মোহাম্মাদ শামীম
সন্ধ্যার হাতছানি
আদি হতে অদ্যাবধি সৃষ্টির অব্যাহত ধারা
ধীর লয়ে ধায় আগামীর পথে স্রোতস্বিনীর মতো
দিগন্তগামীরা পথ চেনে কম্পাস দেখে
পথ আর পথিকের গভীর মিতালিতে
থমকে যায় চলার গতি।
মিঠেল রোদ, মৃদু মলয়ের কোমল পরশ
অফুরান সবুজের সমারোহ ভুলিয়ে দেয়-
সন্ধ্যার হাতছানি।
নিয়মের হাত ধরে রাত নামে প্রকৃতির বুকে
পথিকের পথ চলার সমাপ্তি ঘটে।
ভোরের কুয়াশা ঘুচে নব প্রজন্মর কলরবে
শিয়রে উত্তরসূরি নির্বাক দাঁড়িয়ে দেখে
মাটি ও মানুষ গভীর প্রণয়ে রয়েছে মিশে।
মীর জাহান
নিষ্পলক অন্য মুখ
বিশ্বাস করো আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়
যখন কিছু একটা করেই প্রতিদান মাঙ্গো নানা ছলে
এতোটাই সমৃদ্ধ কবে থেকে হলে !
তর সয় না বুঝি এখান থেকে গ্যালে ?
এতোটা কাঙ্গাল হলে বলো কি করে চলে
কোন কৃতজ্ঞতা তৃপ্ত করে না তোমায় !
দুর্বোধ্য এক তৃষ্ণা বয়ে নিয়ে হায়!
কেন যে! অষ্পষ্ট থাকলে অবিরত, অকারণ
বাজলো বীণা শোননি! দিয়ে মন-
রাখো নি যে ? প্রভাতের সূর্য করে সনাতন
প্রতিপত্তি অযথাই করে দূরের, অশোভন
ক্ষতবিক্ষত রোদন যাও দিয়ে, তাই নয়?
নির্বিঘœ সমান্তরাল বয়ে যাই, সাথে চাই
সোনালী সময়- ও যে বসন্তগন্ধ মেখে মেখে
আহ্লাদে হেসে চলে অবিরাম সুখ চেখে চেখে
সর্ষেফুলের পরাগ রেনু ফেলে রেখে
নিষ্পলক অন্যমুখ ভাবনা দ্যাখে ও চোখে
প্রকারান্তরে এগোই, যা পাই, পেয়ে যাই।
আতিফ আবু বকর
জলজ প্রেম
রাত নিশুতি ঝিমধরা ভাব জলের নাচন দেখছে চোখ,
কে বলেরে কষ্টে আছি কই ভুলেছি সে সব শোক।
চান ডুবেছে প্রথম রাতেই অল্প কিছু তারার রেশ,
জলজ হাওয়া হিম ধরেছে স্রোতের সাথে গল্প বেশ।
নেই ভীরুতা সাহস কিবা ছুঁতে চাওয়া প্রিয়ার চুল,
হিসেব ছাড়া প্রাপ্তি শুধু স্বর্গানুভব নয়ত ভুল।
আলগা টানের আবেগটা নেই কিংবা বিবেকবোধের গান,
জলকুমারীর বক্ষচিরে চলছে পাহাড় জলজান।
মুসাফিরি একলা হলেও জলজ প্রেমের নূতন স্বাদ,
শেষ নিশিতে নামছে শিশির আপাতত কান্নাবাদ।
পাপড়ি মণি
বুনো ¯পর্শ
মধ্যরাতে তোমার মনের ঘরে যখন
লুকোনো আবেগ সব উপচে পড়ে-
উষ্ণ ঠোঁটের চুম্বনে চুম্বনে,
তখন আঁচল পেতে তুলে নেই
সব ভুলগুলো আর আবর্জনার স্তূপে
নিক্ষেপ করি সকল দীর্ঘশ্বাস।
মাঝে মাঝে শূন্যতারা শেকড় গজায়
নিঃশ্বাস চাপা শরীরে।
প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে অরণ্যের আড়ালে
কারো বুনো ¯পর্শ বুকে চেপে ধরে,
শব্দের অন্ধকারের একাকিত্বে
বিষাদের অভিমানী ভুল।
তবু ভালোবাসা রয়ে যাক
শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্রোতময় নদীর মতো…
পারভেজ হাসান
চিৎকার করে কাঁদতে পারিনি
‘ভ্যাকেশন, স্টার্ট নাও’….
ইমরানা হাসি, এ তোমার কেমন ভ্যাকেশন,
‘স্টার্ট নাও এন্ড নেভার এনড্’…
সাংবাদিক বন্ধু ফয়সাল,
কত্তো আড্ডার কথার ফুুলঝুরিতে তোমার উচ্ছ্বাস
আজ তুমি নিজেই সংবাদ!
জনসংযোগ কর্মকর্তা সুজনের বিপাশা আপু,
হ্যাঁ, তোমাকেই বলছি-
কি স্থিরতা ছিলো তোমার নিগুঢ় দৃষ্টি জুড়ে,
শিখতাম তোমার কাছ থেকে জনসংযোগ কর্মের বিবিধ কৌশল।
বিপাশা আপু,
আমাকে আর পিআর কৌশল না শিখিয়েই কই হারালে তুমি?
তুমি কি চাও না আমিও তোমার মতো
দক্ষ জনসংযোগ কর্মী হয়ে উঠি?
অনিরুদ্ধ,
এত্তো ভালবাসো তুমি তোমার বাবা-মাকে!
পারলেই না ওদের কে এক মুহূর্তও ছেড়ে থাকতে!
আর তোমরা আনলাকি ১৩ হবু নেপালি ডাক্তার…
এত্তো উদার কেন তোমরা!
ডাক্তারী বিদ্যায় মানব কঙ্কালের আকালের সেই চাহিদা
স্বদেশে তোমাদেরই পূরণ করতে হবে?
হে তরুণ উচ্ছ্বল দম্পতি,
তোমাদের প্রবল প্রেমের তৃতীয় হানিমুন,
কেন হানিমুন শব্দটাই চিরতরে দুজনেরই করে নিতে হলো বলবে কি?
তোমরা ৫২ প্রাণ,
ঐ আকাশের নক্ষত্র হয়ে অবিরত কাঁদাও আমাকে, তোমাকে, তাকে…
হে অভিমানী প্রাণ,
হেরে গেলো নিয়তির অমোঘ নিয়মে আমাদের নীরব চিৎকার
এতোটা না কাঁদালে কি খুব অভিমান করতে তোমরা?
শূন্য কাষ্ঠ দৃষ্টিতে শুকনো জমাট কান্নার স্বাদ-
মাত্র তো কিছুক্ষণের
অতঃপর…
আবারো বুর্জুয়া পুঁজিবাদ
মুনাফার পৈশাচিক আগ্রাসন
জীবনের বিনিময়ে মুনাফা
প্রাণের বিপরীতে মিথ্যা হাহাকার
তোমার আমার
নিষ্কন্টক আমাদেরই চারপাশ
সাব্বাস, পুঁজি মুনাফাভোগী পৈশাচিক উন্মাদনা!
কখনও কখনও…
হয়তো প্রায়শই
দুর্ঘটনা, হতভাগ্যতা, নিরেট বোবা কান্নাটাও একসময়
নিপাত যায় ০২/২০ ধাঁধায়…
সব্যসাচী সেনগুপ্তর
ফুরানো গল্পের ছায়াপথে
মাঝে মাঝে দু-একটা ঘুঙুর দিন, দু-একটা তাড়িত সংলাপ
জীবাশ্ম পরাগের গন্ধচূর্ণে পতঙ্গ গুঞ্জনে ওড়াওড়ি করে,
পুরানো সনেটের নীল খামে ভেজা প্রণয় বন্দিত লাইন থেকে
গোপন ডাকের কোরা পাতা তৃণ বাতাসের মুখরতায় তা-
আবার ফিরে আসে বিবর মৌনতার হরকরা হাতে।
সোনালি-সবুজের ত্রিসন্ধ্যায় সেদিন তুমুল আঙিনার
রাঙানো জলের স্বপ্ন ফোয়ারায়
অরব দৃষ্টির কিছুটা ছাপ ছাপ শিলারস
অস্পষ্ট সুহাসিনীর মলিন শূন্যতায়
লেগে থাকে হৃদয়ের ভাঁজপত্রে।
আর ফুরানো গল্পের ছায়াপথে খন্ড পাখার এক প্রজাপতি
কাতরায় অপরাজিতার শুকনো পাপড়ির গায়ে
এলা গন্ধের নির্জনতায়।
আমিনুল কাদের মির্জা
সপ্রীতি পরম
সপ্রীতি পরম- একই সরণিতে সমান্তরালে
চলেছে পথিক অভিন্ন উদ্দেশে
দিন মাস বছর পেরিয়ে যায়, পথশ্রান্ত হয়
তবুও হয় না সন্নিপাত।
দুই সমুদ্রের সেই ঘূর্ণি ¯্রােতের মত
অনন্ত কালের প্রবাহে চলেছে পাশাপাশি
কিন্তু মিশেনা কখনো পরস্পরে
এ’তো তেল আর জল নয়
তবুও, কেন এমন হয়?
মাঝে মাঝে শ্রবণে আসে বোকা, বোকা তো!
সুদূরতমা, একজন ভালো সুন্দরতমার জন্য
না হয় বোকাই থেকে গেলাম আজন্ম
আবার কখনো কখনো পাগল অভিধায় সিক্ত হই
জানি তখন, এ’পাগলামোতেই সিদ্ধি আমার।
কখনো বা শুনি, আমি চতুর নই
তোমাকে হারাবার ভয়ে সিঁটিয়ে থাকি
তাই, আমি চতুর নাইবা হলাম।
ভাবনার অতল তলে তলিয়ে যাই
তার চেয়ে এই ভালোছি লকি
নিবিড় সম্পর্ক সন্ধানে
বিপরীত মুখী ¯্রােতে ভেসে ভেসে
মিলিত হতাম ঐকবন্ধনে।
এনাম রাজু
তুই ছাড়া মন জিম্মি
কতদূর গেলি? দৃষ্টির বাহির হলেও ঐ পাড়ায়তো না
তবু কেনো চোখের ঘড়ি বিছানা ভেজায় !
মনের দেয়ালে তোর চিত্রটি থেকে থেকে ভাসে
তুই ছাড়া একা থাকা, যেনো কষ্ট পুষি বেজায়।
এক পেলেটে হয়নি খাওয়া; বাকি বা কী ছিলো?
তাই তুই ছাড়া মন জিম্মি যেনো ভারুদত্তের হাতে
প্রিয়া বিয়োগে কতোটুকু কেঁদেছি তাও মুখস্থ আছে
এখন বিজলি চমকায়, মনের আকাশ গর্জে দিন রাতে।
তুইও কি অবুঝের মতো বকধ্যানে থাকিস?
কষ্টের ছানা মেলে রাখে ডানা আমাকে ছাড়া
নাকি ভুলে সব নতুন পেয়ালায় সময়ের ঠোঁট রাখিস
আর সাজাস রঙধনুতে ভ্যানগগের তুলি দিয়ে হৃদয়পাড়া।
জোবায়ের মিলন
অ্যালান গিন্সবার্গ- যদি থাকতেন, কাঁদতেন
আরও বড় হবে, আরও বড় হবে রাস্তা
কেটে ফেল ঘর বাড়ি গাছ মাছ গুল্ম লতা
মানচিত্র থেকে ধরে নামিয়ে ফেল বর্ণিল
বর্ণ, আমূলে সূর্যের তেজ ছেটে ফেল-
আরও বড় হবে, আরও বড় হবে রাস্তা।
অ্যালান গিন্সবার্গ শেটে লিখছে একাত্তর
কবর-দেয়াল-অতল, অতলে ডুবে যায় যশোর রোড।
গাছেরা মানুষ নয়, গাছেরা বলে না কথা
‘শত শত মরা, আধমরা পা …’
কত কত চিহ্ন গাঁথা, গাছেরা দেখেছে-
গিন্সবার্গ দেখেছে সেসব।
স্মৃতিহীন পোকা, পোকারা ভুলেছে রশ্মি।
মাটির গভীরে তর্জনী আঙুল বিস্ময় ভরা চোখ-
অন্ধরা দেখে না কিছু!
সেপ্টেম্বর গলে গাঢ় কম্পন নয়, দম্ভই জেগে ওঠে প্রখর।
ওদিকে মাইকিং-
আরও বড় হবে, আরও বড় হবে, আরও বড় হবে রাস্তা!
আরও বড় হবে, আরও বড় হবে, আরও বড় হবে রাস্তা!
অনন্য কামরুল
অলিখিত জোছনাচাবি
কুসুমজ্ঞানে ধরেছি আগুনের ডিম…ছাই তাই ছায়া সহোদর
ঠেলে দিলেও ধেয়ে আসে বালি স্রত অলীক পারাবত-
উড়ন্ত পাতাভাষ্যে নিমরাতে পাঠিয়েছি বসন্তলিরিক
জাগে যদি খোলস ভেঙে আমপাতার ভায়োলিন
তারাস্পর্ধিত স্বর্ণমঞ্জরি;
নৈঃশব্দ্য উজিয়ে আগত কোকিলের ডানা
বাতাসে ছড়াল যতটা স্পন্দিত উত্তাপ
উপরন্তু তার কাছেই জমা থাক অলকার চিঠি,
চূর্ণ চাঁদের অলিখিত জোছনাচাবি…
হাবিব সিদ্দিকী
ভ্যায়োলিনে ছুঁয়েছি একাকিত্বের দাগ
বোঁটাখসা পাতার মর্মরধ্বনি আমাকে অপলক করেছে।
তুমি ছুঁইয়ো না আমার মলিন মৃত্তিকা। ভ্যায়োলিনে ছুঁয়েছি একাকিত্বের দাগ
রাত্রি আমাকে একাকী নক্ষত্রালোকে ডাকে। সমুদ্রের নুড়ি আর
ঢেউয়ের প্রতিকৃতি
তোমার অশ্রুমেশা কপল পরখ করেনি এমনটা ভেবে নেওয়াও
আমাকে শিহরিত করে। পাথর ভেঙে ভেঙে
খন্ডিত হয়ে আমাকেই কাঁদায়। কান্না যেন মর্মে অক্ষরে লিখা
শিলালিপি। ছুঁয়ে দাও হে আমার নিমগ্ন পৃথিবী…
আমি হেঁটে যেতে যেতে সময়ের সন্ধিক্ষণে কাগজের নৌকা হবো।
তৃষ্ণার্ত অমরতাকে পিয়ে পিয়ে খুঁজে নেবো প্রেয়সীর কঙ্কণ!
পৃথ্বীশ চক্রবর্ত্তী
খাদ্যচিন্তা
প্রিয় খাদ্য কবিতা আমার।
তাই কোথাও কবিতা দেখলেই জিভ্ বেয়ে
পানি পড়া শুরু হয় আর কবিতাকে
গলধঃকরণের ইচ্ছে জাগে।
কোন জন্তু-জানোয়ার শিকার করলে যে রকম খুশি হত
আদিম মানুষ; সাহিত্যের বিশেষ সংখ্যায় বেশি
কবিতা দেখলে আমিও ঐ রকম আনন্দে মেতে উঠি।
আদিম মানুষের মতো আমারও মনে হয়
এই বুঝি আজকের খাবার জোগাড় হয়ে গেল।
তারপর উৎফুলচিত্তে অত্যন্ত তৃপ্তির সাথে
কবিতা খেতে আরম্ভ করি, একটি একটি করে।
জাফর পাঠান
মায়ের কণ্ঠ
বাংলা ভাষার ভাঁজে ভাঁজে লুক্কায়িত
মায়ের মধুর কণ্ঠ,
কৃষাণ-কৃষাণী গায়- মানুষের গান
সুরেলা চিত্ত অকুণ্ঠ।
মধুর স্বাদ- হারিয়ে ফেলে তার স্বাদ
বাংলা ভাষার কাছে,
পাখির গান- থামে কোকিল কুহুতান
লাগে যেন সব মিছে।
তানপুরে তান- তোলে যদি কলতান
লাগে যেন শূন্য শূন্য,
রফিক জব্বারের কণ্ঠে কণ্ঠ মেলালে
হয়ে উঠে তাহা পূর্ণ।
ঝিরি ঝিরি ঝরনা- তোলে যদি ঝংকার
ভাবে ডুব দেয় কবি,
আহা বাংলা মিলিয়ে যদি আঁকি ছবি
ছন্দে ছন্দে মিলে সবি।
ধরার গুলবাগে- ফুটেছে শুভ্র ফুল
গাঁথবে ভাষার বাসা,
সুরে সুর তুলে আজি গাইবে সবাই
আ মরি বাংলা ভাষা।
রজতকান্তি বর্মন
বাতাসে দাতাল মেঘ
বাতাসে দাঁতাল মেঘ আমাকে শাসায়
বুকের ভেতর সফেন স্বপ্ন লুটে পুটে
খায় ভিখিরি আগুন।
কৃতিত্বের থলিতে শূন্যতার অন্ধকার
নির্মেদ সুখের পিছনে ব্যর্থ হেঁটে চলা
শুধু হিজিবিজি। সবখানে খাদ।
স্বপ্নের টানাপড়েনে উজ্জ্বল চোখ
অনুগত বালকের মতো
সিঁড়ি বেয়ে নেমে যায় কষ্টের বাগানে।
ইচ্ছের মগজে শব্দ করে দাঁড় কাক
তবুও রক্তের উষ্ণতায় উঠে আসে ইতিহাস
ক্ষয়িষ্ণু চিতা ভস্ম মেখে।
অজয় দেবনাথ
অভিযোজন
টক-ঝাল যাপনের পর
নিশ্চিত বিচ্ছেদ নেমে এলে
উল্লম্ব থাকে না মন
এদিক ওদিক দোলাচল…
চুলচেরা হিসেবে নিকেশে
বাসা-ভাঙা অস্থির পাখির মতো
ডানা ঝটপট, শোক-গন্ধ…
মধু খুঁজে খুঁজে গুনগুন।
অন্তরের গভীর অন্তরে
যোগী নাকি ভোগী
বসে থাকে যে কে…
সুযোগ পেলেই সে রং বদলায়!
ফারুক সুমন
বহতা জলের স্রোতে ঐন্দ্রজালিক আভা
তুমি বহতা জলস্রোত
আমি কাগজের কিস্তি।
ধাবমান এক দৃষ্টি হয়ে
তোমার পিছনে ছুটছি।
কোন ভর নেই আমার উপর-
হালকা কাগজের কিস্তি,
ভর দিয়ে আছো তুমি;
যেন সমস্ত পৃথিবী।
চলমান কাগজের কিস্তি হয়ে
জলমগ্ন আমি।
মনে অনুরণে কেঁপে কেঁপে উঠি
কি যে হয়রানি!
জলমগ্ন জীবন সায়রে
ঐন্দ্রজালিক জলের সুর,
কার পায়ে যেন বেজে চলেছে
স্তব্ধ দুপুরে জলনূপুর!
উথলে উঠে জলময়ী তুমি
ভাসিয়ে দিয়েছ উভয় কূল।
সর্বনাশের নেশায় পড়ে
ওষ্ঠে ফোটে অবাক ফুল।
ইয়াসিন মাহমুদ
আমি একজন মানুষ
সবচেয়ে বড় বিষয় আমি একজন মানুষ
শ্রেষ্ঠত্বের রাজমুকুট আমার স্কন্ধে।
তাই একাকী মানব কিংবা মানুষহীন মরু প্রান্তর আমার
আবাসভূমি হতে পারে না।
প্রতিদিন নতুন ফুলের আমদানি হয়। সাজাই সখের বাগান মন আনন্দে।
মাথার ওপর ঝুলে থাকা ফাইলবন্দী কাজের তালিকা প্রকাশে
এক অনাবিল আনন্দ কিলবিল করে হৃদয় জুড়ে।
রোবট সোফিয়ার কোন স্পর্শ নেই সারা শরীর জুড়ে তবুও
এক পরম আধ্যাত্মিকতায় জ্বলে উঠি প্রতিদিন।
আমি মানুষ বলেই মানবিকতার জয় গানে শ্লোগান তুলি বজ্রকণ্ঠে।
আফরোজা রিতু
চিন্তার যৌবন
একটা ভুল হয়ে গেছে জীবনের হিসেবে
পঁচিশ বছর ছুটে চললাম সময়ের সাথে পালা দিয়ে
কিসের জন্য আর কোন কারণে তা ভাবিনি
যেনো নতুন সূর্যের আলো ধরবো ভেবে ভেবে
আঁধারের পিছু ছুটে কাল ক্ষেপণ হয়েছে।
সময়ের পরিক্রমায় হিসেবের পৃষ্ঠা খুলে গেলো
উন্মুক্ত হলো কর্মের দলিল, ঝরা পাতার মতো ঝরে গেলো
অতীত-ভবিষ্যৎ আর সুখের পিছনে ছোটার মিথ্যে লোভ।
কিসের আশায় ছুটছি! কেন সবাই ছুটে ছুটে চলি
অজানার পথে রুগ্ন ঘোড়ার পিঠে
তবে কি আমার মতো ছলনার নৌকায় উঠেছে পৃথিবী?
নাকি মস্তিষ্ক বিকৃত হয়েছে আমার চিন্তার যৌবনের।
রাহান তাপস
বৃষ্টি ঝড়ে, দুঃখ সরে
আমি মেঘের সাথে দুঃখ নিয়ে পথ চলছি-
সে কেন হঠাৎ করেই
কেন যেন সরে দাঁড়ায়!
বৃষ্টি আমায়-
কান্না ভরা অশ্রু ঝরায়!
দুঃখ আমার যায় ভেসে যায়
শ্রাবণ ধারায়!
বৃষ্টি ঝড়ে-
মধুর সুরে-
সঙ্গীতের সেই মূর্ছনায়!
দুঃখ আমার যায় চলে যায়
সেই সুরেই ব্যঞ্জনায়!
জালাল উদ্দীন সিদ্দিকী
কবিতারা সব দেখে
বালির কান্নায় ভিজে না সাগরবেলা
চোখের কান্নায় ভিজবে না সুখ তাও।
শুকনো রুটির পোড়া বুকে
খাদ্যের বিলাপ
ক্ষুধার ভিতরে ক্ষুধাতুর আঁকে
বঞ্চিত মানুষের ছবি।
শূন্য পাতিলে মায়ের আশ্বাস
অভুক্ত শিশুর কাটে না রাত
কবিতারা সব দেখে
যন্ত্রণার এ পীঠ ও পীঠ।
কষ্টের রেখাচিত্রে
তাড়না জমাট বাঁধে
বালির কান্নায় বাতাসের ঝড়
ভাঙচুর হবে হোক…
রুখে দাও বিপরীত সুখ।
মুসা আল হাফিজ
পাগল লোকটি
লোকটি মানুষের ভিড়ে নিবিড় নীরবে নিখোঁজ নিজেকে খুঁজছে
ভগ্নলোকালয়, মগ্নসুখালয় নগ্নভোগালয় কিংবা
বহুজাতিক ডুবন্ত জাহাজ, উড়ন্ত রাজনীতি, থৈ থৈ হাহুতাশ এবং
মাতাল দূতাবাসে খুঁজছে মানুষ!
চন্দ্র-সূর্যগলা গোলাকার ঘরখানা মানুষের চাপে
চ্যাপ্টা হয়ে যায় আর লোকটি
মানুষ কোথায়?
মানুষ কোথায়?
বলে দিন-রাত জলে-স্থলে নিজেকে ঝরায়!
ইমরোজ সোহেল
আমার দায়
আমার এখন কি দরকার রঙিন বাড়ি, পাতলা শাড়ি, কাঁসার থালায়
একটু যদি দাও আমাকে পান্তাভাত, তাতেই আমার মিটবে ক্ষুধা,
ঘুমের ঘোরে কাটবে আমার আঁধার রাত।
চাই না নারী, চাই না টাকা কাঁড়ি কাঁড়ি,
চাই না ভুলেও ঠোঁটের আগা স্পর্শ করুক নেশার তাড়ি
এসব এখন আমার কাছে নকল রাজার
রাজ্যনীতির বাড়াবাড়ি!
কুঁড়ির ভেতর লুকিয়ে আছে আস্ত ফুল,
তাকে এবার ফুটতে দেবো, গন্ধ নিয়ে খেলতে দেবো,
উড়তে দেবো নীল আকাশে,
ভাঙবে তখন প্রজাপতির সকল ভুল,
তখন তাকে দিতেই হবে পাখনা নিয়ে ঘুমিয়ে থাকার অন্তহীন শক্ত মাশুল।
আমার এখন কী দরকার?
একটু খানি আউশ চালের নোনতা খুদ, ফুটিয়ে খাবো,
মোটা সুতায় সিদ্ধ জামা, গায়ে জড়াবো,
কুচকুচে এক লক্ষ্মী ¯েট, চকের সাদার আঁচড় দিয়ে ক খ লিখবো,
স্বাস্থ্য সেবার মন্ত্র দিয়ে শরীরটাকে ভিজিয়ে নেবো।
আর কি চাই? আর কিছু চাই? এসবই এখন আমার দায়।
আফসার নিজাম
পুণ্যবান জোসনায় স্নান
প্রিয় নানীজানকে ভালোবেসে
শুধু একটি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টই বিস্তার করলো সম্পর্কে জাল
বহুকালের লালিত স্বপ্নের ভেতর প্রবেশ করে
কাল থেকে কালান্তরে নিশ্চিহ্ন হৃদয়ে চিহ্ন হয়ে গেলো
এমনি ভার্চুয়াল জগতে স্বপ্নের ভেতর দেখিছি তোমায়
কুমড়ো লতার মতো লকলকে শরীর
হাওয়ার ভেতর উড়ে চলেছো সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে
কবে কোন পথে সমুদ্র পার হয়ে গিয়েছো ওপারে
আমি স্বপ্নের ভেতর সেই সমুদ্রের শব্দ শুনি
সেকি ভয়ঙ্কর ঢেউ উথাল পাথাল করে দেয় হৃদয়ের দিগন্ত-
যেনো জুয়ারি সময় কেড়ে নেয় ভালোবাসার স্বপ্ন-
অথচ তুমি একাই ছিলে
আমি কেবলি তোমাকে হারাবার সমুদ্রে ডুবে যাই
ভাবি, ভার্চুয়াল জগৎ থেকে সাইন আউট হবো না
স্বপ্নের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মূর্খের মতো
তোমাকে নিয়ে স্বপ্নের জাল বুনে যাবো
আর ঢেকে রাখা লজ্জাকে ঘুম পাড়িয়ে।
সৈয়দ রফিকুল আলম
চুম্বক : হায়দ্রাবাদ
হায়দ্রাবাদ শহর দক্ষিণ ভারতে স্থিতি সমুজ্জ্বলে গড়া
ব্রিটিশ রাজন্য পূর্বে সামন্ত-শোষক নিপীড়নে ক্ষীয়মাণ
হায়দ্রাবাদ ইংরেজ ফরমান-বলে স্বশাসনে চলমান
সম্যক সুশান্তে প্রজা-বাৎসল্যে তোর অনিন্দ আনন্দে বাড়া।
হায়দ্রাবাদ নৃপতি নিজাম শিল্পকলা কাবল্যে অনুপ্রাণ
নগরীর কারুকর্ম দৃক, গ্রিক ভাস্কর্যের ছায়া ছায়া রূপ
রুচিশীল খাদ্যে ভরা, প্রবাদ প্রতিম বিরিয়ানি অপরূপ
শৈল্পিক আধারে ভরা ধ্রুপদী নৃত্যের তালে সুরে অনির্বাণ।
ইংরেজ শাসকদের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বে স্ব-স্বাধিকারের আশা
ব্রিটিশ ডিগবাজির ক্ষোভে নিভে যায় আলো-অস্ত্র হাতে তুলে
নিপাতের ঘরে যাব; তবু শির করবো না নতো এ নকূলে
রক্তনদী বয়ে যায় শূন্যের কুহকে নিজাম বিধ্বস্তে বিবমিষা।
অখন্ড ভারতে সীমা পড়ে বর্ণিল ছবির হায়দ্রাবাদের
ঝুটা বাটোয়ারার মূলে রক্তলাল ধুলো মাটি, মুমূর্ষু শবের।
তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী
জীবন হেঁটে চলে
জীবন হেঁটে চলে বিজন বিরান সড়কে,
গোধূলি লগ্নে মৃত্যু নাচে আজরাইলের
আয়েশি ডানায়। দৃশ্যের বাইরেও
কিছু অদেখা রয়ে যায় সেলুলয়েডে-
একদা কুমারী বালিকাদের ভিড়ে
নন্দনের দুমুখী পাহাড়ে সেকি দাপাদাপি !
পোশাক-প্রসাধন ভিজে একাকার,
রোমাঞ্চ ঘ্রাণে পুলকিত ইন্দ্র- জিউস।
ইবলিস শয়তানও নির্নিমেশ হাসে,
নিভৃতে স্নান সারে আশ্চর্য সময় ।
জীবন হেঁটে চলে বিজন বিরান সড়কে ,
তবুও শৌর্যগান গায় বাসন্তী দিন,
মাঝপথে ঊরুর ফাঁকে চতুর ঘূর্ণি
ব্যাকহোলে সাজায় মৃত্যুর পসরা।
সায়াহ্নে আনত সেজদা প্রার্থনায় বলি-
‘শুদ্ধ করো আমায় হে মহাপ্রভু’।
তসবিহ্ দানার সঞ্চারণশীল জপে
কাঁপে আসমানের সাত পর্দা,
কখন খুলবে জান্নাতের আট দরজা,
নিরবধি বয়ে চলা আয়ুষ্মান মহাকাল!
হাসনাইন সাজ্জাদী
ভালোবাসার কোলাজ
বিক্রমপুর রেক্সিনের ঝুলে থাকা নাইলন রসি করে
আমাকে ঝুলিয়ে রেখেছো যত বলছি
তুমি বলছো বাহাদুর হন্তারক আমি
সানমুন অ্যাড অ্যান্ড প্রিন্টার্সের বিজ্ঞাপনে
আমাকে সুইচ অন করে জ্বালিয়ে রেখেছো যত বলছি
তুমি বলছো আমি নয়ন জুড়ানো লাল নীল বাতি
শামীম সেনিটারির বাথটবের মত ব্যবহার করছো
যত বলছি আমাকে
তুমি বলছো উষ্ণ জলে আমি তোমার প্রোটন
চৌধুরী ইলেকট্রনিকসের ক্ষতিকর এনার্জি লাইট
আমার অবস্থা যত বলছি
তোমার খেয়ালে আমি সাশ্রয়ী সময়
মোহাম্মদ পুরের কাঠপট্টিতে আমার মরণদশা যতই বলি
তুমি তত ভালোবাসার কোলাজ ভাবো আমাকে।
মৃধা আলাউদ্দিন
সুপুরুষ
হে মানুষ! তোমরা আমাকে সেইসব পুরুষদের একজন ভাবতে পারো
যাদের মাথার উপর দিয়ে উড়ে যায় রাত্রিরে রোদ্দুর
যারা ইতিহাস-ঐতিহ্যের আলো
আমি তাদের একজন।
আমার সামনে, পেছনে-উপর দিয়ে অসংখ্য সূর্য দুলে উঠেছে
আমি অশ্বারোহী আপেল থেকে সুষম খাদ্য গ্রহণ করি
আমার নিজস্ব ডায়েটিশিয়ান আছে।
আমি আসমানে পাখিদের উড়াউড়ি দেখি
সামনে, সমুদ্রে পাখিরা উড়ে যায়
আমি পাখি হয়ে যাই…
আমি সেইসব সুপুরুষদের একজন।
হেলাল আনওয়ার
আমি সমুদ্র হবো
আমি সমুদ্রকে ভালোবাসি
চঞ্চলা দুরন্ত বালিকার মতো যখন সে
অনিমেশ প্রেমানন্দে উছলে ওঠে
তখন ভাবি- আহা আমি যদি
সমুদ্র হতে পারতাম-!
ভোরের সদ্য আলোর সাথে উচ্ছল পাখিরা
হেসে হেসে যখন ফুল পার্বণ উদযাপন করে
তখন মনে হয়- রঙিন স্বপ্নকে যদি
ছুঁয়ে দিতে পারতাম-!
গেরুয়া পরিহিত বিকেল যখন অবসন্ন
নিস্তেজ নিরাসক্ত সন্ধ্যা বলাকারা
ধীরে ধীরে নীড়ে ফেরে বিকেলের গা ঘেঁষে
তখন আমার ইচ্ছে হয়- আবির বৃষ্টিতে
যদি ভিজতে পারতাম-!
আমি সমুদ্র হবো-
আমি স্বপ্ন হবো-
আমি আবির হবো-
আমি ইতিহাস হবো- শুধু তোমারই জন্য-
তোমার বিরহের পরিত্রাণ কামনা করে
দেখ, জানু পেতে বসে আছি দুচোখ ভিজিয়ে
মাগো-, তুমি কি আর হাসবে না কখনো?
রেজা রাজা
মেঘলোকে শহর ভেসে যায়
একরাশ কাঁটাবন পার হতেই
নিবিড় এলিফ্যান্ট রোড
পেরিয়ে আসি বুড়ো রোড-
ডিভাইডার রাত নয়টায়
পঙ্খীরাজ রিক্সা শূন্যে চলে
সোডিয়াম বাতির রহস্য
আলোয় অলীক ড্রোন।
ফেসবুকের ক’টি ফেইক আইডি
পিছু নেয় যাতনা ঝাঁকি জাল ছোড়ে।
জুবেরি রেস্তোরাঁ ভাজে কই
ডিজিটালি স্বাগত জানায় মোতালেব প্লাজা।
মিনার মনসুর
আমার ঘোড়াটি সব জানে
সব মনে আছে তার।
প্রথম যেবার ঘোড়ায় চড়ে বর এলো- গ্রামে সে কী ধুন্ধুমার কাণ্ড! যদিও বরবাহী ঘোড়াটি খুব রুগ্ণ ও বিরক্ত ছিল-এদিকে ভাড়া করে আনা হ্যাজাক বাতিগুলোও মেতে উঠেছিল অন্ধকারের সঙ্গে কানামাছি খেলায়- তবু সে নিজেও শরিক হয়েছিল সেই আনন্দমেলায়। বৃদ্ধদের অস্তগামী হৃৎপিণ্ড এখনো শুনতে পায় তার অলৌকিক সেই হ্রেষাধ্বনি।
এখন কত বাদ্য-কতই না কেরদানি আলোর! হরিপদ কেরানি গ্রামদর্শনে আসেন বিএমডাব্লিউতে চড়ে। গ্রামের রাস্তাগুলো ফিরেও তাকায় না। বর আসে বিশেষ বিমানে। পুষ্পবৃষ্টি হয় আকাশ থেকে। যৌতুক বিনিময় হয় পাহাড় কিংবা নদী। অর্থ আর উপাদেয় সব খাবার যে কোথা থেকে আসে সে খবর বরের বাবাও জানেন না। কিন্তু আমার ঘোড়াটি সব জানে। জানে তার জন্যেও রয়েছে বিশেষ মেন্যু। দুবাই থেকে আনা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থায়।
তবু জাঁকালো উৎসব ছেড়ে সে হাঁটতে থাকে অন্যমনে। যেখানে আচমকা থমকে দাঁড়ায় সেটি একটি প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র। বিকটদর্শন একদঙ্গল পোকা স্বাগত জানায় তাকে। অদ্ভুত ভঙ্গিতে দুই হাঁটু মুড়ে নতমস্তকে সে তাদের সম্মান প্রদর্শন করে।
সোহরাব পাশা
দুই জীবনের দাঁড়ি কমা
তুমি কতোবার আর দাঁড় করাবে ঝড়ের মুখে
দ্বিতীয় মৃত্যুকে মুছে দিয়ে প্রতিবার
হেসে ওঠো তুমি নতুন পাতার ভিড়ে
ফিরে আসার তো কোনো চিঠি-পত্র নেই,
সেই যে প্রসন্ন বিকেলের রোদে ঝিরঝিরে বৃষ্টি
মুখে বিষণœ স্টেশনে থেমে ছিলো আনন্দনগর
ট্রেন, কে জানতো সেই ট্রেন ভর্তি ছিলো
দুই জীবনের গল্প
সে গল্পের পাঠ দাঁড়ি কমা শেষ হয় না কখনো
একা একা পড়তে পড়তে
মাঝ রাতে চোখ ভিজে যায়
জানালার ঠিক অন্য পাশে তোমাদের
হলুদ বাড়িতে তখন জ্যোৎ¯œার থৈ থৈ
বৃষ্টি নামে
চোখের আগুনে বৃষ্টি পুড়ে যায়