সূর্যভোরের মুক্তি
আলোর আকাশ মেঘে, মেঘে ঘনীভূত, রাত্রি অন্ধকার সর্বব্যাপে ক্ষ্যাপে কেঁপে বারুদের বিস্ফোরণে বীভৎস বিদঘুটে। রাজত্ব বিস্তারে হয় প্রয়োজন অস্ত্র-বারুদের তাহলে কি এ আকাশ তারই অনুসারী? ঈগল ডানায় কেউ মেলার সুযোগ পাবেনাকো ছাই মুহূর্তেই সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে সবাই মুখর স্লোগান – ও আকাশ, অশুভ আকাশ রক্তচোখ যতই পাকাস ভয় করি না, করি না ভয় রাতের আকাশ নিপাত যাক পাতাল পারদ সূর্যভোরে মুক্তি পাক। সূর্য নাকি গুম হয়েছে; ঘোমট ভোরে তাই যেই রাখি পত্রিকায় হাত এই কি খবর- ‘গোটা দেশ এখন একটি কারাগার’।
ও বাসন্তী স্বপন চাষী কে
পলাশ শিমুল বন
ফুলে ফুলে রক্ত লালের ভোরের জাগরণ।
নেই জাগরণ-
সুসময়ে এলো কোকিল ফুলের মধু খেতে
হাওয়ায় হাওয়ায় বাঁধন ভাঙার নিত্য প্রলোভন !
ভয় জড়তার কাঁপন ঘুচাক, এই আমি যে এলাম।
ও বাসন্তী, সামনে দেখবে খরাক্রান্তি- তীব্র দাহ
কালবোশেখির হিংসা চোখের তুমুল তুফান…
জ্যৈষ্ঠ এসেই তোমায় রস-রসনার বিমূঢ় ঘোরে জড়িয়ে নেবে
নিয়ে যাবে, নিয়ে যাবে
আষাঢ়ের জল-জলজে ভেজার
দেহ-মনের ক্লান্তি মোছার
স্বপ্ন বোনার দারুণ আয়োজনে।
তারপর লাঙল চাষি মগ্ন শ্রমিক
তোমার কোমল দেহে রুয়ে দেবে স্বপন ফলার গুচ্ছ গুচ্ছ চারা!
সেই চাষিটা কে, বলোতো- নেইতো আমি ছাড়া?
কৃষাণ রফিক ও আমার জন্মগ্রাম
সবুজ প্রকৃতি মাঠ, আর জন্মগ্রাম
অহর্নিশ ডেকে নেয়- মন হেঁটে যায়
কেউ না তা টের পায়!
রফিক কৃষাণ; সে আমার কতো চেনা
চিনি তার বাহুবল, প্রাণের আগল
চিনি তার কোমল হৃদয়ে ফলা
ফসলের শোভিত প্রান্তর…।
স্মৃতিঘেরা পথ থেকে পথে যাই হেঁটে-
আত্মার আপন যারা
হৃদয় দুয়ার খুলে খুব কাছে আসে
জানায় তাদের যাপিত জীবন
কষ্ট ক্লেশ আর যেটুকু সুখদ…।
ভূ-গোলে গতির ঘোরে, পৌরপ্যাঁচ কষে
শত ব্যস্ততার কতোসব প্রতারণা
জন্মগ্রামে ফেরার এটুকু ফুরসত আমাকে দেয় না…
স্মৃতিপথ ছেড়ে মন, চেতনে ফিরিলে হই একা
চৌদিকে দেয়াল তোলা বাধ্যতার রূঢ় ব্যবধান !
আষাঢ় জাগালো
অহংকারী যে সকাল, আজ
তার মাথায় সূর্যমুকুট নেই
আজ তার কান্নাভরা দিন, বিষন্ন বিলাপে
বিগলিত সময়ের ফোটাগুলো খুব
জমেও জমে না কচুর পাতায়
ভেজা কাক ভেজা মাঠ
বিদ্যুতের খুঁটি ভেজা
দূরগ্রাম, সংলগ্ন মাঠ ভেজা ভেজা
আরও ভিজুক সব- কান্না ও কল্লোলে…
সৌরমুকুট মাথায় পরে অহংকারী পোড়াতে যে মন
আষাঢ় জাগালো তারে প্রসারিত পদ্যে-গদ্যে
প্রাণ থেকে প্রাণে ছন্দের মুক্তক দোলায় দোলায়…
একপক্ষ সত্য’র বিপরীতে
চাকা; ঘুরছে,ঘুরছে…
চাকা- সময়ের…
তার কি আছে টায়ার-টিউব বদ্ধ বাতাসের?
সময়ের পথ ধরে যেতে যেতে
কোনো ভুলে কারো যাদুর আঁচল ধরে
হারাবার নই।
সূর্যটি প্রতাপে, অমানিশা অন্ধকারে
আর
চাঁদনি মায়াবী
প্রেমে-মোহে-রোষে যতোই ডাকুক
কিছুতেই হারাবার নই।
কেবলি কেবল সময়ের বিপরীতে
একা একা সংকল্প সাজাই-
হাতের মুঠোয় ক্ষণে ক্ষণে আগুনের চাঁই !
এ কেন? এ কেন?
প্রশ্নের জবাবে জেন- স্খলিত সময়
চলিত চাকায় পিষ্ট, ছিন্নভিন্ন ভূলোক মানসী
অযুত আত্মার আর্তি….
বিবেক বিব্রত- এমন ভ্রুকুটি প্রসঙ্গ পেছনে ফেলে
হয়তো রয়েছে কারো মুখর সাজানো যুক্তি
অমন যুক্তিতে ‘একপক্ষ সত্য’ জয়ী হয় !
সর্বাত্ম সত্যের পিষ্ট হাড়-গোড়, অস্থি-মজ্জা
তুলে নিয়ে সযতনে
সময়ের বিপরীতে আমি
বিপ্লবের সংকল্প সাজাই
পক্ষসত্য’ কেউ বলবে বলুক
দাবি একটাই- চাই, চাই, তার ফাঁসি চাই !
ঘুম নেই চোখে
চঞ্চল দু’চোখ
ঘুমের মধ্যমা থেকে দূরে সরে গেছে;
স্নায়ুর তরঙ্গ জুড়ে রাতের জোনাক জ্বলে-নেভে
জানালার ফাঁক গলে বিনয়ে বাতাস আসে ঘরে
ঘুর-ঘুর কেন করে, কোন চক্রসুখে?
তার কাছে নেই কোনো, সূর্যভোরের সুসংবাদ।
রাত; নিস্তব্ধ; গভীর; অন্ধকার…
প্রণয়ের সুখে কেউ, সুখে পড়ে থাক।
চোখ কচলে কচলে, অন্ধকার কেটে কেটে
ভোর ফিরে পেতে আমি
অগণিত মানুষের প্রতীক্ষার…।
উদ্যত অহম
উদ্যত অহমে বিচূর্ণ সূর্যটা
সহজিয়া সুন্দরের কুসুম বিকেল
মুহূর্তের ধারাপাতে ঘেমে ঘেমে
ভিজেভুজে ছুপ ছুপ….ধ
তথাপি অহমি হায়! এতোই উদ্যত
নিবারিত হবার লক্ষণ নেই কোনো-
তীর-ধনুকের ছিলা টানটান সে হঠাৎ
চোখের পলায় বিঁধে নেবে কি আমায়
তার বসতি রহস্যপুর…
সে যে লিকলিকে লাউ’র ডগার মতো
লাবণ্যকোমল
যদিও তেমন নয় মনলোভা প্রাণের বিস্তার…
তথাপি কোথায় তার রয়েছে খণ্ডিত অহংকার-
দেখে মনে হয়, সম্ভাবনার অতীত এক বিধস্ত শিল্পের
সে একাই অবশিষ্ট
দূরে, বহুদূরে কোনো চিমনী মিনার…