
মার্চেন্ট অব ভেনিস
আমাদের পূর্বসূরিগণ বনাম পিঁপড়ে ও শ্রমিক মৌমাছিরা
অনেকটাই সহোদর। অশান্ত নদী দেখলে বেশ নড়ে চড়ে
বসতেন, অবশ্যম্ভাবী শীতকে হালচাষ দিতেন।
বাহবা দিতেন ফসলি মাঠকে, অঞ্জলি ভরে রেখে দিতেন
অবশিষ্ট খাদ্য ভাণ্ডার মোকাম নয় এক কল্পিত খাটে।
শুধু এক জায়গায় তফাৎ পিঁপড়ে ও শ্রমিক মৌমাছিরা
মার্চেন্ট অব ভেনিস হতে শেখেনি।
মরা হাতি ও বিদগ্ধজনেরা
মাছিরা নির্দ্বিধায় জেনে গেছে
হাতি মরলেও লাখ টাকা
তাই তারা হাতি ছেড়ে পালিয়েছে।
আমাদের বিদগ্ধজনেরা তাই
অপরাধকে সাবজেল বানিয়ে
বসে থাকেন আরাম কেদারায়।
স্মৃতির চিত্রকল্প
তোমার স্মৃতি মারবেল পাথরের মতো
গড়িয়ে গড়িয়ে চলে কিংবা শর্ষে ভাটা
ইলিশের মতো নাসারন্ধ্র্রে ঢুকে পড়ে
রোজদার ব্যক্তির অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও-
যদিও অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে
অনশন থেকে অনাস্থা
পাক খায় ঘোলালে জলের মতো।
আসাদ তুমি হাত বাড়িয়ে দাও
ওগো হিমবায়ু; শীতবুড়ি
লাগাতার অবরোধ গড়ে তুলো
গ্রীষ্মের শরীরে লগইন করো
দাও চীনের প্রাচীর।
এ রক্তের দাগ শুকাবার নই;
সার্ফ এক্সেলের ধোয়া কয়লার টুকরোর মতো
দ্বিগুন হেসে ওঠে
আসাদ তুমি হাত বাড়িয়ে দাও
বোবা বৃক্ষের দিকে-
বৃষ্টি
বহুদিন ধরে বৃষ্টিতে ভেজা হয় না
গা থেকে রোদের পারফিউম ধুয়ে যাবে বলে।
সুপ্রিয় আকাশ- তুমি একটু মেঘাচ্ছন্ন হও
ধবধবে সাদা পায়রার মতো নেমে এসো
নেমে এসো আমাদের নিজস্ব উঠোনে
আজ বড়ো বেশি সখ্য গড়বো
কলাপাতা রং চির সবুজের সাথে
প্লিজ একটু নেমে এসো…
জীবনানন্দের প্রতি
আমাদের পিতামহরা নিঃসন্দেহে খাস মৌলভী ছিলেন
একেকটি সাপ বাঁচিয়ে রেখে সত্তরজন ফেরেস্তা অবসর করে দিতেন
স্রেফ -সাদা দাড়িতে হাত বুলিয়ে ভাবতেন-
এ দুনিয়া মুমিনদের জন্য দোজখ আর পাপীদের জন্য বারামখানা
আমরা এখন পিতামহের গোরস্তানের পাশ দিয় হেঁটে যাই
আর একেকটি সাপ বাঁচিয়ে রেখে একেকটি সর্বাধুনিক মিউজিয়াম গড়ে তুলি।
