শ্রমে তপে প্রতিবাদে
মনে মনে মেঘ হয়ে উড়তে কোনো বাধা বিঘ্ন জটিলতা নাই
আকাশের দূরপ্রান্তে তারার বুদবুদ হয়ে নিজেকে ওড়াই
নিপীড়ন গুম খুন পচাগলা অভিশপ্ত সময়ের বিপদ বালাই
মনে মনে ঘৃণা আর প্রত্যাখ্যানে স্পর্ধাজ্বলা অমিত সাহসে
নিজেকে ছাড়িয়ে উঠি, জিগীষা ও নিরাপস আক্রোশের বশে
পায়ে দলি, অহর্নিশি ভাঙতে ভাঙতে চুরমার সহিংস পোড়াই
উড়তে থাক নভোমাঝে ভাঙাচোরা পরাস্তের ধুলোময়লা ছাই
ছিঁড়ে ফেলি শৃঙ্খল নিয়মবাধা এই যজ্ঞে প্রভূত আনন্দ
ব্যাকরণ মুখ থুবড়ে অস্তপ্রায়, ধ্বংসে আছে প্রলয় সুগন্ধ
হরিণীর মত দ্রুত ত্রস্ত পায়ে দিগ্ভ্রান্ত পালিয়ে বেড়ায় ছন্দ
সংশয়ের কোনো ঠাঁই ভবে নাই, উবে গেছে যাবতীয় দ্বিধা দ্বন্দ্ব
নিজেকে চেনার যুদ্ধে সমর্পণ চোরাগলি পথঘাট খোলা নাই
মেঘ হয়ে রিমান্ডের তোয়াক্কা তোয়াজ কিংবা গুপ্ত আশা নাই
ছুঁড়ে ফেলে অবহেলে নতুন সমাজ রাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রত্যয় ছড়াই
একলা ভ্রমে তপে শ্রমে নিজেকে সবার কাছে গ্রহণীয় করে তুলতে চাই।
তৈরি হয়ে আছি
পাহাড় প্রান্তর কেন ডাক দিচ্ছে উতরোল?
এই ডাকে প্রণয়ের ভাত নুন লাবণ্য রয়েছে,
উপেক্ষা কীভাবে করি? চাইলেও সম্ভবপর নয়।
জাগতিক গ্লানির গণ্ডূষভাপ ছলাকলা
অস্বীকার করা যায় না। আষ্টেপৃষ্ঠে জড়ায় ভরায়।
বলছিলাম প্রণয়ের কথা। পরিণয় হবে না জেনেও
কেন আর্তি দীর্ঘশ্বাস? চুঁইয়ে চুঁইয়ে রক্তের ক্ষরণ?
নির্যাস জীবন মধু অনেক তোপান করা হয়েছে সুহৃদ
অস্তি ও নেতির প্রশ্ন মীমাংসার তোয়াক্কা করে না,
শব্দভ্রমে ঘুরে মরছি, তৃষ্ণা এক রমণী নাছোড়
এড়ানোর চেষ্টা আছে, সাফল্যের সম্ভাবনা নাই,
পিপাসার কথা বলছি, নিবৃত্তির সাকিন কোথায়
জানা নাই, জানতে চেয়ে রীতিমত লাঞ্ছনা জুটেছে
তাকেও সঞ্চয় বলে গণ্য করি, এই দগ্ধ সময়ের
অপচয় রেণু রেণুমস্তিষ্কে ঝিল্লির মধ্যে করেছি রোপণ
অঙ্কুরিত হয়ে তারা আমাকেই ঠুকরে দেবে এক সময়
সে জন্য তৈরিও আছি জানি সেটা অমোঘ নিয়মিত।
গন্ধমের আবিষ্ট পতনে
মরমে শরমে মরি, ওলো প্রিয়ে চন্দ্রাবলী সহচরী
বিষপাত্র কানায় কানায় ভরো আঁজলা পূর্ণ করো
দংশিয়ে ছলনা সূত্রে নীলবর্ণ বাগদত্তা হাতজোড়া ধরো
ব্রহ্মাস্ত্র তোমারই একা নিনাদিত, নাই কোনো তড়িঘড়ি
স্বপ্নে হোক স্মৃতি চর্চা গন্ধমের মগ্ন চর্চা আলুথালু জড়াজড়ি
কূলভাঙা গাঙে ডোবে অধমের নিরাশ্রিত ভাঙা ফুটা তরী
মরমে শরমে মরি, তোমরা বলো ভূষণ লজ্জারই মিহি লতা
ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে দেহে মনে সংক্রমণ জ্বোরো তিতা ব্যথা
এর চাইতে ভালো ছিল প্রত্যাখ্যানই আধো আবছা নীরবতা
কী কবো কাহিনি গল্প পরাস্ত পুথির সেই মর্মচেরা গাথা কল্পকথা
জীয়ন্ত মরণ কষ্টে মুখ ফুটে বলা যায় না সে তথ্য বারতা
শরম ভরম সবই লুকো ছাপা নিরজনে সন্তর্পণ নিঝুমে লুকাও
প্রবাহে ধুয়েছো পাপ এই ক্ষণে শঙ্কামুক্ত গাঢ় নিদ্রা যাও।
ভুল করে ভালো বাসলে
কে বলে বিস্মৃতি ধুলো সেই ছবি আড়াল করেছে
দেখি আরো জ্বলজ্বলে, আরো সত্য, আরো দৃঢ়মূল
যে বলে ভুলেছি সব, এই কথা ডাহা মিছে ভুল
ভুলে যাওয়া অতটা সহজ নয়, যতটুকু ভাবি
কী কওে যাবে তা ভোলা, নৃত্যময়ী সেই দুল
ঘামের বিন্দুর সঙ্গে মিতালি করেছে ওই প্রিয় নাক ছাবি
স্মৃতি নয় কুয়াশা ঝাপসা নদী, বহে নিত্য নিরবধি
আমি তাকে ভুল করে সর্বাত্মক ভালোবাসি যদি
তাহলে কীভাবে যৌক্তিক বলো বিস্মৃতির খাবি খাওয়া ভয়
ভুলিনি ভোলার মতো এই স্রোতপরম্পরা কোনো দিনই
যে আমাকে পোড়ায় জখম করে, আনন্দ সে কুড়ায় নিশ্চয়।
শব্দনেশা অতীন্দ্রিয় ঘোর
শব্দের অতন্দ্র মোহে ডুবে আছি, ডুবে থাকতে ভালোলাগে
কী রকম আলুথালু অভ্যাসও বেঁধেছে বাসা
সঙ্গোপনে অন্তর্লীন ঝাউপাতা মনের গহিনে,
এই নিমজ্জন শান্তি আপাত আনন্দ দেয়,
কিন্তু এর নানামুখী চোর কাঁটা বিপদও রয়েছে
ডাকাতের মত আসবে হ্যাঙ ওভার, দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে যাবে
মায়াদয়া বলে কিচ্ছু অভিধানে নাইতার, নির্দয় চমকে
সে দেখাবে দৌরাত্ম্য দাপট, আমাকে কাঙাল দীর্ণ
সর্বহারা ছিবড়ে তুষ তছনছ করে ফেলে
কী যে সুখ এতে পায় দুর্বিনীতা, আমি তা জানি না
শব্দে লিখি বঞ্চিতের হাহাকার, ব্যর্থপ্রেমিকের কষ্ট, হননেচ্ছা
শোষকের বিরুদ্ধে উগলানো বমি, স্বৈরতার বিরুদ্ধে ধিক্কার
শব্দে আঁকি পরাস্তের দিনানুদৈনিক ঋণ, আঁকতে আঁকতে
আমিও নিঃসঙ্গ পাখি ডানা ভেঙে পড়ে থাকি আঁধার চাতালে,
ধুঁকতে ধুঁকতে কখন বসেন সূর্য অস্তপাটে জানা বোঝা নাই
আমি জানি, শব্দেই রয়েছে মুক্তি, বিপ্লবেরও গুপ্তিমন্ত্র
শব্দেই লুকোনো আছে অমৃত সুধার তাপ সম্ভোগ সাধন
শব্দ তাই যত কষ্ট দিতে চায়, দিয়ে থুয়ে সন্তোষে থাকুক
আমি বিদ্ধ ব্যথাহত তারপরও অজানা কারণে ওকে বাঞ্ছা করি
ভালোবাসি, নিঃস্ব হই, হতে হতে পুনর্জন্ম লাভ করি,
প্রখর তিয়াসা অগ্নি পান করে অচিকিৎস্য মুমূর্ষুও হই…।
ছিন্নভিন্ন চিন্তাপাপড়ি
১.
ভালোবাসার অমল ধবল পালে
লাগলো যখন মন্দ মধুর হাওয়া
পাতা ঝরার মুহূর্ত ভুল
ছড়াই ভরাই দুঃখে আমি
বাঁচার চেষ্টা করতে গিয়ে
আরও আরও পড়ছে কেন মনে?
২.
সর্বনাশা নদীর ভাঙন থেকে
কী করে তোমাকে আমি বাঁচাবো জীবন?
শস্য জমি ভিটেমাটি দুরন্ত স্রোতের দাঁতে
চিরে ফেড়ে একাকার
অথৈ সমুদ্রপাড়ে দীর্ঘশ্বাসই সঙ্গে পাই
অন্যরা পালিয়ে বাঁচে, আমি অসহায়…
৩.
ঝরে গেছে পাতা
ক্ষয়ে গেছে বাকল-কাঠামো
এই রুক্ষ গাছ নিয়ে পড়েছি বিপাকে!
পাখিরা বসে না এসে, রৌদ্রতেজও
ফিরে যায়, আমিই তো ভাঙা সেই পরিত্যক্ত
জঞ্জালের পসরা নিয়ে বসে আছি দুস্থ ও ভঙ্গুর
৪.
পাহাড়ে পাথরে আছে জীবন লুকোনো
এমন অঝোর ঘুম, সহজে ভাঙেনা জানি
এই ঘুম নিশ্চুপ আঁধারপুরী অচেনা গহ্বরে
রয়েছে মৃত্যুর ফাঁদ
তারপরও জীবন মরিয়া হয়ে
চায় দীর্ঘ পরমায়ু
স্বস্তি শান্তি ওমের ঠিকানা
মৃত্যু এসে হঠাৎ ছোবলে
সবকিছু ভেঙেচুরে ভণ্ডুল করবে জানা
তাও সে থামে না যেন থামতে জানে না…