প্রকৃতি ও জীবনে প্রতিদিন পরিবর্তন ঘটে। জলবায়ু, সমাজ ও সভ্যতা প্রতিমুহূর্তে বদলে যাচ্ছে। গ্রীষ্ম পেরিয়ে বর্ষা, বর্ষার পর শরৎ, শরতের বিদায়ে হেমন্ত, হেমন্ত থেকে শীত ও বসন্ত; এভাবে ঋতু ও জীবনচক্র আবর্তিত হচ্ছে; রূপান্তর ঘটছে পৃথিবীতে। আমাদের প্রাণবৈচিত্র্য প্রাকৃতিক বিবর্তনে আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। ভয়াবহ সব দুর্ঘটনা ও ধারাবাহিক বিপর্যয় ঘটছে বিশ্বপ্রকৃতিতে। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিককালে পৃথিবীর ফুসফুসখ্যাত আমাজান ও আফ্রিকার অরণ্য দাবানলে পুড়ে যাচ্ছে। আমাজানে চলমান ভয়াবহ দাবানল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে দারুণভাবে প্রভাব ফেলছে। আমাজান অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠ থেকে আঠেরো হাজার ফুট উপরে বিষাক্ত কার্বন মনো-অক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ভয়ঙ্কর মাত্রায় বেড়ে গেছে। এই বৃদ্ধি গ্রীনহাউস এফেক্টের বড় কারণ। এতে নিম্নগামী বিষাক্ত বায়ু প্রবাহ শুরু হলে মানবজীবনের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। এখন কীভাবে আসন্ন বিপদ থেকে পৃথিবীর মানুষ ও প্রাণি বাঁচবে সেটাই উদ্বেগের বিষয়। আশা করি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষগুলো এবং এই বিপর্যয় থেকে আমরা রক্ষা পাবো।
এই সময়ে আমরা পৃথিবীবাসীর জন্য চাই শরতের সজীবতা ও শুভ্রতা। চলতি সংখ্যায় রেজা ফারুক শরতের রূপবৈচিত্র্য নিয়ে সমৃদ্ধ একটি রচনা লিখেছেন। প্রবীণ খ্যাতিমান সাহিত্যিক জাহানারা আরজুর একটি একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান সাইদুল। জন্মশত বর্ষে বরেণ্য লেখক মনিরউদ্দীন ইউসুফকে নিয়ে লিখেছেন মুহম্মদ মতিউর রহমান। অন্যদিকে বিচিত্র বিষয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন ফজলে রাব্বি, এলহাম হোসেন, আব্দুর রহিম, আজাদ এহতেশাম, সাইফুদ্দিন সাইফুল, হামিদ রায়হান ও জহুরুল ইসলাম। নভেলা লিখেছেন ফাহমিদা বারি। আর নানা অভিজ্ঞতার চারটি গল্প লিখেছেন মাহবুবুল হক, শাওন আসগর, দেওয়ান মোহাম্মদ শামসুজ্জামান ও বেলাল মনির। আর বিশ্বসাহিত্য নিয়ে আফরোজা পারভীন ও মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন দুটি ঋদ্ধ প্রবন্ধ লিখেছেন। সেই সঙ্গে নিয়মিত বিভাগগুলো থাকছেই।
এইসব লেখা থেকে শরতের প্রাণময় সবুজ ও শুভ্রতা ছড়িয়ে পড়ুক সকলের জীবনে ও আমাদের চারপাশের পরিবেশে। এই কামনা রইলো।