জাতীয় জাদুঘরের সামনে
দৃষ্টিতে ভর দিয়ে দাঁড়ানো লোকটি
চায়ের কাপ নিংড়ে বের করছে ভবিষ্যৎ
পাশে এক রিকশা চালক পানপাত্রে তৃষ্ণা পরিবেশনের
ভঙ্গিতে ঠিক করছিলো গন্তব্য
লোকটি রিকসা চালকের বাঁকা মেরুদণ্ডের মধ্যে
আবিষ্কার ক’রে সকল বিস্ময়ের প্রবেশ পথ
এক সেতু-হাজার বছরব্যাপী
পার হচ্ছে ক্রীতদাস আর পিরামিড
প্যাডেলে পায়ের রগ থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসছে
প্রাগৈতিহাসিক সিংহ আর হরিণের দল
শিকার করা ষাঁড়ের রক্ত প্রবাহিত তার শিরার নদীতে
কিন্তু হাতে স্থির প্রভুর পেয়ালা
পানপাত্র হচ্ছে এক দূর্বিষহ জগৎ
কপালের বলিরেখায় আঁকা জীবন যুদ্ধের পাণ্ডুলিপি
রিকসার চেইন মধ্যযুগে মানুষ পেষা যন্ত্র,
চায়ের চুল্লি থেকে উদ্গত ছাই
ডাইনি বানানো নারীদের দেহভষ্ম
লোকটি বহুদিন ধরে মানুষের ভবিষ্যৎ গুনছে
বারবার তাকাচ্ছে পালহীন রিকসায় বসা
ক্লিওপেট্রার দিকে
শত শত বন্দীদের আর্তনাদ আটকে আছে রিকসার সিকে
প্যাডেলে গড়িয়ে যাচ্ছে নিরপরাধ মানুষের নিয়তি
চালকের চোখের চিতায় সাতটি সূর্যঢোল
বাজাচ্ছে সাতজন মৃত্যুর দেবদূত
তার মাথায় বাঁধা গামছা-
তিতুমীরের বাঁশের কেল্লায় উড়ানো পতাকা
বুক তার আকাশ মাটির ব্যবধানে বিশাল হাঁপর
পাঁজর-একাত্তুরে শহীদের কঙ্কাল
লোকটি ইতিহাসের পৃষ্ঠা থেকে উঠে দাঁড়াতে চাইলো
আর তৃষ্ণার রাজত্বের লোকজন ঘিরে ধরলে তাকে
সে দেখলো প্রতিটি মানুষই একটি অদৃশ্য জাদুঘর।