ওরা জড়ো হয়েছিল বজ্রাঘাতে নিহত পাখিদের শোকে
এরকম বিষয়ে যে কোনও বিশেষ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ নেই কিংবা এমন অপঘাতের পরিত্রাণ প্রক্রিয়ার উদ্ভাবন যে সময়সাপেক্ষ ব্যাপার ওরা এসব না ভেবেই নিজেদের উলঙ্গ করে রাজপথে নামিয়েছে !
চিৎকার চেঁচামেচি করতে করতে একের পর এক ওরা বলতে লাগলো : প্রকৃতির এসব অন্যায় আর মেনে নেয়া যায় না, এই নিষ্ঠুরতা সমুলে বন্ধ করতে হবে, আহত-নিহত সব পাখিদের জন্য শোক প্রস্তাবের পাশাপাশি দ্রুত যেন এ সংকট সমাধানে জাতিসঙ্ঘ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে; অন্যথায় আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করবে এবং আপনি দেখবেন, আমাদের নগ্ন-সমাবেশের বাইরে শহরে আর একজনও অবশিষ্ট নেই !
শ্রোতাদের কয়েকজন বলাবলি করছিল: পাখিদের জন্য ওদের ভালোবাসা দৃষ্টান্ততুল্য, এঁরাই প্রকৃত মানবতাবাদী, মঙ্গল হোক সবার ।
ওদের বক্তব্যে অতি-মুগ্ধদের একজন ছিল নবীন সংবাদকর্মী, খুব আগ্রহের সাথে তিনি পাখিপ্রেমী সংগঠনটির মুখপাত্রকে জিজ্ঞেস করল: গতকাল সম্মিলিত বোমারু বাহিনীর হামলায় হালব ও বসরা’য় একশ একত্রিশটি শিশুর খুলি উড়ে গেছে, এ বিষয়ে আপনার দরদী কণ্ঠ থেকে কিছু শুনতে চাই ।
মুহূর্তেই লোকটির সাংগঠনিক বদান্যতা উবে গেলো, সমানে নাক ও ভ্রু কুঁচকে খুব শিথিলভাবে একজন কূটনৈতিকের ভাষায় সে বলেছিল: এসব বিচ্ছিন্ন বিষয়ে আমাদের কোনও ভাষ্য নেই, আপনি বরং দক্ষিণে অবস্থিত ওই ধর্মশালাটির দিকে এগুন, মশাই ।