অনেকে জিজ্ঞেস করে আমার প্রকৃত জন্মদিনআমি থাকি রহস্যময়
প্রথম প্রেমের লগ্নই আমার জন্মদিন
যারা জানতে চায় আমার জন্মস্থান
সে এক বাংলার দুর্লভ গ্রাম-জলরঙে আঁকা
অতীত কতই না অবিমিশ্র
আমাকে নিয়ে যায় নানিমার বাড়ি
মাটিলেপা অজর উঠোন
হাবাগোবা ঘরদোর
মোরগোর বঙ্কিম গ্রীবা
সোনালি আঁশের আঁখিপল্লব
খেজুর রসের মৌ-তুলসীর পবিত্র সন্ধ্যা
পূর্বপুরুষের ধুলোর অঙ্কুশ
আর ইতিহাসের স্পন্দন আজান উলুধ্বনি
দূরে গাজীকালু চম্পাবতীর গল্পেভরা সুলতানী দুর্গের সিঁড়ি
জংধরা-তরবারি-বীরবাহুর বিদ্যুৎ-অজুর্নের অনির্বাণ অরি
মরিচা পড়া রক্তের দাগ
ঝরে পড়া টুকরো টুকরো পদাবলী
অনেকে জন্মদিনে শুনতে চায় কবিতা
সেতো কেকের ওপর জ্বালানো
মায়ের চোখের মোমবাতি
বরং সন্ধান করি
সার্বভৌম সময়ের স্বপ্ন
আমার মেয়ে গ্রামের গল্প জানে না
দেখতে চায় ধানের রং-
বলি কালো
সে গুগুল থেকে বের করে-সোনালি
কেন কালো বলছো- প্রশ্ন করে
ক্ষুধা ও দৈন্যের দেশে সব শস্যদানা কালো
আরেক দিন জিজ্ঞেস করে নদীর রং কি-
কালো-
সে ফেসবুকে এক বন্ধুর পোস্টে দ্যাখে-নীল
আবারো কারণ জানাতে চায়
যে দেশের নদীতে অজ্ঞাত লাশের গল্প ভেসে ওঠে
তার রং কি নীল থাকতে পারে
আমার মেয়ে একটা সবুজ টিয়ে কিনতে চায়
আমি বলি কোন সবুজ টিয়ে নেই
ধোঁয়া ধুলো আর বেদনাদগ্ধ এ শহরে সব পাখি কালো
সে ভাবে আর জানালায় গিয়ে দাঁড়ায়
দ্যাখে যানজট দলাপাকানো মানুষের মণ্ডু
রাস্তায় শত শত গাড়ি মরে পড়ে আছে
আকাশ আড়াল করা বহুতল দানব মিনতর
মেয়ে তার জন্মদিনে সুন্দর শহর দেখতে চায়
যেতে চায় আমার শৈশবের গ্রামে
একটা সবুজ পাখি ধরতে চায়
আমি বলি তোমার জন্মদিনে
একটা সবুজ পাখি এনে দেবো
তুমি তাকে বন্দী করে রেখো না
উড়িয়ে দিও আকাশে
সে ফিরে আসবে
তোমার ভালোবাসার কাছে।