খুঁজছি আমি, খুঁজছি কাকে? কাকে খুঁজছি আমি…
কাকে খুঁজছি তাই জানি না, এ-কি যে পাগলামি!
খুঁজছি মাঠে, মাঠের শেষে, মাঠ পেরিয়ে বনে-
বনের ভেতর বেতস-ঝোপে খুঁজছি অকারণে।
ছায়ায় মায়ায় লতায় পাতায় উঠল ঝিঁঝিঁ ডেকে…
ঝাবুক পাতায় হাওয়ার বাঁশি বাজল থেকে থেকে।
ইমলিডালে ঘুমলি ঘুঘু উঠল যখন নড়ে…
উটকো লতায় পা জড়িয়ে গেলাম আমি পড়ে।
ছাড়িয়ে পা-টা পেছন ফিরে পা বাড়ালাম বাঁয়ে-
মউল ফুলের পাপড়িগুলো ছড়িয়ে পড়ে গায়ে।
গা ঝেরে ফের হাঁটতে থাকি, পড়ল হঠাৎ খেয়াল…
খুঁজছি কাকে? ভাবতে.., দেখি বিষকাঁটালির দেয়াল।
ওদিক থেকে দৃষ্টি ফেরাই নেবুফুলের ঘ্রাণে-
খুঁজছি কাকে?.. খুঁজছি কাকে? পাই না ভেবে মানে।
এমন যখন ভাবছি তখন ডাকল কোথাও কুহু …
কুহুর ডাকে মনটা কেমন নাচল মুহুর্মুহু।
ছড়িয়ে গেল ইলিকঝিলিক আবেগ বুকের মাঝে-
হঠাৎ করে পড়ল মনে ভাবছে আমার মা যে!
হয়তো মা ঠিক ডাকছে আমায় বার-দুয়ারে এসে…
তখন আমার খোঁজার নেশা কোথায় গেল ভেসে।
বনের থেকে বেরিয়ে সোজা ছুট লাগালাম বাড়ি-
গিয়েই দেখি মা-তো আমার রাগ করেছে ভারি!
জড়িয়ে ধরে মাকে বলি, ‘একটু হাসো মাগো..
এবার তোমায় না-বলে আর কোথাও যাবো নাগো!’
মা তখনি মিষ্টি হেসে বলল, ‘ওরে বোকা…
তুই যে আমার বুকের সুবাস, গোলাপ থোকা-থোকা!’