বাংলাদেশে প্রকাশনা ও তার বাজারজাতকরণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অনেক কথাই বলা যায়, বলা হয়ও; তবে কপিরাইট আইন প্রসঙ্গে তেমন কোন আলোচনা হয় বলে মনে হয় না। যে আলোচনা হয় তা অনেকটাই তাত্ত্বিক। আমরা বুঝি যে কপিরাইট মেনে চলা উচিত ইত্যাদি। আমাদের একটি অফিস আছে যেখানে কপিরাইট নিবন্ধন করা হয়। যদিও খুব কম লেখক তার লেখা নিবন্ধন করেন। কারণ নিবন্ধন না করলেও যার কপিরাইট তারই থাকে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে বাংলাদেশে কপিরাইট আইন বিশ্বের অপর সকল দেশের কপিরাইট হতে ভিন্ন প্রকৃতির। বিশ্বের প্রায় সকল দেশ বার্ন কনভেনশনে গৃহীত আন্তর্জাতিক কপিরাইট আইন মান্য করে। বাংলাদেশও বার্ন কনভেনশনে স্বাক্ষর দান করেছে। তবে প্রত্যেক দেশ নিজের মতো করে কপিরাইট আইন প্রণয়ন করতে পারে সে ক্ষমতা প্রতিটি দেশের নিজস্ব। সেই কনভেনশন অনুযায়ী লেখক তার বইয়ের কপিরাইটের মালিক। এই কপিরাইট তিনি নিঃশর্তভাবে দান করতে পারেন, এককালীন অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতে পারেন, ভাড়া খাটাতে পারেন। যেমন বিভাগপূর্বকালে কবি নজরুল ইসলামের কোন কোন কবিতার বইয়ের কপিরাইট তিনি কিছু অর্থের বিনিময়ে ডি.এম. লাইব্রেরির নিকট বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তখন কোন মুসলমান প্রকাশক তার নিকট হতে কপিরাইট ক্রয় করেননি যাতে তিনি তার বই থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারতেন। ডি.এম.লাইব্রেরি যিনি কপিরাইট ক্রয় করলেন তিনি জানতেন না যে নজরুলের বই প্রকাশ করার পর মুনাফা অর্জন করতে পারবেন কি না। তবু তিনি কিছুটা ঝুঁকি নিয়েই কপিরাইট ক্রয় করেছিলেন। তখন সাধারণত নতুন লেখকের বই প্রকাশকগণ এককালীন কিছু অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করতেন। প্রকাশক এমন অনেক লেখকের বইয়ের কপিরাইট কিনতেন। যেহেতু প্রকাশক বইটির পরিপূর্ণ মালিক তিনি তখন আপ্রাণ চেষ্টা করেন সেই বইটি ভালোভাবে বাজারজাত করে সর্বোচ্চ মুনাফ অর্জন করতে।
পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খানের সময় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় লেখকদের একটি সংগঠন ‘রাইটার্স গিল্ড’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কেবল সৈয়দ আলী আহসান ব্যতীত প্রায় সকল প্রতিষ্ঠিত কবি-সাহিত্যিক এই গিল্ডের সদস্য ছিলেন। কবি জসিমউদ্দীন ছিলেন একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তিনি প্রস্তাব করলেন এমনভাবে কপিরাইট আইন তৈরি করতে হবে যে কপিরাইট বিক্রি করলেও তা চিরকালের জন্য প্রকাশকের নিকট থাকবে না। দশ বছর পর লেখকের নিকট ফিরে যাবে। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিভাগপূর্ব আমলে যারা ভারতীয় প্রকাশকের নিকট কপিরাইট বিক্রি করে এসেছিলেন তারা চাচ্ছিলেন তাদের বই তারা ফিরে পেতে পারেন। এমন লেখক ছিলেন সম্ভবত জসিমউদ্দীন সাহেব একাই। আর ছিলেন সম্ভবত কয়েকজন উর্দু কবি সাহিত্যিক। গিল্ডের সুপারিশে পাকিস্তান কপিরাইট আইন এভাবে পাস করা হল যে কোন লেখক যদি তার কপিরাইট কারো নিকট বিক্রি করে দেন তবু সেই কপিরাইট দশ বছর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখকের নিকট ফিরে যাবে। জসিমউদ্দীন সাহেব যে সব বইয়ের কপিরাইট কলকাতার কোনো প্রকাশকের নিকট বিক্রি করে এসেছিলেন তিনি এখন এই আইনের বলে এখানে ছাপিয়ে প্রকাশ করতে লাগলেন। বাংলা উন্নয়ন বোর্ড নজরুল রচনাবলী প্রকাশ করতে আরম্ভ করল, অবশ্য নজরুলের অনুমতি ছাড়াই। অন্যদিকে এই আইন প্রণয়নের ফলে কপিরাইট কেনাবেচা বন্ধ হয়ে গেল। একমাত্র জসিমউদ্দীন সাহেব ব্যতীত অপর কেউ এই আইনের ফলে লাভবান হয়েছেন বলে মনে হয় না। আর ছিলেন নজরুল ইসলাম। কিন্তু তিনিতো কলকাতাতেই বাস করতেন। পূর্বপাকিস্তানে কপিরাইট কেনাবেচা বন্ধ হয়ে গেল কারণ দশ বছর পর যদি কপিরাইট লেখকের নিকট আপনাআপনি ফিরে যায় তাহলে যিনি কিনবেন তিনি কিসের আশায় কপিরাইট কিনবেন। সাধারণত কোন প্রকাশক আর কপিরাইট ক্রয় করেন না। অন্য দিকে কিছু ধর্মীয় পুস্তক প্রকাশক কোন ধর্মীয় পুস্তক রচয়িতার নিকট হতে কপিরাইট ক্রয় করতেন এবং লেখকের নামও কিনে নিতেন। অর্থাৎ প্রকাশক পাণ্ডুলিপি কিনে নিতেন সেখানে লেখকের নাম আর রাখা হতো না প্রকাশক লেখক হিসেবে নিজের নাম ব্যবহার করতেন। তার ফলে দশ বছর পর কপিরাইট মূল লেখকের নিকট ফিরে যায় না। তখন সেই বইটির লেখকতো অপর আর একজন, প্রকাশক নিজেই। অন্য সকল আইনের মত পাকিস্তান কপিরাইট আইন স্বাধীন বাংলাদেশে ‘বাংলাদেশ কপিরাইট আইন’ নামেই চালু হলো।
কপিরাইট কেনাবেচা যে বন্ধ হয়ে গেছে এইদিক নিয়ে আমরা কখনো চিন্তাভাবনা করিনি। আমার জানামতে কপিরাইট আইন তেমনই আছে, অর্থাৎ দশ বছর পর কপিরাইট লেখকের নিকট আপনাআপনি ফিরে যায়। এই আইন প্রকাশনার জন্য কোন সুফল বয়ে এনেছে কিনা তা কেউ কখনো পরীক্ষা করেছেন কিনা জানি না। সব দেশে সব প্রকাশকের নিজস্ব কিছু বই থাকে। যে বইয়ের কপিরাইট উন্মূক্ত হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ লেখক পঞ্চাশ বছর পূর্বে গত হয়েছেন। তেমন বই অথবা কোন লেখককে নিযুক্ত করে তাকে দিয়ে বই লেখানো হয়। সে বইয়ের কপিরাইট প্রকাশকের। বিখ্যাত প্রকাশক পেঙ্গুইন তার যাত্রা শুরু করেছিল সুলভে ধ্রুপদ সাহিত্য প্রকাশ করে প্রকাশনা জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এই প্রকাশনায় লাভ ক্ষতি সবই প্রকাশকের। লেখককে কোন রয়ালটি দিতে হতো না।
এই প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত একটি ঘটনার কথা মনে এল। ড. গোলাম সাকলায়েন একাডেমিতে গবেষণা সহকারী ছিলেন। তার কাজ ছিল কোনো বই সম্পাদনা বা রচনা করা। তখন তিনি একাডেমির প্রকল্প হিসেবে একটি বই রচনা করেছিলেন। নাম ‘পূর্বপাকিস্তানের সূফী সাধক’। তিনি কিছুদিন পর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে বাংলার লেকচারার নিযুক্ত হয়ে চলে গেলেন। কয়েক বছর পর দেখা গেল সেই বইটি অন্য এক প্রতিষ্ঠান প্রকাশ করেছে। তখন এই প্রশ্নটি উঠেছিল যে বইটির কপিরাইট কার। একাডেমির? না, লেখকের? তখন আমরা কপিরাইট বিষয়ে তেমন সচেতন ছিলাম না। তা ছাড়া সকলেই লেখকের প্রতি সহানুভূতিশীল। তাই বিষয়টি নিয়ে মামলা মোকদ্দমা হয়নি। তখন হতে একাডেমি লেখক বা অনুবাদকের সঙ্গে চুক্তি করতো। বাংলা একাডেমি সাধারণত ধ্রুপদ সাহিত্য অনুবাদ করাতো, সে জন্য কপিরাইট নিয়ে কোন সমস্যা হতো না। কিন্তু একটি বইয়ের মূল লেখক জীবিত ছিলেন। তখন তার সঙ্গে পত্রালাপ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মারফত কিছু টাকা সেই বইয়ের প্রকাশকের নিকট বিলেতে পাঠাতে হয়েছিল। তখন একালের মত সহজে বিদেশে টাকা পাঠানো যেত না।
কপিরাইট নিয়ে আলোচনা হয় না তা সত্য নয়। সাম্প্রতিক কালে বিদেশী ইংরেজি বই ফটোকপি করে বিক্রি হচ্ছে। যদিও সেগুলোর কপি সংখ্যা অতি নগণ্য। তাতে মূল প্রকাশকের গায়ে লাগে না। তবুও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশে ইংরেজি বইয়ের বাজার খুবই নগণ্য। তবুও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতে এটি একটি বড় সমস্যা অনেকদিন আগে থেকেই। কারণ সেখানে ইংরেজি বইয়ের বিশাল বাজার। এমন এক সময় ছিল যখন আমেরিকা বা ইংল্যান্ডে কোন একটি বই বেস্টসেলার হতো সঙ্গে সঙ্গে সেই বইটি কপি হয়ে অফসেটে মুদ্রিত হয়ে রেলওয়ে বুকস্টলের মাধ্যমে সারা ভারতে ছড়িয়ে যেত। তখন ফটোকপিয়ার মেশিন ছিল না। কিন্তু অন্য পদ্ধতি ছিল, নতুন করে কম্পোজ না করে ফটো করে অফসেট ছাপা যেত। সেই ভাবে অল্প ছাপা যেত না। ছাপতে হতো পাঁচ-দশ হাজার কপি। ভারতে পাইরেট এডিশন একটি বড় সমস্যা ছিল। ফলে আমদানিকারকের দারুণ ক্ষতি হতো। বৈদেশিক মুদ্রার অভাবের কারণে আমদানি করাও সহজ ছিল না। অপরপক্ষে আমদানি করা বইয়ের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হতো। স্থানীয়ভাবে মুদ্রিত বই অনেক কম দাম হতো। মূল প্রকাশকের ক্ষতি ও আমদানিকারকের ক্ষতি। তখন বাধ্য হয়ে ভারত সরকারও ইউনেসকোর সহায়তায় সমাধান বের করল। নামমাত্র রয়ালটি দিয়ে পুনর্মুদ্রণের অনুমতি দিতে বাধ্য হলো মূল প্রকাশক। অনুবাদের ক্ষেত্রেও তেমন একটা ব্যবস্থা হলো। এক সময় অনুবাদের কপিরাইট নিয়ে সমস্যা ছিল অনেক বড় আকারের। তখন সোভিয়েট রাশিয়া, ইরান, এমনকি পাকিস্তান বার্ন কনভেনশনে তাদের স্বাক্ষর প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। কারণ তাদের প্রয়োজন ছিল অনুবাদ সাহিত্যের। ভারতের দাবির প্রেক্ষিতে উন্নয়নশীল দেশের জন্য স্থির হলো যে অনুবাদের কপিরাইট সেই দেশের সরকারের নিকট থাকবে। কোন বিদেশী বইয়ের অনুবাদের জন্য সেই দেশের সরকারের নিকট হতে অনুমতি নিতে হবে সে জন্য যে রয়ালটি বা ফিস ধার্য করতে হবে সেটা সেই দেশের সরকারই ধার্য করবে। পরে সেই রয়ালটি বা ফিস সেই দেশের সরকার মূল প্রকাশককে যথাসময়ে পরিশোধ করতে পারে। এই সকল ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে ভারতে কপিরাইট লঙ্ঘন করার প্রয়োজন হতো না। বিদেশী বইয়ের কপিরাইট সরকার সংরক্ষণ করতো। সম্প্রতি বাংলাদেশে কলকাতার বাংলা বইও ফটোকপি হয়ে বিক্রি হতে আরম্ভ হয়েছে। ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশের আমদানিকারকের ও এদেশের বইয়ের দোকানদারদের। কারণ তারা বিক্রি করেন এদেশের পাঠ্যবই, নোট বই ও বিদেশ হতে আমদানিকৃত বই। এখন কপিরাইট নিয়ে আলোচনা, সেমিনার আরম্ভ হয়েছে।
বাংলাদেশে রিপ্রিন্ট করা বা অনুবাদ করার তেমন কোনো সরকারি ব্যবস্থা, যেমন ভারতে আছে, তেমন আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। আমি নিজে কয়েকটি বই অনুবাদ করেছি। সেগুলোর অনুবাদ করার অধিকার লেখক বা প্রকাশকের নিকট হতে পেয়েছিলাম। তখন দেখেছি আর একজন একই বই অনুবাদ করেছেন। মূল লেখক বা প্রকাশক দু’জনকে অনুবাদ করার অধিকার নিশ্চয়ই দেননি। আমি যখন অনুমতি নিয়ে অনুবাদ করেছি তখন অপর জন বিনা অনুমতিতেই অনুবাদ করে প্রকাশ করেছেন সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত। আমাদের দেশে হয়তো অনেকেই জানেনই না অনুবাদ করার পূর্বেই তাঁর অনুমতি নেয়া উচিত। কপিরাইট সম্পর্কে সেই সচেতনতা আমাদের নেই। এতো কপিরাইটের এক দিক।
অন্য দিকে রয়ালটির ভিত্তিতে সেই সকল লেখকের নিকট হতে প্রকাশক পাণ্ডুলিপি গ্রহণ করেন যখন প্রকাশক জানেন লেখক ইতোমধ্যে জনপ্রিয় লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠিত লেখকের পাণ্ডুলিপির জন্য প্রকাশক লেখককে অগ্রিম রয়ালটি পরিশোধ করতেও রাজি থাকেন। তার সঙ্গে চুক্তিপত্র সই না করে তো নই। কিন্তু তেমন লেখক ক’জন? হাতেগোনা কয়েকজন। অথচ বছরে নতুন বই প্রকাশ হচ্ছে হাজারের অধিক। এই সকল বইয়ের লেখক কারা? তাদের ক’জনের সঙ্গে প্রকাশকগণ চুক্তিবদ্ধ হয়ে বই প্রকাশ করেন? অধিকাংশ ক্ষেত্রে চুক্তিতো হয়ই না, বই প্রকাশিত হয় লেখকের অর্থে।
আমাদের কপিরাইট আইন আমাদের প্রকাশনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এই সত্য আমরা আজো বুঝতে পারিনি। আইনটির পরিবর্তন হওয়া আবশ্যক। লেখক তার কপিরাইট কাকে দান করবেন বা কার নিকট চিরকালের জন্য বিক্রি করবেন সে দায়িত্ব তার ওপর ছেড়ে দেয়া উচিত। কপিরাইট বিক্রি করে লেখক হয়তো খুব সামান্য হলেও মূল্য পাবেন, বিক্রি না করে তিনি যে কিছুই পান না, তাকে উল্টো টাকা বিনিয়োগ করে বই প্রকাশ করতে হয়। বিশ্বের অন্য কোন দেশে এমন অদ্ভুত কপিরাইট আইন নেই। আমরা বিদেশী লেখকের বা প্রকাশকের কপিরাইট রক্ষা করার জন্য সদা সতর্ক থাকি। অথচ নিজের দেশে নিজের বইয়ের কপিরাইট বিক্রি করার ক্ষমতা রাখি না।
আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশের কপিরাইট আইন মনে হয় লেখকের স্বার্থের অনুকূলে রয়েছে। এই আইন যদি না হতো তাহলে কী হতো? আইনটি যদি এমন না হতো তাহলে সহজভাবে আমাদের মনে হয় যে কোনো কারণে লেখক সামান্য মূল্যে কপিরাইট কোনো প্রকাশকের নিকট বিক্রি করতে পারতেন। প্রকাশক সততার সঙ্গে কপিরাইট ক্রয় করে বই প্রকাশ করতেন। লেখকের অর্থে বই প্রকাশ করে নিজেকে প্রকাশক বলে জাহির করতেন না। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে পুরাতন আইনই বলবত রয়েছে। সেখানে তো প্রকাশনা আগের মতোই ভালোভাবে চলছে এবং লেখক যথেষ্ট অর্থ উপার্জন করছেন। সেখানে বহু লেখক কেবল লিখেই জীবন ধারণ করেন। সেখানে তো কপিরাইট কেনাবেচা নিয়ে তেমন কোন সমস্যার কথা শোনা যায়নি। আমার মনে হয় বাংলাদেশের আইন যদি অন্য দেশের মতই হতো তা হলে এখন যেমন লেখক প্রকাশনার জন্য অর্থ বিনিয়োগ করে থাকে তেমন করতো না। বরং প্রকাশক লেখকের নিকট হতে কপিরাইট ক্রয় করে প্রকাশনায় অর্থ বিনিয়োগ করতেন। তার একটি নৈতিক শক্তি থাকতো। যেকোনো ব্যবসায় বিনিয়োগ প্রয়োজন। প্রকাশক নিজের থেকেই কপিরাইট ক্রয় করে অর্থ বিনিয়োগ করতেন। প্রকাশক সত্য সত্যই প্রকাশক হতে পারতেন। বর্তমান কালের মত আধাপ্রকাশক হতেন না।