মহাকালের কান্না
মহাকাল সমুদ্রের তরঙ্গধ্বনির সাথে কান্না শুনি কার;
শুনি কোন্ ভিটেছাড়া নৃগোষ্ঠীর আর্তনাদ বিপন্ন বাতাসে;
ইনকাস এজটেকস মেসোপটেমিয়া আর মায়া সভ্যতার
ধ্বংসস্তূপ থেকে ফের মানুষের পরাজয় ফিরে ফিরে আসে।
পালাচ্ছে মানুষ আজও নেকড়ের তাড়া খাওয়া হরিণের মতো;
নারী ও শিশুর লাশে ভরে যাচ্ছে আজও রোজ ঘৃণার ভাগাড়;
পারবে কি মুছতে কেউ সভ্যতার বুক থেকে জিঘাংসার ক্ষত,
নাকি শুধু দেখে যাওয়া এইভাবে ব্যবচ্ছিন্ন মানুষের হাড়?
হয়েছি নির্বাক শুধু, যখন পশুর মতো মানুষের ’পর
হামলে পড়েছে লোকে-কখনো ধর্মের নামে, কখনো রাষ্ট্রের;
নানা মতাদর্শ এসে কেবলি গড়েছে বোবা কান্নার কবর
মানুষের পৃথিবীতে, হয়েছে অমানুষেরা উল্লসিত ঢের।
কতবার জিতে যাবে ঘাতকেরা, মানুষেরা হবে পরাজিত?
তবু তারা জেনে যাক-মানুষ রয়েছে বেঁচে, খুনিরাই মৃত।
নিশিকুটুম্ব
উড়িব তোমার নভে, সে কথা কহিনে,
কহিনে, আমার আছে আলোর বোরাক;
তোমার গভীরে যাবো, অথই গহিনে
যেভাবে বাইনমাছ চিরে যায় পাঁক,
পাঁক চিরে ঢুকে যায় গাঙের শীতলে;
কিংবা তোমার ঘোলা প্রাচীন পানিতে
কাটিব সাঁতার, কাটে যেভাবে চিতলে,
পারিবে না ঘুণাক্ষরে কেহই জানিতে।
জানিবে না কাকপক্ষী, নাহি কোনো ভয়;
আসিব এমনভাবে আর যাবো চলে,
নিশিও পাবে না টের; গুণীজনে কয়,
ডোবে না প্রেমের মড়া জগতের জলে;
তোমার হৃদয়কোণে ফেলিয়া হৃদয়
পলাইয়া যাবো দূর ভাটির অঞ্চলে।
অন্ধকার
তরবারি হাতে নিয়ে হালাকুর মতো ছুটছে অন্ধকার
লেজ তুলে পালাচ্ছে আলোরা
আবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়বে সুসজ্জিত স্বপ্নের শহর
দিকে দিকে হায়েনারা জুড়বে স্লোগান
আমি গৌতম বুদ্ধের বোধিবৃক্ষের ছায়ায় গিয়ে
বললাম তাঁকে, ‘কোন্ ফলের বিষক্রিয়ায়
আপনার শিষ্যেরা উন্মাদ হয়ে মেতেছে মিয়ানমারে
হত্যাযজ্ঞে?’
লজ্জায় নুয়ায়ে মাথা, বললেন বুদ্ধ, ‘অন্ধকার।’
আমি যিশু খ্রিস্টের বেথেলহ্যামে গিয়ে বললাম তাঁকে,
‘কোন্ দ্রাক্ষারস পান করে আপনার শিষ্যেরা উন্মাদ হয়ে
গণতন্ত্রের গান গাইতে গাইতে মেতেছে মসুলে
বাগদাদে সিরিয়ায় হত্যাযজ্ঞে?’
লজ্জায় নুয়ায়ে মাথা, বললেন যিশু, ‘অন্ধকার।’
আমি মোজেসের দরবারে গিয়ে বললাম কুর্নিশ করে,
‘কোন্ মান্না সালওয়া খেয়ে আপনার শিষ্যেরা উন্মাদ হয়ে
পবিত্র প্যালেস্টাইনে মেতেছে শিশু ও রমণী হত্যায়?’
লজ্জায় নুয়ায়ে মাথা, বললেন তিনি, ‘অন্ধকার।’
আমি মথুরা নগরে গিয়ে কৃষ্ণের সমীপে করলাম আরজ,
‘বলুন না কোন্ দেবতার ভোগ খেয়ে আপনার ভক্তেরা
মেতেছে কাশ্মীরে দিল্লি-গুজরাটে হত্যাযজ্ঞে।’
লজ্জায় নুয়ায়ে মাথা, বললেন তিনি, ‘অন্ধকার।’
তরবারি হাতে নিয়ে হালাকুর মতো ছুটছে অন্ধকার
লেজ তুলে পালাচ্ছে আলোরা
নেমেছে আবার আইয়ামে জাহেলিয়া সারা পৃথিবীতে;
আমি তন্ন তন্ন করে আব্দুল মোত্তালিবের ছেলে আব্দুল্লাহর বাড়ি
খুঁজে বেড়াচ্ছি এ ফেরাউনের শহরে-
এরকম ভরা অন্ধকারেই তো মরু-ভাস্করের
আবির্ভাব ঘটেছিল আমিনার কোলে!