মনে অনেক শব্দফসিল জমে আছে
একবার এসে দেখো প্রতিটি শব্দের হিস্যা
অপেক্ষারত প্রতিটি অক্ষর তোমার সিজদাবনত
প্রার্থনা করছে, কবি-দুটি ডানা দাও
উড়ে গিয়ে পড়ি তার ছায়ায়
আমি নিরুত্তর তোমার প্রতিউত্তরের আশায়।
সমুদ্র উল্টে মরুভূমি হয়ে গেলে
মরুভূমির ধুলা আছড়ে পড়ে স্রষ্টার বৈঠক খানায়
স্রষ্টার বৈঠকখানা কতোদিন পরিত্যক্ত-জানে শুধু দোয়াপ্রার্থী আঙুল।
অপেক্ষা কেটেছে রোদের ছাউনি
সবুজ গাউন পরা বিকেল নৈশব্দে ফিরে কুপিতে
আর আমি ফিরি শ্মশানের নতুন লাশের মুখ দেখে।
মানুষ ভুলে গেলো নদীর কথা,
পরের বছর দাঙ্গা হলো-ভাই ভাবীকে অসতী বলে তালাক দিলো-
ভাত না দিতে পারলে তালাক দিতে হয়।
ভাবী বলেছিলো সে সতী, সতীর দিব্যি ভাতের ফ্যানা শোনেনি
স্রষ্টার হাড়িতে ভাত নাই-বিধবার নাকে ফুল নাই
আর আমার? আমার তো তুমি নাই-
তবুও তুমি আছো-এই আছো নিয়ে, কত রাত বিধবার মতো
এক কাতে পার করলাম,
বৃদ্ধের আঙুল দিয়ে কত আয়ু পালালো
এখনও তোমার লাশ আসেনি এশা, কবে আসবে?
আমার বুকের পাঁজর হবে চন্দন কাঠ
তোমার শেষকৃত্য হবে আমার বুকে
এ আশায় নিজের আয়ু বন্ধকী চেয়ে বারবার যুবক হই
অথচ, যতোদিন যায়, তুমি বেঁচে উঠো নতুন আয়ু নিয়ে–
তুমি মরলে নিঃসঙ্গতায় খুঁজবে আমাকে-ঘুমোবে আমার বুকে
সেদিন তোমাকে পাবো-সেই আশায় আজও আমি শ্মশান।