দেশপ্রেম মানবপ্রেম প্রকৃতিপ্রেমের পাশাপাশি মহান ভাষা-আন্দোলন ও স্বাধীনতার পক্ষে অজস্র সুন্দর সুন্দর মহান কবিতা লিখে যিনি আজ বাঙালি পাঠকসমাজে বাঙলা কাব্যজগতে ও সাধারণ খেটে খাওয়া প্রান্তিক মানুষের হৃদকুঠিরে নিজেকে অনেক বড়ো জায়গা করে নিয়েছেন তিনি আর আমাদের অপরিচিত কেউ নয়, আমাদের অতীব আপনজন কাছের মানুষ মা মাটি বাঙলার বাউল কবি ওমর আলী। যদিও অনেক দেরি করে দিলেও (মরণোত্তর) একুশে পদকে (২০১৭) ভূষিত করে চির মা মাটির সাথে মিশে থাকা প্রিয় এই কবিকে দেশ রাষ্ট্র জাতি যথাযথ সম্মান দেখিয়েছেন। অবশ্য কোনো পুরস্কার বা পদক মেধাকে সৃজনশীলতাকে মূল্যায়ন করার চাবিকাঠি না তবুও একজন কবির জন্য এটা কম কিসের।
বিগত ২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালের দিকে দেশের বিভিন্ন জেলা শহর পাবনা নাটোর আলমডাঙা বগুড়া রাজশাহী নওগাঁ পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও এ বিভিন্ন নামে সাহিত্য সংগঠনের আয়োজনে একদিন কিংবা ২দিনব্যাপী কবি/সাহিত্য সম্মেলনে একজন আমন্ত্রিত কবি হিসেবে যোগ দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি এই জন্য যে, এসব সাহিত্য কবিদের অনুষ্ঠানে কবি ওমর আলীর মতো বাঙলা ভাষার অন্যতম প্রথম সারির অনেক প্রিয় কবির সান্নিধ্যে আসতে পেরেছি। আর তাই কবি ওমর আলীকে অনেক কাছ থেকে দেখেছি, হৃদয় দিয়ে তাকে চিনেছি ও জেনেছি। তার কবিতার সাথে কবিতার শব্দের সাথে পরিচিত হয়েছি। এমনকি তার কবিমনকে শিল্পমনকে তার ভাবনাকে চিন্তাকে কিছুটা হলেও বোঝার চেষ্টা করেছি। একেবারে একজন সহজ সরল নির্লোভ মা মাটি বাঙলার সন্তান কবি ওমর আলী। কথাতে আলাপে আড্ডাতে আলোচনাতে এতোটাই মধুর সাবলীল এবং আন্তরিকতা সত্যিই তাকে না দেখলে বা তার সাথে না মিশলে অথবা একটু কথা না বললে তার সম্পর্কে অনেক কিছু জানা থেকে বড্ড বেশি বঞ্চিত হতাম। কবি ওমর আলী অত্যন্ত স্নেহভরা মন নিয়ে সদা কথা বলেছেন, সাহিত্য নিয়ে জ্ঞানমূলক আলাপ বলেছেন, কবিতা বিষয়ে তার নিজস্ব চিন্তা চেতনা ভাব বোধ ভাবনা কি তা অকপটে বলেছেন। আর এসব সহজ সরল মনের অধিকারী একজন প্রকৃত কবিকে অবশ্যই হতে হয়। এদিকটা বিবেচনা করলে কবি ওমর আলী নিজেকে অনেক অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং নিজেকে করে তুলেছেন কাব্যজগতে সত্যিকারের একনিষ্ঠ বলিষ্ঠ শব্দশ্রমিক। আমরা তাই অকপটে এই কবিকে মানুষের কবি, জীবনের কবি, মাটির কবি, শব্দের কবি, প্রকৃতির কবি এবং সর্বোপরি বাঙলা মায়ের বাউল কবি বলতে এতোটুকু অসুবিধা বোধ করি না।
কবি ওমর আলীর কবিতায় সমকালের আধুনিকতার চেতনার জীবনবোধের ও আগামীর স্বপ্নের যে আবেদন সুর ছোঁয়া পাওয়া যায় তা নতুনত্বের নবধারার নবসৃষ্টির। ঢেউ ছন্দ ভাষা ভাব আলাদা রঙে ঢঙে রূপে আঙ্গিকে সতত দেখতে পাওয়া যায়। যদিও সাহিত্যে আধুনিকতা অনাধুনিকতা বলে আদৌ কিছু আছে কিনা তা অনেক আলোচনার বিষয়। এ ছাড়া তার কবিতায় মূর্ত বিমূর্ত ইত্যাদি শিল্প বিষয়ক নান্দনিকতা কবিকে অনেক ক্ষেত্রে জীবন প্রকৃতি মাটির কবি সত্ত্বেও তাকে একজন বিপ্লবী বিদ্রোহী করে তুলেছে। আমরা জানি যে, কবি মাত্রই কবি না, একজন কবি বিপ্লবী ও বিদ্রোহী। জীবন সমাজ-সংসারে রাষ্ট্রে সবখানে কোনো অন্যায় অত্যাচার জুলুম অনিয়ম অনাকাক্সিক্ষত অসঙ্গতি সকল অন্ধকারের বিরুদ্ধে কবি হয়ে ওঠে বিদ্রোহী এবং কবি কবিতাকে দ্রোহের সুরে নান্দনিক রূপে পঙক্তিতে প্রকাশ করে। এখানেই কবি অনন্য, অন্য সত্তা নিয়ে আপনাকে পাঠকের কাছে সমাজের সামনে হাজির হয়। কবি ওমর আলীও তার কবিতায় কখনো কখনো দ্রোহের আগুনে অসুন্দর অন্ধকারকে পুড়িয়েছেন। সুন্দরকে নান্দনিকতাকে আকাশছোঁয়া অট্টালিকার মতো কবিতা করে তুলেছেন।
হ্যাঁ ! এটা ঠিক যে, কবি ওমর আলীর পাঠক পরিচিতি কম। সমকালীন বাঙলা কাব্যে কবি শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হক, নির্মলেন্দু গুণ, হুমায়ুন আজাদ, আসাদ চৌধুরী, মুহম্মদ নুরুল হুদা, রফিক আজাদ, সমুদ্র গুপ্ত ও মহাদেব সাহারা যেভাবে নিজেদেরকে ব্যাপক পাঠকপ্রিয় বা চেনা-জানার মধ্য দিয়ে পরিচিত, সেদিক থেকে কবি ওমর আলী অনেকটা এদেশের মানুষের কাছে চেনা-জানার বাইরে রয়ে গেছেন। আর এর জন্য কবি কতোটুকু দায়ী জানি না, তবে আমরা পাঠক সমাজের মানুষেরাই বেশি কৃপণতার পরিচয় দিয়েছি তার বেলাতে। তাকে পাঠকের সামনে সমাজের কাছে তুলে ধরতে অনেকটা দুর্বলতা দেখিয়েছি। কিন্তু কেনো এই কৃপণতা কেনো এই দুর্বলতা কাল একদিন তার সত্যতা নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হবে। যদিও কালের বিচারে শিল্পের চোখে ওমর আলী ঠিক ঠিক পৌঁছে গেছেন অন্যদের কাছে অনেক দূরে। এ কথা বলতে পারি বাঙলা কাব্যকাশে ওমর আলী একজন শক্তিমান সৃজনশীল প্রতিভাবান মেধাবী জাত কবি।
কবি ওমর আলী ছিলেন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী একজন সাদাসিধে নিরেট ভালো মানুষ। এবং এই আত্মবিশ্বাস থেকে তিনি তার কবিতাকেও করে তুলেছেন শিল্পময় সুন্দর ও আত্মবিশ্বাসী। একান্তে সাহিত্যচর্চাকে কাব্যচর্চাকে তার জীবনে ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন। এই জন্য তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কাব্যচর্চায় নিজেকে আত্মনিবেদন করেছিলেন। একজন কবি যখন একটা কবিতা লেখেন বা সৃষ্টি করেন তখন তিনি শুধু একজন স্রষ্টাই নন, তিনি কবিতার মধ্যে তার আত্মবিশ্বাসকে বোধকে ভাবনাকে চিন্তাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলেন। এদিক থেকে কবি ওমর আলী অনেক বেশি মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। কবি ওমর আলীর কবিতায় মা মাটি দেশ মানুষই মূলত প্রধান হয়ে উঠেছে। মাটিকে তিনি অনেক কাছ থেকে দেখেছেন, গ্রামকে প্রকৃতিকে নদীকে নারীকে নিবিড়ভাবে ছুঁয়ে দেখেছেন, তাই তিনি মাটির কবি দেশের কবি মানুষের কবি এবং সর্বোপরি বাঙলা শব্দের একজন বাউল কবি।
নারী কখনো মাতা, কন্যা, ভগ্নি, প্রিয়তমা আবার নারী কখনো পূর্ণিমা, মাতৃভূমি সমতুল্য আর প্রকৃতিরূপ ইত্যাদি। এমনি করেই কবি ওমর আলী যখন তার কবিতায় নারীদের স্বপক্ষে প্রশংসায় বলে ওঠেন…
এদেশের শ্যামল রঙ রমণীর সুনাম শুনেছি / আইভি লতার মতো সে নাকি সরল, হাসিমাখা;
সে নাকি স্নানের পরে ভিজে চুল শুকায় রোদ্দুরে / রূপ তার এদেশের মাটি দিয়ে যেনো পটে আঁকা…।
এ কথা আর বলার অপেক্ষা থাকে না যে, কবি ওমর আলী তিনি নারীকে মায়ের সাথে মাকে দেশের সাথে কতোটা ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে কবিতার পঙক্তিকে প্রশংসামূলক কথা দিয়ে নারী জাতিকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। গ্রাম বাঙলার স্বপ্ন দেখা মায়া মমতা স্নেহপরায়ণা নারী স্বামী সংসার সন্তানের প্রতি প্রেম ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা কোনো মমতাময়ী মা নারীর হাসিমাখা সুন্দর নিষ্পাপ নির্লোভ মুখ কবি তার কবিতায় শব্দে শব্দে পঙক্তিতে পঙক্তিতে ছন্দের ঢেউয়ে নির্মলভাবে তুলে ধরেছেন। আর এসব চরিত্রের অধিকারী নারীদের তিনি তাই কতো সহজে আইভি লতার সাথে এক করে দেখেছেন। এখানেই কবি ওমর আলী একজন অনন্য কবি।
কবিতা শুধু কবিতা নয়! কবিতা একমাত্র শিল্পের প্রকাশ নয়। কবিতা মানে অনেক কিছু। কবিতা আকাশের মতো উদার, সাগরের মতো বিশাল আরো কতো কি। কেননা, কবিতা জীবন সংসারের কথা বলে, স্বপ্নের কথা বলে, বিশ্বাসের কথা বলে, দেশপ্রেমের কথা বলে, মানবতার কথা বলে, মানবপ্রেমের কথা বলে, প্রকৃতির কথা বলে, সুন্দরের কথা বলে, ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা বলে, স্বাধীনতার কথা বলে, চেতনার কথা বলে, জাতীয়তাবাদের কথা বলে সর্বোপরি কবিতা ছন্দ সুর ভাষা ভাব আক্ষরিকার্থে নান্দনিক শিল্পের কারুকার্যময়তার কথা দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করে। কবি ওমর আলীর কবিতা এসব স্বগর্বে বহন করে চলেছে। কেননা, আমরা জানি যে; একজন লেখক দার্শনিক শিল্পী অথবা কবি জাতির শ্রেষ্ঠসন্তান, জাতির বিবেক, মানুষের বন্ধু আর সমাজের মেহনতী মানুষের কন্ঠস্বর। ফলে দেশের প্রতি রাষ্ট্রের প্রতি জাতির প্রতি ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতির প্রতি জাতীয়তাবোধের প্রতি স্বাধিকারের প্রতি এবং সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের প্রতি কবি বা লেখকের বড়ো একটা দায়বদ্ধতা সবকালেই থেকেই যায়। এখান থেকে কোনো কবি বা শিল্পী লেখক নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন না। যেহেতু কবি বা লেখক তিনি এই সমাজেরই একজন, এই মানুষদেরই একজন এমনকি বর্তমান কালেরও একজন প্রতিনিধি। সেহেতু তিনি সৃজনশীল মননশীল মানুষ হওয়া সত্ত্বেও দেশ জাতি সমাজ ধর্ম রাজনীতি ইত্যাদি বিষয়ে তার থাকে একটা আলাদা বিশ্বাসের জায়গা। যেখানে তিনি শুধুমাত্র শব্দের রঙে কবিতার রঙে ছন্দের রঙে সব কিছুকে রঙিন করে তোলেন।
আগেই উল্লেখ করেছি যে, কবি ওমর আলীর কবিতায় ভাষা-আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধ সচেতনভাবে বার বার উঠে এসেছে। ভাষাশহীদদের প্রতি তার আন্তরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা এতোটুকু ঘাটতি নেই। যদিও বয়সের তুলনায় তিনি ভাষা-আন্দোলনের সময়ে অষ্টম শ্রেণীর একজন ছাত্র ছিলেন, আর তাই বায়ান্নতে বাঙলা ভাষার দাবিতে আন্দোলনে মিছিলে সভাতে যোগ দেয়া তার জন্য হয়ে ওঠেনি। কিন্তু বায়ান্নর ভাষা-আন্দোলনে শহীদ হওয়ার তীব্র আকাক্সক্ষা তার হৃদমাঝারে একান্তে রয়ে গেছে। তিনি তার ‘‘শহীদ হতে পারতাম’’ কবিতায় আপন আকাক্সক্ষা এভাবে তুলে ধরেছেন :
আমিও শহীদ হতে পারতাম যদি বায়ান্ন সালে / আমার বয়স চার বছর বেশি হতো আমি
তখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি আমার কপালে / জোটেনি কলেজে পড়া হয়নি ছাত্র অতো দামী
হয়তো মিছিলে যোগ দিতাম তুমুল শ্লোগানে / কাঁপিয়ে দিতাম চারদিক বাংলা রাষ্ট্র ভাষা চাই…।
কবি ওমর আলী ছিলেন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী একজন সাদাসিধে নিরেট ভালো মানুষ। এই আত্মবিশ্বাস থেকে তিনি তার কবিতাকেও করে তুলেছেন শিল্পময় সুন্দর ও আত্মবিশ্বাসী। আর তাই একজন কবি যখন একটা কবিতা লেখে বা সৃষ্টি করে তখন তিনি শুধু একজন স্রষ্টাই নয়, তিনি কবিতার মধ্যে তার আত্মবিশ্বাসকে বোধকে ভাবনাকে চিন্তাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলেন। এদিক থেকে কবি ওমর আলী অনেক বেশি মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। কবি ওমর আলীর কবিতায় মা মাটি দেশ মানুষই মূলত প্রধান হয়ে উঠেছে। মাটিকে তিনি অনেক কাছ থেকে দেখেছেন, গ্রামকে প্রকৃতিকে নদীকে নারীকে নিবিড়ভাবে ছুঁয়ে দেখেছেন, তাই তিনি মাটির কবি দেশের কবি মানুষের কবি এবং সর্বোপরি বাঙলা শব্দের একজন বাউল কবি।
আমরা জানি যে, কবি ওমর আলী ব্যক্তিজীবনে সংসার জীবনে অনেকটা দুঃখ কষ্ট হতাশার মধ্যে থেকে অযতেœ-অবহেলায় কাব্যজীবন অতিবাহিত করেছেন। জীবন সংসারে দক্ষ যোদ্ধার মতো লড়েছেন। তবুও এমনই দুর্দশার মধ্য দিয়ে পথ চলতে গিয়ে তিনি বাঙলা কাব্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন তার প্রবল আত্মবিশ্বাস। কিন্তু কাব্য সৃষ্টিতে এতোটুকু ভেঙে পড়েননি। বরঞ্চ একটার পর একটা সুন্দর সুন্দর কবিতা লিখে নিজেকে প্রকৃত মৌলিক একজন কবি হিসেবে সমাজের কাছে পাঠকের সামনে দাঁড় করিয়েছেন। আমাদের বনলতা সেনের স্রষ্টা রূপসী বাঙলার কবি জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন-সবাই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।’ কবি জীবনানন্দের এই কেউ কেউ কবির মধ্যে কবি ওমর আলী একজন এবং অন্যতম, এতে অবশ্যই সন্দেহ নেই। সত্যিটা এই কলম আর কালিতে খাতার পর খাতা লিখে শব্দের পর শব্দ গেঁথে কবি হওয়া যায় না কিংবা কবিতা সৃষ্টি হয় না। কবিতাকে কবিতা করে তুলতে হয় আর প্রকৃত কবি হতে হয়। বাঙলার হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও শিল্প-সাহিত্যের বহমান স্রোতে শব্দের তরী ভাসিয়ে যারা বর্তমান কাল পর্যন্ত বাঙলা সাহিত্য ও কাব্যে অধিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠিত ও অনন্য হয়ে আছেন তাদেরই একজন এবং অন্যতম কবি ওমর আলী। তিনি নিপুণ হাতে কাব্যশৈলী নির্মাণ করেছেন, শব্দকে গেঁথেছেন সচেতনভাবে। আর এমনি করেই তিনি হয়ে উঠেছেন বাঙলা কাব্য জগতে শক্তিশালী শব্দশ্রমিক। এবং তার কবিতাকে তিনি সার্থক করে তুলেছেন।
পাবনা জেলার চরশিবরামপুর গ্রামে নানার বাড়িতে ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে ২০ অক্টোবর এই মা মাটি বাঙলার বাউল কবি ওমর আলী জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি অল্প বয়সে শিশুকালে গর্ভধারিণী মাকে হারান। আর মা ছাড়া এক ভয়ানক দুঃখ যন্ত্রণা কষ্টের বেড়াজালে খাপ খাইয়ে কবি ওমর আলী বেড়ে উঠেছিলেন। তার জীবনে চলার পথে দুঃখ কষ্ট বারংবার বাধার পাচিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু তিনি এতোটুকু থেমে থাকেনি। কবিতাকে পাথেয় করে শক্তিরূপে চলেছেন।
বিগত ২০১৫ সালে ৩ ডিসেম্বর আমাদের এই বাউল কবি ওমর আলী না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন। যে দেশ থেকে ওমর আলী কখনো আমাদের কাছে এই ধরাধামে ফিরে আসবেন না। আর কখনো তিনি তার স্বরচিত কবিতা পড়ে আমাদের শোনাবেন না। কোনো সাহিত্য কবিতা আসরে হাসিতে আড্ডাতে আলোচনাতে মুখরিত করে তুলবেন না। কিন্তু তার রেখে যাওয়া বৈচিত্র্যময় সাহিত্য সৃষ্টি কাব্য রচনার ভেতরে যুগ যুগ ধরে তিনি বেঁচে থাকবেন এবং তারই অস্তিত্বের জানান দিয়ে যাবেন। জয়তু বাঙলার বাউল কবি ওমর আলী।