খরায় পুড়ে যাওয়া শস্যক্ষেতের মত বিষন্ন আকাশে-
একা জেগে থাকে আষাঢ়ের একাদশী চাঁদ,
হাপরের টানে উস্কে ওঠা গনগনে আগুনে
ঝলসে যায় সকালের নরম রোদ;
স্বার্থের ঘুণপোকা ধীরে ধীরে কুরে খায়
প্রকৃতির কোমল গতর,
তপ্ত লাভার উদগীরণে পুড়ে খাক
বিস্তীর্ণ বনানী, জনপদ, সবুজ শহর।
সীসার চাঁদোয়ার তলায় চাপা পড়ে থাকে
বিষবৃক্ষের মত কংক্রিটের জঞ্জালে ভরা নগর জীবন,
হুহু করে বাড়তে থাকে তাপানুকূল বাড়িঘর
লালসার বিষাক্ত লালায় ভিজে যায়
ভোগবাদী আধুনিক নগর সভ্যতা;
চিতাভস্মের তলায় ডুবে থাকে সবুজের সমাধি
পাপের শাপে অঙ্গার হয়ে যায়
দশ দিগন্তের স্বচ্ছতোয়া বিপুল জলধি।
মধু ফাল্গুনের রাজপাটে শ্রাবণের আগ্রাসন,
আষাঢ়ের কোল জুড়ে জ্যৈষ্ঠের দহন,
হলুদ ঘাসের কফিনে ঘাসফড়িঙের শব
জল বিনে চাতকের যায় বুঝি প্রাণ!
পাপের কলসি পূর্ণ দেখেও নেই কোনো অনুতাপ,
রীতিহীন নগরায়ণ বাড়ায় প্রকৃতির ক্রোধ;
বনজ প্রতিবেশ ধ্বংসের অর্বাচীন ফল-
গুটি পায়ে ধেয়ে আসে প্রকৃতির প্রতিশোধ।