অকস্মাৎই জন হেনরীর সাথে আমার দেখা হয়ে গেল
আমি তখন হে মার্কেটের সামনে দিয়ে হনহন করে হেঁটে আসছিলাম
আজ কেন যেন একটু আগেই বেজেছিল কারখানার হুইসেল
রোদঘড়িটার চোখে চোখ রেখে আমি যখন সময় মাপতে ব্যস্ত
ঠিক তখনই আমার কাঁধে তার হাতুড়ী হাতের স্পর্শ;
না আমি চমকাইনি এতটুকু, কারণ সে হাতের স্পর্শের মধ্যে
আমি খুঁজে পাচ্ছিলাম আব্বাস হারাধন আর জরিনার নির্ভরতার ঘ্রাণ
আর সতেজ হতে হতে আমিও উড়ছিলাম সামারের ঘুমভাঙ্গা রোদে
একান্ত ঘুড়ি যেন।
তিনি কাঁধ থেকে হাত সরিয়ে আমাকে বন্দি করে নিলেন আবক্ষ স্নেহবন্ধনে,
তারপর তার দেহ ফুলকি হতে হতে মিলিয়ে গেল মহাশূন্যে।
সেই থেকে আমি যেন আরেক হেনরী
আমার কন্ঠ ছুঁয়ে পল রবসন, হেমাঙ্গ বিশ্বাস
আর পিছুপিছু ঝাঁকড়া চুল দুলিয়ে দুলিয়ে ফকির আলমগীর।
প্রথম মে আমার জন্য সৃষ্টি করে দিল এক নতুন অনুভব
আর আমি শ্রমিক-আত্মায় জন্ম নেয়া এক কবি হতে হতে
হয়ে গেলাম দুপুর আকাশে দৃশ্যমান আরেক নক্ষত্র।