কেমন আছো?
পাখির গানের মাধুরিমা
বুকের পাখায় চুমুর মতো রইলো লেগে
গোলাপ কোমল ব্যথার পালক
রাত্রি জেগে হাওয়ায় উড়ে,
প্রশ্ন করে কেমন আছো?
চাঁদের সাথে জড়িয়ে থাকা প্রহরগুলো
কিংবা যখন সওয়ার ছিলাম দীর্ঘশ্বাসে
মদির সময় উঠতো ভরে স্মৃতির লাশে
সে লাশ এখন সোনার জোনাক,
পেখম দিয়ে প্রশ্ন করে, কেমন আছো?
বনময়ূরী নাচছে যখন মায়ার মাঠে
তুমি তখন শানাও নিপুণ কালের করাত
করাত যখন চিরে, ছিঁড়ে, রক্ত ঝরে
ঝরা রক্ত প্রশ্ন করে, কেমন আছো?
এই তো আছি মুণ্ডু হয়ে অসির মাথায়
কাটা মাথা ফুটন্ত এক রক্তগোলাপ
তার সুবাসে হঠাৎ, কাচের দৃষ্টি ও মুখ
হৃদয়টাকে বলতো যদি কেমন আছো?
আছে
ও দেহ!
তুমি হও মদ- মদপৌরুষ
ও প্রাণ!
তুমি হও গান- গান রমণী
এই দেহ এই প্রাণ জন্ম দেবে আনন্দ নামের ছেলে-মেয়ে
মদ আর গানের আনন্দ শিশুরা নৃত্য করে জীবনের গাছে আর ঘাসে
আমাদের দিন-রাত ঝুলে থাকে সেই সব গাছে
আমাদের জন্মগুলো গলে গলে মিশে যায় সেই সব ঘাসে
মিশে মিশে জাগে আর জ্বলে আর চলে
মৃত্যুর শিখারাও মারহাবা বলে!
২.
যে পৃথিবী মদভরা, সে পৃথিবী এই
যে পৃথিবী গানভরা, সে পৃথিবী এই
আনন্দ ও নৃত্যময় গাছ- ঘাস এই
তুমি দেখো নেই!
আহা, কেন নেই?
যেই
তুমি নেই বলো, হতে থাকে নেই
বলো আছে বলো আছে বলো আছে, আছে
বসন্তের পাতাফুল শীতাহত গাছে!
ঠিকানা
ভিন্ন দেশ কতো খুঁজলাম
নেই কোনো দূরদেশ,
নেই ভিন্ন দেশ!
আর তোমরা
সারা বিশ্ব তন্ন তন্ন করেও
স্বদেশ পেলে না!
দ্রষ্টব্যের সীমানা
অনবরত মুখরতা থেকে বিরতিহীন নৈশব্দে চলে যাই
অবিরাম কথা বলি অবিরত নীরবতায়
শব্দ যাকে ধারণ করতে পারছে না, তার নাম নীরবতা
নিখিলের বসন্তে অফুরান দানোৎসব শুরু হলে
সকলেই ব্যক্ত করে যার যার চাওয়া
যার যার প্রেম
আমি কিছুই ব্যক্ত করি না
আমি কিছু ব্যক্ত না করে সকলের বেশি ব্যক্ত করি
বলা যদি প্রেম হয়, না বলা তো প্রেমের অধিক!
আমি কিছুই না বলে পেরিয়ে যাই দ্রষ্টব্যের সীমানা
ইশতেহার
রবীন্দ্রনাথকে বললাম দিন নেবেন না রাত?
নিলেন দিন। অথচ বললেন বেশি রাতের কথা।
নজরুলকে বললাম, কাকে চান, হে অগ্নিবীণা!
তিনি চাইলেন রাত। অথচ দিনেরই দামামা বাজালেন জীবনভর!
আমি না নিলাম দিন না নিলাম রাত
দিন ও রাতের আত্মাকে আত্মসাৎ করে
আমি পালিয়ে গেলাম সময়হীনতায়!
পৃথিবী সময় ছাড়া বাঁচে না
আমি কোনো সময়ে নেই, সময়ে নেই, সময়ে নেই!