এই বর্ষণের শব্দ যেন চিরচেনা বর্ষা ঋতুর নয়।
প্রতিটি বৃষ্টির ফোঁটা স্মৃতিভ্রষ্ট করে দিয়ে আমার মাথায়
বাজায় জলের ধ্বনি। চেয়ে দেখি ফিরে আসে মাইগ্র্যান্ট প্রতিশ্রুতি
হংসিনী আমার। বিস্মৃতির হাওড় জুড়ে পড়ে খেলা করে
সেই সাদা মেঘবর্ণা হাঁসের রাণীটি। কতদেশ পার হয়ে
এসেছে সে প্রশ্ন করি তাকে। পালকে বারুদের গন্ধ, চঞ্চু ঘষে
করে সে খিলাল। মুছতে চায় রক্ত-মাংস, মানুষের হাড়গোড়।
ডলারের সুগন্ধে ভরা শিশুর চিৎকার। আর লন্ডনে বোমার আওয়াজ।
হে মাইগ্র্যান্ট হংসিনী আমার, পৃথিবীর মানচিত্র মেঘ বৃষ্টি
বরফ আগুন আর গ্রাসের শিখার তাপ তোমাকে কি ধাওয়া
করে পিছু? এখন বাংলায় বর্ষণের বিরহ ঝরছে। জলাবদ্ধ ঢাকার
রাস্তায় এসো প্রেম খেলি। চাও যদি ধরতে পারো অনেক মৌরাল
মাছ। মঞ্চু ভরে তুলতে পারো অনেক শামুক কুচি। এসো প্রেম খেলি।
বাংলাদেশে যেহেতু এসেছে বর্ষা, এসো চিন্তা-ভাবনাহীন গেয়ে উঠি
এ মাহ ভাদরে অনাদরে বৃষ্টি ঝরে যাক।
তবু কথা থেকে যায় আমাদের মগজে, জিহ্বায় হে মরালী,
মেঘবর্ণা, বোমাগন্ধী দারুণ উড়ালবাজ পাখি এসো
কবির বুকে চঞ্চু ঠুকে বোঝাও আমাকে এই যুদ্ধে মানুষের
শত্রু কারা তবে? নারীদের শত্রু কারা? পৃথিবীর শিশুদের
হত্যাকারী কে?
না হয় কবিতা হবে না আর। স্বপ্নের মৃত্যু হোক, কল্পনা ফেটে যাক
সদ্য ফাটা বোমার টুকরোর মতো হাজার সঙ্গীতে। মহাকাব্য
সেই অভাব্য দুর্ভাবনার বারুদে হাওয়ায় মিলাক।
হে মরালী আমিও তো বৃষ্টি ভালোবাসি। মেঘদূত লিখতে গিয়ে
লিখে ফেলি অগ্নিদূত, আগুনের শিখা। বলো একি কাব্য নয়?
বলো একি অভাব্য দুর্ঘটনা শুধু?
মানুষের স্বপ্নের মৃত্যু হবে কবে? ও মাইগ্র্যান্ট
বিশ্ববিলাসিনী, বাংলার কবির মগজ ঠুকরে বের করে
নিয়ে যাও সমস্ত বৃষ্টির শব্দ, আস্ত সব বর্ষার স্মৃতি
কাম, কেলি, শূন্য কলস এ মাহ শ্রাবণে।