তোমাদের উঠোনে আমার পদচিহ্ন রেখে এসেছি
উঠোন জুড়ে ঘুরে বেড়ানো
জোনাকিরা আমাকে আলিঙ্গন করেছে,
ওরা আমাকে চেনে, আমার অস্তিত্ব টের পায় নিস্তব্ধতায়
ওরা আমার পদশব্দে উঠোন ঘিরে আঁকে আলোর ছায়া।
আমি স্বপ্নবান এক কবির কাছে
আমার করতলের স্বপ্নগুলো
হাতের মুঠোয় জমা রেখে এসেছি,
তোমাদের শব্দের মেলায় আমার
সকল পঙক্তিমালা সাজিয়ে দিয়েছি
পাখির কাছে, ফুলের কাছে।
আমি আছি এ মাটির অস্তিত্বে
পানকৌড়ির ঠোঁটের লাবণ্য চোখে
ইলশে ভোরে নদীর কাছে
পলাতক ছায়ার মতো
তোমাদের দিনরাত্রির কবিতায়,
আমি দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠে
ফোটা সর্ষেফুলের দোলায় ভ্রমর হয়ে
ডাহুকের ভোরের ডানা ঝাপটানো
অন্তহীন তৃষ্ণার জলের মতো
ফোটা কদমের গায়ে বৃষ্টির জলে
লজ্জাবতী নারীর লাজের ছন্দে
অস্তমিত সূর্যের গোধূলি হয়ে আছি এ তল্লাটে।
অযাচিত যে হাত রেখেছিলো আমার কাঁধে
তাকে তুচ্ছ করে তোমাদের
গহন গহিন অসীম সৌন্দর্যের মৌনতায়
আমি আছি নিরন্তর রাখালির পথচলায়।
আমি তোমাদের অন্ত সৌন্দর্যের মাঝে
বিকিরণ ছড়িয়েছি কবিতার বাঙময়
নিরাকার অসীমের মাঝে আমি চলিষ্ণু
স্তবক হয়ে ফোটাই মাধুরী
নারীর দেহে প্রেমের বির্মূত ছবিতে
প্রতিমা খুঁজেছি গীতল সুষমায়,
জোছনা প্লাবিত স্নিগ্ধ দিঘীর জলে
অমরাবতীর স্বপ্নে বিভোর বেদনায়।
আমি চিহ্ন রেখেছি ময়ূরের পেখম তোলা সৌন্দর্যে
আমি রিলকের গোলাপের মতো
একবিন্দু আর্তনাদের মতো অর্ফিয়সের বাঁশি
মতো ছড়িয়েছি গানে
আমার পদশব্দ শুনতে পাবে ভোরের উঠোন।
আমি জীবনের ছুটে চলা পদচিহ্নে আছি
আছি লৌকিক ঐতিহ্যে অহংকারের অস্তিত্বে
আমি আছি আমি থাকবো, আমি মাটির গন্ধমাখা কর্দমাক্ত জল
আমি মাটি উদগত এক কবি।