বিকেলের এই নোনা জলজ রোদ আমাকে বড্ড পোড়ায়, নন্দিনী!
অথচ কী করে তুমি এক সাগর জল ধরে রাখো তোমার এই ছোট্ট বুকের ভেতর?
সাগরের নোনা জল যখন কপোল বেয়ে নেমে পড়ে সোনাঝরা রোদের গায়ে,
তখন সে জলের ফোঁটা হয়ে ওঠে বিষম আগুনের ফুলকি।
কোথায় জল নেই বল তো, নন্দিনী?
তুমিই বল…!
যখন অমানিশার কালো চাদর ঢেকে ফেলে রাত্রির প্রহর,
তখনও বৃষ্টি নামে এই আরশি নগরে,
যখন এক মুঠো সোনা রোদ কুড়াই পড়ন্ত বিকেলের মাঠে,
তখনও এই চোখের পাড়ায় জমে যায় জল।
তাহলে বল তো নন্দিনী-
এই জীবনে কি আর কিছুই নেই?
কেবলই কি বৃষ্টির কোলাহল?
তুমি আঁচলে জল ছেঁকো,
আমি রোদ কুড়াই,
আবার একই বিন্দুতে যখন জীবনের বৃত্ত আঁকাই দু’জন,
তুমি আর আমি কেবলই ভিজে যাই শ্রাবণের মুষল ধারায়,
জীবনের ভিজে মাঠে তুমি ধানকুড়ানী মেয়ে, আর আমি এক রাখাল বালক।
ক্ষণিকের জন্য আমরা দুজনেই খেলায় মেতে উঠি যখন খুঁজে পাই
ফেলে যাওয়া ময়ূরের এক পুচ্ছ-পালক।
আমরা খেলি আর বৃষ্টিতে ভিজি,
খেলি আর বৃষ্টিতে ভিজি।
জীবনের এই মাঠে কেবল বৃষ্টিতে ভেজাই জীবন, নন্দিনী!
জীবনের এই মাঠে কেবল বৃষ্টিতে ভেজাই জীবন!