সদ্য প্রয়াত জুবাইদা গুলশান আরা। তিনি নিঃশব্দে চলে গেলেন পরলোকের কিনারে। দূর-সুদূর নক্ষত্রলোকের অপার আহ্বানে? পড়ে রইল স্বদেশভূমি-স্বজনবন্ধু, গুণগ্রাহীর অযুত মিছিল। এমনি এক নাজুক সময়ে তার সাহিত্যকর্ম বিষয়ে প্রণিধানযোগ্য নিবন্ধ প্রস্তুত করার কার্যটি কঠিনকর্ম বলে বিবেচ্য হচ্ছে বৈকি! কেননা তাঁর বিস্তর সাহিত্যকর্ম বিচিত্র বিষয়ক ভাবনায় প্রবাহিত। বহু বর্ণিল স্বাদে রচিত তাঁর শ্রমসাধ্য মেধাদীপ্ত রচনাসম্ভার। এই নিবন্ধে শক্তিমান এই কথাশিল্পীর সাহিত্যসম্পদ বিষয়ে সম্যক সুবিচার করা ধৃষ্টতা মাত্র।
একজন সৃজনশীল লেখকের বেড়ে ওঠার সময়টুকু অমূল্য। প্রায়শ যার ছায়া বা প্রভাব তাঁর চেতনাকে অভিজ্ঞ করে, সমৃদ্ধ করে, কখনো নেপথ্য পাহারাদারের মতো শাসনও করে।
খ্যাতিমান এই লেখকের শৈশব-কৈশোরকালের শেকড়সন্ধান করি যদি তবে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ হয়ে ওঠে তাঁর ব্যতিক্রমধর্মী অচেনা শৈশবকালের জলছবি। যেভাবে বিকশিত হচ্ছিলেন তিনি সেটা সেই সময়কালের জলছবি, গড়পড়তা বালিকাবেলার মতো নয়। তাঁর জীবনযাপনে ছিল নানা চড়াই-উতরাই। অপার অভিজ্ঞতার সঞ্চয়ন। মেধাবী বালিকা ধারণ করছিলেন অমূল্য জীবনচিত্রের ছাপ, সমৃদ্ধতর অভিজ্ঞতার হাতটি ধরে তিনি বেড়ে উঠেছিলেন পূর্ণ লেখকের শক্তিমান অবয়বে।
শৈশবে জন্মদাত্রী জননীর, পরে পিতার এবং নতুন মায়ের পর্যাপ্ত ¯েœহের নির্যাসে জীবনের অনন্য পাঠ নিয়েছেন জুবাইদা গুলশান আরা। প্রকৌশলী পিতা অবিভক্ত ভারতে কর্মসূত্রে সপরিবারে বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করেছেন। বুদ্ধি বিবেচনা হবার পর তিনি দেখেছেন বিশ্বযুদ্ধের বিলীয়মান ছায়া। কলকাতার কিছুকালের শৈশবকাল ছিল কোলাহলমুখর। কনভেন্ট রোডের ফ্ল্যাট সিস্টেমের বাড়িতে যৌথ পরিবারের আলো-আঁধারির চিত্র-বিচিত্র জীবন ছিল সর্বজনীন। তাঁর অবচেতন সত্তায় জড়ো হতে থাকে জীবনেরই অপার রসের নহর। কিছুকাল পর কলকাতার জীবন ছেড়ে তিনি চলে যান পিতার কর্মস্থলে। কার্সিয়ং, কালিম্পং, দার্জিলিংয়ে। সেখানে পাহাড়ি ঢালের ওপর অবারিত বাংলো-বাড়ির মুক্ত স্বাধীন চঞ্চল বালিকার জীবন। জংলী হাতির দল দুর্গম পাহাড় থেকে নেমে পানির পাইপলাইন তছনছ করে দিয়ে যেত। ঘন সবুজ গহিন বনপথের সঙ্কীর্ণ পাহাড়ি পথে ভয়াবহ পাহাড়ি জোঁকের রাজত্ব ছিল। ছিল বন্য জীবজন্তু, পাহাড়ি ধসের আতঙ্ক। এ সময় বালিকার দিব্যদৃষ্টি যেন ক্রমে উন্মুক্ত হতে থাকে। করোটির পেলব ভাঁজে এসব মহার্ঘ স্মৃতি বিন্যস্ত হয়ে পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্যরচনায় নতুন মাত্রা সংযোজন করেছিল। নয় ভাইবোনের কোলাহলমুখর শৈশব তাঁকে দিয়েছিল সহজিয়া জীবনের দুর্লভ অভিজ্ঞতা। প্রকৃতি ও জীবনের এপিঠ ওপিঠ পরখ করার অসামান্য অভিজ্ঞতা! তিনি স্বদেশ ভূমির তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ভ্রমণের সুবাদে মগ্ন হয়ে পরখ করেছেন বিচিত্র জনজীবন, তাদের কঠিন জীবিকা-যুদ্ধ। তাঁর বিপুল সাহিত্যকর্মেও উঠে এসেছে অতীত ইতিহাস, মানব-মানবীর মনোলোক, শিশু মনস্তত্ত্ব, প্রকৃতির রহস্যময়তা, বিশেষত বাংলার নদীসমূহের নিগূঢ় ব্যাখ্যান।
এই শানে-নযুল এই হেতু যে একজন সৃজনশীল নারী সাহিত্যিক তিনি। তাঁর সময়কালে একজন মহিলার বিচরণক্ষেত্র ছিল খন্ডিত বা ব্যাপক অর্থে শৃঙ্খলিত। সেই সময়েও স্বনামধন্য এই লেখকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভান্ডার ছিল টইটম্বুর। পরবর্তী সময়ে আমরা পেয়েছি তাঁর রসোত্তীর্ণ উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটিকা, শিশুতোষ রচনা ভ্রমণ কাহিনী। তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ষাটটি।
তাঁর উপন্যাস ‘কি লিখেছো তরবারী তুমি’ (১৯৯২) দিয়েই যদি সূচনা করি তবে তাঁর ইতিহাসভিত্তিক একটি অনন্য উপন্যাসের প্রসঙ্গ টানতে পারি। দীর্ঘদিনের গবেষণা, শ্রম, নিষ্ঠার ফসল এই উপন্যাসটি। গ্রন্থটির পূর্বকথায় লেখক লিখেছেন, ‘এ যেন এক রামধনু রঙের জাতি। আমাদের প্রাচ্যদেশীয় আতিথেয়তা যেন সবাইকে গ্রহণ করেছে। কখনো ইচ্ছায়, কখনো অনিচ্ছায়। ইতিহাসের বিচিত্র উত্থান পতনের সাক্ষী, সঙ্গী এবং শাসিত জনসাধারণকে বয়ে নিয়ে যেতে হয় ঘটনার অবধারিত ফলাফল। ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে আমি দেখেছি, ঢাকা শহর যুগ যুগ ধরে, উল্লেখ করবার মতো, ইঙ্গিতময়, তাৎপর্যপূর্ণ এক ভূমিকা পালন করে চলেছে। রাজনৈতিক দিক থেকে মোগল-পাঠানদের শাসন, ব্রিটিশ রাজত্বের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম, আবার স্বদেশী যুগের আন্দোলনও এই শহরকে নানাভাবে আন্দোলিত করেছে। মানুষকে আমার গ্রন্থে নায়কের ভূমিকা দিয়েছি।… দীর্ঘদিন ধরে দেখতে চেষ্টা ছিল তাদের আশা, স্বপ্ন, ক্রোধ এবং হতাশার রূপই বা কেমন ছিল। সেই চেষ্টাতেই বারংবার প্রাচ্যের এই রহস্য নগরীর কাছে আমার দীর্ঘ যাত্রা।’
ইতিহাস আশ্রিত এ উপন্যাসটি পড়তে পড়তে হারিয়ে যেতে হয় প্রাচীন এই নগরী ঢাকার অতীত ঘটনা অবগাহনে। এই গ্রন্থে বর্ণাঢ্য অতীত কথা কয়। অনন্য উপস্থাপনা, নির্মেদ ভাবভঙ্গি, উপমা, চিত্রকল্পের যথার্থ প্রয়োগ কৌশল উপন্যাসটিকে গুরুত্বপূর্ণ দলিলে পরিণত করেছে। শুরুর কয়েকটি পঙ্ক্তি, ‘শহরটা বেনিয়ার নয়। শহরটা আমীর ওমরাহের। শহরটা ইসলাম খাঁর ভালোবাসার শহর। বুড়িগঙ্গার গৈরিক ¯্রােতে সে ভালোবাসা আজও বয়ে চলে যায়। শহরটা ধীরে ধীরে জেগে উঠছে। রাস্তার ইটের ওপরে খপ খপ করে ঘোড়ার শব্দ তুলে চলে গেল বুড়ো উইলসন সাহেব। গির্জার সাদা চূড়োটা যেন দুধে ধোয়া। পট্টবস্ত্রে জড়ানো কয়েকটি পুঁথি। আবরণ খুলতেই কপূর্বের মৃদু গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো ঘরে। না, শুধু কর্পূর নয়, স্মৃতির সৌরভ। মৃগনাভির। সৌরভচন্দন চূর্ণের। সৌরভ অতীত ইতিহাসের, যেখানে বিলীয়মান মোগল মুগের ঐশ্বর্য, মসলিনের নয়ন বিমোহন রূপ, সুরা ও সুর সুন্দরীদের নূপুর নিক্কন।’ গ্রন্থটির পাতায় পাতায় প্রেম, ঘৃণা, বিচ্ছেদ, মৃত্যু। সত্যি বোদ্ধা পাঠক বিমুগ্ধ। রহস্যময় এই নগরীর অবিশ্বাস্য ঘটনাপ্রবাহে শরিক হয়ে যান অবলীলায়। লেখক এই গ্রন্থে ইতিহাসকে নায়কের ভূমিকায় রেখেছেন, তাঁর ভাষ্যমতে, ‘রক্তপানে, রক্তপাতে, বিরহে, মিলনে, রক্ত-দানে, বিচিত্র সেই জীবনে আছে নীলমনি আর গৌরী। আছেন রবীন্দ্রনাথ, মীর আশরাফ আলী। তাঁদের সবাইকে সাথে নিয়েই এই উপন্যাসের তিনশত বছরের কাহিনী।’
‘ঘৃণার জঠরে জন্ম’ আরো একটি রসোত্তীর্ণ গভীর জীবনবোধের উপন্যাস। গ্রন্থের ছত্রে ছত্রে মানবাত্মার বিবিধ হাহাকার, নৈমিত্তিক সুখ-দুঃখের অপূর্ব ব্যঞ্জনা কুশলী রচনায় পরিস্ফুট।
জীবনের চলমান ¯্রােতধারায় মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিনি দেখেছেন তার বহুবিচিত্র রূপ। অবলোকন করতে চেয়েছেন জীবন-রহস্যের কূলকিনারা। কিন্তু তার তটরেখা খুঁজে হয়রান হয়েছেন। মানবজন্মের এই অমোঘ অপ্রাপ্তি তাঁকে কলমের চলমান প্রবাহকে বেগবান করার তাগিদে বারংবার উদ্বুদ্ধ করেছে। জীবন-রহস্যের নেকাব-ঘেরা অবয়ব তাঁকে মুগ্ধও করেছে বটে। সেইহেতু কল্লোলিক জীবনের চিত্রপট তিনি দরদি পাঠকের সমীপে উপস্থাপন করেছেন নিপুণ বুননেÑ বিপুল উৎসাহে, লাগাতার পরিশ্রমে।
মুক্তিযুদ্ধ তাঁর সাহিত্যকর্মে একটা বলিষ্ঠ অবদান রেখেছে। তাঁর পরিবারের বহু অমূল্য প্রাণ পাক-হায়েনাদের হাতে শহীদ হয়েছে।
তাঁর ‘জন্মান্তর’ উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ। মহান মুক্তিযুদ্ধের হৃদয়স্পর্শী আখ্যান। কয়েকটি পঙক্তি, ‘নৌকাটা খুব ধীরে ধীরে বেয়ে ঘাটে আসে জয়নাল। বৈঠা জোরে বাড়ি দেয় না, পাছে জলের গভীরে কারও দেহের হাড়গোড়ে আঘাত লাগে। ডুব সে এখনও দেয়, তন্নতন্ন করে খোঁজে স্বজনের অস্থি, দেহবিশেষ। কিন্তু আগের মতো বিভ্রান্ত নয় সে। এই নদীতেই কোন ¯্রােতধারায় ভেসে গেছে বাবা, মা, ছোটো ভাইটা।
সত্যিই তো। জরিনা ঠিকই বলে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে কত বাঙালির পবিত্র লাশ ছুঁড়ে ফেলেছে হানাদাররা ঐ দরদী নদীতে। নদী কোল পেতে দিয়েছে আশ্রয়। সহজ সরল ভাষাভঙ্গি লেখকের। নির্মেদ কথামালার চলমান ধারায় নিপুণ শিল্পীর মতো জলছবি আঁকেন তিনি। অনাদি কাল ধরে বিস্তৃত আকাশ, কোমল মৃত্তিকা, গেরুয়া নদীর ধারার সঙ্গে একান্ত বিভোরতায় হাত ধরাধরি করে বয়ে চলেছে। হয়তো জন্ম দিবে সহসা আনকোরা লোক-জীবনের ইতিহাস। জন্ম-জন্মান্তর ধরে প্রকৃতির এইসব অপার মহিমা জনমানুষকে আগলে রাখে। মানুষ যেন দুঃখ থেকে পলায়নপর না হয়। দুঃখকে আলিঙ্গন করে তাকে যেন জয় করে। ‘জন্মান্তর’ উপন্যাসে উন্মাদ মানুষটা নদীতে, মৃত্তিকায় প্রথিত হয়েছিল শত সহ¯্র বাঙালির হাড়-হাড্ডি, লাল রক্ত আর যাবতীয় হাহাকার। হানাদার পিশাচেরা গণহত্যার উৎসব করেছিল। সেইসব জমাটবাঁধা অন্ধকার ধূসর চিত্র লেখকের কুশলী বাক্যের ব্যঞ্জনায় পরিস্ফুট বাস্তব আর কল্পকথার মিশেলে বাঙ্ময় ‘জন্মান্তর’।
‘নহি আমি চন্দ্রবতী’ উপন্যাসে লেখকের নদী-কথন অসাধারণ মুন্সিয়ানায় প্রাণবন্ত। রহস্যময়ী নদীর কুলুকুলু ধ্বনি যেন পাঠকের কর্ণকুহরে, চেতনার অতলে নতুন তরঙ্গ তোলে। মূল চরিত্র নীহার নদীর ব্যাপক অবয়ব হৃদয়ে ধারণ করেছে যেন। কয়েকটি পঙক্তি, ‘নদীর সঙ্গে নীহারের ছেলেবেলা থেকে ভাব ছিল, যমুনার শ্যাওলা রঙের শান্ত ¯্রােত, পদ্মা তো বাস করে তার বুকের মধ্যেই। কিন্তু মেঘনাকে তার ভয় করে। রহস্যময় মেঘনা নদী। নদী বুঝতে বুঝতে, নদী চিনতে চিনতে, একসময় ভয় পেয়েছিল নীহার। যেখানে ভালোবাসা, সেখানে ভয়। একসময়ে যেমন কর্ণফুলীর সঙ্গে খুনসুটি করার শখ তার মন ভরিয়েছিল, তেমনি ভাললাগাটুকুই রয়ে গেছে নীহারের।’….এই উপন্যাসে নদী-প্রেমী নীহার আত্মশক্তিতে জ্বলে ওঠা এক প্রদীপ্ত আলোর শিখা। তেজস্বিনী প্রপিতামহীর আদর্শ স্বপ্নবলয়ের সীমানায় দাঁড়িয়ে নীহারও জেগে ওঠে নতুন আলোয় দ্বিগুণ আত্মবিশ্বাস। গ্রন্থে নীহারের চেতনার জয়ধ্বনি,
‘চন্দ্রাবতীর বেদনা গাঁথা, ফয়জুনের প্রবঞ্চিত জীবনের জ্বালা, বিদ্রƒপী খনার আত্মদান শতাব্দীর পর শতাব্দী পর হয়ে এসে যেন হাত বাড়িয়ে দেয়া।’ নীহার আত্মবিশ্বসী নারী। সে চায় উপযুক্ত সম্মান সে পাবে! নারীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ঋণ শোধ করার বেলা বয়ে যায়। নীহারের কণ্ঠে সেই অধিকার আদায়ের বজ্রবাণী ফুঁসে ওঠা জলস্তম্ভের মতো উৎক্ষিপ্ত হয়।
‘সোনালী রঙের নদী’ উপন্যাসেও নদী বয়ে যায় দু’কূলব্যাপী। মূল চরিত্র কেয়াবুও বুঝি নদীর মতো বক্র, সরল, রহস্যময়ী। কয়েক ছত্র, ‘নদীটা সোনালী রঙের নদী। এত তার রূপ যে তাকে বোঝা দায়। আলোয়, অন্ধকারে, চৈত্রে, বৈশাখে, ঝড়ে, শক্তিতে, তার নানা রহস্য। নদীকে কে কবে চিনেছে? সে জন্ম যাযাবর। তবু সে- মোহনায় ফেরে। সে মরতে মরতেও মরা স্রোতের বুকের মধ্যে জীবন লুকিয়ে রাখে।’
নদীতো মানবের আজন্ম পড়শি। আত্মীয়ও বটে তাই নদীর বহুরূপী স্বভাব ফুটে ওঠে মানুষের চরিত্রে। কেয়াবুর রহস্যময়তায় বুঝি অপার জলরাশির প্রশান্তি আর গর্জন দুই-ই বহমান। এই উপন্যাসে সোলুক-সন্ধান রয়েছে।
জুবাইদা গুলশান আরার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছেÑ (ক) আমি যোদ্ধা অযুত বৎসর (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস), (খ) বিষাদ নগরে যাত্রা, (গ) ধলপহরের আলো (১৯৮২), (ঘ) দেওদানবের মালিকানা, (১৯৮৫), (ঙ) প্রমিথিউসের আগুন (১৯৮৭), (চ) ছোঁ বুড়ির দৌড় (১৯৮৭), (ছ) অশ্রুনদীর ওপারে (১৯৮৯), (জ) উষারাগ (১৯৯০), (ঝ) ঘাসের উপরে মুখ রেখে (১৯৯৪), (ঞ) বিবর্ণ নগরী (১৯৯৪) ইত্যাদি।
খ্যাতিমান এই লেখকের ছোটগল্পগুলো স্ফটিক স্বচ্ছ এক একটি সম্পদ। মানব-মানবীর আলো-আঁধারির জীবনকথা, মনস্তত্ত্ব, দারিদ্র্য-পীড়িত জন-জীবন, ইত্যাদি তাঁর ছোটগল্পগুলোর ক্ষেত্র রচনা করেছে। রসোত্তীর্ণ ছোট গল্প রচনায় তিনি সিদ্ধহস্ত। (ক) কায়াহীন কারাগার (১৯৭৭), (খ) বাতাসে বারুদের রক্তে নিরুদ্ধ উল্লাস, (গ) জেগে ওঠো একাত্তর (২০০৬), (ঘ) নির্বাচিত গল্প (২০০৩) উল্লেখযোগ্য।
কলাম সংকলনÑ (ক) সারাদিনের কথা। (খ) স্মৃতির সোনালী দিগন্তে (ভ্রমণ কাহিনী-১৯৭৯)। (ক) প্রবন্ধ সংগ্রহ (২০০৯)। (খ) কবি নজরুল চৈতন্যের দুই ভিন্নরূপ (২০০৪)।
শিশু-কিশোরদের জন্য তিনি অত্যন্ত দরদ দিয়ে গল্প, নাটক ও উপন্যাস রচনা করেছেন। শিশুসাহিত্য রচনায় তাঁর দক্ষতা প্রশ্নাতীত। তাঁর শিশুতোষ রচনার মধ্যে কয়েকটি, (ক) মজার ছড়া (১৯৬৯), (খ) ছানাপোনাদের ছড়া, (গ) নিঝুম দ্বীপের গল্প কথা (নাটক), (ঘ) ঘুম ভাঙ্গানো নদী (উপন্যাস, ১৯৮৮, চলচ্চিত্রায়িত), (ঙ) রূপমের চিড়িয়াখানা (২০০৩), (চ) তোমাদের জন্য গল্প, (২০০২), (ছ) অচিন পথের বন্ধু, (চলচ্চিত্রায়িত), (জ) শিশু, তোর খেলার সাথী (২০০২), (ঝ) ছোটদের নাটকমালা, (ঞ) মনু ছুটেছে বিশ্বজয়ে (২০০৬)।
কথাশিল্পী জুবাইদা গুলশান আর বেশ কিছু পুরস্কার অর্জন করেছেন।
ক. কমর মুশতারী সাহিত্য পদক- ১৯৮৫
খ. বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ স্বর্ণপদক- ১৯৮৯
গ. কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পদক- ১৯৯৮
ও ২০০৫ সালে একুশে পদক (সাহিত্য) লাভ করেন।
সত্তরের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠান গণশিক্ষাভিত্তিক ‘লেখাপড়া’ সফল, প্রাণবন্ত উপস্থাপন করেন তিনি। আশির দশকে অত্যন্ত জনপ্রিয় তাঁর উপস্থাপিত অনুষ্ঠান কলকাকলি। এছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে প্রচারিত নাটক ‘টারজান আসছে’, ‘ধল প্রহরের আলো’ এবং ‘সাগর সেঁচার সাধ’ প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া নারী অধিকারভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নারী, মানুষ তুমি, জেগে ওঠে, এখনই সময়’ সুধীমহলে প্রশংসিত হয়েছে। শক্তিমান সাহিত্যিক জুবাইদা গুলশান আরার সাহিত্যকর্ম নিঃসন্দেহে বাংলাভাষার সাহিত্য ভাণ্ডারে মূল্যবান সংযোজন। হ