অলৌকিক বর্ণে লেখা থাকে
সেই মুখগুলো করুণ এবং দৃপ্ত রেখায় আঁকা
বসন্ত-দিন যদিও সেদিন ছিল বৈশাখী শাখা
ছিল উজ্জ্বল আলোক সেদিন বজ্রের চেয়ে বাড়া
প্রতিবাদগুলো ছিল মনোহর। ছিল সে দৃষ্টিকাড়া
ঘটনার চেয়ে ঘনাবহুল জন্মদাতা
ধ্বংসস্তূপ ফুঁড়ে উঠে এলো একটি স্নিগ্ধ পাতা
অজস্র আছড়ে যে পড়ে অনন্য একদিন
বুঝতে পারি না ভাষাহীনতায় কিভাবে শুধাবো ঋণ
দিনগুলো সেই অলৌকিক বর্ণে লেখা থাক
ঘুচুক এবার দুর্দৈব চিরতরে ঘুচে যাক।
অ্যারিওপ্যাজেটিকা
জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী স্মরণে
তোমারই সুবাদে ছুঁয়েছি মিল্টনের অ্যারিওপ্যাজেটিকা
শব্দের সীমানায় সেই তুমি সৌম্য দাঁড়িয়ে।
কোলাহলে অভিরুচি নেই, একালের সন্ত বুঝি।
জেনেছিলে ধর্মের মর্ম অন্য কোথাও, নয় বাকওয়াজি।
চলেছো একাকী। সার্বক্ষণিক ভাবনাগুলো ইহজাগতিক।
অথচ চিরায়ত মূল্যবোধ চিড় খায়নি এতটুকু।
চেতন-অচেতনে রবীন্দ্রনাথের গান সম্মোহিত করেছে তোমাকে।
জাগতিক ঐশ্বর্যে নির্লোভ, কী অপার
ধ্যানাবিষ্ট চিত্ত তোমার! অসীমে বসতি।
মননকে দুলিয়েছো চেতনার নিজস্ব স্বোপানে
আর তাই অধর ছাপিয়ে ওঠে বৈদগ্ধের অদৃশ্য আল্পনা।
ভাবনার অনুষঙ্গ
এই নির্লিপ্ত অর্থহীন-নিরন্তর ভেবে থাকি, ভাবি
আর এই ভাবনারা যতিচিহ্নহীন
ব্যঞ্জনায় কেবলই অধীর
অবুঝ শিশুর কাকলী…
নিরূপম কিশোরীর কলস্বর
সবই জানি ভাবনার অনুষঙ্গ
বন্য প্রাণীর সাড়স্বর গর্জন
তুচ্ছ নয় কোনটাই।
অথচ ঝড়-ঝাপ্টায় বেসামাল সবকিছু
তবু থাক শৈশব স্মারক স্বরবর্ণের কুহেলী উচ্চারণ
অন্য কোন নিঃশব্দ আমন্ত্রণ
মনের গভীরে ডেকে ফেরে।
মেঘেদের ভ্রম
কে কাকে ছাড়িয়ে যায়- কাকে তুমি
বলছো অতিক্রম
ঘুরে ফিরে পুনরাভিনয়, মেঘগুলো
মেঘেদের ভ্রম
কুয়াশায় বাষ্পীয়ভূত আলোড়িত
মেঘের পত্তন
জীবন হারিয়ে যায়-অসম্ভব
সে এক অনুপুঙ্খ ভ্রমণ।
মেঘ নেই, বৃষ্টি নেই-
দেখা নেই কারো
মাড়িয়ে রৌদ্রের ছায়া
অন্তহীন ছুটে চলো আরো।
রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে
শরণার্থী শিবিরে ফুল্লরা। সম্ভ্রম হারিয়েছে কাল রাতে।
স্তব্ধবাক কিশোরীর দু’চোখে শূন্যতা-
বোধ লেশহীন ফুল্লরা এখন
শরণার্থী শিবিরে নেই মানবিক অনুভূতি কোনো।
দু’মুঠো অন্ন চাই: সে ভাষাও হারিয়েছে বালক বেলাল।
প্রকৃতিতে দৃশ্যমান চাঁদ-নজরে পড়ছে না আর কারো
লক্ষ তারার শোভা অজানাই থেকে যাবে রোহিঙ্গা শিবিরে
মনুষ্যরূপী হায়েনারা ওঁৎ পেতে আছে এখন সেখানে
থেকে থেকে কঁকিয়ে উঠছে সদ্যোজাত মানবসন্তান।
মধ্যরাতে নগ্ন, রক্তাক্ত চাঁদ হয়ে ওঠে সভ্যতার বীভৎস ফসিল।
সৌকর্য রয়েছে সব কাজে
কবি মুকুল চৌধুরীকে
মুকুল, বলতে দ্বিধা নেই, আপনার
সব কাজে সৌকর্য রয়েছে।
বেশ দূর জালালাবাদ থেকে পাঠানো কবিতাগুচ্ছ
আবারও একই সিদ্ধান্তে অটল থাকতে শেখালো।
স্বর্ণখচিত আশির দশক আমাদের দাঁড় করিয়েছিল এক দৃঢ় পাটাতনে
সে সময়ে আমরা পেয়েছি ব্যতিক্রমী কিছু ব্যক্তির সৎসর্গ
কৃতির অধিক মনুষ্যত্বকে যারা দিয়েছেন মর্যাদা।
প্রকৃতি নিয়েছে টেনে অসীমের গহিনে তখন
গীতবিতানের আবহে চিত্তজুড়ে ডেকেছে ডাহুক
যাদের পেয়েছি কাছে, তারা আজ অন্য কোনো লোকে
ব্যতিব্যস্ত ইমতিয়াজ নিমগ্ন হৃদপাঠে
‘জিবরাইলের ডানা’ খ্যাত শাহেদ আলীর
দু’চোখ আশ্চর্য দ্যুতিময়
একজন মান্নান সৈয়দ দিয়েছেন দিকনির্দেশিকা
যার সাম্প্রতিক কোনো লেখা কিংবা সাক্ষাৎকার
ভুলেও পাই না আর একালের খবরের কাগজে
অলৌকিক বার্নাবাসের বাইবেল অকস্মাৎ ঢেউ তুলে যায়
‘আফগানিস্তান আমার ভালবাসা’ খাইবার পাস অতিক্রম করেছে কখন
মুকুল, নামসর্বস্ব উল্লেখ বড্ড বেমানান
কেননা, অনেক কিছুরই নেপথ্যে
রয়েছে আপনার অকাতর, নিঃস্বার্থ, সহাস্য শ্রম…