কে বলে আড়ালে তুমি ‘লোক লোকান্তর’-এ,
তুমি তো ‘গন্ধবণিক’ মৃত্তিকা অন্তরে,
শতবর্ষ, সহস্রাব্দ পার হয়ে ‘কালের কলসে’
বাজে তোমার ঘুঙুর,
হারিয়ে যাবেনা ধ্রুব, ‘সোনালি কাবিন’ হাতে
গাঙের ঢেউয়ের মত বলবে আমিন আমিন।
ওপারে কে যেন বলে উচ্ছ্বসে ‘মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো’
এসেছি সোনালি তাজ পরে ভূমিপুত্র আমি,
নিজ হাতে ‘অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না’ করে দেবো
একটু পরেই আসবে দুঃখীদের রাজা সতেরো সওয়ারী
‘বখতিয়ারের ঘোড়া’-
নেকাবে সরায়ে দেখাবে ‘আরব্য রজনীর রাজহাঁস’
‘প্রহান্তরের পাশফেরা’ অনন্য সৈনিক।
‘এক চক্ষুহরিণ’ যতই সুন্দর হোক
তোমাদের হৃদয়ের দাবি –
এখনো আসেনা কেন ‘মিথ্যাবাদী রাখাল’?
‘আমি দূরগামী’ দূরদেশে চলে যাবো,
দুয়ারে এসেছে ‘দোয়েল ও দয়িতা’
‘নদীর ভিতরে নদী’, তাই তুমি ‘দ্বিতীয় ভাঙন’
দিয়ে ‘উড়াল কাব্য’ উড়িয়ে ময়ূরপঙ্খী নায়ের
পালক ছড়িয়ে দিলে চারদিকে-
আর বললে- ‘না কোন শূন্যতা মানিনা’
আমি ‘বিরামপুরের যাত্রী’ আর
‘তোমার জন্য দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী’
অপেক্ষা করছে,
‘বারুদগন্ধী মানুষের দেশে’ হবে তোমার অধিবাস।
স্মিতকণ্ঠে ঘোষণা করলে-
‘তুমিই তৃষ্ণা তুমিই পিপাসার জল’।
এমন অমিত উচ্চারণে তোমার ‘সেলাই করা মুখ’
যেন কত যুগ পড়ে আছে ‘পিপাসার বালুচরে’।
আর এরই মধ্যে ‘প্রেমপত্র পল্লবে’
‘তোমার রক্তে তোমার গন্ধে’ ফুটলো অনিন্দ কুসুম।
আবার বললে, ‘পাখির কথায় পাখা মেললাম’,
‘ছায়ার সঙ্গে মায়ার লড়াই’ হবে
অথচ তা হয়না ফলবতী।
তাই উদাস দৃষ্টিতে আমি ‘সীমাহীন যেন বা
প্রাচীন বটবৃক্ষের মতো’ বলেই আবার কাঁপছো।
তোমার নয়নে ‘একি অশ্রু একি রক্ত’,
কিছুই ঠাওর করতে পারছি না।
কেবল অব্যক্ত আনন্দ জোয়ার, ‘তোমার গন্ধে
ফুল ফুটেছে’ সারা বাংলায়।
তুমি লোক লোকান্তরে নও,
তুমি অন্তরে অন্তরে-
অবাক বিস্ময়ে বলছি ‘তোমাকে হারিয়ে কুড়িয়ে পেয়েছি’।
তোমায় পাখনায় জ্বলে ‘পানকৌড়ির রক্ত’
‘ময়ূরীর মুখ’- আমরা ‘সৌরভের কাছে পরাজিত’।
তুমি খামচে ধরেছো ‘উপমহাদেশ’
দেখো দেখো ‘কাবিলের বোন’ কাঁদে
‘নদীর সতীন’ যেন –
ডাকছে ‘ডাহুক’, ‘নিষিন্দা নারী’, ‘আগুনের মেয়ে’,
তুমি বলছ মুখ টিপে হে ‘পুত্র’, ‘পুরুষ সুন্দর’
‘চেহারার চতুরঙ্গ’ মেখে বল-
‘ধীরে খাও অজগরী’, ‘যমুনাবতী’,
‘কলঙ্কিনী জ্যোতির্বলয়’, ‘ফিরে এসো নিশানী’, ‘ক্রীতদাসী’-
তোমার ‘চরণধ্বনি’, ‘অলক পুলক শিহরণ’
আমাকে শঙ্কিত করে।
শোন ‘নিশি বিড়ালীর আর্তস্বর’
‘যে যুদ্ধে কেউ যেতেনি’, যদি তুমি বীরশ্রেষ্ঠ হও,
তবে আমি ‘যুগলবন্দী’ হবো, ‘ওগো বনহংসিনী আমার’,
‘পোড়া মাটির জোড়াহাঁস’-
তোমাকে পরাবো ‘ময়নামতির নেকলেস’,
তোমাকে কাবিন করে দেবো ‘বিবি মরিয়মের উইল’,
‘উষ্ণ কদমের চর’।
আমি ‘ময়নামতির ছেলে’, ‘মরুমুষিকের উপত্যকা’-
‘সময়ের সাক্ষী’, ‘বিবেকের বাতায়ন’ থেকে বলছি
‘মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা)’ ‘সাহসের সমাচার’,
‘দশ দিগন্তে উড়াল’ দিয়ে বলছি এটিই ‘কবির আত্মবিশ্বাস’।