কবি হিসেবে আল মাহমুদের প্রভাব, প্রতিভা, প্রতিষ্ঠা তুলনা রহিত। শতাব্দীর পঞ্চাশ দশকে স্বকীয় এক কাব্যভাষা, মৌলিক কবি-প্রতিভার আশ্চর্য এক প্রসাদগুণ, লোকায়ত জীবন সংস্কৃতির এক অনুপম অনুষঙ্গ নিয়ে বাংলাদেশের কবিতায় প্রবেশ করেন। কবি হিসেবে তার গৌরবময় আত্মপ্রতিষ্ঠার মধ্য পর্যায়ে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ পানকৌড়ির রক্ত (১৯৭৫)। শহীদ কাদরী বিচিত্রায় লিখেছেন- ‘আল মাহমুদের কবিতার চেয়ে তার গল্প আমার কাছে বেশি প্রতিভাদীপ্ত মনে হচ্ছে। সোনালী কাবিন (১৯৭৩)-এর মতো কাব্যগ্রন্থ বেরিয়ে যাওয়ার পরও শহীদ কাদরীর এই মন্তব্যকে আল মাহমুদ বলেছেন, ‘কাব্যহিংসা বশত, উদ্দেশ্যমূলক’। এক সাক্ষাৎকারে আল মাহমুদ তাঁর গল্প লেখার পটভূমি বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন- ‘আমি তখন স্কুলের ছাত্র, সপ্তম কিংবা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। এ সময় সে সেকালের কমিউনিস্ট পার্টি পরিচালিত একটি পাঠাগারে পড়াশুনার সুযোগ পেয়ে যাই। সেখান থেকে ম্যাক্সিম গোর্কির অনূদিত কিছু বই পড়ে আমার গদ্য লেখার ঝোঁক সৃষ্টির ফলে হঠাৎ দু’টি গল্প লিখে ফেলি। সৌভাগ্যক্রমে এর একটি রচনা তৎকালীন ‘সত্যযুগ’ পত্রিকায় গৌরকিশোর ঘোষ ফলাও করে ছেপে দিলে আমি বুঝতে পারি কবিতার মতো আমার গদ্যশক্তিও প্রবল। আমি বুঝতে পারি আমার খাপে জোড়া কিরিচ আছে। কিন্তু পঞ্চাশের দশকের পাল্লায় পড়ে আমি আমার আসল অস্ত্রটিতে জং ধরে গেছে ভেবে এতদিন এস্তেমাল করিনি।’ (উপমা/ আল মাহমুদ সংখ্যা, ১৯৯৪, পৃ: ৮ সম্পাদক মুহাম্মদ নিযামুদ্দীন) ‘পানকৌড়ির রক্ত’ বের হবার পর সেই সত্তর দশকে, প্রতিষ্ঠিত গাল্পিকরা নড়েচড়ে বসে। আড্ডায়-আলোচনায় পরস্পর মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে বলে- ‘কে এই হারামজাদা? যার গল্পে বাস্তবতার এমন প্রখর প্রকাশ থাকে?’ কবি-খ্যাতির চাপে চাপা পড়ে গেলেও আল মাহমুদের গল্পের ভাষাভঙ্গি, বর্ণনা ও বিবরণ, সরস রসের সঞ্চারের প্রসাদগুণের কথা চরম নিন্দুকেরাও অস্বীকার করতে পারে না। ‘পানকৌড়ির রক্ত’ গল্পগ্রন্থের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গল্প-সাহিত্যের নতুন এক ভূগোল রচিত হয়। সেই গল্পের ভুবন, এ হয়নি, বরং আল মাহমুদীয় শৈল্পিক পরিচর্যায় তা হয়ে উঠেছে হৃদয়গ্রাহী অভিনব বিস্ময়।
পানকৌড়ির রক্ত (১৯৭৫), ‘সৌরভের কাছে পরাজিত (১৯৮২), গন্ধবণিক (১৯৮৮) আল মাহমুদের গল্প (১৯৯১), গল্প সমগ্র (২০০১) তারপর নব্বই দশক থেকে তিনি উপন্যাস লেখা শুরু করেন। এখানে বলা দরকার যে, কবিতার মতো আল মাহমুদের কথাসাহিত্যও দ্বিখণ্ডিত। একটি হচ্ছে তাঁর ধর্মবিশ্বাসের পূর্ব রচনা অন্যটি হচ্ছে ধর্মবিশ্বাসের পরবর্তী রচনা এ দু’টি পর্বের রচনার মধ্যে আল মাহমুদের জীবন দৃষ্টি ও শিল্প দৃষ্টির ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। টলস্টয় কিংবা হার্বার রিড-এর মতে, ‘জীবনের গভীরতা অর্থ অধিকার করতে গেলে লেখককে কোনো না কোন আদর্শের কাছে বশীভূত হতে হয়।’ কিন্তু আমাদের বক্তব্য, বেশি রকমের বশীভূত হয়ে গেলে শিল্পের পরিণাম পানকৌড়ির রক্তের সঙ্গে সৌরভের কাছে পরাজিত-এর পার্থক্যের মতো হয়ে যায়। সেই পরিণতিকর কারণেই হয়ত ‘জলবেশ্যা’র মতো গল্প আল মাহমুদ আর লিখতে পারলেন না। উপমহাদেশ কিংবা ডাহুকী লিখেছেন বটে কিন্তু বুনোবৃষ্টির প্ররোচনা’র মতো অদ্ভুত গল্প উত্তরকালে আর লিখতে পারেন নি আল মাহমুদ। ‘পানকৌড়ির রক্ত’ গল্পে নববিবাহিতা স্ত্রী আদিনা তার প্রথম রক্তের অসুবিধার কারণে স্বামীর রতিক্রিয়ার সাধ তৃপ্ত করতে পারেনি বলে স্বামীকে রাগ করতে বারণ করে। স্বামী সেখানে সফল না হতে পেরে পাখি শিকারে যায়। শিকারে গিয়ে সঙ্গমপূর্ব মুহূর্তের উত্তেজনা অনুভব করে। স্ত্রীর দেহের কৃষ্ণবর্ণ শোভা, পেলবতা ও কমনীয়তার সঙ্গে পানকৌড়ি পাখির সাদৃশ্য বর্ণনা সত্যি অসাধারণ- ‘একটা বিষয়ে পাখিটার সাথে আমার সাতদিন আগে বিয়ে করা স্ত্রীর একটা মিল খুঁজে পাচ্ছিলাম। সেটা তরতাজা একটা সতেজ ভাব। আদিনা কালো হলেও তার চামড়ায় সতেজভাবটা সব সময় লেগে থাকে, পাখিটার কালো তেলতেলে পালকের মধ্যেও তেমনি ভাবটা দেখেই আমি চিনতে পেরেছি। … বাসর রাত শেষ হয়ে গেলে আমি যখন খুব ভোরে খাট থেকে নামলাম, আদিনাও বিছানা ছেড়ে আমার পেছনে এসে পিঠের দিক থেকে দু’হাতে গলা জড়িয়ে ধরে বলেছিল, ‘এসো আরো কিছুক্ষণ আমরা শুয়ে থাকি। আমি জানি তুমি রাগ করেছো। এই আমার প্রথম রক্ত। তুমি নোংরা হয়ে যেতে, তোমার গা ঘিন ঘিন করতো।’
এই বর্ণনা নিরাভরণ, স্বচ্ছন্দ এবং হৃদয়স্পর্শী। আল মাহমুদ কবি বলেই হয়ত আবেগ সংযত না করেও লিখতে পেরেছেন এ ঘটনার বিবরণ। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এই যে, পাখি শিকারির গুলি ছোঁড়ার সঙ্গে নারী-পুরুষের মিলনের দৃশ্যের অভিযোজন- ‘পাখি শিকারিরা কোনদিন পেছন থেকে গুলি করে না। কেন করে না? সম্ভবত শিকারের মুখোমুখি না হলে বারুদ বর্ষণকারীরা কোনো আনন্দ পায় না।’ এই কাব্যিক ভাষা, বাস্তবতার প্রখর প্রকাশ, সাযুজ্য তৈরি, বাংলা গল্পে তুলনারহিত। বিশেষত আল মাহমুদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার যে পরিচয় উপর্যুক্ত উদ্ধৃতিতে পাওয়া যায়, তা প্রতিষ্ঠিত গল্পকারদের গল্পেও বিরল। কবির লেখা গল্প বলেই হয়ত এমন উপমা, উৎপেক্ষা আর বর্ণাঢ্য রঙের ব্যবহার গল্পের দৃশ্যপটকে এমন রঞ্জিত করে –
পাখিটা যেখানে গুলি খেয়ে তড়পাচ্ছে সেখানে যেন কেউ একবালতি টাটকা রক্ত ঢেলে দিয়েছে। … পাখিটার লাল রক্ত, সবুজ জল ও তার গাঢ় কালো পালকের আলোড়নে যন্ত্রণাদায়ক এক বর্ণের সমারোহ সৃষ্টি করে আমাকে স্তম্ভিত করে দিল।
অথবা- ‘পাখিটাকে প্রায় বুকে চেপে ধরে মদিনা পাড়ে এসে উঠল। মদিনার পরনে ছিল আদিনার শাড়ি রঙের মতো হালকা গোলাপি রঙের একটা ফ্রক। …আমি দেখলাম, তার কচি ফলের মতো কালো নরম বুকে রক্তের লাল ছোপ গাঢ় হয়ে লেগে আছে। মনে হচ্ছে লাল শাপলার আধফোটা দু’টি কলি। পৌষের শিশিরে ভিজে থির থির করে কাঁপছে।’
এ দৃশ্য কেবল নান্দনিক বিভূতি ছড়ায় না পাঠকের দৃষ্টিকে রঙে- রসে পরিতৃপ্তিও দান করেন। জীবনমুখী, জীবন অভিসারী ও রোমান্টিক স্বপ্নময়তায় ভরিয়ে দে। এর মধ্যে আল মাহমুদের নিজস্ব উদ্ভাবনা শক্তির পরিচয় স্পষ্ট। এখানে আল মাহমুদের মৌলিকত্ব, যা পাঠকের হৃদয় সঞ্চারিত হয় এবং তাঁর গল্পকে সার্থক গল্প বলে চিহ্নিত করি। ‘পানকৌড়ি রক্ত’ গল্পের শেষে পাঠক আলো বিস্মিত হয় প্রতীকী তাৎপর্যের অতি উত্তম সমাপ্তি দেখে। মদিনা ও সখিনা শিকার করা বক আর পানকৌড়ি পাখি দুটো নিয়ে বাড়ি ফিরে। আনোয়ারের তখন প্রচণ্ড মাথাব্যথা মাঝে মাঝে তার এমন হয়। তখন ঘুমই একমাত্র শুশ্রূষা। পায়ে কাদা নিয়ে আনোয়ার বিছানায় যায়। শ্বশুর তাকে রেস্ট নিতে বলে। শ্বশুর-শাশুড়ি দরজা ভেজিয়ে বেরিয়ে গেলে আদিনা রুমাল ভিজিয়ে কপালে জলপট্টি দিতে দিতে বলে- ‘আজ হবে। ব্যাপারটা বন্ধ হয়েছে। আনোয়ার আদিনাকে বিছানায় উঠে এসে মাথা টিপে দিতে বললে, আদিনা হেসে বলে- তুমি এখনই চাও? এরপর আশ্চর্য সেই বর্ণনা- ‘আমি আমার একনলা বন্দুক হাতে ত্রিকোণাকৃতি চরভূমির নরম গুল্মলতায় পা মাড়িয়ে চলতে লাগলাম। নদীটা যেখানে বাঁক নিয়েছে, আমি সেখানে এসে পেশাদার শিকারির মত হাঁটু গেড়ে বন্দুক বাগিয়ে বসলাম। … আমি মুহূর্ত মাত্র বিলম্ব না করে গুলি ছুঁড়লাম। গুলির শব্দে আর বন্দুকের ধকলে আমার চোখের সামনে সমগ্র নিসর্গ চিত্রটি ফেটে চৌচির হয়ে গেল। আমি দেখলাম, একটি শ্যামবর্ণ নারীর শরীর নদীর নীলিমায় আপন রক্তের মধ্যে তোলপাড় করছে।’
গল্পের এমন সফল পরিণতি, এরকম প্রতীকী তাৎপর্য বাংলা গল্পটি শেষ হয়েছে। স্বামী স্ত্রীর মধ্য দিয়ে গল্পটি শেষ হয়েছে। স্বামী স্ত্রীর নির্দোষ মিলনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটলেও তার মধ্যে শৈল্পিক অভিব্যঞ্জনা পাঠককে তাক লাগিয়ে দেয়। একটা হচ্ছে ধ্বংসের অন্যটি হচ্ছে সৃষ্টির। গুলি ছোড়ার মধ্য দিয়ে পাখির প্রাণ সংহার আর রতিবর্ষণের মধ্য দিয়ে নারীর সন্তানবতী হওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন সৃষ্টির উন্মাদনা ‘পানকৌড়ির রক্ত’ গল্পটিকে শিল্পোত্তীর্ণ করে তুলছে।
‘কালো নৌকা’ গল্পে দুঃসাহসিক সম্পর্ক মাটিতে গড়ে উঠতে না দিয়ে নদীতে বিসর্জন দেয়ার মধ্যে বোধ হয় এই অপরাধী সম্পর্ক লেখক যেন পুরোপুরি স্বীকার করে নিতে পারেননি। ছেলে দামোদরকে নদী খেয়েছে। সে শোকে দামোদরের বউ কালীজলদাসী উন্মাদ হয় সমুদ্রের দিকে ছুটে যায়। ঘরে বেঁধে রাখা যায় না। এক সন্ধ্যা কালী নৌকায় উঠে বসে আর শ্বশুর রাসুজলদাস তাকে ঘরে আনতে গিয়ে … ‘দেশী মদের নেশা তখন রাসুকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না এখন হাঁটলে পা টলবে, রাসু জানে। তাই সে নিঃশব্দে নৌকায় ওঠে কালীর পাশে বসলো। … রাসুর শক্ত বাহুর পেষণে কালী একবার শুধু অস্পষ্টভাবে আওয়াজ তুলে উচ্চারণ করলো দামোদর’।
‘সৌরভের কাছে পরাজিত’ গল্পে ট্রেনের জনৈক যাত্রীর সম্পূর্ণ নগ্ন করে তার পুত্রতুল্য বালকেরা পিতার শিশ্নটি নিয়ে খেলেছে। ডাকাতেরা বলেছে তারা সমাজবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। কিন্তু একটা আতরের শিশির লোভ তারা ছাড়তে পারে না। অর্থাৎ মানবিক মূল্যবোধগুলো তাদের মধ্যে তখনো লুপ্ত হয়ে যায়নি। যদিও তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ডাকাতি করছে। ‘জলবেশ্যা’ গল্পে পেঁয়াজ রসুনের মৌসুম আর লালপুর হাটের বেপারীদের জীবনচিত্র তুলে ধরেন, তা এতটাই জীবন্তু যে, চাইলেও বাস্তবতা থেকে আলাদা করা যায় না। পেঁয়াজ আর রসুনের মরশুমে লাপুর হাটের চারপাশের গ্রামগুলোতেও পেঁয়াজ-রসুনের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। হাটের দুই মাইল দূর থেকেও বাতাসে কাঁচা পেঁয়াজের ঝাঁঝালো গন্ধটা বেপারীদের নাকে এসে লাগে। গন্ধটা তখন আর শুধু পেঁয়াজের গন্ধ থাকে না। ‘রসুনেরও একটা অহংকারী গন্ধ আছে, যা বাতাসে পেঁয়াজের গন্ধের সাথে মিশে বাতাসকে স্বাদযুক্ত করে তোলে।’
এই বর্ণনা বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়া কি সম্ভব? অবশ্যই নয়। জীবনকে দেখার, পর্যবেক্ষণ করার অসাধারণ প্রতিভাদীপ্ত ঐশ্বরিক চোখ থাকলেই কেবল তা সম্ভব। লালপুর হাটের তরুণ দালাল দলের নেতা আবিদ বেপারী গজার মাছের লাল সুরুয়া মাখা ভাত খেয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে বেদে নৌকার দিকে তাকায়। মেঘনার বুকে ভাসমান বেদে নৌকার বহর থেকে আলোর ইঙ্গিতময় ইশারা পেয়ে গিয়ে ওঠে বেউলা সুন্দরীর নৌকায়। সাপ ও বেদেনীর কামনাময় আবেদন সত্যি বিস্ময়কর। ‘শাড়ির বাঁধন খুলে পড়ায় বেপারী কালো গুল্মময় ত্রিভুজাকৃতি এক ঈষদুষ্ণ বদ্বীপের মোহময় সৌন্দর্য অবলোকন করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে।’ ‘নেল, জায়গা ছাড়েন, আমি হুতি।’ এই সংলাপে শারীরিক উত্তেজনা আরো তীব্রতর হয়। উত্তেজনার এক মুহূর্তে বেপরীর পায়ের সাথে লেগে সাপের ঢালা খুলে যায় এবং ঝুড়ি থেকে কালনাগিনী ফণা তুলে ছোবল মারে বেপারীর পায়ে। … বেউলা সুন্দরী উঠে বসে তার নগ্ন জঙ্ঘার দু’প্রাপ্তে দু’হাত রেখে আড়মোড়া ভাঙে। ‘দাঁত নাই বাইদানির আবার ফোঁসফোঁসানি কত। লো নেংটা বাইদানি, তুই আমার লখিন্দররে কি করলি? দিমু মাথা ছেইচা।’ বলে সাপটাকে খপ করে ধরে ঝুড়িতে ভরে। বাইদানি বেপারীর টাকার খুঁতিটা খুলে নিয়ে জ্ঞানহীন দেটাকে পাঁজা কোলে করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। আল মাহমুদের মৌলিকত্ব এখানে যে, ফ্রয়েডের সূত্র মতে ‘মানুষের প্রাত্যহিক জীবন যৌন চেতনা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।’ আবিদ বেপারী পরিণতি মূর্চ্ছাহত সঙ্গমের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
‘মীরবাড়ির কুরসিনামা’ গল্পে গ্রামীণ মুসলমান নারী অচরিতার্য আকাঙ্ক্ষা একটা মোরগের রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। এভাবেই আল মাহমুদের গল্পে নারীপ্রেম এবং কামনাবাসনা শিল্পরূপ দান করেছে।