১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ঢাকাকেন্দ্রিক মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণি স্ব-সমাজের উন্নয়ন ও সংস্কারের প্রচেষ্টায় উজ্জীবিত হতে থাকে। মুসলিম সমাজের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে রূপদানের জন্য একটি সংগঠনের জন্ম অনিবার্য হয়ে ওঠে। অবিভক্ত ভারতের রাজনীতির ক্ষেত্রে তখন কংগ্রেস, মুসলিম লীগ ও খেলাফত আন্দোলনের কৌশল, কার্যকারিতা ও সম্মুখ সম্ভাবনার ক্ষেত্র সম্পর্কে উদ্যোগ, বিতর্ক ও অস্থিরতা বিদ্যমান। বাঙালি মুসলমানের মুক্তির আকাক্সক্ষা কিভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে, এ প্রশ্ন ছিল শিক্ষিত, সচেতন, জিজ্ঞাসাকাতর বাঙালি মুসলমান সমাজের। এ রকম ঊর্মিমুখর, উত্তাল সময়ে ১৯২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ওদুদ সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ‘মুস্তফা কামাল সম্বন্ধে কয়েকটি কথা’ প্রবন্ধটি পাঠ করেন। প্রবন্ধের দিক-নির্দেশনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উপস্থিত যুবসম্প্রদায় তাঁকে অনুরোধ করেন ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নির্দেশের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য। এভাবেই ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজে’র বীজ রোপিত হয়। তবে আবুল হুসেন (১৮৯৭-১৯৩৮) ‘তরুণপত্র’ (১৯২৫) পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে তরুণ সম্প্রদায়কে জাগ্রত হওয়ার আহবান জানিয়েছিলেন। ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি (৩ মাঘ ১৩৩২) রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুসলিম হলে কয়েকজন শিক্ষক-ছাত্রের উদ্যোগে মুহম্মদ শহীদুল্লাহর (১৮৮৫-১৯৬৯) সভাপতিত্বে ‘মুসলিম-সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়।১ সভায় পাঁচজন ব্যক্তির ওপর সাহিত্য-সমাজ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানের প্রথম বছরের কর্মী-সংসদের সদস্য ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ. এফ. এম. আবদুল হক, ঢাকা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবুয্যোহা নূর আহমদ, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আনোয়ার হোসেন ও আবদুল কাদির। প্রথম বছরে এ প্রতিষ্ঠানের কোনো সভাপতি না থাকলেও সম্পাদক ছিলেন। সম্পাদকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন আবুল হুসেন। আবুল হুসেন ও কাজী আবদুল ওদুদের নেতৃত্বেই মূলত ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ সংগঠিত হয়। ‘উভয়ের ভাবের সমন্বয় সত্যই এক অভূতপূর্ব ব্যাপার। একের মনে সংস্কারহীন মুক্তবুদ্ধিজাত ভাবের প্রেরণা, অপরের কর্মপ্রবণ হৃদয়ে অফুরন্ত শক্তির উৎস। এই ভাব ও শক্তির সমন্বয় সমাজের প্রতিষ্ঠা।’২ প্রথম থেকেই এ সংগঠনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন কাজী আনোয়ারুল কাদির, কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল ফজল। প্রথম দিকে ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ গঠনের ক্ষেত্রে ওদুদের নেপথ্য ভূমিকা ছিল। এ কারণেই তিনি প্রত্যক্ষ দায়িত্ব গ্রহণের পরিবর্তে আড়ালে থেকে বুদ্ধির মুক্তি অন্দোলনে গতি সঞ্চার করেছেন। তবে ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজে’র কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, আনুমানিক বাহাত্তর/ তিয়াত্তরটি অধিবেশনের মধ্যে ওদুদ কমপক্ষে ছাপ্পান্নটি অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। সাহিত্য-সমাজ সংযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ওদুদের উপস্থিতির হার সর্বোচ্চ। তাঁর বাসায় সাহিত্য-সমাজের কমপক্ষে সাতটি অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। বার্ষিক ও সাধারণ অধিবেশনে তিনি এগারোটি প্রবন্ধ পাঠ করেছেন এবং আটাশটি প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতি ও রক্ষণশীল সমাজের বিরোধিতার মধ্যেও ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ ১৯৩৬ পর্যন্ত সক্রিয় থাকলেও টিকেছিল ১৯৩৮ পর্যন্ত। সে পর্যন্ত কাজী আবদুল ওদুদ ও কাজী মোতাহার হোসেন ব্যতীত অন্য শিখাকর্মী ও চিন্তক আবুল হুসেন, কাজী আনোয়ারুল কাদির, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, মোতাহের হোসেন চৌধুরী কর্মসূত্রে ঢাকার বাইরে অবস্থান করেছেন। ফলে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজে’র কর্মকাণ্ড ওদুদকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতে থাকে।৩ ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজে’র বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি মুসলিম সমাজে নবজাগরণের স্পন্দন অনুভূত হয়। ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ এবং তার মুখপত্র ‘শিখা’ ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়। ‘শিখা’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় চৈত্র (১৩৩৩) প্রকাশের নিবেদনে বলা হয়েছিল: ‘শিখার প্রধান উদ্দেশ্য বর্তমান মুসলিম সমাজের জীবন ও চিন্তাধারার গতির পরিবর্তন সাধন।’ ‘শিখা’ পত্রিকার রচনার সূচনায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজে’র মূলমন্ত্র লেখা থাকত : ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।’৪ ‘শিখা’ পত্রিকার পাঁচটি সংখ্যা ১৯২৭ থেকে ১৯৩১ সালের মধ্যে বেরিয়েছিল। ১৯৩২-৩৬ পর্যন্ত ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ সক্রিয় থাকলেও পত্রিকা বের করতে পারে নি। ‘শিখা’ পত্রিকায় ওদুদের চারটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজে’র সভা, সম্মেলন, অধিবেশন, মুখপত্র প্রকাশ ও বাদ-প্রতিবাদে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাজে মুক্তচিন্তা ও স্বাধীন মতামত প্রকাশে সহায়তা করেছেন। এর ফলে মুসলিম হলের ছাত্রদের কারো কারো মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট হয়ে দেখা দিল।৫ ওদুদ ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজে’র সূচনা থেকে শেষ পর্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থেকে সকল রকমের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে গেছেন। ১৯৩৬ সালে সাহিত্য-সমাজের দশম অধিবেশন বসে ওদুদের ঢাকার ২৬ নং পুরান পল্টনের বাসায়। এই অধিবেশনে তিনি মন্তব্য করেছিলেন ‘সাহিত্য সমাজের যা বলার তা বলা হয়েছে। এখন কাজ চাই। সমিতির কাজ শেষ হয়েছে।৬
ওদুদ অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে এ কথা ব্যক্ত করেছেন। ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজে’র বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন বারবার বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। সাহিত্য-সমাজের সম্প্রদায়নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে বাঙালি মুসলিম সমাজের সংস্কার প্রচেষ্টা ‘মোহাম্মদী’ ও ‘ছোলতান’ পত্রিকার মাধ্যমে বিরূপ সমালোচনার সম্মুখীন হয়। এদের কটূক্তি, বিরুদ্ধ সমালোচনার কারণে আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ ও ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ বিরোধী একটি দলের আগমন ঘটে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাহিত্য-সমাজের অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজে’র জন্ম হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হলে। এখানে সাহিত্য-সমাজের ১৩টি অধিবেশন হলেও ১৯৩১ সালের পর সেখানে কোনো অধিবেশন হতে পারেনি। তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্মবিরুদ্ধতার অভিযোগ এনে, ঢাকার নবাববাড়ির চাপে, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট সাহিত্য-সমাজের সভা, সম্মেলন, অধিবেশনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।৭ ১৯২৮ সালে আবুল হুসেন বলিয়াদির জমিদার কাজেম উদ্দীন আহমদ সিদ্দিকীর ডাকা আপসমীমাংসামূলক সভায় চাপের মুখে অনিচ্ছায় ‘ঘোষণাপত্র’ লিখে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। ১৯২৯ সালে “আদেশের নিগ্রহ” প্রবন্ধের জন্য ঢাকার নবাববাড়ি আহসান মঞ্জিলে আঞ্জুমানের একটি সভায় রক্ষণশীলদের প্রবল চাপের মুখে তিনি ‘ক্ষমাপত্র’ লিখে দেন। আবুল হুসেন প্রবল উত্তেজনা নিরসনে লেখায় ভাষাগত ত্রুটির কথা স্বীকার করলেও তাঁর আত্মবিশ্বাস ও সাধনা থেকে বিচ্যুত হননি। ওদুদ মুক্তবুদ্ধি পরিস্রুত মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে নতজানু করে ক্ষমা প্রার্থনা করেননি। তবে নিজের উৎসাহ ও উদ্যোগকে সংযত করে নেন।৮ সাহিত্য-সমাজের কাজে স্থবিরতা নেমে আসে। ১৯৩৫ সালে ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজে’র কর্মী শামসুল হুদা ঢাকায় প্রকাশিত পত্রিকায় একটি প্রবন্ধ লেখেন। এ প্রবন্ধের বক্তব্য তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী তাঁকে হত্যা করে প্রতিশোধ নিতে উদ্যত হয়েছিল। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ওদুদ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে বাঁচাতে সমর্থ হলেও রক্ষণশীলদের বিক্ষোভ ও আক্রোশের শিকার হন।৯
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের নেতৃত্বদান এবং সমাজচিন্তক হিসেবে বিবেকবান বুদ্ধিজীবীর দায়িত্ব পালনে তার মূলমন্ত্র ছিল বুদ্ধির মুক্তি। বাঙালি মুসলমান সমাজের সম্মুখ গতিকে শঙ্কামুক্ত রাখতে এবং নবজাগরণের আদর্শ উন্মোচনে তিনি গ্রহণ করেছেন মননধর্মী ও যুক্তিবাদী প্রবন্ধচর্চার ব্রত। সমকালে রক্ষণশীল প্রতিপক্ষের অযৌক্তিক বিরুদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি আদর্শকে সামনে রেখে স্বাধীন মতামত প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাঁকে বক্তৃতা দানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যা তাঁর সাহিত্যিক হিসেবে স্বীকৃতিকেই চিহ্নিত করে।
১৯২৭ সালের ১৪ আগস্টে অনুষ্ঠিত ‘ফরিদপুর মুসলিম ছাত্র সমিতি’র বার্ষিক অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করেন। ১৯৩২ সালের ডিসেম্বরে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সম্মেলনের পঞ্চম অধিবেশনে সাহিত্য শাখার সভাপতি হিসেবে ওদুদ আমন্ত্রিত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের আহবানে ১৯৩৫ সালের মার্চে তিনি হিন্দু-মুসলমান সমস্যা সম্পর্কে তিনটি বক্তৃতা দেন। ১৯৩৭ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত পূরবী সাহিত্য সম্মেলনে তাঁকে সাহিত্য শাখার সভাপতি মনোনীত করা হয়। ১৯৩৮ সালে ঢাকায় বঙ্কিম জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে আলোচনার জন্য ওদুদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১৯৩৯ সালে কুমিল্লায় বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের দ্বাবিংশ অধিবেশনে সাহিত্য শাখার সভাপতি হিসেবে তাঁকে নির্বাচন করা হয়। ১৯৩৯ সালে ঢাকায় ‘প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ’ গঠিত হলেও ১৯৪০ সালের মাঝামাঝি সময়ে গেন্ডারিয়া হাইস্কুল প্রাঙ্গণে এক সম্মেলনের মাধ্যমে উক্ত সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। এই সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন ওদুদ।
কাজী আবদুল ওদুদ (১৮৯৪-১৯৭০) বিশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি বুদ্ধিজীবী। তাঁর জীবন উপলব্ধি ও সাহিত্যকর্ম বিবেচনাসূত্রে প্রতীয়মান হয় যে রেনেসাঁসের চেতনাই তাকে প্রেরণা দিয়েছে। ওদুদের চিন্তা, মনন ও সৃজনের ব্যাপকতা রেনেসাঁসের যুগান্তকারী অভিঘাতে সম্ভাবনাময়। তাঁর সাহিত্যকর্মে যে সমগ্রতা বা পূর্ণতার পরিচয় মেলে সেখানে রেনেসাঁসের চারিত্রবৈশিষ্ট্য ক্রিয়াশীল। তিনি যে জীবনার্থ সন্ধান করেছেন তা রেনেসাঁসের নবচৈতন্যে এবং আধুনিকতার বোধে গতিশীল ও সম্মুখগামী। ইউরোপীয় রেনেসাঁসের জীবনভাবনা, মানবিকতা, অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সংলগ্ন জীবনের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা এবং আধুনিকায়নের প্রত্যাশাকে তিনি সমাজপ্রগতির অগ্রযাত্রার সম্পৃক্ত করেছেন। রেনেসাঁসের চারিত্র মাত্রাগত ভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ হলেও তা বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত। রেনেসাঁস বৈজ্ঞানিক এবং ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে আবিষ্কার, রাজনৈতিক দৃষ্টিতে জাতীয়তাবাদ এবং সাধারণ দৃষ্টিতে বিদ্রোহ। এ বিদ্রোহ বলতে মূলত প্রাচীন ও মধ্যযুগের রীতি-নীতির প্রতি জিজ্ঞাসা এবং বস্তুজগৎ ও প্রকৃতিবিজ্ঞানের রূপান্তর বুঝিয়ে থাকে। রেনেসাঁস শুধু আবিষ্কার, নবজাগৃতি কিংবা বিদ্রোহ নয় বরং এই ত্রয়ী লক্ষণের সমন্বয়ে অর্জিত জীবনমুখী, চৈতন্যসর্বস্ব, মানবকল্যাণমূলক কর্মপ্রচেষ্টা। রেনেসাঁসের ফলে সমাজপ্রগতির ধারায় ব্যক্তিচৈতন্যও নতুনতর জীবনাদর্শে উজ্জীবিত হতে পারে। রেনেসাঁসের কারণেই ব্যক্তি অস্তিত্ব বিশ্বজনীন অস্তিত্বের অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়।
কাজী আবদুল ওদুদের জন্ম ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রকাঠামোয়। অসহিষ্ণু, দ্বন্দ্ব ও বিদ্বেষে জর্জরিত সমাজে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন রক্ষণশীলতা, পশ্চাৎপদতা ও কুসংস্কার। ব্রিটিশ বাণিজ্যপুঁজি ও শিল্পপুঁজির প্রভাবে উনিশ শতকের কলকাতাকেন্দ্রিক মধ্যবিত্ত শ্রেণীর রেনেসাঁস বাঙালি হিন্দুর আত্মআবিষ্কারের পথকে সুগম করে। বাঙালি মুসলমান তখনো আত্মসংকট মীমাংসায় দ্বিধান্বিত, অপ্রস্তুত, পুনরুজ্জীবনবাদে মুগ্ধ। বিশ শতকের বিশের দশকে বাঙালি মুসলমান সমাজে রেনেসাঁসের আলো নতুন জীবনধর্মে উজ্জীবিত করে তোলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯২১) স্থাপন ও ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠা তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের মাধ্যমে ওদুদের উদার মানবতাবাদী সংস্কার প্রচেষ্টা স্বসম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। অন্যদিকে প্রতিবেশী হিন্দু সম্প্রদায়ের নিকটও তিনি বিরাগের সম্মুখীন হয়েছিলেন। আমৃত্যু তিনি চেষ্টা করেছেন হিন্দু-মুসলমান বিরোধ মীমাংসার। দেশ বিভাগের পর ভারত ও পাকিস্তানের বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল তাঁকে আপনজন বলে গ্রহণের ক্ষেত্রে দ্বিধান্বিত ছিল। কলকাতার অনুকূল পরিবেশ এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে প্রলোভন সত্ত্বেও তিনি জন্মভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন নি। কলকাতায় নিঃসঙ্গ আত্মীয়-স্বজনহীন অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করেছেন। ওদুদের জীবনের ট্র্যাজেডি জাতিসত্তার ট্র্যাজেডির সঙ্গে সন্নিহিত। এ কারণেই কাজী আবদুল ওদুদ বাঙালির জটিল সময়, সমাজ ও ইতিহাসের সঙ্গে সংলগ্ন। বাঙালি মুসলমানের আত্মসন্ধান ও সত্তাসন্ধানের সঙ্গে বিশ্বাত্মাসন্ধানের প্রশ্নে ওদুদ ছিলেন ইউরোপীয় রেনেসাঁসের উজ্জীবিত ব্যক্তিত্ব। তিনি উপলব্ধি করেছেন রেনেসাঁসের আলো ছড়িয়ে দিলে সমাজের অন্ধকার দূরীভূত হতে পারে। জাতিসত্তার উৎকর্ষের জন্য তিনি নিজ সম্প্রদায় ও প্রতিবেশী সম্প্রদায়ের মহৎ চিন্তা আলোচনা করেছেন। একই কারণে বিশ্বজনীন সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিও তাঁর অনুরাগ ছিল।
বুদ্ধিকে শাস্ত্রানুগত্য থেকে মুক্ত ও স্বাধীন করতে ওদুদ মানসে এমার্সন, রবীন্দ্রনাথ, গান্ধী, রোমাঁ রোলাঁ, তলস্তয়, শেখ সাদী প্রমুখ মনীষার আলো প্রেরণা সঞ্চার করেছে। রোমাঁ রোলাঁর ‘জাঁ ক্রিস্তফ’ উপন্যাস পাঠের মাধ্যমেই ওদুদের জীবনজিজ্ঞাসার সূত্রপাত ঘটে। তাঁর জীবনের গতিপথকে সঞ্জীবিত রেখেছেন হজরত মোহম্মদ, কামাল আতাতুর্ক ও রামমোহন রায়। হজরত মোহম্মদের মানবিক গুণাবলীর প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। ইসলামের ইতিহাসে মোতাজেলাবাদ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর অর্থাৎ ইবনে রুশ্দের মৃত্যুর (মৃত্যু ১১৯৮) পর পুনরায় মুক্তচিন্তা ও বিচার প্রতিষ্ঠায় সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন কামাল আতাতুর্ক। হজরত মোহম্মদের একেশ্বরবাদ, সবল কাণ্ডজ্ঞান রামমোহনের উপর প্রভাব সঞ্চার করেছে। মোতাজেলাবাদের প্রতিও রামমোহনের আকর্ষণ ছিল। রেনেসাঁসের মুক্তচেতনা ও ধর্মসমন্বয়ের চিন্তা থেকেই ওদুদ বাঙালি মুসলমান সমাজের সামনে রামমোহনের আদর্শকে উপস্থাপন করেছেন। ওদুদের গ্যেটে চর্চার পরিধি দেখেই অনুভব করা যায় তিনি গ্যেটে অনুরাগী ছিলেন। তাঁর ধর্মসমন্বয় প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ গঠনে গ্যেটের প্রেরণা তাৎপর্যময়। তাঁর শিল্পবোধ ও শিল্পচৈতন্যে বিশ্বাত্মাসন্ধানী প্রবণতায় গ্যেটের শিল্পদর্শন প্রেরণাস্থল। রবীন্দ্রনাথের ভাবনার সঙ্গে ওদুদের গ্রহণ-বর্জনের সম্পর্ক ছিল। তবে ওদুদের শিল্পরুচি গঠনে ও মানবতাবাদী চিন্তনক্রিয়ায় রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পথিকৃৎ প্রতিভার ব্যক্তিত্ব উন্মোচনে ওদুদের ভূমিকা ছিল বিবেকবান বুদ্ধিজীবীর। স্বকালের সংকট বিবেচনায় তিনি প্রতিভাবানদের ত্রুটি-বিচ্যুতিও উল্লেখ করেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রধান উপাদান মহৎ প্রতিভাবান ব্যক্তির জীবন ও কর্ম। তিনি যে স্বপ্ন ও সম্ভাবনার কথা ভাবতেন তা বক্তৃতা ও লেখনীর মাধ্যমে সমাজে সঞ্চারিত করতেন। তাঁর চিন্তার সততা এবং মতের নির্ভীকতাই তাকে স্বাধীনচেতা ও স্পষ্টভাষী মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পার্থিব প্রয়োজন কিংবা প্রলোভন তাঁর মনে সৃষ্টি করেনি সঙ্কোচের দেয়াল। এ কারণেই তিনি জীবনাদর্শে ও জীবিকায় অকপট মনোভঙ্গি পোষণ করতেন।
তিনি বুদ্ধির মুক্তিবাদী ও আস্তিক ছিলেন। মানবতাবাদ ছিল তাঁর কাছে আদর্শ। চিত্তের উদারতায় তিনি উপলব্ধি করেছিলেন হিন্দু-মুসলমানের বিভক্তি বাঙালির সমাজপ্রগতির অন্তরায়। বুদ্ধির মুক্তি না ঘটলে বাঙালি মুসলমান সমাজের অগ্রগতি ব্যাহত হবে। বাঙালি মুসলমান সমাজ যদি বাঙালি হিন্দুর সম্প্রসারণশীল বিকাশপ্রক্রিয়ার বিপরীতে প্রগতিবিমুখ থাকে তবে সামগ্রিকভাবে বাঙালির সম্মুখগতি পিছিয়ে যাবে। এ কারণেই তিনি শাশ্বত বঙ্গের উন্নতির জন্য নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তবে শাশ্বত বঙ্গ মানে অখণ্ড বঙ্গ নয়। ওদুদের কাছে বাঙালি জাতীয়তা ছিল ভারতীয় জাতীয়তার পরিপূরক। তবে তিনি দেশ ভাগের রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিলেও দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ ভাগকে সমর্থন করেননি। কাজী আবদুল ওদুদের জীবন ও কর্ম অনুধ্যান সূত্রে জীবনীলেখক ও শিষ্য আবদুল কাদিরের মনে হয়েছিল ওদুদ ‘বাঙলার সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম ভাবুক ও চিন্তাবিদ।’ এ অভিমত সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় সহ সমকালের পণ্ডিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তবে ওদুদ-মানস সম্পর্কে আবদুল কাদির রচিত জীবনীগ্রন্থ ‘কাজী আবদুল ওদুদের’ পরিশিষ্ট সংযোজিত অন্নদাশঙ্কর রায়ের ‘কাজী আবদুল ওদুদ প্রসঙ্গে’ প্রবন্ধে যে মন্তব্য আছে তাতে তাঁর জীবনদর্শনের সূত্রসমূহ চিহ্নিত হয়েছে।
কাজী আবদুল ওদুদ ছিলেন জাতিতে ভারতীয়, ভাষায় বাঙালি, ধর্মে মুসলমান, জীবনদর্শনে মানবিকবাদী, মতবাদে রামমোহনপন্থী, সাহিত্যে গ্যেটে ও রবীন্দ্রপন্থী, রাজনীতিতে গান্ধী ও নেহরুপন্থী, অর্থনৈতিক শ্রেণীবিচারে মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক, সামাজিক ধ্যানধারণায় ভিক্টোরিয়ান লিবারল। কোনোরূপ চরমপন্থায় তাঁর বিশ্বাস ছিল না। … ইংরেজিতে থাকে বলে ওর্য়া মথ্।
বাঙালি মুসলিম ভাবুক ও চিন্তাবিদ হিসেবে ওদুদের ভূমিকা ছিল বুদ্ধিজীবীর। বুদ্ধিজীবীর ব্যক্তিত্ব সমাজমঙ্গলের উদ্দেশ্যে নিবেদিত না হলে তাকে প্রকৃত বুদ্ধিজীবী বলা যায় না। বুদ্ধিজীবী বা বিদ্বজ্জন এবং বুদ্ধিজীবীগোষ্ঠী বা বিদ্বৎসমাজের ভূমিকা নিয়ে সমাজবিজ্ঞানের সাহিত্যে ‘সিভিল সোসাইটি’ প্রত্যয়ের সূচনা। সমাজবিজ্ঞানী ড. রংগলাল সেন ‘সিভিল সোসাইটি’ (ঢাকা : তপন প্রকাশন, ২০০৬) গ্রন্থে ‘সিভিল সোসাইটির প্রত্যায়নের ইতিহাসের পর্যায়কে ছয়টি পর্যায়ে ভাগ করেছেন। প্রথমত প্লেটো থেকে রুশোর ধারণা, দ্বিতীয়ত অ্যাডাম ফার্গুসনের প্রস্তাবনা, তৃতীয়ত হেগেলের চিন্তা-ভাবনা, চতুর্থত মার্কসের মতবাদ, প্রঞ্চমত গ্রাম্সির ধ্যান ধারণা, ষষ্ঠত সাম্প্রতিককালে ‘সিভিল সোসাইটি’র বিবর্তিত ও বিতর্কিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ (রংগলাল সেন, ২০০৬:২)। তবে সিভিল সোসাইটির সদস্য হিসেবে বুদ্ধিজীবীর কার্যপরিধি ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ১৯৯৩ সালে বিবিসি থেকে প্রচারিত Edward w.said এর রিথ বক্তৃতার সংকলন Representation of the Intellectual (Newyork: Vintage Books, 1996) ইউরোপ ও আমেরিকায় প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করে। এতে বুদ্ধিজীবীর দায়িত্ব ও ভূমিকা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করা হয়। সাঈদের মতে বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ড চালাতে একালের বুদ্ধিজীবীকে চারটি চাপ সহ্য করতে হয়। প্রথমত কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়া যা একজন বুদ্ধিজীবীর উত্তেজনা ও আবিষ্কারের প্রত্যয়কে দমিয়ে রাখে, দ্বিতীয়ত বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন অর্থাৎ একাডেমিক ও নন-একাডেমিক বিভাজন, তৃতীয়ত ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রতি প্রবল আকর্ষণ, ক্ষমতা কর্তৃক নিযুক্ত হয়ে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রয়োজন ও সুবিধার প্রতি তীব্র ঝোঁক, চতুর্থত পেশাদারিত্ব (সাঈদ, ৯৬:৮০)। বিভিন্ন দেশে বুদ্ধিজীবীদের দলীয় আনুগত্য মূলত ক্ষমতা কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্তির প্রত্যাশা, গণমাধ্যমে প্রচারের প্রলোভন, গবেষণা ও প্রজেক্ট থেকে অর্থ ও পুরস্কারপ্রাপ্তির আকাক্সক্ষা থেকেই সৃষ্ট। এ কালে বুদ্ধিজীবীদের পেশাদারিত্বের চাপ প্রথাবিরোধী এবং প্রতিষ্ঠানবিরোধী হতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বিদ্যমান রূঢ় বাস্তবতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ওদুদের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাবন্ধিক সত্তার পুনর্মূল্যায়ন করা যেতে পারে।
বিশ শতকের প্রথমার্ধে নব্য গোঁড়াপন্থী বুদ্ধিজীবী এবং উদারপন্থী ইসলামী বুদ্ধিজীবীদের জীবনদৃষ্টি ও সমাজদর্শন সৃষ্টির ক্ষেত্রে রক্ষণশীল ও দ্বিধান্বিত অবস্থানকে ওদুদ সততা, সাহস ও বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনায় মোকাবেলা করেছেন। এক্ষেত্রে চিঠিপত্র, সংগঠন ও পত্রিকার ভূমিকা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রবন্ধ রচনার মাধ্যমেই তিনি ঐতিহ্যপন্থী ও উদারপন্থী মুসলমান বুদ্ধিজীবীদের মতাদর্শের বিপরীতে নিজের চিন্তা প্রকাশ করেছেন। ওদুদের অবলম্বন ছিল যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদ। জীবিকার প্রয়োজনে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত থাকলেও তিনি ছদ্মনামে চিন্তাউদ্রেককারী প্রবন্ধ লিখেছেন। ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ ও ‘শিখাগোষ্ঠী’র প্রাণসঞ্চালক শক্তি হিসেবে নেপথ্যে থেকে কাজ করেছেন। ওদুদের এবং ‘শিখাগোষ্ঠী’র মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজদর্শন সৃষ্টির জন্য মুক্তবুদ্ধির সাহায্যে মানববিদ্যা ও সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রসঙ্গ মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়ন করা। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর আত্মীয়-স্বজন এবং অনুরাগীদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি জন্মভূমিতে ফিরে আসেননি মূলত আদর্শগত ও রাজনৈতিক কারণে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ পদে যোগদানের প্রলোভন অর্থাৎ নতুন করে পেশাদারিত্বের চাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন মূলত সাহিত্যিক কৃত্য অনুকূল পরিবেশে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে। সাময়িক পত্রিকা এবং লিটন ম্যাগাজিনের লেখক ও সম্পাদক হিসেবে বুদ্ধিবৃত্তিক দায়িত্ব পালনে কোন ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের আনুগত্য প্রকাশ করেননি। এমনকি জীবনের উপান্তে আত্মচরিত লেখার ক্ষেত্রে তাঁর অনীহা ছিল। এ ক্ষেত্রে ৩ মার্চ ১৯৬৯ আবদুল হকের কাছে পাঠানো ওদুদের পত্র লক্ষণীয়। ‘মোটের ওপর আত্মচরিত গোছের একটা কিছু লিখতে প্রেরণা পাচ্ছি না; বার বার ‘আমি’-র প্রসঙ্গ ভালো লাগে না। মনে হয় আমি প্রাবন্ধিক, বহুরকমে বহুভঙ্গিতে আমি-র কথা সারাজীবনই বলেছি-আর কেন’ (আবুল আহসান চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদের পত্রাবলী: বাংলা একাডেমি: ঢাকা, ৯৯:১৩১)। ওদুদের প্রবন্ধে উত্থাপিত চিন্তা বাঙালি মুসলমানের অসাম্প্রদায়িক জীবনদৃষ্টি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিভাবানরা ওদুদের আরাধ্য হলেও তিনি বিবেকচালিত হয়েই প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব ও স্বকীয় ব্যক্তিত্বের সাধনা করেছেন।
তথ্যসূত্র:
১. আহমদ নূরুল ইসলাম, মুসলিম সাহিত্য সমাজ, ভূঁইয়া ইকবাল সম্পাদিত, পাণ্ডুলিপি, ষোড়শ খণ্ড, চট্টগ্রাম, ১৯৯৫, পৃ. ৯৮-৯৯
২. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, কাজী আবদুল ওদুদ, সাহিত্য পত্রিকা, আটত্রিশ বর্ষ: প্রথম সংখ্যা, কার্তিক, ১৪০১, পৃ. ১৭
৩. আহমদ নূরুল ইসলাম, পূর্বোক্ত, পৃ. ১০১-১০২
৪. আবদুল মান্নান সৈয়দ সম্পাদিত, নির্বাচিত শিখা, ঢাকা, একুশে পাবলিকেশন্স লি, ২০০২, ভূমিকা
৫. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, পূর্বোক্ত, পৃ. ১৮-১৯
৬. আজহারুল ইসলাম, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ: একটি স্মরণীয় নাম, শহীদুল্লাহ সংবর্ধনা গ্রন্থ, ঢাকা, ১৯৬৭, পৃ. ২১৯
৭. আহমদ নূরুল ইসলাম, পূর্বোক্ত, পৃ. ১০৩
৮. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, পূর্বোক্ত, পৃ. ২১
৯. পূর্বোক্ত, পৃ. ২১ – ২২