কখনও দু’চোখ বুজে পেছনের দিকে হেঁটে যাই
পেছনে অনেক পথ, আবছায়া অরণ্য নিবিড়
আম জাম কাঁঠাল জামরুল, কৃষ্ণচূড়া বহেরা ও কুল
পিতরাজ পেয়ারা সুপারি গাব জিগা ডুমুর মান্দার
শৈশবের স্মৃতিধন্য ছায়াময় অনন্য বৃক্ষরাজি
কখনও গোপনে এসে চেতনার অচেনা দাওয়ায়
কথা কয়ে ওঠে, যেন ডাকে ঝিরিঝিরি ছায়ার সিথানে।
খেতে পোরা বাঁশের কঞ্চিতে বসে শিস দেয় একাকী চাতক
আর ঠিক সেই শুভক্ষণে, গনগনে চৈত্রের নিস্তব্ধ দুপুর
জেগে ওঠে, কোথায় কে জানে এক ঘুঘুর ঘু-ঘুতে!
সিঁদুরে আমের ছায়া মেতে ওঠে ফুল্ল কোলাহলে।
এসে গেছে মনু, বাচ্চু, আশু ও ময়নাল যথারীতি
আরও আছে হাজেরা, ফিরুজা, টুনি, আমিনা, মুমতাজ
বনভোজনের ধোঁয়া চোখে জ্বালা ধরালে হঠাৎ
আলগোছে উঠে যাই নিরালায় শানবাঁধা ঘাটের কিনারে;
ওইখানে বৈচিঝোপ, ভাটফুল, মৌমিডাল, তীক্ষè মুনকাটা
আরও কত অজানা গুল্ম রাশি রাশি বুকের ভেতরে
কেবলই খোঁচায় নীল বেদনার সুখে অবিরত;
বেদনাদীর্ণ সেই তামা তামা সুখ ছোঁব বলে
প্রায়শ দু’চোখে টানি অন্ধ যবনিকা, আর
লেখা হয়ে যাওয়া জীর্ণ পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠা থেকে
আবার পিছিয়ে যাই পাতা উল্টে ক্রমাগত প্রথম পৃষ্ঠায়!