এখানে ঘুঘুর ডাকে অপরাহ্নে শান্তি আসে মানুষের মনে;
এখানে সবুজ শাখা আঁকাবাঁকা হলুদ পাখিরে রাখে ঢেকে;
জামের আড়ালে সেই বউকথাকওটিরে যদি ফেলো দেখে
একবার, -একবার দু’-প্রহর অপরাহ্নে যদি এই ঘুঘুর গুঞ্জনে
ধরা দাও, -তাহ’লে অনন্তকাল থাকিতে যে, হ’বে এই বনে;
মৌরীর গন্ধমাখা ঘাসের শরীরে ক্লান্ত দেহটিরে রেখে
আশ্বিনের ক্ষেতঝরা কচি-কচি শ্যামা পোকাদের কাছে ডেকে
র’বো আমি; -চকোরীর সাথে যেন চকোরের মতন মিলনে;
উঠানে কে রূপবতী খেলা করে- ছাড়ায়ে দিতেছে বুঝি ধান
শালিখেরে; ঘাস থেকে ঘাসে-ঘাসে খুটে খুটে খেতেছে সে তাই;
হলুদ নরম পায়ে খয়েরী শালিখগুলো ডলিছে উঠান;
চেয়ে দ্যাখে সুন্দরীরে : গোরোচনা রূপ নিয়ে এসেছে কি রাই!
নীলনদে- গাঢ় রৌদ্রে- কবে আমি দেখিয়াছি- করেছিলো স্নান।