উজানে উৎস কাব্যগ্রন্থকে
চারুবালা-
উজানে উৎসভূমি- ভাটির এ মোহনায় দাঁড়ায়ে আমি
কতকাল খুঁজেছি তোমারে হে প্রাচীন বালিকা- কেন?
কেন আমি খুঁজে ফিরি শেকড়ের বিষাদ- প্রদোষ প্রসাদ
কেন আজও বসে আছি শতবর্ষী এ গঙ্গার তীরে
জলমগ্ন সবুজমঞ্চ ছেড়ে, কেন এই ধীবরের বেদুঈন বেশ
কেন? এই বেছে নেওয়া-নিষ্ঠুর পরবাস- কেন? এই উঠে আসা
কেন? এই উজানের নাগর- মানুষের সমুদ্রে জাগে নির্ঘুম প্রহর
কেন? আজও খণ্ডিত মানবিক বোধের ভাষা… লেখা হয়
এক পেশে মানুষের ইতিহাস-
আর সভ্যের জোকেরা খোঁজে এখানে- ঘড়া ঘড়া রক্ত,
খোঁজে মানুুষের মাংসাষি স্বাদ
চারুবালা-
আর কবির একটাই দণ্ড- একটাই প্রবাদ- মানবিক পৃথিবীর জন্য
চিরকাল প্রেমের অপবাদ- তবু আমি এসেছি জেনো, জোকের দেশে-
করবো বলে নুনের আবাদ।
চারুবালা-
উজানের নাগর আমি, না বুঝি আজও ভাটির মেয়ের মন-
কবিতা-গান-শিল্প, জানি- চিরকাল বড় বেশি অতীত প্রবণ
তবু জেনো, মন্ত্রহীন এ প্রাচীন ধীবর- বলে দিতে চাই- চারুবালা
বলে দিতে চাই- কালনাগ নির্বিষ, কেন? তবে মরে লক্ষিন্দর
কর্ণহীন সাপেরা, তবু শুনে বীণ- মহাকাল ধরে- বেহুলা কাঁদে
সনকারা বিলাপ করে চাঁদ সওদাগরের ঘরে-
আর দে…বো…তা, তা- উষ্ণতা হারায়-
চিরকাল ভণ্ডরা গায়, মানুষের জয়, মানুষ বিকোয়।