চাঁদ
বুক পকেটে চাঁদ
অন্য পাশে গভীর গিরিখাদ
ফুঁসছে কে সে? আওয়াজ ওঠে শোঁ শোঁ
সাগর বুঝি? ওকে তুমি জামার নিচে পোষো?
গাছের পাতা এলোমেলো, বাতাসে উদ্বেগ
ছৈয়ার ওপর ভেঙে পড়ে রাস্তাহারা মেঘ
পাহাড় দুটি দূরে
ভাবছে আমি নতুন ভবঘুরে
পথ চিনিনে
অন্ধ পথিক রাত্রি বা কি দিনে…
গুটিয়ে ডানা ধনেশ পাখি দুটি
মাঝে মাঝে একটু কাঁপায় ঝুঁটি
ওদের আমি উড়িয়ে দিলাম ছাদে
হাত রেখেছি নরোম দুটি চাঁদে।
জুন
প্রস্ফুটিত গুচ্ছ গুচ্ছ রশুন সৈকতে
উজ্জ্বল মল ও রেস্তোরাঁয়
আদুরে রোদ্দুর, গোল্ড ফিঞ্চ পাখি, চুমু
হলুদাভ নরোম কোয়ায়।
এই ধীর-প্রবণ শহরে পর্যটক জেব্রাস্রোত
নিয়ত নির্ভয়-ঘোরাফেরা
পথের দু’পাশে মেঘ ছেঁড়া ছেঁড়া।
আকাশের নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে ঋতুচক্রের রঙিলা নুন
বৃক্ষপত্রে, ধূসর সংসারে, হর্ষধ্বনি, কী প্রকান্ড জুন।
বায়োলজি
টানে, আমারে টানিয়া লয়, দূরের বায়োলজি
ছিলো না আলাপ-দেখা, তবু তাঁর দেখা মেলে রোজই।
অথচ যাহার সাথে সামাজিক এ-রসায়ন
চলিছে সারাবেলা
হাঁড়ি ও গৃহ খেলা; গোপনে ঘটিতেছে নিবিড় পরাগায়ণ
সে শুধু দূরে থাকে, সে দূরে রহিয়াছে…
দূরের বায়োলজি, পায়েরই পদ ছায়া, থাকে সে কাছে কাছে।
গিটার
বার্ধক্যে উপনীত এক সন্ধ্যা-পুরুষ
দুচোখে রাত্রির প্রজ্ঞা নিয়ে
বসেছেন ইস্ট নদীর পাড়ে।
ওর হাতে দুঃসময়ের গিটার
তরঙ্গ তুলছে জলে, বাতাসে, গাছের পাতায়।
ধুলোরা নৃত্য করতে করতে
অভিবাদন জানায় নতুন অভিযাত্রীকে।
ক’জন সি-গাল শুভ্র ডানার গভীরে
হলুদ চঞ্চু লুকিয়ে নিশ্চিত করে
শেষ কৃত্যানুষ্ঠানের গাম্ভীর্য।
লোকটি গিটার বাজাতে বাজাতে
টুংটাং খরচ করে ফেলে বাকিটা সন্ধ্যা।
অসময়
ক্ষত চিহ্নেরা এখন উজাইয়ের চরে
আষাঢ়ের রঙ্গিলা মাছ
নয়া জলে তড়পায়,
তড়পায় প্রজনন জ্বরে।
সুবৃহৎ মাদী বোয়ালের মতো চিৎ হয়ে
শুয়ে থাকা দুর্ভাগ্যের ক্ষতচিহ্ন কামড়ায়
মর্দা ছানা-পোনা-ঝাঁক
তীব্র কামোলাসে।
জাগুর ধরেছে বলে পলোনিয়া যারা
পীড়ের বোয়াল মারা কাফেলায় নামিয়াছে
ঘরে ফেরে তাহারা সোলাসে।
পাহালে পাহালে ফুটিতেছে কিষাণীর
বিলাপ, ক্ষতচিহ্নের আত্মশ্লাঘা, রক্ত ও পুঁজ;
গাছ খোড়লে সুদর্শন খোঁজে তবু
এই অসময়ে প্রগাঢ় সবুজ।
কর্ণফুলী
সভ্যতার নাকের ওপর দাঁড়িয়ে তুমি রোদ খাও?
তুমি আমার বোধ খাও।
সমৃদ্ধির বৃষ্টি দিলে?
চোখের আগুন ভিজিয়ে তুমি নীল পাথরের দৃষ্টি দিলে।
আমি এখন অন্ধ, বধির
নিঃশব্দে জল মাপি রোজ পূর্ব নদীর।
নদীর ঢেউয়ে দুলি
বুকের ভেতর হুহু কাঁদে দূরের কর্ণফুলী।