এখানে দাঁড়াও
উত্তাল ঢেউ- তবু ভাসতেই হবে
সাগরে নদীতে- শীতে কেঁপে অবিরাম
বয়ে যেতে হবে অবধারিতের ভার
তোমাকে বাঁচতে হবে
ঘোর অবেলায় নির্বান্ধব একা,
কুটিলের কাল কান টেনে এনে
নুইয়ে ধরবে মাথা-
তাড়িয়ে বেড়াবে বামন পল্লি থেকে
সুবিশাল নগরীতে,
জুটবে না শীতে মাথা গুঁজবার ঠাঁই-
তবু একদিন দাঁড়াতেই হবে
সেই সব সমাবেশে
যেখানে গণ্ডমূর্খের দল
ধীমান হিসেবে নাচে-কুঁদে ফোলে-ফাঁপে,
তুমিও জানবে এখানে প্রতিভা
লজ্জায় গেছে অবগুণ্ঠনে স্বেচ্ছা-নির্বাসনে;
এইসব দেখে শুনে
তুমিও কি শেষে সুদূরে পালাবে নাকি?
এখানে দাঁড়াও অবধারিতের মুখে
উত্তাল ঢেউ- তবু দাঁড়াতেই হবে।
নিভে গেছে সব
শরবনে ভরে গেছে নদীর দু’পাশ
শরতের কাশ আজ কোথায় উধাও
জেগে-ওঠা সিক্ত বালুচরে
শনশন শব্দ তোলে মলিন হাওয়ারা
মলিন শব্দের মানে আছে অভিধানে
সে-কথা লেখাও আছে নদীর পাঁজরে;
তোমার আকাশ নীল ছিলো একদিন
গ্রীবায় জড়ানো ছিলো নীলকান্তমণি
উত্তর সাগর ছিলো চোখের তারায়;
আজ দেখি নদী নেই-আকাশ ধূসর
মানুষের স্বপ্ন-সাধ নিভে গেছে কবে
তোমার চোখের কোণে অকালের কালি।
শক্তির প্রমত্ত উল্লাস
যেদিকে তাকাও- শুধু শক্তির প্রমত্ত উল্লাস;
তীক্ষè রোদের বল্লম আজ তোমাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে
একালের হেলিওস! কেটে-ছিঁড়ে একাকার, আর
ছেঁচড়া পোড়া শানকির মতো তেরাবেঁকা তোমার পৃথিবী,
অন্যেরা বসে আছে নিরাপদে ঠাণ্ডা গুহায়- সেখানেই পাড়ে তারা
কুটিল শঙ্খিনীর মতো কাঁড়ি কাঁড়ি অনিষ্টের ডিম,
আর নিয়মিত তা দেয় সেখানে;
চারদিকে শুধু চাই-চাই আর ধন গর্বের প্রাকৃত উল্লাস,
এই বিক্ষত ও বিব্রত দেশে কার গোয়ালে কে যে দেয় ধুঁয়া-
সব ধুলোয় অন্ধকার;
আকণ্ঠ দুর্নীতির পাঁকে- ডোবা রাজনীতি আর অর্থ পিশাচ
চিৎকারে ফাড়ে চারপাশ : নীতির ভাষণে তারাই দক্ষ ও দড়-
মুখে মুখে তারাই বোনে আনন্দ আর আকন্দ-ধুন্দুল,
নাগালিঙ্গম আর মেঘ শিরীষ-ধর্মের ধ্বজা ওড়ে তাদের ডেরায়;
চারদিকে শুধু লুণ্ঠনের উল্লাস- ধর্ষণের প্রমত্ততা
ছাড়া অন্য শব্দ নেই, পরের ধনে পোদ্দারি করে
ব্যবসা পাড়া উৎকট ডাক ছাড়ছে : হোয়া হোয়া আহো!
একাত্তরের রাজাকার আজ সাত-তলা অট্টালিকা তোলে
তোমাদের গুলশানে-আজ সে-ই তলোয়ার-হাতে এসে গেছে
তোমার দরোজায় : কণ্ঠে তার হিংস্র উল্লাস;
ভুল চাঁদে-পাওয়া তুমি কেন বেঁচে আছো আজো অন্যদের দিনে-
বৈরাগীর ঝোলা-কাঁধে কেন তুমি যে-দিকে খুশি বেরিয়ে পড়োনি?
শূন্য অমরা
অচেনা রোদের নিচে কিশোরের ঘুড়ি ওড়ে
একালের ত্যাদর বাতাসে,
মুচুকুন্দের কাছে প্রগাঢ় সুবাস খোঁজে
প্রেমিকের বদলে সব ভণ্ড কানামাছি-
সারস্বত বীণার তারে ব্যর্থ সুর সাধে
একালের ন্যাংরা-নুলো জনম-বধির
এ-বৈরি বাতাসে তুমি কী করে ওড়াবে
আজ আনন্দের ঘুড়ি- অমরাও শূন্য শুনেছি।