কানামাছি ভোঁ ভোঁ যাকে পাবি তাকে ছোঁ-
মনে পড়ে এই; ঘুণে খাওয়া সেই
পুরনো হারানো দিনের কথা!
বর্ষার জলে যৌবন পাওয়া বিলে
কলার ভেলায় ভিজে যাওয়া শৈশব
খুব মনে পড়ে মন আনচান করে।
দিগন্ত বিস্তৃত বৌচির সেই মাঠ
মেঘমাখা আকাশ ছোঁবার বাসনা
“টিলো- এক্সপ্রেসের” ঐ অলিগলি
দাঁড়িয়াবাঁধা হাডুডুর কোর্ট কাটা
গোল্লাছুটের দিনগুলি হারালো
কোন কৃষ্ণগহ্বরে কোন অজানায়।
কোথায় গেল পুতুল পুতুল খেলা
টারজান টারজান চুইং সুইং দেয়া
জলের অতলে দেখা সূর্যের আলো
বাকাটটা ঘুড্ডির পেছন পেছন দৌড়
পাখি পাখি গুলি গুলতির সেই টান
অপুদের কড়ই গাছটি আজ আর নেই।
কিংবা ধর স্কুল বার্ষিক ছুটি
গাঁয়ের পথে দাদিবাড়ির কথা
জল স্রোতে লঞ্চ ও লঞ্চের ভেঁপু
পালতোলা নাও শ্বেত বালিহাঁসের ঝাঁক
ক্ষেতের আইল বেঁয়ে হেঁটে চলা
সরিষাফুলে মাখামাখি অথবা
শাখামৃগ হয়ে এ ডাল সে ডাল
ঘুরে বেড়ানো আর ফল নাশ করা
দাদিমার বকুনি দারুণ ভাবায়!
চোখে ভাসে ঘোড়ার পিঠে চড়ে
দস্যু বনহুর হয়ে ঘোরাফেরা
রাখাল বন্ধুর সাথে গরু বাঁধা
আধপোড়া ছোলা কালিমাখা মুখ
মায়ের বকুনি এসব মনে হলে
ঘনকাল মেঘে বুক ভার হয়
দু’চোখের কোণে নুইয়ে পড়ে জল।
মনে পড়ে এই; ঘুণে খাওয়া সেই
পুরনো হারানো দিনের কথা!