প্রকৃতির রূপে স্বকীয় যেমন
প্রকৃতির রূপে অপরূপ তুমি
বুকে আছে সাহসেরা
সমতল ভূমি, নদী ও পাহাড়ে
সুনিবিড় আছো ঘেরা।
রূপসী বাংলা দেশটি আমার
সারা বিশ্বের সেরা।
অনুপম সাজে ছয়টি ঋতুকে
কোথাও কি খুঁজে পাবো
জারি-সারি গান ভাটিয়ালি বলো
কোন্ ভাষাতে গাবো
ক্লান্ত দেহের আশ্রয় আছে
ছোট গাঁয়ে ছোট ডেরা।
রূপসী বাংলা দেশটি আমার
সারা বিশ্বের সেরা।
ভোরের সূর্য আমার কপালে
দিয়ে যায় রাঙা চুম
শান্তি সুখের দেশটি মায়ের
যেমন বুকের উম।
কামার কুমার জেলে তাঁতি মাঝি
কঠিন শ্রমের কাজে
মনের মিতালি বন্ধন গড়ে
কষ্ট সুখের মাঝে।
ভোরের লালিমা গায়ে মেখে জাগে
মাঠ জুড়ে সবুজেরা।
রূপসী বাংলা দেশটি আমার
সারা বিশ্বের সেরা।
সিলেটে শুনেছি ঝরনার গান
সিলেটে শুনেছি ঝরনার গান
নিয়েছি চায়ের সবুজ পাতার ঘ্রাণ
সাগরের বুকে নীল দ্বীপ দেখে
দেখেছি আমি চাঁপাইয়ের আমবাগান।
সুন্দরবনে বিচিত্র প্রাণী
গড়েছে হৃদয়ে বন্ধন
আঁকাবাঁকা হ্রদ পাহাড়ের বুকে
এনেছে জীবনে স্পন্দন
ফলে ও ফসলে সারাদেশ সাজে
সোনা ফলা যেন বারোটি মাসের দান।
হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম আছে
খ্রিস্টান উপজাতি
ধর্ম বর্ণ ভাষাভেদে তবু
একতার জ্বালি বাতি।
প্রকৃতির রূপে স্বকীয় যেমন
হাসি দিয়ে মোছে ক্রন্দন
বীরপুরুষের বিজয় গাথায়
কুড়িয়েছি অভিনন্দন
সুখে দুখে সবে পাশাপাশি থেকে
গেয়ে যাই শুধু বাংলাদেশের গান।
নিখাদ ঘুমের মাঝে
নিখাদ ঘুমের মাঝে যে পাখিটি গেয়ে গেলো মুক্তির গান
তারে ডেকে চুপি চুপি বলো কানে কানে
কেউ যেন নাই জানে
তার সাথে বাঁধা আছে আমার এই ক্ষণিকের প্রাণ।
বন্দি জীবন যেন, হাহাকারে কিছু কিছু স্মৃতিদের খেলা
শুধু ভাবনায় ডুব দিয়ে কেটে যায় কতো বেলা
একা একা দিকে দিকে
ঘুরে আসে চৌদিকে প্রথম ফুলের ফোটা ঘ্রাণ।
এমন দিনের কথা কখনো কি জেগেছিলো মনে
তার কথা ভেবে ভেবে দিশেহারা হই ক্ষণে ক্ষণে।
পঙ্কে নামেনি জেনে কাদামাখা দেহ কেনো; অভিযোগ তোলে
বিচারের বাণী তাই, নিভৃতে কেঁদে চোখ খোলে
অসুরের কানে কানে
তাই পাখি বলে যাও, ফিরিয়ে দে ফেলে আসা মান সম্মান।
একটি জীবন
একটি জীবন পুড়িয়ে তবে
অনেক জীবন গড়তে যে হয়
আপন আলোয় ভুবন ভরে
তারপরেও মরতে যে হয়।
যে চেয়েছে নিজকে নিজে
রাঙাতে তার আপন ডেরা
মোহন করা সুর পেলেও
একলা মাতায় কেউ অপেরা?
সুরের সাথে সুরকে বেঁধে
অপার সুরে পড়তে যে হয়।
নিজের বিনাশ নিজে করে
সভ্যতা কি যায় রে গড়া?
সৃষ্টিসুখের উচ্ছ্বাসে তো
সাজানো যায় নতুন ধরা
মানব জীবন এমন পেলে
কেউ করে না মরতে যে ভয়।
গজলের সুর ভাবনায় দেয় টোকা
গজলের সুর ভাবনায় দেয় টোকা
যায় না তো আর গায়কীর ঘরে ঢোকা।
মারহাবা-। মারহাবা-।
কোথায় পালালো জগতের লেখাজোখা।
আনচান মন উচাটন করে করে
উন্মুল মন পেয়ালায় ভরে ভরে
নাচের মুদ্রা এলোমেলো করে বলে
সাকির ফাঁকিও বোঝে না এমন বোকা।
মারহাবা-। মারহাবা-।
কোথায় পালালো জগতের লেখাজোখা।
বাদকের নেশা বুঁদ করে দেয় বলে
মাদকের নেশা তুড়ি দিয়ে যায় চলে
ঘুঙুরের সাথে পায়েল নাচেও বলে
নাচঘরে দেয় গজলের সাথে টোকা।
মারহাবা—মারহাবা—
কোথায় পালালো জগতের লেখাজোখা।