‘আত্মপরিচয়ের সাহিত্য: আমরা কোনপথে’ শিরোনামে গত ১৩ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলা সাহিত্যাঙ্গনের উদ্যোগে রাজশাহীর তালাইমারিতে পরিচয় প্রাঙ্গণ মিলনায়তনে এক ‘সাহিত্য সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হয়। কথাশিল্পী নাজিব ওয়াদুদের সঞ্চালনায় সাহিত্য সংলাপে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও গবেষক ড. ফজলুল হক তুহিন। প্রাবন্ধিক বলেন: ‘ঔপনিবেশিক শিক্ষায় প্রভাবিত লেখকরা আসলে পশ্চিমের চোখ দিয়ে বাংলার প্রকৃতি, মানুষ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও ঐতিহ্যকে দেখেছেন। ফলে স্বদেশের বঞ্চিত, শোষিত ও সংগ্রামী জনসমাজের দিকে চোখ ও মন ফেরাতে পারেননি। অধিকাংশ লেখক স্থানিক নিসর্গ, আর্থসামাজিক-সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে সাহিত্য সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি। লেখকদের জনবিচ্ছিন্নতা, দায়হীনতা ও সুযোগ সন্ধানী মানসিকতা সৃষ্টিতে ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এই সংকটের উত্তরণে তথাকথিত বৈশ্বিক আধুনিকতার বিপরীতে স্থানিক আবহমানতাকে নির্মাণের মাধ্যমেই অর্জিত হবে আমাদের নিজস্ব আধুনিকতা বা উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্য বা আত্মপরিচয়ের সাহিত্য।’ সাহিত্য সংলাপে অংশ নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন: সমাজবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. আবদুর রহমান সিদ্দিকী, প্রাবন্ধিক সরদার আবদুর রহমান, কবি মনজু রহমান, কবি খুরশীদ আলম বাবু, কবি ও গবেষক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, কথাশিল্পী দেওয়ান মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, গবেষক ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদ, গল্পকার ও গবেষক ড. আবু নোমান, কথাশিল্পী মাতিউর রাহমান, শিশুসাহিত্যিক আসাদুল্লাহ মামুন, কথাশিল্পী মঈন শেখ প্রমুখ। অতিথি বক্তারা সাহিত্য সংলাপে আত্মপরিচয়ের সংজ্ঞা ও সন্ধান, আত্মপরিচয়ের সাহিত্য কী, কেন চর্চা করতে হবে এবং এই সাহিত্য কীভাবে নির্মাণ করতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং এই বিষয়ে আরো সংলাপ অব্যহত রাখার প্রতি তাগিদ দেন। তরুণ লেখকদের প্রশ্নে ও অতিথি সাহিত্যিকদের উত্তরে সংলাপ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে সকলের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলা সাহিত্যাঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান।
– অরণ্য অরুণ