আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব শান্তনু কায়সার (১৯৫০-২০১৭)। বাংলাসাহিত্যে শান্তনু কায়সারের সাহিত্যসৃষ্টি নানা দিকে বিস্তৃতি লাভ করে। বিশেষত প্রবন্ধ ও সৃজনশীল গদ্য রচনায় তাঁর মেধাশ্রম এবং অন্তর্দৃষ্টির কথা সর্বজনস্বীকৃত। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে শান্তনু কায়সারের মতো মেধাবী গদ্যলেখক তেমন একটা চোখে পড়ে না। সমালোচনা সাহিত্য এবং যুক্তি ও বিশ্লেষণধর্মী সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে শান্তনু কায়সার ছিলেন সুস্পষ্ট ব্যতিক্রমী লেখক। তাঁর লেখা মানিক, বিভূতি ও সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কথাসাহিত্য প্রসঙ্গে তিনটি দীর্ঘ প্রবন্ধের সঙ্কলন ‘ভিন্ন মাত্রা’ (২০০১) গ্রন্থটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে বোঝা যায়, কী নিবিড় অবলোকন, কতটা গভীর অন্তর্দৃষ্টি ছিলো বাংলা কথাসাহিত্য বিষয়ে। ওই আলোকদীপ্ত গ্রন্থে তিনি কথাসাহিত্যকে প্রথাগত দৃষ্টিতে দেখেননি, বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন সাহিত্যের গভীরতম জায়গা থেকে। সেই জন্যই ‘ভিন্ন মাত্রা’ শব্দদ্বয় যুক্ত করেছেন তিনি। এ ছাড়া ‘গভীর গভীরতর অসুখ গদ্যসত্তার জীবনানন্দ’ (১৯৯৭) গ্রন্থে জীবনানন্দ দাশের কবি-সত্তার বিপরীত গদ্য এবং কথাসাহিত্যে ভিন্নতার প্রয়াস লক্ষণীয়।
অদ্বৈত মল্লবর্মণের জীবন ও সাহিত্য বিষয়ে শান্তনু কায়সারই নির্ভরযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। অদ্বৈত মল্লবর্মণের জীবনী প্রকাশের মধ্য দিয়ে যে অদ্বৈতচর্চার শুরু, তা অব্যাহত ছিল ২০১৭-তে তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত। শান্তনুর অদ্বৈতচর্চার ‘অদ্বৈত মল্লবর্মণ’ (বাংলা একাডেমি ১৯৮৭), ‘অদ্বৈত মল্লবর্মণ: জীবন, সাহিত্য ও অন্যান্য’ (১৯৯৮), ‘জন্মশতবর্ষে অদ্বৈত মল্লবর্মণ: জীবন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি’ (২০১৪) বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে অদ্বৈত মল্লবর্মণের উপন্যাসসমগ্র এবং কালজয়ী উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’। ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এর নাট্যরূপও দিয়েছেন। শিল্পী ভ্যান গগের জীবনভিত্তিক আরভিং স্টোনের ‘লাস্ট ফর লাইফ’ নামে যে উপন্যাস অদ্বৈত অনুবাদ করেছিলেন, তার টীকা-ভূমিকাসংবলিত একটি সম্পাদিত রূপ এবং অদ্বৈত-জীবনীর পরিমার্জিত ভাষ্য তৈরি করে গেছেন তিনি, যা প্রকাশের অপেক্ষায়। অদ্বৈত-কেন্দ্রিত প্রতিটি বইয়ে তিনি সাম্প্রতিক তথ্য সংযোজন এবং তৎপ্রেক্ষিতে তাঁর বিশ্লেষণ যুক্ত করে গবেষণাকে একটি ধারাবাহিকতায় মালাবদ্ধ করেছেন। তাঁর অদ্বৈত গবেষণা দেশ-বিদেশের সুধী পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অদ্বৈত চর্চার পাশাপাশি তাঁর জন্মস্থল এবং ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এর কেন্দ্রভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণঘাটের মালোপাড়াকে ঘিরে একটি সাংস্কৃতিক বলয় নির্মাণে তিনি গত শতাব্দীর আশির দশক থেকে আমৃত্যু একজন সক্রিয় কর্মীর মতো অনলস কাজ করে গেছেন।
শান্তনু কায়সার বেশ কয়েকজন কবি-সাহিত্যিকের জীবনীগ্রন্থও রচনা করেছেন। সেগুলোও তথ্যবহুল এবং হৃদয়গ্রাহী। শওকত ওসমান, অদ্বৈত মল্লবর্মণ এবং মতিউল ইসলাম এ তিনজনের জীবনীগ্রন্থ পড়লে উপলব্ধি করা যাবে যে, লেখকদের জীবন ও সাহিত্যকর্ম অভিন্ন একসূত্রে গ্রন্থিত করে শান্তনু কায়সার লেখকদের ব্যক্তিসত্তাকে আবিষ্কার করতে চেয়েছেন।
অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাঁর গবেষণা গতানুগামী নয়। রবীন্দ্রনাথ নিয়ে তাঁর বই ‘রবীন্দ্রনাথ : চার অধ্যায়’ এবং সার্ধশতবর্ষে ‘রবীন্দ্রনাথ : না নিন্দা না স্তুতি না দূষণ’। তাঁর আরও কয়েকটি গ্রন্থের মধ্যে আছে ‘সুকান্ত ভট্টাচার্য : পাঠ ও পুনর্পাঠ’। নজরুল-গবেষণায় পরিচিত বৃত্তের বাইরে গিয়ে নজরুলের সৃষ্টিতে ফুলের অনুষঙ্গ নিয়ে লিখেছেন একটি অসাধারণ বই ‘ফুল ও নজরুল’ এবং ‘নজরুল কেন নজরুল’। ‘ঐ নূতনের কেতন ওড়ে’ নামে নজরুলকে নিয়ে একটি উপন্যাসও লিখেছেন তিনি। বিভূতিভূষণের ‘দেবযান’ উপন্যাসের প্রায় ৭০ পৃষ্ঠার বিশ্লেষণধর্মী ‘দেবযান: স্বর্গ ও পৃথিবীর দ্বন্দ্ব’ তাঁর প্রাবন্ধিক নিষ্ঠা ও নতুনত্বের পরিচয়ের আবহ ফুটে ওঠে। কবি জীবনানন্দ দাশের ‘গহন-গভীর’ গদ্যসত্তার উন্মোচক আলোচনা বিধৃত হয়েছে শান্তনু কায়সারের ‘গভীর গভীরতর অসুখ: গদ্যসত্তার জীবনানন্দ’ বইয়ে। শান্তনু কায়সারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গবেষণাকর্ম মীর মশাররফ হোসেনকে নিয়ে লেখা ‘তৃতীয় মীর’ (১৯৯৪)। দুই পর্বের বঙ্কিমচন্দ্র (১৯৮২ ও ১৯৮৪) তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য গবেষণাকর্ম। সাহিত্যব্যক্তিত্বের প্রতি গবেষক-আগ্রহ ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে বৃহৎ পরিসরের অন্য কৃতিমানদের প্রতিও। দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর, একাত্তরের শহীদ চিকিৎসক মোহাম্মদ মোর্তজা, কবি রাজিয়া খাতুন চৌধুরাণী (১৯০৭-৩৪) কিংবা তাঁর সমকালীন সাহিত্যিক-সংগঠক নাজমা জেসমিন চৌধুরীর (১৯৪০-৮৯) জীবনী রচনায়ও তিনি ছিলেন সমান উৎসাহী। মৃত্যুর কিছুকাল আগে তিনি লিখেছেন দুই ভুবনের দুই কথাশিল্পী মীর মোশাররফ হোসেন এবং শওকত ওসমানের জীবনী। জীবনীকে তিনি শুধু সুকৃতির গাথায় পরিণত করেননি, বরং জীবনীকে নির্মোহ-নিরাসক্ত-নৈর্ব্যক্তিক আলোচনার কাঠামোয় দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর সম্পাদনা ও কাজের মধ্যে অকালপ্রয়াত লেখক খান মোহাম্মদ ফারাবীর রচনাসমগ্র অন্যতম।
শান্তনু কায়সারের প্রথম দিকের গ্রন্থতালিকায় পাওয়া যাবে কবিতাগ্রন্থ ‘রাখালের আত্মচরিত্র’ (১৯৮২) এবং গল্পগ্রন্থ ‘শ্রীনাথ পন্ডিতের প্রাণপাখি’ (১৯৮৭)। পরে যখন প্রাবন্ধিক-গবেষক হিসেবে শান্তনু কায়সারের চূড়ান্ত সিদ্ধি তখনও কিন্তু তিনি কি এক অন্তর্তাগিদে লিখে গেছেন কবিতাগ্রন্থ ‘শুভ সুবর্ণজয়ন্তী’ (২০০২), গল্পগ্রন্থ ‘ফুল হাসে পাখি ডাকে’ (২০০১), ‘অর্ধশতাব্দী’, প্রবন্ধগ্রন্থ ‘স্বর্ণ ও শুভ’ উপন্যাস- ‘ঐ নূতনের কেতন উড়ে’, উপন্যাসিকা সংকলন ‘ত্রয়ী’। ‘শকুন’ শিরোনামে একটি ধারাবাহিক উপন্যাসও কুমিল্লার একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল যা গ্রন্থরূপ পায়নি। এ ছাড়াও সমকালীন পত্র-পত্রিকায় শান্তনু কায়সারের শতাধিক মূল্যবান গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যা অগ্রন্থিত। সারা জীবনের সাহিত্য-পাঠ ও সাহিত্য-চিন্তাকে শান্তনু কায়সার শেষ বয়সে এসে গ্রন্থরূপ দেয়ার কাজে নিমগ্ন ছিলেন। কিছু পান্ডুলিপি অসমাপ্ত রয়ে গেছে। অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত শান্তনু কায়সারের কলম ছিল অবিচল। কবিতা, কথাসাহিত্য, নাটক, শিশু সাহিত্য, প্রবন্ধ-গবেষণা, অনুবাদ ও সম্পাদনা মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৪৫টি।
নাটক নিয়ে তিনি বিশেষ উৎসাহী ছিলেন। ‘কাব্যনাটক’ (১৯৮৬) মূলত বাংলা একাডেমির ভাষা শহীদ গ্রন্থমালা সিরিজ থেকে প্রথম প্রকাশিত হলেও পরে এটির পরিবর্ধিত সংস্কার ‘রূপকাব্য ও নাট্য : কাব্যনাট্য’ও প্রকাশিত হয়। কাব্যনাটক তত্ত্বীয় গ্রন্থ। বাংলাসাহিত্যে কাব্যনাটক লেখার একটি সমৃদ্ধ ধারা থাকলেও এ বিষয়ের কোনো তত্ত্বীয় গ্রন্থ ছিলো না। শান্তনু কায়সারই প্রথম কাব্যনাটক বিষয়ে তত্ত্বমূলক গ্রন্থ রচনা করে সেই অভাব দূর করেছেন। ২০১৪-তে প্রকাশিত বাংলাদেশের নাটক ও নাট্যদ্বন্দ্বের ইতিহাস তাঁর নাট্যালোচনার সংকলন। এখানে দীনবন্ধু মিত্র, লেবেদেফ, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, তৃপ্তি মিত্র, সেলিম আল দীন, সৈয়দ শামসুল হক, জিয়া হায়দার, এস এম সোলায়মান, মামুনুর রশীদ যেমন তাঁর নাট্যলোচনার বিষয় হয়েছেন। মার্কিন তাত্ত্বিক রবার্ট ব্রাস্টেইনের থিয়েটার অব রিভোল্ট তিনি রূপান্তর করেছেন ‘বিদ্রোহী নাট্যতত্ত্ব: ত্রয়ী নাট্যকার’ শিরোনামে। এই ত্রয়ী নাট্যকার হলেন বার্টল্ড ব্রেখট, জাঁ জেনে এবং লুইজ পিরেন্দেল্লো। এ ছাড়া তিনি অনুবাদ করেছেন শেকসপিয়ারের সমসাময়িক স্প্যানিশ নাট্যকার লোপে দে ভেগার কৃষকনাট্য ‘ফুয়েন্তে অভিজুনা’, যার কয়েক শতাব্দীপূর্ব ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে খুঁজে পেয়েছিলেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের তৃণমূল বাস্তবতার। নিজেও নাটক লিখেছেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জন্মগ্রামের নামে ‘সাজনমেঘ’ নাটক ছাড়াও লিখেছেন ‘রূপান্তর’, আমরা এবং নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলার জীবনের প্রেমপর্ব নিয়ে নাটক ‘তুমি’। শান্তনু কায়সার সাহিত্যে যেমন গণচেতনার শৈল্পিক রূপায়ণ করেছেন, তেমনি নাট্যরচনা, আলোচনা ও অনুবাদেও সমাজ ও জনজীবনলগ্নতাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন।
শান্তনু কায়সার লেখার বিষয়ে ছিলেন ভীষণ নিয়মানুবর্তী ও পরিশ্রমী। বাংলা একাডেমি তাঁকে কুমিল্লা অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনার দায়িত্ব দিলে তিনি তাঁর কন্যা শাহানা নার্গিস আলোকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সন্ধানে ঘুরে বেড়িয়েছেন গ্রাম-গ্রামান্তরে। বড় পত্রিকা থেকে অতিতরুণদের ছোটকাগজে লেখা দিতে একবার যদি তিনি সম্মত হতেন তাহলে ঠিক সময়ে নিজ দায়িত্বে লেখাটি পৌঁছে দিতেন। কোনো সভা-সেমিনারে বক্তব্য রাখা বা প্রবন্ধ উপস্থাপনের কথা থাকলে ঠিক সময়মতো সেখানে এসে উপস্থিত হতেন। জীবনের শেষ অধ্যায়ে কুমিল্লায় সমতট নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রম হাতে নেন তিনি। কুমিল্লায় কলেজ ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মিলিত অংশগ্রহণে মঞ্চায়ন করছেন শেকসপিয়ারের নাটক। তাঁর সংগঠকসত্তা বিস্তৃত হয়েছে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত। এক সময় আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, শওকত আলী, বদরুদ্দীন উমরদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ লেখক শিবিরে। এ সংগঠনের সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছেন।
শান্তনু কায়সার ছাত্র বয়স থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলাসাহিত্য নিয়েই লেখালেখি করেছেন প্রচুর। তাতে তাঁর খ্যাতি ও স্বীকৃতির প্রাপ্তি ঘটে ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়ার মধ্য দিয়ে। তিনি এ পুরস্কার ছাড়াও অনেক পুরস্কার অর্জন করেছেন। তন্ম্যেধে প্রত্যাশা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯০), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৫), অদ্বৈত মল্লবর্মণ স্মৃতি পুরস্কার, ভারত (১৯৯৯) অদ্বৈত মল্লবর্মণ পুরস্কার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া (২০১৩), জীবনানন্দ পুরস্কার (২০১৩) এবং কুমিল্লার কাগজ পুরস্কার (২০০৫)।
লেখক নাম ‘শান্তনু কায়সারে’র আড়ালে তাঁর প্রকৃত নাম ‘আবদুর রাজ্জাক’। জন্ম ১৯৫০ সালে ৩০ ডিসেম্বর সাজনমেঘ গ্রাম, চাঁদপুর জেলায়। মাধ্যমিক এ মালেক ইনস্টিটিউট, লাকসাম, কুমিল্লা (১৯৬৬), উচ্চমাধ্যমিক ঢাকা কলেজ (১৯৬৮), তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (১৯৭১) এবং ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর (১৯৭২)। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র, শান্তনু কায়সার উত্তরকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরকারি কলেজ ও কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজে অধ্যাপনা করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন। পেশাগত পরিচয়ের বাইরে শান্তনু কায়সার প্রধান হয়ে উঠেছিলেন মূলত লেখক ও সাহিত্যিক হিসেবে। তিনি ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।
শান্তনু কায়সার সমাজ সচেতনতার জায়গা থেকে সাহিত্যের মাননির্ণয় করেছেন। সমাজের অন্তর্গত রূপ থেকে সাহিত্যকে বের করে আনার চেষ্টা করেছেন আজীবন। তিনি চেয়েছিলেন সমাজও তাঁর মতো করে মানুষকে দেখুক। তাঁর নাটকে, গল্পে, প্রবন্ধে গ্রামের সাথে শহরের সেই যোগসূত্র লক্ষ করা যায়। হ