শেষ পর্যন্ত অনেক চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে আশি বছরে পদার্পণ করা গেল। এখন থেকে আমাকে অশীতিপর বলা হবে, একথা মনে করতেই ভাবান্তর ঘটে। প্রৌড় কিংবা বৃদ্ধ বলা হলে বয়সের হিসাবে অস্পষ্টতা থাকে। ‘অশীতিপর’ অভিধাটি বার্ধ্যক্যের কোন পর্বে পৌঁছেছি সে বিষয়ে কোন সংশয়ের অবকাশ না রেখে নির্দিষ্ট করে জানিয়ে দেবে। সেটা কোন সমস্যা নয়; প্রশ্ন হলো, জীবনের এই মাইল ফলকে পৌঁছে আমি কি সতৃষ্ণ নয়নে পেছনের দিকে তাকিয়ে আবেগে বিহ্বল হবো, নাকি নতুন উৎসাহে এং উদ্দীপনা নিয়ে সামনের দিকে তাকানো/ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব না করে বলা উচিত হবে দুটোই করবো, নিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য নয়, দুটির কোনটিকেই খাটো না করে দেখার উদ্দেশ্যে। অতীত সততই সুখের, এই আপ্তবাক্য যেমন মনে আসবে, দি বেস্ট ইজ ইয়েট টু বি, কবির এই আশ্বাসবাণীও শিরোধার্য করে নেবো।
এই মুহূর্তে উপলব্ধি করি আশি বছরে পৌঁছানো মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণের মতো মিশ্র অনুভূতির সঞ্চার করে। ‘ওড টু জয়ের’ মন্দ্রিত সুর লহরির আগে শুনতে পাই রিকোয়েম ফর দ্যা ডেথ এর গুরুগম্ভীর বিষণœ ধ্বনি। নিশ্চিত করে বলতে পারি আমার আগে যারা অশীতিপর হয়েছেন তাদের অভিজ্ঞতাও প্রায় একই। সাফল্যের আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে বেদনার অনুভূতি। এই দীর্ঘ যাত্রায় অগ্রসর হতে হতে হারিয়েছি অনেক প্রিয়জন, সহকর্মী, বন্ধু এবং শুভানুধ্যায়ী। তাঁরা শুধু মানুষ মরণশীল, এই ধ্রুব সত্যটি জানিয়ে দিয়ে যান নি, আমার জীবনে অপুরণীয় শূন্যতাও সৃষ্টি করে গিয়েছেন। পরিণত বয়সেই হোক অথবা অকালে, তাদের প্রয়াণ যে শোকের সঞ্চার করেছে তার তীব্রতা কমে এলেও এখনো মাঝে মাঝে অনুভব করি। ‘এভরি ডেথ ডিমিনিশেস মি’, কবির এই কথার প্রতিধ্বনি শুনি।
আশি বছরে পৌঁছানোর আগে নতুন ধরনের স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছে আমার যা সংক্ষিপ্ত হলেও ব্যতিক্রমী, অতি-প্রাকৃতিক চরিত্রের। এই সব স্বপ্নে প্রায়ই মৃত আত্মীয় অথবা বন্ধুদের দেখতে পাই বিভিন্ন পরিবেশে, তাদের সঙ্গে বাক্য বিনিময়ও হয়। তাদের দেখে খুব স্বাভাবিক মনে হলেও বেশ অস্বস্তিতে পড়ি। ইঙ্গমার বার্গম্যানের ‘দি ওয়াইল্ড স্ট্রবেরিজ’ সিনেমায় নায়কের কফিনে নিজেকে শুয়ে থাকা দেখা দুঃস্বপ্নের দৃশ্যের কথা মনে পড়ে যায়। জন ডান যেন কানের কাছে এসে বলেন, ‘আসক্ নট ফর হুম দা বেল টলস্, ইট টলস্ ফর দি’। এই সব মুহূর্তে ঘামে ভিজে উঠি না, ভয়েও সঙ্কুচিত হই না তবে অচিরেই অমোঘ ভবিতব্য আবির্ভাবের কথা উপলব্ধি করি। বার্গম্যানেরই আরেক ছবি ‘দি সেভেনথ্ সীল’-এ যুদ্ধ ফেরত নাইটের মত কালো পোষাকে আবৃত মৃত্যু-চরিত্রের সঙ্গে আমার দাবা খেলা শুরু হয়েছে, এমন মনে হয়। জীবন-মৃত্যু বাজি রেখে যে খেলা সেখানে একন পর্যন্ত আমিই বিজয়ী। কিন্তু আমার সহিষ্ণু প্রতিদ্বন্দ্বী জানে যে অন্তিমে তার জয়ই অবধারিত। এই সত্য যে আমার অজানা, তা নয়। খেলাটা হয়ে আসছে অনাদিকাল থেকে, তাই সবাইকেই খেলতে হয়। তবু কেউ কেউ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে, উত্তেজিত হয়ে প্রতিবাদ জানায়।
শক্তি চট্টোপাধ্যায় সস্ত্রীক চট্টগ্রামে বেড়াতে এসে আমার বাসায় নৈশ্য ভোজে যোগ দিয়ে কবিতার একটি বই উপহার দিয়েছিলেন। বইটির নাম, ‘যেতে পারি, কিন্তু কেন যাবো?’। পড়ার পর মনে হয়েছে হ্যাঁ, তাই তো, কেন যাবো? শুধু শিশুসুলভ জেদ নয়, যুক্তিও থাকে দুর্বিনীত সেই প্রশ্নে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তির উল্লেখ করে অদৃশ্য কারো উদ্দেশ্যে মনে মনে বলি, আই হ্যাভ মাইলস্ টু গো বিফোর আই শ্লিপ/ আই হ্যাভ প্রমিজেস টু কিপ’। জানি কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে না, কেননা যে যাত্রা শুরু হয়েছে জন্মের পর থেকে তার রয়েছে পূর্ব নির্ধারিত সীমান্ত যা অমোঘ এবং অমোচনীয়। কিন্তু অন্তিম মুহূর্তের আগে যতদূর পারা যায় কাক্সিক্ষত গন্তব্যের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করে যেতে হবে। ‘সব নদী ফুরায় এ জীবনের সব লেন-দেন, থাকে শুধু অন্ধকার…’ এই নিয়তি মেনে নিলেও যা কিছু করার প্রতিশ্রুতি ছিল সে সবের যতটুকু পারা যায় পুরনের চেষ্টা করে যেতে হবে। অশীতিপর হয়েছি বলেই হতোদ্যমে হাল ছড়ে দেওয়া যায় না।
বার্দ্ধক্যে পৌঁছে কেউ কেউ নিকটজনের কাছে বোঝা হয়ে যান অথবা সন্তান-সন্ততি দূর বিদেশে থাকায় নিসঙ্গ জীবন যাপনে বাধ্য হন। আমার সৌভাগ্য বার্দ্ধক্যের এই বিপন্নতার মুখোমুখি হতে হয় নি। বি-পতœীক হয়েছি কিন্তু ছেলে-মেয়ে-পুত্রবধূ সব কাছেই আছে, আমার প্রতি তাদের দায়িত্ব পালনে কেনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি চোখে পড়ে নি। ভাই-বোন এবং অন্য আত্মীয়দের সাহচর্য পাই মাঝে মাঝেই। যৌথ পরিবার ভেঙে গিয়েছে কিন্তু তার কিছু আশীর্বাদ এখনো অবশিষ্ট। কমলকুমার মজুমদারের ‘অন্তর্জলী যাত্রা’ কাহিনীর শেষ বাক্যটি, ‘তবু কিছু মায়া রহিয়া গেল’ মনে পড়ে এইসব অন্তরঙ্গ মুহূর্তে। পরিবারের বাইরে রয়েছে বন্ধু শুভানুধ্যায়ী এবং পরিচিত জন, যাদের সাহচর্য কমে এলেও তার সম্ভাবনা মানসিকভাবে শক্তি জোগায়।
জীবনের যে মালা আমরা গেঁথে চলি আমৃত্যু সেটি সফলতা আর ব্যর্থতার নানা রঙের ফুল দিয়ে তৈরী। কারো জীবনই সম্পূর্ণ ব্যর্থ নয়, সর্বাংশে সফলতার দাবীও কেউ করতে পারে না। আমাকে এলিয়টের প্রুফোর্কের মতো কফির চামচ দিয়ে জীবনের মূল্যায়ন করতে হয় নি, অমন সীমাবদ্ধ ছিল না সেই জীবন। এখনো এই গোধুলী বেলায় প্রুফোর্কের মতো হতাশায় হা হুতাশ করে আর্ত চিৎকারে বলতে হচ্ছে না, ‘আমি বুড়িয়ে যাচ্ছি, বুড়িয়ে যাচ্ছি। আমাকে পাতলুনের গোড়ালি গুটিয়ে পড়তে হবে।’ এই আশি বছরে পদার্পণ করেও বার্ধক্য এখনো আমার নিয়ন্ত্রণে। শরীরে একাধিক রোগ বাসা বেঁধেছে কিন্তু তারা এই পর্যন্ত আমাকে শয্যাশায়ী করতে পারে নি।
‘উত্তর-তিরিশ’ বইতে ত্রিশ এবং চল্লিশের মাঝামাঝি বয়সে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বুদ্ধদেব বসু লিখেছিলেন : ‘দেখতে পাচ্ছি পৃথিবী সম্বন্ধে আমার কৌতুহল, আমার আনন্দবোধে এখনো মরচে পড়ার লক্ষণ নেই’। উত্তর-তিরিশ নয়, আশি বছরে পৌঁছে আমার ক্ষেত্রেও হয়েছে অনেকটা তাই। একটা দু’টো নয়, আমার রয়েছে নানা ধরণের শখ যা জীবনের বৈচিত্র্য সম্বন্ধে কৌতূহলী করে রাখে। বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা, লেখালেখি এই সব কাজ পৃথিবী সম্বন্ধে আমার কৌতূহল অক্ষুণ্ন রেখেছে আর এই জন্যই আমার আনন্দবোধে মর্চে পড়ার সম্ভাবনা নেই যদিও সেখানে বুদ্ধদেব বসুর তুলনায় তারতম্যের অবকাশ রয়েছে। আমার বর্তমানের সমস্যা হলো প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সময় পাই না। ভেবেছিলাম কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়ে এর ব্যতিক্রম ঘটবে, সময় পাওয়া যাবে অফুরন্ত। কিন্তু তা হয় নি। কারণ পুরনো শখের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন শখ। যেমন, কফিশপে সমবয়সী কাউকে নিয়ে টেবিলে বসে পর্যবেক্ষণ করি নতুন প্রজন্মের ফ্যাশন, তাদের আচার-আচরণ, লাইফ স্টাইল। নতুন প্রজন্ম নিয়ে আমার কৌতূহল বরাবরের, কেননা আমি সমসাময়িক জীবনের কাছাকাছি থাকতে চেয়েছি মনের তারুণ্য রক্ষার জন্য। কফিশপ হোক, ফাস্টফুডের দোকান হোক, তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়ে বয়োবৃদ্ধ আমাকে আর আমার সঙ্গীকে দেখে সম্ভ্রমের সঙ্গে চেয়ার ছেড়ে এগিয়ে দেয় বসার জন্য, কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়ালে পেছনে সরে এসে সামনে যাবার জন্য বলে। এই যে সৌজন্য সে তো আমার বয়সের জন্যই, আমার মতো বৃদ্ধ যে তাদের জগতে অবাঞ্ছিত কেউ নয়, তার প্রমাণ পাই। আমি আজকাল ফুটপাত দিয়ে ফরাসিরা যেমন বলে ‘ফ্ল্যানিউর’ বা এইমলেস ওয়ান্ডারিং, সেই ভাবে হাঁটি, কিন্তু কৌতূহল নিয়ে। অবাক হয়ে দেখি নিম্নবিত্তের অফুরন্ত জীবন-তৃষ্ণা, বেঁচে থাকার জন্য প্রাণান্তকর সংগ্রাম। তাদের সামনে সাজানো নানা ধরনের পশরা, মধ্যবিত্ত ক্রেতার সকাল-সন্ধা দর কষা-কষি। মাঝে মাঝে উদ্ধত ভঙ্গিতে, নির্মম দৃষ্টি নিয়ে যাদের রাজকীয় পদক্ষেপে হেঁটে যেতে দেখি তারাই যে হকারদের হর্তা-কর্তা-বিধাতা তা বুঝতে দেরি হয় না। কখনো হঠাৎ হুংকার দিয়ে যন্ত্রদানব এগিয়ে আসে ফুটপাতের সবকিছু গুড়িয়ে দিতে যা দেখে ভীত-সন্ত্রস্থ হকার সব দৌড়ে পালাতে থাকে জীবন রক্ষার জন্য, যতটা পারে হাতে তুলে নেয় পশরা অথবা সে সব ফেলেই। ঊনিশ শতকের প্যারিসের ফুটপাতে বোদলেয়ার হেঁটে যেতে যেতে আবিষ্কার করেছিলেন ‘পেইন্টার অফ মডার্ন লাইফ’। ঢাকার ফুটপাতে আমি দেখি নিরন্তর জীবন সংগ্রামে জয়-পরাজয়ের দোলাচলে দিশেহারা মানুষের মিউরাল। জীবন যাপনের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ হয়। আগেই বলেছি কৌতূহলে মরচে পড়ার যে উল্লেখ বুদ্ধদেব বসু করেছিলেন, তার কোন সম্ভাবনা দেখি না। কিন্তু পরিপার্শ্বে কদর্যতা ও মানুষের প্রতি মানুষের নিষ্ঠুরতার দৃষ্টান্ত দেখে আমার আনন্দবোধ অম্লান থাকে না; তা নিরবচ্ছিন্নও নয় বুদ্ধদেব বসুর মতো চারদিকে জীবন মঞ্চে যা কিছু ঘটছে তার সব কিছুতে অংশ নিতে পারবো না, এ কথা মেনে নিয়েছি। কিন্তু তাই বলে নিশ্চুপ হয়ে ঘরে বসে থাকবো, এও তো হতে পারে না। এই জন্য থিয়েটার পাড়ায় নতুন নাটক এলে দেখতে যাই, রবীন্দ্র স্গংীত শোনার জন্য যেমন যাই ছায়ানটে, তরুণদের ব্যান্ড মিউজিক শোনার জন্য চলে যাই স্টেডিয়ামের কনসার্টে। হেমন্তের গলায় ‘পুরনো সেই দিনের কথা…’ শুনে যেমন নস্টালজিয়ায় আচ্ছন্ন হই, ‘তোমার ঘরে বসত করে ক’জনা’ আনুশেহ আনাদেলের বাউল গানে মরমিয়া সাধকদের ভাবজগতের আহ্বান শুনি। মৌসুমভিত্তিক যেসব উৎসব হয় খোলা আকাশের নিচে সে সব দেখি ফুটপাতে দাঁড়িয়ে। এই সব নতুন শখ পুরোনোগুলোর সঙ্গে মিলে আমাকে সতেজ তো রাখেই, সেই সঙ্গে বাড়ায় ব্যস্ততা। আমি কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়েছি অনেকদিন আগে কিন্তু কৌতূহল আর আনন্দের (যত খন্ডিতই হোক) জীবন থেকে সরে আসিনি, বরং তার অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অশীতিপর হয়ে আমার কর্ম স্রোত প্রবাহিত হবে যতোটা না শারীরিক উদ্যমের জন্য তার চেয়ে বেশি হবে মানসিক সংকল্পের কারণে। যখনি শরীর পিছিয়ে পড়তে চায়, মন তাকে বলে, ‘এখনি অন্ধ বন্ধ করোনা পাখা’।
অশীতিপর হয়ে পেছনের দিকে বার বার সতৃষ্ণ নয়নে দৃষ্টিপাত করবো না, কিন্তু মাঝে মাঝে তাকাতে হবেই। বর্তমানে রয়েছে অতীতের ছায়া, খোলা চোখে ধরা না পড়লেও। ‘দ্যা পাস্ট ইজ নেভার ডেড, ইন ফ্যাক্ট দেয়ার ইজ নো পাস্ট’, উইলিয়াম ফকনারের এই কথা স্মৃতি ভারাতুর আমাকে বিশ্বাস করতে হয়। অতীতের দিকে তাকিয়ে কখনো মনে হয় জীবন যদি আবার নতুন করে শুরু করা যেত তাহলে যেসব ভুল করেছি সেগুলি ঘটতে দিতাম না। ভুলের তালিকা বেশ দীর্ঘ, কেননা পরিকল্পিত ছিল না আমার জীবন। সময়ের যেমন অপচয় হয়েছে, অর্থের অপচয়ও কম নয়। আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে পরিচিত মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে সচেতন প্রচেষ্টা সেখানে যতেষ্ট ঘাটতি ছিল। নিজের শখের পেছনে ছোটার কারণে সামাজিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা আমাকে পীড়া দেয়। এখানে স্বার্থপরতা কাজ করেছে, এ কথা স্বীকার করতে ইতস্তত করি না। বিভিন্ন শখই আমার জীবনের শক্তির উৎস, আবার তাদের জন্যই মানুষ হিসেবে আমি রয়ে গিয়েছি অসম্পূর্ণ।
অশীতিপর হওয়ার পর যে জীবন যাপন করবো সেখানে ভুল পদক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক থাকবো কিন্তু অতীতের ভুলগুলি শোধরানোর কোন উপায় থাকবে না। এই উপলব্ধি আমাকে জীবনের অবশিষ্ট সময়ে সম্পূর্ণ বদলে না দিলেও আগের তুলনায় একটু বেশি দায়িত্বশীল করে তুলতে পারে। অভিজ্ঞতা থেকে শেখার কোনো বয়স নেই, আশি বছরে পদার্পণ করে সে কথা বিস্মৃত হবো না।
গার্সিয়া মার্কেজ তাঁর আত্মজৈবনিক ‘মেমোরিজ অফ মাই মেলানকোলি হোর’ বইতে লিখেছেন : বিগত জীবনের জন্য বিলাপ নয়, স্মৃতিচারণ করলেও হবে না, বার্ধ্যকের জয়গান গাইতে হবে।’ এই জয়গান যে কাজের মাধ্যমে, মানুষের সঙ্গে আচরণের দ্বারাই সম্ভব, এ কথা তিনি না বললেও বুঝতে কষ্ট হয় না। তিনি যখন বার্ধ্যকের জয়গান করার কথা লেখেন, তখন তার বয়স ছিল নব্বই। আমি আশিতে পা দিয়েছি, বয়সে তার চেয়ে দশ বছর কম। বার্ধক্যের জয়গান করার জন্য আমার সামনে অনেক সময়, এমন ভাবতে অসুবিধা নেই। অশীতিপর হয়ে জীবন সম্মন্ধে আমার কৌতূহল একটুর কমানো যাবে না, বরং বাড়িয়ে যেতে হবে। সেটাই হবে বার্ধক্যের জয়গান। জীবনের জয়গান থেকে পৃথক কিছু নয় বার্ধ্যকের জয়গান। বার্ধক্যও জীবন।