উত্তরের বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়া বলে দিচ্ছে এখন হেমন্তকাল। মাঠে মাঠে ধানের প্রাচুর্য, সবুজ ঘাসে শিশিরের স্নান, নীলাকাশে সঞ্চরণশীল সফেদ মেঘের শান্ত ভাব, সন্ধ্যা ও ভোরবেলায় শীতের আমেজ, মেঠোপথে কুয়াশার রহস্য এবং বিচিত্র স্বাদের পিঠার ঘ্রাণ আমাদের সংস্কৃতিতে বয়ে আনে চিরায়ত উৎসব। অবশ্য এই উৎসবের পেছনে আছে কৃষক ও শ্রমজীবি মানুষের অক্লান্ত মেহনত। চলতি সংখ্যায় রেজা ফারুক ‘বর্ণোজ্জ্বল হেমন্তের ছোঁয়া’ শিরোনামে প্রচ্ছদ রচনা লিখেছেন কাব্যিক সুরব্যঞ্জনায়। সমগ্র বাংলার প্রাকৃতিক আবহ যেন কথা কয়ে উঠেছে সেখানে।
আমাদের সংস্কৃতিতে, বিশেষভাবে সঙ্গীতে আব্বাসউদ্দীনের পরিবারের আছে বিশাল অবদান। আব্বাসউদ্দীনের যোগ্য উত্তরাধিকার এখনও বহন করছেন সঙ্গীতের জীবন্ত কিংবদন্তি মুস্তাফা জামান আব্বাসী। একান্ত সাক্ষাৎকারে তাঁর সঙ্গীত-ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠা ও সংশ্লিষ্ট অনেক মূল্যবান কথা বলেছেন যা পাঠককে প্রেরণা জোগাবে। ‘সত্তর বছরের বাংলাদেশের গল্প’ নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন মননশীল সাহিত্যক শহীদ ইকবাল। সাতচল্লিশ থেকে একুশ শতকের সূচনা পর্যন্ত বাংলাদেশের গল্প নিয়ে পর্যায়ক্রমিক ও বিশ্লেষণাত্মক লেখাটি আশা করি উৎসুক পাঠকের ভালো লাগবে। অন্যদিকে ‘বিশ শতকের কবিতার বাঁক-বদল’ নামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রচনা লিখেছেন প্রাবন্ধিক ও কবি বকুল আশরাফ। কাজী মহম্মদ আশরাফের ‘কালের কষ্টিপাথরে বাংলাদেশের সমালোচনা সাহিত্য’ লেখাটিও বেশ মূল্যবান। আমাদের মননচর্চার সংকট সমালোচনা সাহিত্যকে সংকটে ফেলেছে। এ-ছাড়া আশরাফ পিন্টুর ‘বাংলাদেশের ছড়ায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’, শাফিক আফতাবের ‘শামসুদ্দীন আবুল কালামের ‘কাশবনের কন্যা’ : অনন্য শিল্পনির্মাণ’, খুরশীদ আলম বাবুর ‘চেনা মানুষের অচেনা কথাকার হুমায়ুন কাদির’, মোহাম্মদ আবদুর রউফের ‘আহমদ ছফা : মানবিক ও কল্যাণমুখী সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্নসারথি’ প্রবন্ধগুলো নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ।
‘আহমদ ছফার বঙ্কিমবিচার’ নিয়ে পাঠ-প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিম বঙ্গের সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ সাদউদ্দিন। ভারত-বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার সংকট নিয়ে তথ্যবহুল ও বিচার-বিশ্লেষণমূলক লেখাটি পড়ে আশা করি পাঠক উপকৃত হবেন। মামুন আজাদ, সেঁজুতি শুভ আহ্মেদ, আফসার নিজাম, সাফি উল্লাহ্ ও মনির বেলাল- পাঁচজন তরুণ গাল্পিক ভিন্ন স্বাদের পাঁচটি গল্প লিখেছেন। অন্যদিকে আফ্রিকী সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের প্রাণপুরুষ সেমবেন উসমানকে নিয়ে সমৃদ্ধ আলোচনা করেছেন এলহাম হোসেন। আর কামরুল হাসান বরফের রাজ্যে শুভ্রতার সীমানায় যে ভ্রমণ করেছেন তা পাঠকের জন্য বয়ে নিয়ে আসবে আনন্দ।
এ-সংখ্যায় অন্যতম চমক হলো কবি সায়ীদ আবুবকরের মহাকাব্য ‘নবিনামা’। লিরিক ও গদ্যকবিতার যুগে মহাকাব্যের নুতন উপস্থিতি সত্যি কৌতূহল উদ্দীপক। গুচ্ছ কবিতা লিখেছেন তিন কবি : হাসান হাফিজ, সোলায়মান আহসান ও নাগর হান্নান।
অন্যান্য নিয়মিত বিভাগেও যথারীতি থাকছে বিচিত্র ও সমৃদ্ধ সব লেখা।
হেমন্তের আগমনে আমাদের জীবন হয়ে উঠুক ঋতু-ঐশ্বর্যময় ও প্রাণবন্ত।