একটি মাধ্যমকে তখনই স্বতন্ত্র শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় যখন সে আপন মহিমায় স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে। এই গুণের কারণেই সাহিত্য, চিত্র, ভাস্কর্য, গান, নৃত্য এগুলো স্বনির্ভর শিল্প। আর এই গুণেই আবৃত্তিও একটি স্বতন্ত্র শিল্প। আবৃত্তির রয়েছে নিজস্ব রীতি-পদ্ধতি, রয়েছে নিজস্ব ধারা, রয়েছে ঐতিহ্য, রয়েছে মানুষকে আকর্ষণ করার মতো মোহময় জাদুশক্তি। খোলাকণ্ঠের কারসাজিতে আবৃত্তিশিল্পী দর্শকের মননে নবধারার আনন্দ সঞ্চার করতে পারেন। পারেন দর্শককে ভাবাবেগের তুঙ্গে অবস্থান করাতে। দর্শককে কবিতার অমিয় বাণীর উচ্চারিত ঝংকারে মত্ত করে তুলতে পারেন একজন আবৃত্তিকার। কবির বিশ্বাসের সঙ্গে দর্শকের বিশ্বাসকে একাত্ম করে দেয়া হয় আবৃত্তিতে। কালো কালির অক্ষরগুলো কণ্ঠরূপ পেয়ে মুখরিত হয়ে ওঠে আবৃত্তির কারণে। সেই দিক বিবেচনায় মূক বিষয়কে নবজন্ম দান করে আবৃত্তি। এবং একই বিবেচনায় আবৃত্তিকারও কবির মতো স্বতন্ত্র স্রষ্টা হয়ে ওঠেন। কবিতার ভেতরে লুক্কায়িত জীবনবোধকে নান্দনিক সুষমায় কণ্ঠরূপ দেয়া হয় আবৃত্তিতে। যা ছিলো একান্ত কাগজের পৃষ্ঠায় মুদ্রিত তাকে কণ্ঠে তুলে এনে জীবনমুখী করে তোলেন আবৃত্তিশিল্পী। মানুষের কর্ণকুহরে কবিতার ভাবকে ঢুকিয়ে দিয়ে তার মর্মমূলে অনিন্দ্য সুরের স্নিগ্ধ ঝংকার সৃষ্টি করেন আবৃত্তিকার। কবিতার বাণী যখন কান থেকে হৃদয়ে এসে আঘাত করে তখন মানুষ অনাবিল আনন্দ উপভোগ করে। তখন মানুষ অনুভব করে সে কিছু একটা পেয়েছে। কি পেয়েছে সেটা নিয়ে তার আর মাথাব্যথা থাকে না। পাওয়ার আনন্দই বড় হয়ে ওঠে। তার এই পাওয়া লৌকিকতাকে ছাড়িয়ে যায়। অলৌকিক আনন্দে ভরে ওঠে তার মন। ভাবনাহীন চিত্তে কিছুক্ষণ স্বর্গীয় সুধা পান করে সে। মানবজীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে শেখায় আবৃত্তি। জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে শেখায় বলেই আবৃত্তি একটি স্বতন্ত্র এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্প।
যারা আবৃত্তির শিল্পসত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের প্রশ্নই বলে দেয় তারা অন্তত আবৃত্তির শিল্প সম্ভাবনাকে স্বীকার করেন। কিন্তু আবৃত্তি শিল্প কিনা এ নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব থেকে যায়। উপযুক্ত প্রমাণ এবং দৃষ্টান্ত না পাওয়ায় তারা এটাকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সংশয় প্রকাশ করেন। তাদের দৃষ্টান্ত না পাওয়ার প্রধানতম কারণ হলো তারা শিল্পবোদ্ধা হলেও আবৃত্তি অনুষ্ঠানে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আবৃত্তি শোনার ধৈর্য এবং সময় তাদের হাতে নেই। তা ছাড়া তারা কবিতাকে শুধু বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখেন। এ ছাড়াও বাঙালির চিরায়ত স্বভাব হলো নতুন কোনো কিছুকে সহজে স্বীকৃতি না দেয়া। আর স্বীকৃতি পাওয়ার পর সেটা নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করা। সাহিত্যের সব শাখার মধ্যে কবিতা হলো সবচেয়ে প্রাচীন এবং সবচেয়ে জটিল। তাই অনেক বোদ্ধা সমালোচকও কবিতার অন্তর্নিহিত ভাবালোকে অবগাহন করতে পারেন না। এ জন্য আবৃত্তির শিল্পমূল্য নিয়ে তাদের প্রশ্নের শেষ নেই আবার উত্তর জানার চেষ্টাও নেই। যাইহোক আমরা তারপরেও আবৃত্তি কেন শিল্প তার যথার্থ ব্যাখ্যা প্রদান করার চেষ্টা করবো। যদিও আবৃত্তি প্রাচীনতম শিল্পের মধ্যে একটি তবুও আবৃত্তিকে নতুন শিল্প বলে নতুনভাবে আমাদের ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে। বিষয়টি বেদনাদায়ক হলেও আমরা ব্যাখ্যা করছি।
আবৃত্তিকে বলা হয় কবিতার পুনর্জন্ম। কবিতাও মূলত পুনর্জন্ম। কবির মনে উত্থিত ভাব তিনি বাহ্য জগতের শব্দ সম্ভারের আশ্রয়ে প্রকাশ করেন। কবিতার প্রথম জন্ম কবির হৃদয়ে। তারপর কাগজে। কবিতা যদি পুনর্জন্ম হিসেবে শিল্প হতে পারে তাহলে আবৃত্তি পুনর্জন্ম হিসেবে শিল্প নয় কেন? তারও আগের কথা হলো শিল্প মানেই পুনর্জন্ম। প্লেটোর অনুকরণবাদ অন্তত তাই বলে। প্লেটো কবিদের তার আদর্শ রাষ্ট্র থেকে বের করতে চেয়ে নিজেও কবিত্বশক্তি অর্জন করে ফেলেছেন। এমন আবেগঘন করে তিনি কবিদের তার রাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়ার কথা বলেছেন, আধুনিক গদ্য কবিতার আদলে ব্যাখ্যা করলে তার ঐ বক্তব্যকে গদ্য কবিতা বলা যায়। আমরা আসলে নতুন কিছু সৃষ্টি করি না। প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত বিষয়কে নতুনভাবে বিন্যস্ত করি মাত্র। এই বিন্যাসের নানা ধরন থেকে বিচিত্র শিল্পকর্মের উদ্ভব। এক একজন প্রকৃতিকে এক এক ভাবে বিন্যস্ত করেছেন। এ জন্য শিল্পের প্রচুর রকমফের। জীবনকে দেখার বিচিত্র অনুভূতির কারণেই শিল্পের এত প্রকরণ। আর দেখার বৈচিত্র্য আছে বলে মানুষ বেঁচে থাকার স্বাদ আস্বাদ করছে।
ধ্বনি সমষ্টির শুদ্ধ ও শিল্পিত উচ্চারণই আবৃত্তি। কবিতার দেহের স্তরে স্তরে, পঙক্তিতে পঙক্তিতে, স্তবকে স্তবকে রকমারি ভাবের যে ফল্গুধারা থাকে একজন আবৃত্তিকার কৌশলী গোয়েন্দার মতো কবিতার দেহের সেই ঐশ্বর্যকে ক্রমান্বয়ে উন্মোচিত করেন। কবির হৃদয় থেকে উৎসারিত চিন্তাগুলো মস্তিষ্কবোধে সঞ্জীবিত হয়ে কণ্ঠে ধ্বনিত হয়। আবৃত্তির মাধ্যমে মূর্ত হয় কবিতার অন্তর্নিহিত ক্ষণিক ও চিরকালীন ভাবনা। আবৃত্তির মাধ্যমে আরো মূর্ত হয় কবির সমস্ত স্বপ্ন এবং দেখা-অদেখার যাবতীয় নির্মাণ। আবৃত্তি ভগ্নস্বরকে পুষ্ট ও পরিণত করে, কর্কশ স্বরকে মধুর ও মোলায়েম করে, জিহবার জড়তা দূর করে, মনকে করে পবিত্র, পরিশীলিত, রুচিবান ও নির্মল। একজন আবৃত্তিকার খুব সহজে কবিতার ভাবার্থ অনুধাবন করতে ও করাতে পারেন। তিনি সহজে নিজের বক্তব্য অন্যের কাছে সহজ ও উপভোগ্য করে তুলতে পারেন। নিজের বক্তব্যের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করাতে পারেন। বক্তব্যকে শক্তিশালী বলে প্রমাণ করতে পারেন। তার স্বরগ্রাম ও বাচনভঙ্গি এতটাই আয়ত্তে থাকে যে, যে কোনো শব্দই যথাযথ ভাবাবেগে উপস্থাপন করতে তিনি সক্ষম। প্রাচীন যুগের কবিতা, মধ্যযুগের কবিতা, দুর্বোধ্য আধুনিক কবিতা ও সাম্প্রতিক বাংলা কবিতাকে বাংলার প্রতিটি কোনে জীবন্ত ও মানবিক চেহারায় উপস্থাপন করেন একজন আবৃত্তিকার। বাচনিক নন্দন যদি ব্যক্তিত্বের বিকাশ হয় আর মানব হৃদয়ের ভাবকে মনোমুগ্ধ করে প্রকাশ যদি শিল্প হয় তাহলে প্রচলিত শিল্পমাধ্যমগুলোর মধ্যে প্রধান শিল্পমাধ্যম হলো আবৃত্তি।
আবৃত্তি এক উচ্ছল আনন্দধারা। এ আনন্দ স্বতন্ত্র ও জীবনমুখী। কবিতার বিষয় আবৃত্তিকারের মননে জারিত হয়ে লালিত হয় কণ্ঠ লালিত্যে। পঙক্তির আবেগ জীবন্ত হয়ে রূপান্তরিত হয় কণ্ঠ আবেগে। সেই কণ্ঠ আবেগ আমাদের কানের মধ্যে গুঞ্জরণ সৃষ্টি করে। সুরের অতীন্দ্রিয় ইন্দ্রজালে আমরা আটকা পড়ি। আমাদের মস্তিষ্ক ও হৃদয় স্থির হয়ে যায় এক বিন্দুতে এসে। সেই বিন্দু হলো আবৃত্তিকারের কণ্ঠ। সেই কণ্ঠ শুনে আমরা আন্দোলিত হই। আমাদের অন্তর্গত চেতনায় ঝড় ওঠে। আমরা তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠি সৌন্দর্যলোকের বায়বীয় শরবত পান করার জন্য। আবৃত্তিকার আমাদের সেই তৃষ্ণা মিটিয়ে দেন। নতুন অর্থে, নতুন বর্ণে, নতুন আঙ্গিকে, নতুন ভঙ্গিতে, নতুনের আবাহনে আমরা পেয়ে যাই এক স্বতন্ত্র শিল্প, যার নাম আবৃত্তি। যার আশ্রয় ও প্রশ্রয় মানুষের কণ্ঠ। কবিতার ভেতরে যা কিছু থাকে উপ্ত, লুপ্ত বা গুপ্ত আবৃত্তি শিল্পী তার কণ্ঠে তাই করেন মূর্ত। এখানেই আবৃত্তি একটি স্বতঃস্ফূর্ত শিল্প হিসেবে স্বয়ম্ভু।
শিল্প হলো মানুষের নতুন নতুন চিন্তার প্রতিফলন। জীবনকে কোনো না কোনোভাবে পুনরায় দেখানোর প্রয়াশই শিল্প। শিল্প হলো জীবন মহলার সারোৎসার; জীবন বীণার একতারাতে সুরের ঐকতান। রূপে রূপে অরূপের সাধনাই শিল্প। এসব দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে আবৃত্তি একটি স্বতন্ত্র শিল্প। আমরা অনেক সময় কিছু কবিতা পড়ি কিন্তু বুঝি না। যখন কোনো ভালো আবৃত্তিকারের কণ্ঠে ঐ কবিতাটি শুনি তখন মনে হয় এতদিন কবিতাটি বুঝিনি কিন্তু আজ বুঝলাম। কবিতাটি বোধ হয় তার কণ্ঠের উপযোগী করেই রচনা করা হয়েছে। তখন আবৃত্তিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জন্মে এবং নিজেরও আবৃত্তিশিল্পী হওয়ার সাধ জাগে। এই যে, আবৃত্তিকারকে আমরা স্বীকৃতি দিলাম। এই স্বীকৃতিই আবৃত্তির সৃজনীশক্তির প্রকাশ। সৃজনশীলতা মানেই সুন্দর। আর সৌন্দর্যই শিল্পের আরাধ্য। এই সৃজনীই প্রমাণ করে আবৃত্তির শিল্প সফলতা। এই শিল্প নির্মাণের কারিগর হলো আবৃত্তিকার। তিনি আমাদের বুঝিয়ে দেন- জিহবায় উচ্চারিত প্রতিটি স্বেদবিন্দু কবিতা।
প্রাচীনকাল থেকেই আবৃত্তি একটি প্রতিষ্ঠিত শিল্পমাধ্যম হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছে। একটা সময় ছিলো যখন লেখার পদ্ধতি মানুষের জানা ছিলো না। যে কোনো সাহিত্য মুখে মুখেই রচিত হতো আর মুখে মুখে আবৃত্তির মাধ্যমে তা মুখরিত হয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান পেতো। তখন মানুষের বিশ্বাস ছিলো আবৃত্তির সাহায্যেই শব্দের গূঢ় অর্থ অনুসন্ধান করা সম্ভব। সংস্কৃত সাহিত্য বোদ্ধাদের মতে; ‘আবৃত্তি: সর্বশাস্ত্রাণাং বোধদপি গরীয়সী।’ অর্থাৎ সকল শাস্ত্রের বোধের চেয়েও আবৃত্তির গৌরব বেশি। বোধ করি এই কারণে আবৃত্তির সামাজিক গৌরবও ছিলো তুঙ্গে। প্রাচীন আর্য সমাজে এমনকি বৌদ্ধ যুগেও সমাজ জীবনে আবৃত্তির ছিলো অপ্রতিহত প্রতাপ। বৈতালিক, বন্দি, ভাট, নকিব আবৃত্তির মাধ্যমেই রাজ সভার সূচনা করতেন। নান্দি মঙ্গলাচারণ, স্বস্তিবচন, ভারতবচন, আশীর্বচন সবই হতো আবৃত্তির মাধ্যমে। যখন বাদ্যযন্ত্র আবিষ্কার হয়নি, অন্যকোনো শিল্প মাধ্যম আবিষ্কৃত হয়নি তখন আবৃত্তিই ছিলো একমাত্র শিল্প মাধ্যম। প্রাচীন ভারতে বেদ পাঠ করতে হলে ছয়টি গুণ রক্ষা করে পাঠ করতে হতো। এই গুণগুলো হলো- মধুরকণ্ঠে পাঠ, প্রত্যেকটি অক্ষরের সুস্পষ্ট উচ্চারণ, পদচ্ছেদ করে পাঠ, সুস্বরে পাঠ, ধৈর্যের সঙ্গে পাঠ এবং তাল-লয়যুক্ত পাঠ। ভারতীয় নাট্যশাস্ত্রে যে চৌষট্টিকলার উল্লেখ আছে তার মধ্যে দুটি হলো ‘সংপাঠ্য’ ও ‘মানসী কাব্যক্রিয়া।’ সংপাঠ্য হলো যা সম্যকভাবে পাঠ করা হয় তাই। অর্থাৎ যেভাবে পড়লে বাক্যটি তার পরিপূর্ণ আবেদন নিয়ে প্রকাশিত হতে পারে তাই সংপাঠ্য। ‘কামসূত্রম্’ গ্রন্থের টীকাকার যশোধরের মতে, সংপাঠে একজন গ্রন্থ পাঠ করবেন অন্যজন তাকে সহযোগিতা করবেন। এটা অনেকটা আমাদের বৃন্দ আবৃত্তির মতো। এই সংপাঠ্যই বৃন্দ আবৃত্তির প্রাচীন রূপ। আর মানসী কাব্যক্রিয়া হলো উত্তম রূপে কাব্যপাঠ করা। অর্থাৎ মাত্রা-যতি-পঙক্তি-ছন্দ-লয়-সংযোগ-অসংযোগ-সন্ধি-স্তবক প্রভৃতি রক্ষা করে পাঠই উত্তম রূপে পাঠ।
ইসলামে বলা হয়েছে তারতিল সহ কোরআন তেলাওয়াত করতে। যদিও আমরা তেলাওয়াতকে আবৃত্তি হিসেবে মনে করি না, আসলে তারতিল রক্ষা করে পাঠই তেলাওয়াত। এই তারতিল হলো নিয়মকানুন। কোরআন ভুল পড়লে গোনাহ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এমনকি কোনো ইমাম যদি নামাজে কোরআন উচ্চারণে ভুল করেন অর্থাৎ যথাযথ আবৃত্তি করতে না পারেন তাহলে তার ইমামতিত্বে নামাজ পড়াও না-জায়েজ। ইসলামে সুন্দর ও সুরেলা কণ্ঠের প্রতি জোর দেয়া হয়েছে। শুধু সুরেলা কণ্ঠের কারণেই হাবসি বেলালকে এনে আযান দেয়ানো হয়েছে। শুধু তাই নয় রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের কবিতা শেখাও এতে তাদের কণ্ঠ সুরেলা হবে।’ মোহাম্মদ (সা.) তার শাসনামলে কবিতা আবৃত্তির জন্য মিম্বারও তৈরি করে দিয়েছিলেন। এবং তাঁর রাষ্ট্রের একটা কবিগোষ্ঠীও ছিলো ওদের বলা হয় আসহাবে সুফ্ফা।
আমাদের চর্যাপদগুলো যদিও আমরা লিখিত আকারে পেয়েছি কিন্তু এগুলোও গানের মাধ্যমে মুখে মুখে উচ্চারিত হয়ে আসছে। যার প্রমাণ নবচর্যাপদ। নেপালে এখনো এগুলো চাচাগান হিসেবে খ্যাত। আমরা জানি চর্যাপদ হলো বৌদ্ধ ধর্মের সাধনপ্রণালি বা গূঢ় রহস্য। অর্থাৎ বৌদ্ধধর্মও আবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল। প্রাচীন গ্রিসেও আবৃত্তির ব্যাপক প্রচলন ছিলো। সফোক্লিস নাট্যকার হওয়ার আগে কোরাস দলে আবৃত্তি করতেন। আর গ্রিক সাহিত্যে কোরাস চরিত্র পুরোটাই আবৃত্তিনির্ভর। আরবে তো কবিতা আবৃত্তির আসর বসতো প্রাচীনকাল থেকেই। প্রথমে কবিরা তাদের কবিতাগুলো আবৃত্তি করতেন তারপর সেগুলো দেয়ালে ঝুলিয়ে দিতেন।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে সহজেই অনুমেয় আবৃত্তি প্রাচীনকাল থেকেই পরিপূর্ণ শিল্প মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত এবং প্রতিষ্ঠিত।