১
রাত্রি আমার বুড়িগঙ্গার দূষণের মতো কালো
নষ্ট ডিমের কুসুমের মতো চাঁদ
কী করে লাগবে ভালো!!
আড্ডাখানার দাগি পেয়ালার চা
উষ্ণ করে না কারো কোনো ইচ্ছা
আঁধারে নিজেই হামাগুড়ি দিয়ে খুঁজি
কোথাও কি নেই আলো !!
কে বলেছে নেই আলো?
জ্বলছে নিয়ন কংক্রিটবনে
চোখ ঝলসানো ভবনে ভবনে
রমনার পাশে তবুও একটি মেয়ে
আঁধারে ডুবছে আঁধারে ডুবছে
কোথাও আলো না পেয়ে।
ক্লান্তি আমার ক্ষমা করে আর কে
ত্যক্ত শ্মশানে পরিণত পার্কে
নিজেকে চিতায় মেলে দিয়ে তাই বলি
আগুনের আলো জ্বালো ॥
২
বিদ্যুতে চিরে গেলো মেঘ
পলকেই লেগে গেলো জোড়া,
একবার চিরে গেলে মন
দাগ রয়ে যায় পোড়া পোড়া ॥
নিজের গোপনে মন নিজে থাকে একা
সহজে কি যায় তাকে খোলাচোখে দেখা?
অনেক সাধনা দিয়ে দেখতে যে পায়,
সে-ই জানে সে কেমন রহস্যে মোড়া ॥
একটুও বাদ রেখে নয়
সব দিয়ে সব নিয়ে মন
আর কারো হয়,
প্রেম তারে কয়।
প্রেমের আকাশে তার যতো ওড়াউড়ি
তবু মন নয় কারো সুতো-বাঁধা ঘুড়ি
আঘাত কখনো দিলে বিশ্বাসে তার
থেমে যাবে পলকেই অদৃশ্য ওড়া ॥
৩
ভাঙা বাড়িটার ছাদে
যখন মধ্যরাতে
নেমে এসে চাঁদ জোছনা ছড়িয়ে কাঁদে
আমি একা শুনি সেই কান্নার গান
আমি ঘুমালেও হৃদয় বাড়ায় কান ॥
কে যেন আমাকে ডাকে
বন্দিনী কোন বেদনা ওখানে থাকে?
বুকের ভিতরে খুঁজি আমি খুঁজি
সে যে কার অভিমান ॥
কী জানি কখনো এমন পূর্ণিমাতে
ওই ছাতে হাত রেখেছি কি কারো হাতে!
না-কি এ কেবল ধাঁধা
কল্পনাতেই অজানা কাহিনী বাঁধা!
নিজেকে জড়িয়ে নিজে আমি কী-যে
বেদনায় করি স্নান !!
৪
এই নদীতে সেই যে কবে আদম এবং হাওয়া
টুকরো পাতার বসন খুলে নেমেছিলো স্নানে
বসন দুটো চুরি করে নিয়েছিলো নদী
দু’জনাকেই মগ্ন রেখে আদিম গানে গানে ॥
সেই থেকে সেই পাতার রঙ্গে
নদীর পানি শ্যাওলা-সবুজ
সেই থেকে এই পুরুষ-নারী
আদিম গানে এমন অবুঝ।
আজো তো এই নদীটা বয়
হঠাৎ করে এক এক সময়
বুকের মধ্যখানে ॥
এই নদীটার গোপন কথা
বোঝার ভাষা পায়নি হৃদয়
যা বুঝি তা সঠিক কি-না
তাও বোলও না, এমন নিদয়।
দেখি কেবল ভাঙনে তার
খরস্রোতে অথই সাঁতার
ভাসায় অন্য টানে ॥
৫
রাত্রি আমার বুড়িগঙ্গার দূষণের মতো কালো
নষ্ট ডিমের কুসুমের মতো চাঁদ
কী করে লাগবে ভালো !!
আড্ডাখানার দাগি পেয়ালার চা
উষ্ণ করে না কারো কোনো ইচ্ছা
আঁধারে নিজেই হামাগুড়ি দিয়ে খুঁজি
কোথাও কি নেই আলো !!
কে বলেছে নেই আলো ?
জ্বলছে নিয়ন কংক্রিটবনে
চোখ ঝলসানো ভবনে ভবনে
রমনার পাশে তবুও একটি মেয়ে
আঁধারে ডুবছে আঁধারে ডুবছে
কোথাও আলো না পেয়ে।
ক্লান্তি আমার ক্ষমা করে আর কে
ত্যক্ত শ্মশানে পরিণত পার্কে
নিজেকে চিতায় মেলে দিয়ে তাই বলি
আগুনের আলো জ্বালো ॥