চার ডাক দিতে দিতে একটা নতুন টয়োটা কার টান নেয়। বিচ্ছিরি লাগে মুকিতের কাছে। এ আবার কেমন ছ্যাবলামো বাবা! গাড়ির হর্ন এমন তর কেন? অভ্যস্ত না হলে কেউ গাড়ি চাপায় পড়তে পারে। ট্রাফিকওয়ালারাই বা করে কি? প্রায়ই তো ট্রাফিক সপ্তাহ পালিত হচ্ছে, কিন্তু এসব ন্যাকামির দিকে নজর নেই কেন? প্রশ্নে ঝড় উঠে মুকিতের মনে। আসলে মানুষ তার সঠিক অবস্থান হারিয়ে ফেলেছে। রুচি-বিকৃতির মহড়া চলছে সর্বত্র। মাত্র নয় মাসে দেশ স্বাধীন হওয়ায় সব কিছুর গুরুত্বই ম্লান হয়ে গেছে। সব কিছুকেই হালকা-লঘু-খেলো মনে হচ্ছে। দেশবাসীর কাছে দুনিয়ার সব কিছুর মূল্য টাকার মানের মত কমে গেছে। কোনো ব্যাপারেই মানুষ আর সিরিয়াস হতে পারছে না। এসব আলতু ফালতু কত কথা ভাবে মুকিত।
‘মধুমিতা’র শো বোধ হয় অনেকক্ষণ আগে ভেঙেছে। একটা থমথমে ভাব। বাঁ পাশে ছোট জটলা। উচ্চবাচ্য নেই। লাইন ধরে ফুটপাথে মেয়েমানুষ শুয়ে আছে। মুকিত লক্ষ্য করলো দু’জন লোক মেয়ে মানুষগুলোর মুখের ঘোমটা তুলে তুলে কি যেন দেখছে। আর তাকাতে পারে না মুকিত। মুখটা তার রি-রি করে ওঠে। আহ! কি স্বাধীনতা! ঘরের বধূরা আজ ‘জনপদবধূয়া’ হয়েছে।
অনেক রাত হয়েছে। ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে যায় মুকিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে পুলিশ পথ রোধ করে দাঁড়ায়। কারফিউর কথা কিছুক্ষণের জন্য তার মনে ছিল না। তার অপরাধ সে কারফিউ ভঙ্গ করেছে হাজার অনুরোধেও পুলিশ ছাড়ে না। ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। ঘরের কোণায় বসিয়ে রাখে। ফাঁড়ি থেকে তিন মিনিটের হাঁটা পথের দূরত্বেই তার বাসা। সরকারি বাসা। সরকারি অফিসার সে। কিছুই শুনে না পুলিশ। অথচ এরপর অনেককে তারা ধরেছে, আবার ছেড়েছে। মুকিতও ছাড়া পেত কিন্তু …।
মশা কামড়ায়। মুকিত বসে বসে মশা মারার চেষ্টা করে। মুকিতের চোখের সামনে বার বার ভেসে উঠে অপু আর অপুর মা’র ম্লান ও বিষণ্ন ছবি। না জানি ওরা কত অস্থির হয়ে পড়েছে। অপুর মা অপুকে নিয়ে ব্যালকনিতে হয়তো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। অপু হয়তো আব্বু আব্বু করে হাত পা নেড়ে চিৎকার করছে। ছোটভাই মানিক হয়তো তার খোঁজে বেরিয়ে অন্য কোনো ফাঁড়িতে পুলিশের হেফাজতে আটকা পড়ে আছে। হঠাৎ ওর মনে পড়ে অপুর মা বিকেলে বলেছিল, বাজার না আনতে পার, অপুর দুধ কিন্তু আনবে। ক’দিন থেকেই তো বলছি ও বুকের দুধ পাচ্ছে না। তুমি তো খেয়ালই করছ না। আজ যেভাবেই হোক দুধ নিয়ে আসবে। মুহূর্তে কানের পর্দায় যেন বিকট শব্দ হয়। চোখে শুধু যেন তারা দেখে মুকিত। চোখ দিয়ে দর দর করে স্রোত নামে। দু’হাতে মুখ ঢেকে প্রাণভরে কাঁদে মুকিত। দেশের জন্য আরেক দিন সে এমনভাবে কেঁদেছিল। আর আজ কিসের জন্য সে কাঁদছে?
পুলিশগুলো বিরক্ত হয়। গালাগালি করে। টেনে হেঁচড়ে ভ্যান-এ ওঠায় মুকিতকে। মুকিত ভাবে হয়তো বাসায় পৌঁছে দিবে। কিন্তু না বাসার সামনে দিয়ে পূর্বদিকে ভ্যানটি অনুচ্চ স্বরে এগিয়ে যায়। মুকিতের ঘাড় সামনের দিকে, পূর্বদিকে।…ওর বাসার ব্যালকনিতে অপুর মা অপুকে বুকের মধ্যে ল্যাপটে ধরে দাঁড়িয়ে আছে।