জীবনে হাজারো দুঃসংবাদ ও দীর্ঘশ্বাস বিরাজ করলেও প্রকৃতিতে ঠিকই এসে গেছে যথারীতি বর্ণাঢ্য বসন্ত। নতুন প্রাণের সবুজ জাগরণ, দখিনা বাতাসের সঞ্জীবনী শিহরণ, মৌ মৌ গন্ধের মুগ্ধতা এবং দিগন্তজোড়া মাঠে ফসলের আশা-আশ্বাস হতোদ্যম জীবনে নিয়ে এসেছে সম্ভাবনা। শীতের জরামরা পার হয়ে জীবনও গতিশীল ও সৃষ্টিমুখর হয়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা মনে জিয়ে রাখলাম।
বাংলা মাকে শূন্য করে হঠাৎ-ই ‘সোনার নোলক’ হারিয়ে গেলো গত পনেরই ফেব্রুয়ারি। আল মাহমুদ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান কবি। বাংলাদেশের প্রতিনিধিশীল কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবি। প্রায় সাত দশকব্যাপী বাংলা সাহিত্যকে করেছেন ঐশ^র্যমণ্ডিত। অনার্য বাঙালি নর-নারীর সম্বন্ধসূত্র, জীবিকানির্ভর প্রকৃতি, নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের জীবনচাঞ্চল্য, স্বদেশের মুক্তিসংগ্রাম, নাগরিক রাজনীতি, লোকসংস্কৃতি, উত্তর-উপনিবেশিক দৃষ্টি ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মনোভাব, বিশ্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য ও নিজস্ব আঙ্গিক তাঁর সাহিত্যকে করেছে অনন্য, বাংলা সাহিত্য হয়েছে সমৃদ্ধ। কবি কাল থেকে কালান্তরে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে বিরাজমান। ব্যক্তি আল মাহমুদের বিদায় হলেও তাঁর রচনাবলী আমাদের মাঝে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবে। চলতি সংখ্যায় কবির একটি কবিতা, সাক্ষাৎকার এবং তাকে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন থাকছে। আগামী বর্ষা সংখ্যাটি আল মাহমুদকে একটি ক্রোড়পত্র করা হবে বড় পরিসরে। আশা করি লেখক ও পাঠক সমাজ তাতে সাড়া দেবেন।
বর্তমান সংখ্যায় জন্মশতবর্ষে কবি তালিম হোসেনকে নিয়ে লিখেছেন সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব মোস্তাফা জামান আব্বাসী, শওকত ওসমান ও হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নিয়ে দুটি প্রবন্ধ লিখেছেন আব্দুর রহিম ও আতাউল হক মাসুম, কবি সাযযাদ কাদিরকে নিয়ে স্মৃতিগদ্য লিখেছেন বিলু কবীর এবং লালন বিতর্কের নিজস্ব উত্তর দিয়েছেন নির্ঝর আহমেদ প্লাবন। এছাড়া বেশ কিছু মূল্যবান প্রবন্ধ, তিনটি বড় গল্প, বিশ্বসাহিত্য, একগুচ্ছ কবিতা, তিন কবির কবিতাগুচ্ছ, গীতিকবিতাসহ নিয়োমিত বিভাগগুলো থাকছে।
আসলে আমরা সাহিত্য সৃজন ও পাঠের মাধ্যমে চাই সমাজে গড়ে উঠুক গণতান্ত্রিক মন, গতিশীল চিন্তাচেতনা এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দৃষ্টি। আশা করে যাওয়া ছাড়া তো উপায়ও নেই। তাই আশার দীপ জ্বেলে যাই।