৪ মে শনিবার, ১৯ বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে কবি আসাদ চৌধুরীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘পদক্ষেপ বাংলাদেশ’। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুন নিসার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ও বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সামাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন কবি আসাদ চৌধুরী সংবর্ধনা পর্ষদের আহ্বায়ক ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংবর্ধনা পর্ষদের সচিব বাদল চৌধুরী।
কবি আসাদ চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, মানুষকে যে ভালবাসে, মানুষের সম্মৃদ্ধিকে যে দেখতে চায় এরকম একটা মানুষ আসাদ চৌধুরী। তোমার প্রশংসা না করে পারি না। তিনি বলেন, ‘আসাদের মধ্যে একটা দেশজ ভাব আছে। সহজ-সরল একটা মানুষ। অনায়াসে মানুষকে কাছে টানে। ওর প্রাণ সব সময় মানুষের কাছে যায়।’ আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘আসাদ ভাই একজন আপাদমস্তক বাঙালি। তার কবিতা আমাকে উজ্জীবিত করেছে, মানুষকে উজ্জীবিত করেছে। তার কবিতা আমি আবৃত্তি করে মানুষকে উজ্জীবিত করেছি। আমি তার কাছে ঋণী।’
আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান কবি আসাদ চৌধুরী। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কবি বলেন, ‘যারা ভাষা আন্দোলন করেছে, যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ করে জীবন দিয়েছেন তাদের একটাই উদ্দেশ্য ছিল, মাথা উঁচু করে বাঁচার। আমিও সেটাই চাই। অন্তর থেকে অসাম্প্রদায়িক হতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি মানুষের জন্য কবিতা লিখি। তাই মানুষই আমার কবিতার প্রাণ।’
একজন কবি হিসেবে প্রকাশক, সম্পাদক ও পাঠকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বলেন, ‘প্রকাশক, সম্পাদকরা আছেন বলেই আমরা আছি। পাঠক আছে বলেই, পাঠকদের প্রীতি আছে বলেই আমরা বেঁচে আছি।’
ফরিদা পারভীনের লালন সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর আসাদ চৌধুরীকে নিবেদিত আলোচনার মাঝে বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, জাতীয় কবিতা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান এবং বিশিষ্টজন ফুলেল ভালোবাসা জানায় কবিকে। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কবি আসাদ চৌধুরী সংবর্ধনা পর্ষদের সচিব ও পদক্ষেপ বাংলাদেশের সভাপতি বাদল চৌধুরী।
– কাজী আলাওল