মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সমাজে মুল্যবোধ ও যুক্তিবিচার প্রতিষ্ঠা করতে চান। ব্যক্তিজীবন থেকে সমাজ জীবন সর্বত্রই তিনি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে চান।
তিনি মনে করেন নিকটবর্তী স্থূল সুখের চেয়ে দূরবর্তী সুক্ষ্ম সুখকে, আরামের চেয়ে সৌন্দর্যকে, লাভজনক
যন্ত্রবিদ্যার চেয়ে শিল্প ও আনন্দপ্রদ সুকুমার বিদ্যাকে শ্রেয় মনে করা
এবং এজন্য অপেক্ষা করতেশেখাই হচ্ছে মূল্যবোধ।
অষ্টম ও দ্বাদশ শতকের আগেই বিভিন্ন ভাবে ভারতবর্ষের অধিবাসীদের সাথে মুসলমানদের পরিচয় ঘটতে থাকে। তবে মুহাম্মদ বিন কাশেমের সিন্ধু বিজয় (৭১১ খ্রি.) ও মুহাম্মদ খলজির বঙ্গবিজয়ের মাধ্যমে এবং পরে মোঘলদের আগমনের (১৫২৬ খ্রি.) মধ্যদিয়েও ভারতবর্ষের বাঙালিরা মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়ের সাথে পরিচিতি লাভ করতে পারেন। সেই সময় থেকে পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭ খ্রি.) পর্যন্ত মুসলমানগণ ভারতবর্ষে গুরুত্বের সাথে তাদের নেতৃত্ব টিকে রাখতে পেরেছেন। তবে পলাশীতে ইংরেজদের নিকট নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয় ঘটলে মুসলিম জাতীয়তাবাদের শক্তিতে জং ধরতে শুরু করে। সেই মরিচা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধিই পেয়েছে। পলাশীর সাফল্যে ইংরেজগণ ভারতবর্ষে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করতে থাকে। সেসব কৌশলের একটি হলো মুসলিম ও হিন্দু এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে যেকোনো একটিকে আপন করে অন্যটিকে পর করবার কৌশল। ইংরেজগণ হিন্দুদেরকেই নিজেদের ঘনিষ্ট কবার চেষ্টা করেছেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারতবর্ষের সমগ্র শক্তিকে দু’ভাগ করে ফেলা। এই ভাগ ইংরেজগণ সহজেই করতে পেরেছিলেন। আপন-পরের এই নকশা স্পষ্ট হতে থাকলে মুসলিমগণ ইংরেজদের ভাষা, সাহিত্য, কৃষ্টিকালচার সবকিছু থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে রাখেন এবং ভেতরে ভেতরে ইংরেজদেরকে ভারতবর্ষ থেকে বিতারিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। ফলে সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭খ্রি.), অসহযোগ আন্দোলন, কৃষক বিদ্রোহ, খেলাফত আন্দোলন (১৯১৯খ্রি.), ফকির বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০২খ্রি.), ফরায়েজি আন্দোলন; তিতুমীরের বিদ্রোহ (বাঁশেরকেল্লা)-সহ নানাবিধ আন্দোলনের তোপে ইংরেজগণ ভারতবর্ষ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার সংগ্রামে মুসলমানদের অবদান ছিল অগ্রগামী।
ইংরেজদের কাছাকাছি থাকবার কারণে ও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে হিন্দুগণ শিক্ষা-দীক্ষা ও জ্ঞান-বুদ্ধি চর্চায় সমাজে একটা গ্রহণযোগ্য অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর মুসলিমগণ ইংরেজ সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণে অতিষ্ট হয়ে ইংরেজি ও বাংলা ভাষা শিক্ষাকে অবজ্ঞা করেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-সংস্কৃতি চর্চায় পিছিয়ে পড়তে থাকেন। ফলে বাঙালি মুসলমান ধীরে ধীরে চিন্তা-চেতনায় পশ্চাদপদ হতে থাকলেন। বিশ্ব যখন ইউরোপের সংস্পর্শে এসে সমৃদ্ধ হচ্ছে; নতুন নতুন বিষয়ের সংজ্ঞা ও নতুন নতুন শব্দের সাথে পরিচিতি লাভ করছে; নতুন বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন কন্সেপ্ট মানুষ গ্রহণ করতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠছে; তখন বাঙালি মুসলমান ইংরেজদের উপর অতিষ্ট হয়ে সেসব ধারণা ও বিষয় থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে রাখছেন যা ভবিষ্যতে বাঙালি মুসলমানকে অনুন্নত করে রাখতে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানাবিধ শাখায় হিন্দুরা ইতোমধ্যেই নিজেদেরকে যোগ্য করতে পারলেও বাঙালি মুসলমান ধর্মের ছায়াসম্বলিত কুসংস্কারের মধ্যে আকণ্ঠ ডুবে রইলেন। বাঙালি মুসলমানদের নিদারুণ এই পেছনফেরা দেখে কিছু মুসলিম বুদ্ধিজীবী স্বজাতিকে বিশ্বপরিস্থিতি মোকাবেলার যুগোপযোগি করতে কলম ধরেছিলেন। তারা চিন্তা করেছিলেন বাঙালি মুসলমানদের বুদ্ধির আড়ষ্টতা ভেঙ্গে দিতে পারলে আবার তারা বিশ্বের উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন। মুসলমানদের পশ্চাৎপদ ধারণার আধুনিক সংস্করণ কী রূপ হওয়া দরকার তা নিয়ে তাঁরা মতামত ব্যক্ত করতে থাকলেন। সেইসব মতামতকে একটি ব্যানারে রাখতে তৈরি করা হলো ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’। এই সংগঠনটি ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জানুয়ারি ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম হলের ইউনিয়নকক্ষে জন্মলাভ করেছিল। নতুন এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের তরুণ অধ্যাপক আবুল হুসেনকে। সংগঠনটিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও যারা সংযুক্ত ছিলেন তারা হলেন এম আব্দুল হক, আব্দুল কাদিরসহ, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী আনওয়ারুল কাদির, কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল ফজল, মোতাহের হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। এই সংগঠনের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হতো ‘শিখা’ নামে একটি সাময়িকপত্র যার বাণীবদ্ধ শ্লোগান ছিল ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’। এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ বাঙালি মুসলমানদেরকে জাগ্রত করার আপ্রাণ চেষ্টায় রত ছিলেন।
‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠার পূর্বেও মুসলিম রেনেসাঁ সৃষ্টির প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে নবাব আব্দুল লতিফ, সৈয়দ আমীর আলীসহ আরো অনেকের মধ্যেই। আবার ‘শিখা’ পত্রিকা প্রকাশিত হবার পূর্বেও বেশকিছু সময়িকপত্র একই উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছে। ড. আনিসজ্জামান কর্তৃক রচিত ‘মুসলিম বাংলার সাময়িকপত্র’ গ্রন্থে এধরণের ১৪০টি পত্রিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেজন্যে এই ধারার কয়েকটি সাময়িকপত্রের পরিচিতি এখানে তুলে ধরা যেতে পারে। মুসলমানদের প্রথম সাময়িকপত্র হিসেবে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশিত শেখ আলীমুল্লাহ সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র’কে উল্লেখ করা যেতে পারে। এই পত্রিকার অর্ধেকটা ছাপা হতো বাংলা ভাষায় আর অর্ধেক ছাপা হতো ফারসি ভাষাতে। পত্রিকাটি মুসলমানদের ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করতো। মৌলবী রজব আলী সম্পাদিত ‘জগদুদ্দীপক ভাস্কর’ কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে। এই পত্রিকাটি এদেশেই এক মলাটের ভেতরে পাঁচটি ভাষায় প্রকাশ করা হতো। ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল ‘আজীজন নেহার’। মীর মোশাররফ হোসেন তাঁর প্রথম স্ত্রীর নামানুসারে পত্রিকাটির নামকরণ করেন। এছাড়াও প্রকাশিত হয়েছিল ‘সুধাকর’(১৮৮৯খ্রি.)। সাপ্তাহিক এ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আবদুর রহিম। কলকাতা থেকে প্রকাশিত এ পত্রিকাকে জাতীয় সংবাদপত্র হিসেবে অভিহিত করা হয়। সুধাকর পত্রিকাকে কেন্দ্র করে একদল মুসলমান লেখক স্বজাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। ‘ইসলাম প্রচারক’ মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে। ধর্মনীতি, সমাজনীতি, ইতিহাস ইত্যাদি বিষয়ক এই পত্রিকাটি প্রকৃত ইসলাম প্রচারে অঙ্গিকারাবদ্ধ ছিল। ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে শেখ আবদুর রহিমের সম্পাদনায় প্রকাশ পেয়েছিল ‘মিহির’। সাহিত্য, বিজ্ঞান, পুরাবৃত্ত নিয়ে যুগোপযোগি বিশ্লেষণ প্রকাশ করতো পত্রিকাটি। ‘মিহির ও সুধাকর’(১৮৯৫খ্রি.) প্রকাশিত হয়েছিল শেখ আব্দুর রহিম সুধাকরের সম্পাদনায়। ১৯০৮ খ্রি. পর্যন্তু এই পত্রিকাটির অস্তিত্ব বজায় ছিল। ইসলাম ধর্মের পবিত্র আদর্শ প্রচার ও মুসলমান জাতির সর্বাঙ্গীন কল্যাণসাধনই ছিল এই পত্রিকার প্রধান ব্রত। কহিনুর (১৮৯৮খ্রি.) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এস কে এম মহম্মদ রওশন আলী। কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত কহিনুরের প্রতিজ্ঞা ছিল হিন্দু-মুসলমানে সম্প্রীতি, জাতীয় উন্নতি ও মাতৃভাষা বাংলার বিকাশ সাধন করা। মুসলমানদের জাতীয় জীবনের উন্নতি কল্পে এসব পত্রিকা ব্যতীতও প্রকাশ হতো প্রচারক (১৮৯৯খ্রি.); লহরী (১৯০০খ্রি.); নবনূও (১৯০৩খ্রি.); বাসনা (১৯০৮খ্রি.); আল এসলাম (১৯১৫খ্রি.); সওগাত (১৯১৮খ্রি.); মোসলেম ভারত (১৯২০খ্রি.) ইত্যাদি। ‘ধূমকেতু’ ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হতো। এই পত্রিকাটি প্রকাশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে ‘দেশের যারা শত্রু, দেশের যা কিছু মিথ্যা, ভ-ামী, মেকি, তা সব দূর করতে ধূমকেতু হবে আগুনের সম্মার্জনী’। এরপর প্রকাশিত হয় ‘শিখা’ (১৯২৬খ্রি.) পত্রিকা। বাঙালি মুসলমানের বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের চূড়ান্ত সূচনা হয়েছিল ‘শিখা’কে কেন্দ্র করে। ‘শিখা’তে যারা লিখতেন তাদেরও উদ্দেশ্য ছিল মুসলমান সমাজের জীবন ও চিন্তাধারার গতিপথ পরিবর্তন করা। এ পত্রিকার পরিচালকরা মনে করতেন ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’। এই আদর্শ শিখার রচনাবলিতে প্রতিফলিত হয়েছিল বলে পত্রিকাটি সে যুগে বিশেষ সাড়া জাগিয়েছিল এবং ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজের’ বার্ষিক সভায় পঠিত প্রবন্ধসমূহও এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতো। সেজন্যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের মুখপত্র হিসেবে শিখার গুরুত্ব ও অবদান ছিল অনন্য।
অদূরদর্শিতার কারণে আধুনিক বাংলা সাহিত্যে মুসলমান লেখকদের আর্বিভাব অনেকাংশেই বিলম্বিত হয়েছিল সে কথা আমরা শুনে এসেছি। সেজন্যে মুসলমানরা বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সাময়িকপত্র প্রকাশকে সামাজিক দায়িত্ব বলে মনে করেছেন। সাহিত্য সমাজের দর্পণ ও সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার। এই কথা মনে রেখে মুসলমান লেখকরা বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে প্রবেশ করার তাগাদা অনুভব করেছিলেন। ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ ছিল সেই তাগাদার সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। আধুনিক বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের তৎপরতা প্রসঙ্গে ড. কাজী আবদুল মান্নান তাঁর ‘আধুনিক বাংলা সাহিত্যে মুসলিম-সাধনা’ গ্রন্থে মন্তব্য করেছেন যে, ‘তখনকার দিনে অসীম নিষ্ঠা, ধৈর্য ও আগ্রহ নিয়ে গুটি কয়েক মানুষ দুর্দশাগ্রস্ত মুসলমানদের জাগাতে চেয়েছিলেন। হীনপ্রভ বঙ্গদেশীয় মুসলমানদিগের মধ্যে ‘পবিত্র ধর্মের বিমল জ্যোতি’ বিকীরণের জন্য তারা চেয়েছিলেন ধর্মগ্রন্থের অভাব মোচন করতে; ঐতিহ্য সম্বন্ধে সাহায্য করতে পারে এমন ঘটনা অনুসন্ধান ও প্রচার করতে; জাতীয় জীবনের সার্থপরতা এবং একতাহীনতা দূর করে সাহিত্যচর্চার আকাক্সক্ষা উদ্দীপ্ত করতে এবং প্রাণপণ প্রয়াসে অনুশীলন ও গবেষণা-প্রবৃত্তির স্ফূর্তি সাধন করতে; এক কথায় তারা চেয়েছিলেন মুসলমানদের মধ্যে ধর্ম, শিক্ষা, সাহিত্য ও শিল্পের বিকাশ সাধন করতে’।
‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ মনে করেছিল মুসলমানদের ইতিহাস, ধর্ম, সমাজ, ভাষা সমস্যা, সাহিত্যচর্চা ইত্যাদিতে বাঙালি মুসলিম দীপ্তিময় হতে পারবে। সেকারণে এর মুখপত্র কেন্দ্রিক লেখকদের দৃষ্টি সমগ্র মুসলিম জগতের ইতিহাসের প্রতি নিবদ্ধ হতে পেরেছিল। তুরস্কের ইতিহাস, খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গে ইতিহাসচেতনার বিশেষ সংযোগ, আরবের ইতিহাস, রাসূলুল্লাহ ও খোলাফায়ে রাশেদীনের ইতিহাস; ভারতবর্ষে মুসলমানদের শাসনের কথাও লেখকদের প্রেরণা যুগিয়েছিল। মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা ও ধর্মজীবনে প্রত্যাবর্তনের কথাও অনেকে ভেবেছেন; শিক্ষাবিস্তারের কথাও সব লেখকেরা চিন্তা করেছেন। ধর্ম সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতা দূরীকরণ এবং সত্যধর্ম জাগ্রত করার চেষ্টা থেকেও লেখকরা পিছপা হতে পারে নি। এসব করতে গিয়ে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ নানানভাবে বিতর্কিত হয়েছে, কোনো কোনো বিষয়ে সার্থক হয়েছে আবার কোনো বিষয়ে ব্যর্থও হয়েছে।‘শিখা’ পত্রিকার লেখকেরা প্রতিক্রিয়াশীলদের দ্বারা সমালোচনার সম্মুখিন হয়েছেন অন্যদিকে মুসলমানদের ভবিষ্যত গঠনের পরামর্শদাতা হিসেবে আপামর মুসলিম সমাজে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছেন। বিতর্কটুকু বাদ দিলে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ বাঙালি মুসলমানের ভাগ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল; এ কথা বলা যেতে পারে।
সাহিত্য সংগঠন হিসেবে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেছে ধর্মের নামে চলে আসা কুসংস্কারকে। এ সমালোচনায় সোচ্চার ছিলেন মোতাহের হোসেন চৌধুরী। ধর্ম যখন তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও স্বরূপ হারিয়ে নিমজ্জিত হয় গোঁড়ামি ও আচার সর্বস্বতায়, তখন তা হয়ে ওঠে মানবতাবিরোধী। মোতাহের হোসেন চৌধুরী লক্ষ্য করেছিলেন ধর্মীয়জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে মুসলিম সমাজের উন্নতি ত্বরান্বিত হতে পারেনি। বুদ্ধির বিচারে ধর্মকে বিশ্লেষণও করা হয়নি। ফলে সনাতনি ধর্মের আশপাশে অবস্থান করা মুসলমানগণ ধীরে ধীরে ধর্মের নামে অধর্ম বা অপসংস্কারে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেছে। চিন্তার স্বাধীনতা, বুদ্ধির মুক্তি ও মুসলমানদের ধর্মচেতনার স্বরূপ কেমন হওয়া দরকার তার পরিষ্কার ধারণা দেবার চেষ্টা করেছেন ‘শিখা’ পত্রিকার অন্যতম এই লেখক। মোতাহের হোসেন চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে নোয়াখালী জেলায়। তাঁর মাতা ফতেমা খাতুন গৃহিনী এবং পিতা সৈয়দ আবদুল মজিদ ছিলেন পেশায় সাবরেজিস্টার। মোতাহের হোসেন অল্প বয়সেই পিতৃহারা হয়েছিলেন। তাঁর শৈশব, কৈশর ও শিক্ষাজীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে নানা বাড়ি কুমিল্লাতে। কুমিল্লা ইউসুফ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি ও স্নাতক পাশ করেন। তিনি ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিয়য়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪৬ সালে মোতাহের হোসেন চৌধুরী কলকাতার ইসলামীয়া কলেজে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ১৯৫৬ সাল পর্যন্তু তিনি চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যাপনা করেন। মোতাহের হোসেন চৌধুরী মাত্র তিনটি বই বাংলা সাহিত্যকে উপহার দিয়ে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর (১৯৫৬খ্রি.) পরে এই বই তিনটি প্রকাশিত হয়। ‘সংস্কৃতি কথা’ (১৯৫৮ খ্রি.) তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ। দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘সুখ’ (১৯৬৫খ্রি.) বার্ট্রান্ড রাসেলের `Conquest of Happiness গ্রন্থের অনুবাদ। তাঁর তৃতীয় গ্রন্থ ‘সভ্যতা’ (১৯৬৫ খ্রি.); ক্লাইভ বেলের `Civilization’ গ্রন্থের ভাবানুবাদ। মোতাহের হোসেন চৌধুরী ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’র বিভিন্ন সম্মেলনে প্রবন্ধ পাঠের মাধ্যমে তাঁর অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। পঞ্চম বার্ষিক সম্মেলনে পাঠ করেন ‘আমাদের দৈন্য সাহিত্য সমাজ’ (১৯৩১খ্রি.)। ‘আদেশ পন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী’ পাঠ করেন ষষ্ঠ বার্ষিক সম্মেলনে (১৯৩২ খ্রি.)। অষ্টম বার্ষিক সম্মেলনে (১৯৩৪ খ্রি.) পাঠ করেন ‘মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা’। ‘শিখা’ পত্রিকার পঞ্চম বর্ষে (১৯৩১ খ্রি.) প্রকাশিত হয় ‘রবীন্দ্রনাথ ও বৈরাগ্যবিলাস’। বিচিত্রা, মাসিক মোহাম্মদী, সওগাত, ছায়াবীথি, বুলবুল প্রভৃতি পত্রিকাতেও মোতাহের হোসেন চৌধুরীর লেখা মূল্যবান সব প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে এসেছে।
মোতাহের হোসেন চৌধুরীর শ্রেষ্ঠ সাধনা হলো ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থ। এ গ্রন্থের মাধ্যমেই তিনি বাঙালি মুসলিমদের চেতনাকে জাগ্রত করতে চেয়েছেন। তিনি মনে করতেন মানুষকে মহৎ করতে, বড় করতে, মার্জিত করতে পারে তার সংস্কৃতি। উন্নত সংস্কৃতির সন্ধান পেলে মানুষও হয়ে ওঠতে পারে উন্নত ও সুসভ্য। তিনি মনে করেন সংস্কৃতিবান মানুষরা সবকিছু করেন ভালবাসার তাগিদে। সত্যকে ভালবাসা, সৌন্দর্যকে ভালবাসা, ভালবাসাকে ভালবাসা, বিনা লাভের আশায় ভালবাসা, নিজের ক্ষতি স্বীকার করে ভালবাসা; এর-ই নাম সংস্কৃতি। মোতাহের হোসেন চৌধুরী মনে করেন সাধারণ মানুষ ধর্মের মধ্য দিয়েই প্রেম ও সৌন্দর্যের সন্ধান করে। আর শিক্ষিত মার্জিত রুচির মানুষেরা সংস্কৃতির মধ্যদিয়ে প্রেম ও সৌন্দর্যের সন্ধান করে। ধর্ম সাধারণ মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে আর কালচার বা সংস্কৃতি শিক্ষিত ও মার্জিত মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি মনে করেন ধর্ম বাইরে থেকে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু সংস্কৃতিবান মানুষরা নিজের ভিতর থেকে নিয়ন্ত্রিত হবার প্রয়োজন অনুভব করে। এখনেই ধর্মের সাথে সংস্কৃতির পার্থক্য। তিনি মনে করেন ধর্ম সাধারণ মানুষের কালচার আর শিক্ষিত মার্জিত মানুষের কালচারই হচ্ছে ধর্ম।
মোতাহের হোসেন চৌধুরী দেখিয়েছেন বস্তুত সাহিত্য, শিল্প সঙ্গিত এসব কালচারের উদ্দেশ্য নয়; বরং এগুলো সংস্কৃতির উপায় বা মাধ্যম। এসবের মাধ্যমে নিজেকে নিজেই নিয়ন্ত্রণ করার আত্মিক শক্তি অর্জন করা যায়। এভাবে নিজের মধ্যে যে একটি সত্তা তৈরি করে নিতে পেরেছে সেই কালচার্ড বা সংস্কৃতিবান ব্যক্তি। অন্তরকে জাগ্রত না করে যারা ধর্মের সাধনা করে তারা অলৌকিক স্বর্গলাভের জন্য কিংবা নরকের আগুন থেকে মুক্তি লাভের নিমিত্তেই তা করে থাকে। কিন্তু সংস্কৃতিবান মানুষের এরূপ কোনো আকাক্সক্ষা থাকে না। সে সাধনা করে সৌন্দর্যের জন্যে, আনন্দের জন্যে এবং আত্মবিকাশের জন্যে। সংস্কৃতিবান ব্যক্তিরা নিষ্ঠুর অন্যায়কে ঘৃণা করে। তারা অনেকের মধ্য থেকেও নিজেরা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের একক। ভিতরের আমিত্বকে সুন্দর করে তোলাই তাদের কাজ। তাই তারা ব্যক্তিতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক নন। নিজেকে বাঁচাও, নিজেকে মহান করো, সুন্দর করো, বিচিত্র করো এ হলো কালচারের নির্দেশ। ব্যক্তির পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই সমাজের পরিবর্তন ঘটে। এ জন্যেই আগে ব্যক্তি পরে সমাজ। জীবনের বিকাশ সমাজের দিকে নয় নিজের দিকে তাকিয়েই হয়। সমাজ দশের মধ্যে এক হতে বলে; এগার নয়। কালচার আদেশ করে দশের ভিতর এগারো হতে। স্বতন্ত্র হতে।
মোতাহের হোসেন চৌধুরি মনে করেন ধর্ম মানুষকে পাপ থেকে রক্ষা করতে চায়, আর সংস্কৃতি চায় মানুষকে বিকশিত করতে। সংস্কৃতির সাথে ধর্মের পার্থক্য এখানেই। তিনি বলেন ধর্ম ইন্দ্রীয় সাধনার পরিপন্থী কিন্তু সংস্কৃতি ইন্দ্রীয় সাধনার মধ্যদিয়েই জীবনকে সুন্দর করতে চায়। তাই চোখ কান খোলা রেখেই পথ চলতে হয়। কালচার ইন্দ্রীয় সাধনার পক্ষপাতী বলে নারী তার অপরিহার্য উপাদান। সেজন্যে কালচার নারীকে অস্বীকার করে না। কেননা কালচারে বৈরাগ্য নেই, আছে জীবনের আনন্দ-বেদনার সহস্রধারার বিপুল কল্লোল। ভোগের চেয়ে প্রেম ও আনন্দ বড় তা সংস্কৃতিবানরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে। সংস্কৃতির সাধনা পূর্ণ হওয়ার সাধনা। জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রেম-ভালবাসা, সৌষ্ঠব-ব্যক্তিত্ব ইত্যাদির পরশে স্নাত না হলে সংস্কৃতিবান হওয়া যায় না। মোতাহের হোসেন ধর্মকে বাদ দিয়ে নয় প্রকৃত ধর্মের সাথে মিলেমিশে সংস্কৃতিবান হওয়ার দিকে বাঙালি মুসলমানদেরকে ইঙ্গিত করেছেন। প্রকৃত ধর্ম আর কালচারে সমৃদ্ধ হয়ে বেঁচে থাকতে পারলেই সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে, মহৎভাবে বেঁচে থাকা যায়। মোতাহের হোসেন চৌধুরী সেদিকেই বাঙালি মুসলমানদেরকে আহবান করেছেন।
মোতাহের হোসেন চৌধুরী এসব চেতনার স্ফুরণ দেখেছিলেন ইংরেজি সাহিত্যে। তিনি ছিলেন লন্ডনের ব্লুমসবারি গ্রুপের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সেজন্যে তিনি অনুবাদ করেছিলেন ক্লাইভ বেলের সিভিলাইজেশন (সভ্যতা) এবং ব্র্যাটান্ড রাসেলের কনকোয়েস্ট অব হ্যাপিনেস (সুখ) গ্রন্থ দু’টি। তিনি চেয়েছিলেন ইউরোপের সমাজচেতনার মতো এদেশের মুসলিম সমাজের চেতনাও জেগে ওঠুক। ক্লাইভ বেল ও ব্র্যাটান্ড রাসেল উভয়েই ছিলেন ব্লুমসবারি গ্রুপের অন্যতম চিন্তক। এই গ্রুপে আরো যেসব বিখ্যাত দার্শনিক, সাহিত্যিক ও শিল্পী ছিলেন তাদের মধ্যে এম ফরস্টার, জি ই মুর, ডি এইচ লরেন্স, হার্বাট রিড, রজার ফ্রাই, লিটন স্ট্রেচি, লেওনার্দ ওলফ, ভার্জিনিয়া উলফ, ভেনেসা বেল প্রমুখের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। এই গ্রুপটির দ্বারাই মোতাহের হোসেন চৌধুরী প্রভাবিত হয়েছিলেন। সেকারণে তিনি সিভিলাইজেশন ও কনকোয়েস্ট অব হ্যাপিনেস অনুবাদ (সভ্যতা; সুখ) করে ব্লুমসবারি গ্রুপের চেতনার সাথে বাঙালি মুসলমানদের পরিচিত করাতে চেয়েছেন। মোতাহের হোসেন বিশেষভাবে সচেতন ছিলেন দেশকালের চাহিদা সম্পর্কে এবং তিনি পালন করেছিলেন সমন্বয়বাদীর ভূমিকা। ভিতর থেকে ক্ষয় হতে থাকা বাঙালি মুসলিম সমাজকে তিনি ভিতর থেকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। ক্লাইভ বেলের সিভিলাইজেশনের অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি বলার চেষ্টা করেছেন যে, ‘সিভিলাইজেশন’ রচনা করা হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে। সেসময়ে মিত্রশক্তির মুখে ছিল সভ্যতার দোহাই কিন্তু সভ্যতা কি তা তারা বুঝে উঠতে পারেনি। সভ্যতা বুঝাতে বেল রচনা করেছিলেন ‘সিভিলাইজেশন’ নামে গ্রন্থটি। মোতাহের হোসেন চৌধুরীও এই গ্রন্থটি অনুবাদ করেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও এদেশের হিন্দু-মুসলমানের বিরোধকে মোকাবেলা করতে। সভ্যতার নামেই শুরু হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। এদেশে হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্বও সংস্কৃতি আর সভ্যতার নামে হচ্ছে। সংস্কৃতি ও সভ্যতা কি সেটা ভাল করে না জেনেই সেটা নিজেদের অধিকারে নেবার চেষ্টা চলছে বলেই এদেশের সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আতœঘাতি এই অন্ধবিশ্বাস থেকে সমাজকে মুক্ত করার প্রয়াসে মোতাহের হোসেন চৌধুরী ‘সিভিলাইজেশন’ অনুবাদ করেন। বাঙালি সমাজেরর আর একটি ব্যাধি রয়েছে। সেটি হচ্ছে শুধু অর্থ উপার্জন। অর্থ উপার্জনকেই তারা কাজ মনে করেন। অর্থ উপার্জন ব্যতীতও যে কাজ রয়েছে সে কাজে এদেশের মানুষ অভ্যস্ত হতে পারেনি। আত্মার মুক্তি ও তার সৌন্দর্যসাধনও যে একটি কাজ; যে কাজটি অনার্থিক বলে কেউ করতে চান না। অথচ এই অনার্থিক কাজই মানুষকে সভ্য ও সংস্কৃতিবান করে তুলতে পারে। মোতাহের হোসেন চৌধুরীর কাছে লেখালেখিটাও একটি অনার্থিক কাজ। কর্মব্যস্ত সংসারে মুক্তির জয়গান গাওয়া যায় এই কাজটির মাধ্যমে।
মোতাহের হোসেন চৌধুরী সমাজে মুল্যবোধ ও যুক্তিবিচার প্রতিষ্ঠা করতে চান। ব্যক্তিজীবন থেকে সমাজ জীবন সর্বত্রই তিনি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে চান। তিনি মনে করেন নিকটবর্তী স্থূল সুখের চেয়ে দূরবর্তী সুক্ষ্ম সুখকে, আরামের চেয়ে সৌন্দর্যকে, লাভজনক যন্ত্রবিদ্যার চেয়ে শিল্প ও আনন্দপ্রদ সুকুমার বিদ্যাকে শ্রেয় মনে করা এবং এজন্য অপেক্ষা করতে শেখাই হচ্ছে মূল্যবোধ। যুক্তির বিচারে জীবনকে উপলব্ধি করে যে আনন্দ উপভোগ করা যায় সেটাই বড় সুখ। এই সুখ অর্থ-সম্পদ না থাকলেও ঘটতে পারে।এই সুখের সাধনা করার নামও সংস্কৃতি। এসব বৈশিষ্ট্যে নিজেকে মোড়াতে পারলেই মানুষ সভ্য হয়ে উঠতে পারে। সার্থহীন জীবনের যে স্বাদ মোতাহের হোসেন চৌধুরীর কাছে ধরা পড়েছে সে স্বাদই তাঁর কাছে পরম সুখ হিসেবে বিবেচিত হয়ে উঠেছে।
এসব চেতনার দ্বারা মুসলিম সমাজকে প্রভাবিত করতে গিয়ে মোতাহের হোসেন চৌধুরীকে নানারকম গঞ্জনা ও বঞ্চনা সহ্য করেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাঁর অভিব্যক্তির সাথে সাথে নিজেদের চিন্তার সমন্বয় ঘটিয়ে বাঙলি মুসলিম সমাজ এখনও আত্মপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।