তাহমিনা। আধুনিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা এক চপলা মেয়ে। সে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি পায়। এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে কৃতিত্বের সহিত দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় সোস্যাল সাইন্স বিভাগে ভর্তি হয়। অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পড়াকালীন সময়ে তার বিয়ের প্রস্তাব আসে। বিত্তশালী যৌথ পরিবারের উচ্চশিক্ষিত ছেলে হওয়ায় তার পরিবারের লোকজন বিয়েতে রাজি হয়। প্রথমে সে অমত থাকলেও পরিবারের অনুরোধে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ব্যাপক ধুমধামে তাদের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। শশুড়-শাশুড়ি, স্বামী সংসার নিয়ে ভাল দিন কাটছিল শশুড়বাড়িতে।
কিছুদিন পর তার স্বামী ব্যবসায়ের কাজে বিদেশে চলে যায়। তাহমিনা আধুনিক পরিবেশে বেড়ে উঠলেও সাংসারিক কাজ গুলো ভালোই করতে পারে। আধুনিক মেয়ে হওয়ায় ও অলসতার কারনে অনেক সময় সে কাজগুলো গুছিয়ে করতে না পারায় তার শাশুড়ি বিভিন্ন বিষয়ে ভুল ধরতে থাকে। এবং বলে বৌমা এটা করো ওটা করো সেটা করো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শুধু খিক খিক করে যান। এটা তার একটুও ভালো লাগে না। এভাবে কিছুদিন চলার পর সে তার বাপের বাড়িতে বেড়াতে যায়।
তার বাবা ছিল মস্তবড় ডাক্তার। দশ গ্রাম জুড়ে তার নাম ডাক। রাতে কাজ শেষে বাসায় এসে মেয়েকে দেখেই খুশিতে তার বাবা বলে, মা কেমন আছ? তোমার শশুড়-শাশুড়িসহ সবাই কেমন আছে? কখন এসেছ? একসাথে এতগুলো প্রশ্ন করতে থাকে।
মেয়ে: বাবার এতগুলো প্রশ্ন শুনে উত্তরে বলে, ভালো আছি। বিকালে এসেছি। শ্বশুড়বাড়ির লোকজন ভালো আছে। কিন্তু? বাবা তুমি আমাকে কেমন বাড়িতে বিয়ে দিয়েছো?
বাবা: কেন কি হয়েছে? জামাই কি খারাপ ব্যবহার করেছে?
মেয়ে: তোমার জামাই তো দুই মাস পর পর বাড়ি আসে সমস্যার ত সে নয়। সমস্যার কারণ তো আমার শাশুড়ি।
বাবা: তোমার শাশুড়ি আবার কি করেছে?
মেয়ে: ঘরের সব কাজ করার পরও শাশুড়ি আমার সাথে শুধু খিটখিট করতে থাকে। আমার সাথে একটু ভাল ব্যবহার করে না। ঐ বাড়িতে আমার একটুও ভালো লাগে না ।
বাবা: আরে তোমার শাশুড়ির বয়স হয়েছে তো। বৃদ্ধ বয়সে মানুষ একটু এইরকমই করেই।
মেয়ে: না বাবা ঐ বৃদ্ধ মহিলা যতদিন পর্যন্ত না মরছে, আমি আর ঐ বাড়িতে ফিরে যাব না ।
বাবা: এই রকম কথা বলতে নেই মা।
মেয়ে: বাবা তুমি তো মস্তবড় ডাক্তার। এমন কিছু একটা ঔষুধ দাও যাতে ঐ বৃদ্ধ মহিলা খুব তাড়াতাড়ি মরে যায় ।
বাবা: আমি ডাক্তার কসাই নয়। এ কাজ আমি করতে পারবো না।
মেয়ে: তুমি কি চাওনা তোমার মেয়ে সুখে সংসার করুক ?
বাবা: (একটু চিন্তা করার পর) ঠিক আছে মা। তোর মুখের দিকে তাকিয়ে আজ আমি এই কাজ করছি। আমি একটা ওষুধ দিচ্ছি। এই ঔষুধটা নিয়মিত প্রতিদিন দুই ফোঁটা করে গরম দুধের সাথে খাওয়াবি। দেখবি ৩০দিনের মধ্যেই তোর শাশুড়ি মারা যাবে। তবে এই একমাস তুই তর শাশুড়ির সাথে খারাপ ব্যবহার করবি না। তার কথা শুনবি। তার মনদিয়ে সেবা করবে এটা আমাকে কথা দে।
মেয়ে: ঠিক আছে বাবা কথা দিলাম।
মেয়ে ঔষুধ নিয়ে আনন্দের সাথে শ্বশুড়বাড়ি চলে গেল। সেই দিন থেকেই শাশুড়িকে মন দিয়ে সেবা করতে লাগলো। আর নিয়মিত ঔষুধ দিতে থাকলো। কিছুদিন যাওয়ার পর শাশুড়ি লক্ষ্য করলো যে, তার বৌমা আর আগের মত নেই। এখন সে তার আর কোন কথারই অবাধ্য হয় না। আগের মত তার উপর বিরক্ত হয় না। তার খুব বেশি সেবা করছে।
২০দিন পর শাশুড়ি তার বৌমাকে নিজের মেয়ের মত ভালবাসতে লাগলো। তখন তিনি নিজেই বৌমার জন্য স্পেশাল মেনু বানিয়ে খাওয়াতেন। বৌমাকে আর আগের মতো কোনো কাজের জন্য ভুল ধরত না। অনেক কাজ বৌমাকে না বলে কাজটা নিজেই সেরে নিতেন। বৌমার ঘুম ভাঙ্গার অপেক্ষা না করে, নিজেই চা বানিয়ে বৌমার কাছে গিয়ে তার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিয়ে বলতেন বৌমা চা খাও। দেখো আমি তোমার জন্য বানিয়েছি?
বৌমা: কেন মা আপনি চা বানাতে গেলেন? আমাকে ডাকলেই ত পারতেন ?
শাশুড়ি: কি যে বল বৌমা। তুমি সারাদিন ধরে কত কাজ করো। আর আমি এইটুকু করতে পারবো না।
দিনটা ছিল ২৭তম। এতদিনে শাশুড়ি আর বৌমার সম্পর্কটা মা ও মেয়ের সম্পর্কে পরিণত হয়ে গেছে।
মেয়েটি তার শাশুড়ির ৩০দিন পর মারা যাবে বিষয়টি মনে হওয়ার সাথে সাথে অর্তেকে উঠে। জরুরী তার বাবার নিকট চলে যায়। সে তার বাবার কাছে হাপাতে হাপাতে ছুটে গিয়ে বলল, বাবা তুমি আমার শাশুড়ি মাকে বাঁচাও। আর মাত্র তিন দিন বাকি আছে। আমি চাইনা যে আমার শাশুড়ি আমাকে ছেড়ে চলে যাক। উনি যে ঠিক আমার মায়ের মতো।
বাবা: না মা আমার এখন কিছু করার নেই । আমি ত তোমাকে আগেই বলেছিলাম। তুমি ত তখন কোন কথা শুননি। আমার দ¦ারা এখন কিছুই করা সম্ভব হবে না।
বাবার কথা শুনে মেয়ে কাদঁতে কাদঁতে বলতে থাকে। বাবা আমার শাশুড়ি খ্্ুব ভাল মানুষ তাকে বাচাঁও। তুমি যদি কিছু না করো, তাহলে আমি সেরা ডাক্তার দেখাবো। আমার শাশুড়ি মাকে আমি কিছুতেই মরতে দিবো না।
মেয়ের এরকম অবস্থা দেখে বাবা মুচকি হেসে বলে, আরে পাগলি! কোন বাবা কি চায় তার মেয়ের দুঃখ বা কান্না?
আমিও চাই না। তাই তো এমন ঔষধ তোকে দিয়েছি যাতে তোর শাশুড়ি আরো সুস্থ্য থাকে। ভাল থাকে। বাবার এ কথা শুনে যেন প্রান খুজে পায়। বলে বাবা সত্যিই আমার শাশুড়ি বাচবে।
বাবা আবার বলে হ্যা মা। অবশ্যই বাচবে। এখন তোর শাশুড়ির সাথে যেমন সম্পর্ক আছে তা যে আমৃত্য এই রমক বিরাজ থাকে।