এখানে এসেই থেমে যাই। একপাশে পড়ে থাকে পাতাঝরা দিন;
কোন এক অঘ্রাণে পিতামহের পায়ে মাখতে দেখেছিলাম নবান্ন উৎসব।
তারপর শীত এলে আমিও শরীর জুড়ে মেখেছিলাম গাঁদা ফুলের সবটুকো
হলুদ। সেই থেকে তোমার মুখখানি সবুজ হতে হতে হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ
চাদর। আমি নিরন্তর ঘুমিয়ে থাকি সেই ঘাসের বিছানায়…
কেননা এখানে কোলাহল নেই। বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসে বিশুদ্ধ
বাতাস। তাতে কেবল নিঃশব্দে ওড়ে তোমার অবাধ্য চুল অথবা হৃদয়।
আমি বহুবার সেই এলোচুল আর হৃদয় ছুঁয়ে-ছুঁয়ে হয়ে উঠেছি মুগ্ধ প্রেমিক।
এখানে রাত নামলেই শিয়ালেরা আর্তনাদ করে। কিংবা ঝিঁ-ঝিঁ পোকার কান্না
শুনি। নিথর দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষরা উপহাস জানে না বলেই পক্ষীকুল শান্তিতে
ঘুমায়। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে কানে আসে চুরি ভাঙার শব্দ; তাছাড়া আর
কোন কোলাহল নেই। এখানে আর কোন কোলাহল থাকতে নেই।