কোনো বিশেষ স্মৃতি মনে পড়ছে না কবি আল মাহমুদকে নিয়ে। এর একটা কারণ হয়তো এই যে তাঁর সাথে আমার অনেক স্মৃতি। কোনটা যে প্রধান আর কোনটা যে অপ্রধান সেই বিবেচনা করতে পারছি না এখন।
আমার কবিজীবনের প্রথম যৌবনে আল মাহমুদ নয়, জড়িয়ে ছিলাম শহীদ কাদরীর সাথে। তখন আমি আর আবিদ আজাদ (সুমন সরকার) চড়কিবাজি করি ঢাকা শহর। তবে শিহাব সরকারের সাথেই সুমনের প্রগাঢ় বন্ধুত্ব। তখনও ওদেরকে কেউ মানিক জোড় বলতো না। সেটা হয়েছিলো আরো পড়ে। সেই ফোকর সময়ে আমি আর আবিদ নানা জায়গায় ঘুরতাম কবিতার চাবির খোঁজে। সেই রকম এক দুপুরে স্টেডিয়ামের পুবের দিকের একটি রেস্তোরাঁয় আমরা খাচ্ছিলাম মোগলাই পরোটা। আবিদের সাথে আলাপ ছিলো শহীদ কাদরীর। এসে তিনি আমার পাশে বসলেন এবং আমাদের প্লেট থেকে একটি টুকরো নিয়ে খেতে শুরু করলেন। আমি আরো একটা মোগলাইয়ের অর্ডার দিলাম।
সেখানেই শহীদ কাদরীর সাথে সরাসরি আলাপ আমার। জানলেন তিনি- মাহবুব সাদিক আমার বড় ভাই। আর আমরা যে মুক্তিযুদ্ধে ছিলাম, সে কথাও। বললেন, হ্যাঁ, মাহবুবের সাথে ঢাকা ফলের পরদিনই দেখা হয়েছিলো আমার।
সেই থেকে শহীদ কাদরী আমার কাছে পাঁচ এর দশকের বড় কবি। শামসুর রাহমান নন, আল মাহমুদ নন, শহীদ কাদরী আমাদের চিন্তার খোলে জমে থাকে। আল মাহমুদ তখন দৈনিক গণকণ্ঠের সম্পাদক। সেই র্যাংকিন স্ট্রিটের দোতলাবাড়িতে যাই কবিতার কাছে, মানে আল মাহমুদের কাছে। যতটা মনে পড়ছে তখন গণকণ্ঠের সাহিত্য দেখতেন কবি অসীম সাহা। আর আমাদের তরুণ বন্ধুবান্ধবরাই তো কাজ করতেন গণকণ্ঠে। এদের কিছু লোক ছিলেন প্রফেশনাল জার্নালিস্ট, আর নবীনরা ছিলেন ছাত্র, জাসদ ছাত্রলীগ করতেন। কেউ কেউ সাধারণ ছাত্র ছিলেন। ছিলেন আমার ভাগ্নে (বয়সে বড় ছিলেন বলে মামা ডাকতাম) কবি আবু কায়সার। সব আড্ডার কেন্দ্র ছিলো আল মাহমুদের রুম। তিনি সম্পাদক হলে কি হবে, তিনি তো জনপ্রিয় একজন কবি এবং মুক্তিযোদ্ধা। তার সমসাময়িক কবিদের মধ্যে তিনিই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। কলকাতায় তিনি কাজ করেছেন দেশের জন্য, প্রবাসী সরকারের হয়ে। দেশের জনগণের মুক্তির নেশায় তিনি ভিনদেশিদের মনে সমর্থনের আগুন জ্বালাতেন।
গণকণ্ঠ তখন প্রধান সরকারবিরোধী পত্রিকা। সরকারের বিরুদ্ধে নিউজ-ভিউজে গণকণ্ঠ উচ্চকিত। বঙ্গবন্ধুর সরকারের ফল্টগুলো ফলাও করে ছাপতো গণকণ্ঠ। একদিন বঙ্গবন্ধু সরকার গণকণ্ঠ বন্ধ করে দিলেন। আর সেই সাথে পত্রিকার সম্পাদককে জেলে পুরলেন। পরে অবশ্য তিনিই আবার আল মাহমুদকে জেল থেকে মুক্তি দিলেন এবং পুনর্বাসিত করলেন শিল্পকলা একাডেমিতে। কবি শামসুর রাহমান সম্পাদক হয়েছিলেন সরকারি পত্রিকা দৈনিক বাংলার, অনেক পরে। রাহমান ভাইয়ের রুমে গেলে বলতেন, এক পেয়ালা চা? বলে জিজ্ঞাসু চোখে তাকাতেন। রাহমান ভাইয়ের কাছে আমি একা গেছি আরো অনেক পরে। ওই সময়গুলোতে আমি আর আবিদই যেতাম। কিন্তু ঠিক আড্ডার মানুষ ছিলেন না তিনি আমাদের মতো তরুণদের সাথে। আসলে তিনি তার কবিতা নিয়েই কথা বলতেন। অন্তত নবীন আমরা সে সময়, আমাদের সাথে আড্ডা হতো না তার। তিনি তার কবিতা সম্পর্কে জানতে চাইতেন। আবিদ ট্যাক্টফুলি জবাব দিতো। আর আমি বোকামি করে আমার কাছে যেমন লাগতো তা বলে দিতাম। মানে আমার যেমন মনে হতো তাই বলতাম। রাহমান ভাই সমালোচনা সহ্য করতে পারতেন না। এ-নিয়ে আমার সাথে তার কথা বলা, তার অফিসে যাওয়া আমি বন্ধ করে দিয়েছিলাম।
আল মাহমুদ বলতেন- তোরা চা খাবি?
আমরা মাথা নাড়ালে জিজ্ঞেস করতেন- দুপুরে খাইছস কিছু। আমরা বলতাম- খাওয়ান। তিনি বলতেন- দেখো মিয়ারা আমার পয়সাপাতি কম। খাওয়াতে পারমু না।
আমরা হাসতাম- আচ্ছা, সম্পাদকের পকেটে পয়সা নাই। তবে চা-ই হোক। চায়ের সাথে আসতো ডালপুরি। চা দিয়ে ডালপুরি আলুপুরি এতো খেয়েছি জীবনে যে এখন ডাল আর আলু নিষিদ্ধ আমার জন্য। কারণ ওতে ইউরিক অ্যাসিড হয় এবং পায়ের জয়েন্টগুলোর ফাঁকে ফ্লুয়িড জমে আমি খোঁড়া হয়ে যাই।
আবিদ তো পরপারে গিয়ে অনেকটাই বেঁচে গেছে। আর আমি এখন পরবাসী। নিউ ইয়র্কে থাকি। যদিও এ-থাকা সাময়িক। জীবনটাই তো সাময়িক।
কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ একটা কবিতা লিখেছে ফেসবুকে পরবাসী কবি মাহবুব হাসানের জন্য। আমি কবি হতে পেরেছি কি না সেটাই তো বুঝতে পারছি না। যে সব আবালদের দেখছি, তাতে তো মনে হয় না, ওই অর্জনের আর কি দরকার আছে।
আল মাহমুদ যখন গণকণ্ঠের সম্পাদক, থাকতেন কমলাপুরে। যতটুকু মনে পড়ছে বাসাটা ছিলো তিন/চারতলায়। খুব বেশি দিন আমি আল মাহমুদের ওই বাসায় যাইনি। যে কদিন গেছি, তার অনেক ছেলেমেয়ে দেখেছি। বেশ কলরবপূর্ণ বাসা। আবিদও ওই দিনগুলোতে কমলাপুরে আল মাহমুদের বাসার কাছেই ওর বড় বোনোর বাসায় থাকতো। আল মাহমুদের ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তার কারণে নয় আবিদ তার কবিতার ছিলো ভক্ত। লোকজীবনের বিষয় আবিদের রক্তপ্রবাহে ছিলো তা আমি তার কবিতায় দেখেছি, পড়েছি। আল মাহমুদ তো ছিলেন এই লোকচেতনা বর্ণনার প্রধান কারিগর। কিন্তু দু’জনের চিন্তায় মিলমহব্বত থাকলেও নির্মাণ প্যাটার্ন ভিন্ন। আমি তুলনাটি দিলাম এ-জন্য যে আবিদও আমার দশকের বড় কবিই কেবল নয়, বলা চলে আল মাহমুদের পরে তার কবিতা যাত্রা আমাদের চিন্তার ধারায় নতুন কিছু যোগ করেছে। আল মাহমুদ যেমন যোগ করেছেন বাংলা কবিতায় ইউরো মননধর্মিতার ভেতরে লোকজ উপাদান তেমনি ষাটীয় নিহিলিস্টিক বিবর্ণতাকে পরিহার করে সতেজ প্রাণময়তা।
আজ আশ্চর্য হয়ে ভাবি, তার কবিতা নিয়ে আলোচনা করিনি আমি বা আবিদ। বরং সেটা করতেন আবদুল মান্নান সৈয়দ। সে সময়কালটা ছিলো আবিদের শিল্পতরু পত্রিকা ও প্রকাশনীর কাল। আমার বই বের করার কথা কেউ যখন ভাবছিলো না, আমার দশক পার হয়ে গেছে, আটের দশকেরও দুই/তিন বছর চলে গেছে, আবিদ বের করলো আমার তন্দ্রার কোলে হরিণ। এক কালারে আফজাল হোসেন এঁকে দিলো প্রচ্ছদ। ও তখন আমার সাথেই দৈনিক দেশ-এর সাপ্তাহিক প্রকাশনা ‘বিপ্লব’-এ কাজ করতো। আমিই তাকে ডেকে এনেছিলাম সিকদার আমিনুল হক ও ফারুক মাহমুদের অনুরোধে।
এই সময়টাতে আল মাহমুদ শিল্পকলা একাডেমিতে কাজ করতেন। প্রায়ই যেতাম তার ওখানে। সেটা আট এর দশক চলছে। এরশাদ ক্ষমতায়। আমি ব্যস্ত। আবিদ ব্যস্ত তার ব্যবসা নিয়ে। শিহাব ইংরেজি দৈনিকের সহকারী সম্পাদক। মোট কথা আমরা তরুণত্ব কিছুটা ঘুচিয়েছি চাকরি করি। আর আড্ডা দিই। কখনো নিজেদের কলিগদের সাথে, প্রেস ক্লাবে, রেখায়নে, সকাল ও বিকেলে-সন্ধ্যায়। কোনো কোনোদিন এলিফ্যান্ট রোডে কবি সিকদার আমিনুল হকের বাসায়। আর রোববার হলে অধিকাংশ দিন সাকলবেলায় গ্রিনরোডে মান্নান ভাইয়ের বাসায়। তার বাসায় বসা হতো না। বাসার সামনের রাস্তায়, বলা যায় বাসার পাশেই ছিলো একটি রেস্তোরাঁ, সেখানে। শিল্পতরু যখন কাঠালবাগান ঢালে এলো তারপরই যুক্ত হলেন শাহাবুদ্দিন নাগরী, আইয়ুব সৈয়দ, আহমেদ মুজিব। মুস্তাফা মহিউদ্দিন, ফারুক আলমগীর, ফখরুজ্জামান চৌধুরী, তরুণদের মধ্যে কাজল শাহনেওয়াজ, রিফাত চৌধুরী, আর আমি রোজকার দর্শনার্থী। আল মাহমুদ আসতেন প্রায়ই। তখন আবিদ তার বই বের করছে। বইয়ের প্রুফ দেখতে আসতেন। আড্ডা মেরে চলে যেতেন। আসতেন ফজল শাহাবুদ্দীন, শামসুল ইসলাম, সিকদার আমিনুল হক, জাহিদুল হকসহ আরো অনেকে।
আমাকে এবং আবিদকে ক্ষেপানোর জন্যই তুলতেন প্রসঙ্গটি তিনি। কে বড় কবি? আমরা বলতাম শহীদ কাদরী। তিনি ক্ষেপে যেতেন। ও একটা কবি বটে। আমি বা আবিদ আবৃত্তি করতাম শহীদের কবিতার দুই চারটা লাইন। তিনি নিজের কবিতার লাইন বলতেন। বিশেষ করে লোকজ সনেটগুলো থেকে। তখন আমরা কিংবা আমার চেতনার ধোঁয়াশা কাটছিলো। নানা কারণেই সেটা হচ্ছিল। কিছুটা পড়াশোনা তার জন্য দায়ী। কিছুটা সাহিত্যের ইতিহাস জানা, ইত্যাদি। ডব্লিউ বি ইয়েটস কেন তার কেলটিক সংস্কৃতির অন্তরের কথামালা নতুন করে কবিতার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেছেন, জানার পর আল মাহমুদের ওপর আমার বিশ্বাস ফিরছিলো। তবে রাতারাতিই তাকে বলিনি যে আপনার কবিতা বাংলা কবিতার জীবনে নতুন প্রবাহ।
চক্রবর্তী রাজার অট্টহাসি পড়ার পর আমার মনে হলো আল মাহমুদ তার কবিতার হালটি যেন ঘুরিয়ে নিয়েছেন। মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো’তে যে চেতনা উন্মোচিত হয়েছে, মিথ্যেবাদী রাখালে এসে আমি বুঝলাম তিনি বাঁক ফিরিয়ে দিয়েছেন তার কবিতার।
একদিন আমি আর আবিদ শিল্পতরুর আগামী মাসে কি করা যায় তা নিয়ে কথা বলছিলাম। আমি শিল্পতরুর কেউ ছিলাম না, কিন্তু আবিদ সব সময়ই এ-নিয়ে আলাপ করতো আমার সাথে।
আল মাহমুদ ঢুকলেন হাসি মুখে।
আবিদকে উদ্দেশ্য করে বললেন- আজ আর বলতে পারবে না হয়নি। পাঁচদিন ধরে চাপে রেখে দিয়েছো। আহমেদ মুজিব পাশের রুমে কাজ করছিলো। সে আবিদের এখানেই কাজ করতো। হাসতে হাসতে উঠে এলো।
মাহমুদ ভাই, কি বলেন? আবিদ ভাই তো আপনাকে সব সময় চাপে রাখতে চায়। বই হয়ে গেছে পরশু। আপনাকে দেয়নি।
আবিদও হাসছিলো।
আমি এতক্ষণে বুঝলাম নতুন বই নিয়ে কথা হচ্ছে।
মুজিব বই নিয়ে এলো। মাহমুদ ভাইয়ের হাতে দিলো সে।
আবিদ আমার দিকে তাকিয়ে রহস্যময় হাসলো।
খবর আছে তোমার।
আমি অবাক।
আমার আবার কী খবর?
আল মাহমুদ বইটি এগিয়ে দিয়ে বললেন-
খালি শহীদ শহীদ করো মিয়া…
আমি বিব্রত হলাম বইটির উৎসর্গ দেখে। সেখানে আমার নাম। আমি ধন্যবাদ দিলাম।
এটা কি ঠিক হলো মাহমুদ ভাই? আমার মতো একজনকে আপনার বই।
বললেন শোনো, তুমি আর আবিদকে আমি প্রকৃত বন্ধু মনে করি। তোমরা দু’জনেই প্রকৃত কবি।
আমি বললাম- দেখেন আমি আপনার সাথে ঝগড়া করি ঠিক, কিন্তু ভালোবাসি আপনার কবিতা। আপনার কবিতাই আমার কাছে প্রধান মনে হয়। আমার জ্ঞান সীমিত, অনেক কিছুই বুঝি না। আপনার মতো তো লিখতে পারি না।
তিনি খিক খিক করে হাসলেন। স্বীকার করলা তো?
আমি খুব লজ্জায় পড়ে গেলাম। বললাম আপনারা তিনজনই বড় করি। শামসুর রাহমান বা শহীদ কাদরীকে কি অস্বীকার করতে পারবেন? বা সৈয়দ শামসুল হককে? আমি তো মনে করি পঞ্চাশের অধিকাংশই ভালোমানের কবি। আবু জাফর ওবায়দুল্লাহকে অস্বীকার করলে নিজেকেই বঞ্চিত করা হবে। পাঁচের দশকের কবিদের মধ্যে তিনি অন্যরকম কবিতার জন্মদাতা। আর হাসান হাফিজুর রহমান, আবুবকর সিদ্দিক, ওমর আলী, আবু হেনা মুস্তাফা কামাল, আজীজুল হক, ফজল শাহাবুদ্দীন- এদের সবাই কমবেশি ভালো কবিতার নির্মাতা। কে ছোটো কে বড়ো, এটা একটি খেলো তর্ক। আমি তাকে আশ্বস্ত করে বলি-
মাহমুদ ভাই, আপনার কবিতা বিষয়ে আমি কিছু লিখবো।
তিনি হাসলেন।
পরে, আমি সোনালি কাবিনের কবিকে নিয়ে লিখেছি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ। আমার ‘কী কথা বলে শব্দেরা’ বইয়ে সেই লেখাটি আছে।
এখন আমি ভাবছি তার কবিতা বিশ্লেষণের সময় এসেছে, ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়া দরকার। কেন না অনেক বাজে কবিদের উত্থানপর্ব চলছে এখন জাতীয় মঞ্চে।
তিনি খুশি হয়ে উঠলেন। আবিদ চা বিস্কুট আনো। আমি পয়সা দিচ্ছি।
প্রতিটি ঈদের আগে, তা রমাদানের হোক বা কোরবানি ঈদসংখ্যা হোক আল মাহমুদের কবিতা আমি আনতে চেষ্টা করেছি। দেশের বড় কবিদের কবিতার চেয়ে আমি চাইতাম আমার সমসাময়িক আর অনুজরা যেন বেশি জায়গা পায়। আল মাহমুদের গুলশানের বাসায় বহুদিন গেছি আমি। তিনি তখনও তেমন দুর্বল হয়ে যাননি। যেখানে বসতাম গিয়ে, একদিন দেখি তার পাশে একটি ঢালু টেবিল। তার দুই পাশে লাইট লাগানো। বললেন, আমি তো আর ছোটো অক্ষর দেখতে পাই না। তাই এই ব্যবস্থা। মানে কবি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লেখেন। আমি তাকে বললাম আপনি বলেন আমি লিখে নিচ্ছি। সেভাবেই বেশ কিছু লেখা হয়েছে, আমি জানি।
আমি আমেরিকা আসার আগ পর্যন্ত তিনি প্রায়ই আসতেন যুগান্তর পত্রিকায়। আমার কলিগদের অনেকেই বিস্মিত হতেন এই ভেবে যে এতো বড় একজন কবি আমার মতো একজনের কাছে আসেন। না, তিনি সত্যই আমাকে ভালোবাসতেন। তিনি বলেছিলেন তোর কবিতা নিয়ে আমি লিখবো। আমি বলেছিলাম, আপনার আসল কাজগুলো করেন। সেটাই ভালো হবে। আবিদকে তিনি এবং আবদুল মান্নান সৈয়দ, ফখরুজ্জামান চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজনই বাংলা একাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন, কিন্তু আবিদকে পুরস্কার দেয়া হয়নি। বাংলা একাডেমির ব্যর্থতা এখানেই যে প্রকৃত কবি চেনে না। তারা দালাল আর চাটুকারদের পুরস্কৃত করে। আল মাহমুদ সৌভাগ্যবান এদিক থেকে, তাকে তরুণ বয়সেই পুরস্কৃত করা হয়েছে। তিনি প্রকৃত কবি বলেই হারিয়ে যাননি।
আল মাহমুদ আমাকে বিব্রত করার পর আমি তাকে একটি বই উৎসর্গ করেছি।
আল মাহমুদ আমাদের ছেড়ে গেছেন চিরদিনের জন্য, আমাদেরও যেতে হবে জানি, কিন্তু মানতে চাই না সেই পরম সত্য। তিনি রেখে গেছেন কিছু অবিনশ্বর কবিতা বাংলা ভাষায়, যা আমাদের চেতনার দরোজা নির্মাণে সহায়তা দেবে।