আমি একটি গাছ খুঁজে বেড়াচ্ছি
কোন্ গাছ বলতে পারবো না
যে গাছ ছায়া দেবে। শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে
আমাকে জড়িয়ে ধরবে। শৈশবে বাবা
যেভাবে ধরতো
মাঝে মাঝে বাড়ির পেছনের বুড়ো
কাঁঠাল চাঁপা গাছটাকে বাবা মনে হয়।
মা তো সেই রক্ত করবীর ঝোপ
গালের চামড়া দুধের ঠাণ্ডা সরের মতো
কুঁচকানো। কপাল জুড়ে অসংখ্য রেখা
রুলটানা কাগজের মতো
দু’হাতে দুটো সোনার রুলি
জীবনের ভরা কলসিটা খালি।
সন্ধ্যাবেলা ফলপট্টির সেই বেড়ার ঝুপড়ি ঘরটায়
হারিকেনের আলোতে ধারাপাত নিয়ে বসা
লুটোপুটি অকারণ হাসি খিল খিল
দূরের পথে দেখি পৃথিবী জুড়ে
জমাট বাঁধা প্রেম। তোমার দিকে হাত
বাড়াতেই উড়ে আসে শূন্যতা ।
সারাক্ষণ ঘুরে বেড়াই এদিক ওদিক
এক পা রাখার এক ইঞ্চি জমিও পাই না
কেবল তোমার চোখে উদাসী শরীরী ভঙ্গি
একদিন তুমি বলেছিলে আমি তোমাকে অশেষ করেছি
এখন দেখছি তুমিই আমাকে নিঃশেষ করেছো
এই গাঢ় কুয়াশায় একা একা বসে থাকি ।
উষ্ণতার দিকে যাব বলে পথে পথে ঘুরি
কাউকে বলবো বলে কথাগুলো জমিয়ে রেখেছি
পড়শির বাড়ি গিয়ে বলি একটু ভালোবাসা দেবে?
ভালোবাসা কি গাছে ফলে নির্বোধ কোথাকার
যাও দরজা ভেড়াও।
এই শেষ বিকেলে কে আছোগো
এসো না একটু চাওয়া বিনিময় করি
আমি বিশ্বাস দেব তুমি না হয়
ভালোবাসা দিও।
নাহ্ সে কি আর হবে
মরচে পড়া মন। মেঘের ঔরসে
বৃষ্টির জন্ম হবে কি কখনো
তার চেয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণে কৌশলী হও।
জীবনের অলি গলি জটিল গ্রন্থি
সব কেটে কুটে জলের প্রবাহে ডুবে
চোখে নূহের প্লাবন এনে যদি বলি
শুধু ভালোবাসা দাও
বিঘা বিঘা জমি জিরেত নিয়ে নাও
তবু তুমি দেবে না জানি।