হাটবার
মাঝে মাঝে হাটে আসে ডানায়ালা পরী
নিজের বেসাতি আনে নিজেই সাজিয়ে
উড়াল বোশেখি ঘোরে যেন ফোঁটা কড়ি
রোদ্রের বুক খুলে নূপুর বাজিয়ে।
ভোর ফাটা জীবনের দেহে ঢালে ঘ্রাণ
মনে যদি মেলে দাম বিলাবে ও প্রাণ
ওঠা নামা করে রং দেমাকি সূচক
বাজারের নেশা তুলে ভরায় দু’চোখ।
এরা আসে দলজুড়ে মাঝে মাঝে রোজ
শরাবের হাত ধরে আনে প্রীতি ভোজ
ঠোঁটে আনে পুঁজিপানি জলভরা নদী
মন তার বেঁচে রবে আশা নিরবধি।
হায় পরি! যদি ভাবো হাটের মেলায়
সব আছে – ভুল হবে জীবন খেলায়।
পাঠশালা
বদলে গেছে পাঠশালা
মক্তবের সেই প্রাচীন পাঠ জীবনবোধ
বেঁচে থাকার চেয়ে মানুষ হয়ে ওঠার ক্রিয়াকলা
দখল করেছে সাদা অন্তর
সেই সাথে জুড়েছে সময়ের ছলাকলা।
মানুষ
কিশোর ডুকেছে পাঠশালাতে
পিতার এলান ছিল মানুষ হবার
শুধু হাড়-হাড্ডি ফেরত দিলেই হলো
পাঠচক্র শেষে কিশোর মানুষ হয়েছে
উজ্জ্বল হয়েছে পিতার মুখ, সুখ
মানুষ তো একথাই ভাবে
ধন-মন
ধন চাও না মন চাও
আমার হাতে রাখো হাত চাইলে মন
নয়ত জাতিসংঘের দরজা খোলা
পথ ধরতে পারো।
বিশ্ব আজ ধনের বসতি
চলছে অহরাত্রি কাড়াকাড়ি
ধনের জন্য মারামারি।
মন চাইলে হৃদয় খোলা
আগলে দেখতে পারো।
হাঁটা
হাঁটার কি শেষ আছে
ডানে বামে সামনে পিছনে
কেউ কেউ বৃত্তকেন্দ্রিক হাঁটছে
ঘুরে ঘুরে।
রোদ হাঁটে চারিপাশ ভূগোলের মতো
ছড়ায় জীবন রং ধান শুকানোর পায়ে পায়ে
সেই সাথে নানা ঢঙে একসাথে
এলোমেলো দ্বীপ থেকে মহাদেশ –
বোধ হাঁটে
রোদ হাঁটে
হাঁটতে হাঁটতে
ফেলে যায় চৈতন্যের সড়ক।
আমাদের হাঁটা ধীরে ধীরে
সন্তর্পণে
গন্তব্যের অন্তরীক্ষে …।
কাকতাড়–য়া
কৈশর দিনগুলোতে লেখাপড়া না করার ফন্দিফিকিরেও
মনের ভিতর এক কৌতুহলী ভয় ছিল
পড়ার টেবিলে রাজ্য জুড়ে আসা ঘুমগুলো
স্বপ্ন নিতে আসত রাত্রিতে
তবু যেন দিনগুলো কেমন দারুণ ছিল
শঙ্কা ছিল, উচ্ছ্বাসে উত্তাল।
ছোট থেকে হঠাৎ বড় মানুষ হয়ে যাওয়ার
আকাক্সক্ষার পিছনেওভয় ছিল।
চিরন্তন শিশু থাকার পিছনে অদৃশ্যমান কোনো টান ছিল
নিস্তব্ধ রাতের ঢং. .. ঢং . . . ঢং …
ভারী ঘন্টা ধ্বনির ভারী চাপ ছিল
ছিল না পাবার কৌতুহলী ভাবনার রাজ্য।
আমাদের এ জীবনে কৌতুহলী ভয়গুলো আসে
একেক সময় এক এক রূপে
কাকতাড়–য়াই জেগে থাকে
সময়ের পর সময়ের হাত ধরে।
ঢেউ তুলে যাও
সেই এলে তুমি, দেখে মনে পড়ে কত চাপা ঢেউ
অজানা দুপুর ধুয়ে দিয়ে যায় কালের করাতে
সমুদ্রাভিমূল থেকে উঠে আসা কত কিছু কেউ
বুকের রোদ্দুর আরো উষ্ণতার আগুনে জড়াতে।
কাঁচের চুড়িতে দেখি তোমার অলংকারও তুমি
শাড়ির আঁচল ধুয়ে তোমার কালোকেশের
ঘন আবেগ উষ্ণতা – পরিষ্কার আলো ভরা ভূমি
সবুজ মানচিত্রের রূপ ক্রমেই আহবানের।
তুমি নীলিমায় শুভ্র ধোঁয়া তোলা বসনের সাজে
ফুলের বাগানে লাল গোলাপের ঢেউ তুলে যাও
ওষ্ঠের কাঁপুনি চিরে লজ্জাচক্ষু জুড়ে বীণ বাজে
শ্রমের মাংসল হালে মেহেদীর রং এঁকে দাও।
আঁচলের প্রান্ত ছুঁয়ে গল্পের গোপন তৃষ্ণা জাগে
চঞ্চলতা ভালো লাগে – চাই অস্তপাটে অনুরাগে ।
পাহাড়ের নদী
পাহাড় তার বুক চিড়ে নদী করে দিয়ে গেছে আমায়
বয়ে যায় নদী, আমি যতনে রাখি তারে বুকের মায়ায়।
যে ঘাটে ভিড়ে স্রোত তুফান তোলে হৃদয় বরাবর
আকাশের যত তারা সবগুলো জ্বলে আলোর যাযাবর
ইশারায় ঝর তোলে পাহাড়ের নদী।
যত আঁধার আলোর খেয়ায় চড়ে আসে
তৈরি হয়ে আছে শুধুই চলার প্রেরণায়
কে দেবে তাতে বাঁধ যে নদী জোয়ার ভাসায়।
প্রেরণার অভিলাষ
কোথায় চলেছি আমি কেউ না জানলে আমি জানি
দিনের পর দিনের সময়গুলোকে অতিক্রম করে করে
রক্তমাংসল দেহের ক্ষয় আর স্নেহের তাবিজ হাতে
থেকে থেকে কোনো এক পূণ্য শূন্যতার কেন্দ্রবিন্দুর ভিতর
আমার দৃষ্টির সীমা সবকিছু ছেড়ে সেই অভিষ্টকেন্দ্রের মর্মমূলে
সমুদ্র সঙ্গমে ঘূর্ণায়মান নাভিমূলের মতোন যুক্ত হয়ে ছুটে চলে।
আমি জানি মুহূর্তের হুইসেল অনবরত বেজে বেজে
স্টেশন থেকে স্টেশনে যেতে যেতে জংশন পেরিয়ে
পৌঁছায় অনুভবের সংগীত প্রাসাদে।
এখানকার বেদনার চাপা তাপ জ্বলতে জ্বলতে
ধোঁয়া ওড়া মুকুলিত গুঞ্জরণে মহাকালের সান্নিধ্য লাভে
পার্থিব প্রেম ভালোবাসার পাশ্চাত্য আবরণের খোলস থেকে
নিজেকে বাঁচিয়ে যেতে চায়। কবিতার ভালোবাসা
তুলে আনে প্রেরণার অভিলাষ।