ঈদ জাতীয় জীবনে সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক প্রবাহ। ঈদের সাথে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও ব্যাপক। দীর্ঘ এক মাস ধরে সিয়াম সাধনার মধ্যে দিয়ে ঈদের আনন্দময় মুহূর্ত আসে। তীব্র তাপদাহের ভেতর দিয়ে রমজান অতিবাহিত হচ্ছে, আশা করা যায় ঈদ জনজীবনে নিয়ে আসবে স্বস্তি ও খুশির আবহ। ঈদকে ঘিরে আমাদের সাহিত্য সমাজে বিশেষ আয়োজনে সমৃদ্ধ সংখ্যা প্রকাশ হয়ে থাকে। সাহিত্যিক মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সৃজন ও মননের বিপুল সম্ভার প্রকাশের মাধ্যমে একদিকে আমাদের সাহিত্যের সক্ষমতা দেখা যায়; অন্যদিকে পাঠকের সামনে লেখকরা হাজির হয় নিজেদের সৃষ্টি নিয়ে। তাই পত্রিকাগুলোর ঈদ সংখ্যা সামগ্রিক সাহিত্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলা যায়।
আমরা এবারের ঈদ সংখ্যায় বিষয় বৈচিত্র্যের প্রতিবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। সেই সঙ্গে মানসম্পন্ন লেখার ক্ষেত্রেও নজর দেয়া হয়েছে। প্রচ্ছদ রচনা, সাক্ষাৎকার, বিশেষ রচনা, শ্রদ্ধানিবেদন, জন্মশতবর্ষ, উপন্যাস, প্রবন্ধগুচ্ছ, ভ্রমণ, বিশ্বসাহিত্য, মহাকাব্য, কবিতাগুচ্ছ, গল্পগুচ্ছ, গুচ্ছকবিতা, চিরায়ত, শিল্পকলা, ধারাবাহিক উপন্যাস, ইতিহাস-ঐতিহ্য, অনুবাদ, রস রচনা, ছড়াগুচ্ছ, বই আলোচনা মিলিয়ে এই বিপুল আয়োজনে আশা করা যায় পাঠককে আনন্দ ও নতুন চিন্তার দিকে ধাবিত করবে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি সৎসাহিত্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে। পাঠক সমাজ গ্রহণ করলেই পত্রিকার সার্থকতা অর্থাৎ বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধি। বর্তমান বাংলা সাহিত্যে সৃজন ও মননের ক্ষেত্রে যে সংকট চলছে সেখান থেকে উত্তরণের আপ্রাণ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ঈদ সংখ্যার আয়োজন।
ঈদ সংখ্যা প্রকাশে সম্মানিত লেখক, পাঠক, গ্রাহক, বিজ্ঞাপন দাতা, বিপণন ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন। ঈদ সকলের জন্য আনন্দ ও কল্যাণ বয়ে আনুক, এই প্রত্যাশা করছি।
ঈদ মোবারক।