সময়ের নবায়নজ্বলা জ্যোৎস্নাঙ্কিত সন্ধ্যার মতোই কোমল আর বিশুদ্ধ কাব্যবোধ কবির মর্মে জাগা নৈসর্গিতকতার বিশালতাকে দশকের অ্যারোড্রাম থেকে কবিকে উড়িয়ে নিয়ে যায় দূরদূরান্তের গগন থেকে গগনান্তরে। তারার কক্ষপথের গহিন হাইওয়েতে মাইলস্টোনবিহীন দীর্ঘ পথের শেষ মাথায় যখন উল্কা বৃষ্টি জমাট বাঁধে বুকভর্তি উষ্ণতা নিয়ে। তেমনি একজন বিশুদ্ধ, প্রকৃত কবিও প্রকৃত পক্ষে আর সময়ের রেখার ইজেলে সীমিত পরিসরকে ধারণ করেন না। হয়ে ওঠেন বর্ষার হাওরের মতো অসীম-আদিগন্ত। আশির দশকের উজ্জ্বলতম কবি বুলান্দ জাভির নিজেও এই দশক বিভাজনের পক্ষে কখনো দাঁড়াননি। তিনি মনে করেন যেমন পাখি মাটি বা বৃক্ষের ডাল থেকে উড্ডয়নের পর পাখি নিজেও অনির্ধারিত সীমাকে স্পর্শ করে। কবিতাও তাই। শুধু কি তাই, বুলান্দ জাভির কবিতাকে আজীবন লাজুক ট্রেনের মতো ভেবে এসেছেন। যেন কবিতার ট্রেন তার পথরেখা পরিক্রমার ভেতর দিয়ে যেতে যেতে কতো না স্টেশন, জংশন ছুঁয়ে ছুঁয়ে গিয়ে শেষে কিরণঝরা প্রকৃত গন্তব্যে পৌঁছায়। কবিতাও ঠিক তাই। বুলান্দ জাভির বিশেষত আশির দশকের কবি হয়েও হয়ে উঠতে চান সার্বজনীন, সর্বকালীনতার কবি। অবশ্য বুলান্দ এর এমন দাবির পক্ষে যে লজিস্টিক গুরুত্ব রয়েছে- সে বিচারে তিনি সেটা করতেই পারেন। কেননা তার কবিতাই তাকে সেই অধিকারের দ্বিমাত্রিক অটোগ্রাফটুকু দান করেছে। তার কবিতা বিগত সাড়ে তিন দশক ধরে তাকে ধীরে ধীরে এক স্বকীয় বৈশিষ্ট্য রচনার সুযোগ যেমন করে দিয়েছে। একই ভাবে একজন পরিশীলিত কবিতাকর্মী হয়ে ওঠার মেঘলা পথেও জ্বেলে দিয়েছে নিরন্তর পেট্রোম্যাক্স। আর তারই আলোকে আমরা বুলান্দ জাভিরের কাছ থেকে পেয়ে যাই তরতাজা সাত-সাতটি কার্বগ্রন্থ। যথা: টুলবেঞ্চি সময়ের জুঁই, কোথা তুমি ঘনশ্যাম, অন্তরে নির্বাক বহ্নি, তৃষ্ণা আমার বক্ষজুড়ে, অবচেতনায় মুক্ত তুমি, ভালোবাসা একটি লাজুক ট্রেন এবং তবু বিহঙ্গ বন্ধ করো না পাখা। কবি বুলান্দ জাভিরের উল্লিখিত কাব্যগ্রন্থসমূহের কবিতার ভেতর যে লাল ঝাউবন দুলে ওঠে। আর ওই লাল ঝাউবনের গহনে যে কবিতার লাল, নীল, হলুদ রঙের পরীরা রূপকথার গল্পকে অমরত্ব দান করে। এসবই কবি বুলান্দ জাভিরের কাব্যময়তার গভীর স্ফুরণ।
আজ পড়ন্ত বিকেলে হাডসন
নদীর ধারে বোর্ডওয়াকে দাঁড়িয়ে
নদীতটের বিপুল শহর উদ্যাপন
করার সময়
যুগান্তরের সেই সুপ্ত ইঁদুরটি
বুক পকেট থেকে লাফিয়ে
বিভুঁই নদীর বুকে হারিয়ে গেল।
[হাডসন রিভার/ তবু বিহঙ্গ বন্ধ করো না পাখা]
একজন পরিপূর্ণ কবি যে বুলান্দ জাভির ইতোমধ্যে হয়ে উঠেছেন- তার স্বপক্ষে অজস্র পাতা ঝরিয়েছে ওই দেবদারু, মেহগনি, মেঘশিরিষ আর ইউক্যালিপটাস। কতো যে দুপুর বৃষ্টিতে গেছে ভেসে কবিতার শব্দের লিরিকে লিরিকে। কতো যে বিকেল জেগে আছে গোধূলির আরক্ত ছায়ায়। ভোরের কুয়াশা ডোবা রানওয়ে থেকে কতো যে বুনোখয়েরি শালিক গ্যাছে উড়ে দূরে দূরারণ্যে- শুধু কবিতার পালক গুঁজে বুকের বাদামি রোঁয়ায়। বুলান্দ জাভিরের কবিতা শুধু কবিতাই নয়। বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্তের জলরঙ ছবি যেনো একেকটা, আর তাই অনস্বীকার্য রূপেই ভোরের মিহিন রোদের অফুরন্ত গুঞ্জরণে উদ্বেলিত হরে ওঠে কবিতার ক্রিসেন্থিমাম। কাব্যগাঁথায় গ্রন্থিত হয় সাহিত্যের থোকা থোকা শব্দগুচ্ছ। থেকে থেকে যেমন প্রকৃতির আদলটা বদলে যায়। একইভাবে ঋতু বিবর্তনের স্পর্শে কবি-আর লেখকের মর্মেও দুলে ওঠে সৃষ্টিশীলতার ফুরফুরে কাগজের নৌকোটাও।
মেলবোর্নের দিঘল সমুদ্রসৈকতে
রেস্তোরাঁর উঠানে একা বসে থাকি।
একটি হলুদ ঝুঁটি সাদা কাকাতুয়া
টিফিনের নিঃসঙ্গ টেবিলে বসে সঙ্গ দেয়
এক চিলতে পিচঢালা পথ
ভাতঘুমে ডুবে থাকা চৈত্রের দুপুরের মতো সুনসান
… আজ মধ্য পঞ্চাশে মেলবোর্নের নির্জন সমুদ্রসৈকতে
… বেল ফুলের কথা মনে এলো।
[মিস্ মেলবোর্ন/ তবু বিহঙ্গ বন্ধ করো না পাখা]
পিয়ানোর ঝংকারের মতো স্পন্দিত হয় কবির হৃৎস্পন্দন। আর অন্তরের ঝাপ্সা বন্দরে ভিড়ে এসে দুরাগত কুয়াশাভারানত নিঝুম স্টিমার।
দিগন্তের জংশনে যখন এসে থামে কবিতা বোঝাই লেট ট্রেন। তখন ওই ট্রেনের কম্পার্টমেন্টের ভেন্টিলেটর থেকে সাই করে দূরে উড়াল দ্যায় ফেব্রিকোর মতো নরোম খয়েরি ফারকোট পরা চঞ্চল শালিক জুটি। ফুটি ফুটি করেও ফোটে না ভোরের অলস রোদ। আর ওই রৌদ্রের বাস্কেট ভরে ওঠে মাইনাস জিরো আওয়ারের অনুষ্ণ সাইবেরিয়ান কনকনে হাওয়ার কুচি। শিকারি পাখিঅলা এক শীতের দুপুর মতিঝিলের ভিড় ভাট্টায় ফুরিয়ে যায় জলেশ্বরীর রেশমি বালিহাঁসগুলোকে আকাশে উড়িয়ে দিয়ে। গগনে মেঘার্ত বিকেল নিভে আসার আগে এক ঝলকঝিলিক দিয়েই মিলিয়ে যাবে সন্ধ্যা তারার বনে। অরণ্যে তখন শীতার্ত সম্বরের মিহিন পদশব্দে জেগে উঠবে ঝরা শিশির ভেজা পাতা আর বনমোরগের লাল ঝুঁটির মুকুটে নড়ে চড়ে বসবে ইস্পাত নীল জ্যোৎস্নার গুঁড়ো। ফরেস্ট বাংলোর গহন পোর্টিকোতে কয়েক পশ্লা দেবদারুর ছায়া বসে মেতে উঠবে সান্ধ্য কফির আড্ডায়। আর অদূরে চন্দ্রাতপ পর্বতরাজির পাদদেশে এক পাল হাতির ভারি শব্দপুঞ্জের গহিনে নেমে আসবে ধূধূ ভয়ার্ত আবেশ। শীতের শীর্ণ নদী পেরিয়ে গিয়ে আবছায়া হাতির পালের সঙ্গে মিলিয়ে যাবে ভীতিকর শীতের মধ্যরাত। পাহাড়ের চূড়োয় মহুয়ার ডালে বসে থেকে থেকে ডেকে উঠবে রাত জাগা নিশুতি হরিয়াল। অরণ্য এমনই এক আবহে আবৃত হয়ে থাকে। আর ডাকে কবিতার পঙ্ক্তিগুচ্ছে, ডাকে ধুলোডোবা মন। আসে কবিতা জুরি গাড়ি করে। বাদামি ঘোড়ার কেশরের মতো আসে চরাচরে কবিতার তুমুল হাওয়া। কবিতা চিত্রকলায়- কখনো জলরঙে, তেলরঙেও আসে অবিশ্রাম। অ্যাব্স্ট্রাক্ট ছবির- মতো। এসে নিজেই যেনো এক প্রস্ত ব্রাশের টানে বোগেনভিলিয়ার মতো ফুটে ওঠে মফস্বল শহরের কোনো শীতকাতুরে কিশোরীর উলের কার্ডিগানে বুলান্দের কবিতার ইশতেহার। কখনোবা হাফিজের শায়রীর নাতিদীর্ঘ লিরিকের মতো মেলোডিয়াস কণ্ঠে ঝরে পড়ে হৃদয়ের পরতে পরতে। কিংবা মির্জা গালিবের বিনম্র ছন্দপুঞ্জের মতো এসে বসে নির্জন রাত্রির তাকিয়ায় হেলান দিয়ে। তখন রোঁয়া ঝরা সকালগুলো ভীষণ স্মার্ট লাগে। লাগে যেনো নিদারুণ ধোপদুরস্ত। যেনো পেভমেন্ট ধরে কোট, টাই, প্যান্ট পরে সামনে কিছুটা ঝুঁকে এদিকেই আসছে কবিতারই এক তরুণ পথতরু। আর সারাদিন ধরে ধুলোডোবা আইল্যান্ডের শেডে বসে এক সুনসান তারা গাইছে গুন-গুন চন্দ্রহারা গান। আর কলতানহীন ধূসর জাম্পার পরা বিকেলগুলো ভেসে যায় বজরার মতো। মাঠে মাঠে ফোটে শিশিরকণার মতো শীতফুল- জোটে কুয়াশার মতো জমাট কিশোরের দল লাটিম আর হিম্ঠাণ্ডা মার্বেলে! এমনই চিত্রকল্পের, উৎপ্রেক্ষার কনসেপ্ট ফোটে কবি বুলান্দ জাভিরের কবিতার নির্জন নার্সারিতে। তার কবিতার প্রধান অনুষঙ্গ যখন হয়ে ওঠে ঋতু-প্রকৃতি। তখন স্বভাবতই এক নিঃসঙ্গ পাখির ছায়ার ভেতর শিশিরের, কুয়াশার, মিহিবৃষ্টির রেণুর অনুযোজনা ঘটে। তার কবিতায় ঝাপ্সা শীত আসে নেমে, আসে রেশমি শরৎ। রঙিন হেমন্ত যেমন এসে বসে ব্রাউন কালারের গাঙ্শালিকের মতো। তেমনি হলুদ বসন্তও এসে যায় দখিনা হাওয়ায় ভেসে ভেসে মর্মরিত ফিউশন জাগা অ্যাপ্লিকের কারুকাজ করা নিবিড় দিনান্তে।
কবি বুলান্দ জাভির আমাদের সময়ের এক উজ্জ্বলতম কবি। চাই তার কাছ থেকে আরো, আরো বর্ণোজ্জ্বল অনর্গল কবিতার অঝোর ফোয়ারা। চাই ধুম্ বৃষ্টির মতো সংবেদনশীল, প্রচণ্ড আধুনিক কবিতার কর্নেট বেজে ওঠা হিরণ্ময় দিন।
যে দিবসের ভেতর দিয়ে বয়ে গ্যাছে খরস্রোতা কবিতার মায়াবী সেগুন সড়ক। আশির দশকের ঔজ্জ্বল্যের এক অবিসংবাদিত কবিতাকণ্ঠ ধারণ করে যে তারাপুঞ্জ, কবিতার শব্দ, পঙ্ক্তি, চেতনায় জ্বালিয়েছেন কবি বুলান্দ জাভির। সেই তারকাবীথির নির্জন উঠোনে তার প্রথম কবিতাগ্রন্থ টুল বেঞ্চি সময়ের জুঁই এর ঝরন্ত সকালগুলো বুলান্দ জাভিরকে চিনিয়ে দিয়েছে কবিতার এক অমিয়-দীর্ঘ রানওয়ে। যে রানওয়েতে নিঝুম-বৃষ্টির মতো কবিতার ক্রিসেন্থিমাম- তিনি অবিশ্রাম ফুটিয়ে চলেছেন।
পাঠক একটু লক্ষ করলে সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন যে- বুলান্দ জাভির কবিতাকে একটা নির্দিষ্ট বৃত্তে আটকে রাখেননি। ভোরের ট্রেনের মতো স্বপ্নের প্লাটফর্ম ছেড়ে যেতে যেতে তিনি ছুঁয়ে গেছেন প্রেম, বেদনাবোধ, অনুতাপের দিগন্ত, কুয়াশার ঝালর, নদী, মাঠ, প্রকৃতি, রাজনীতির ইশ্তেহার, এভিনিউ, স্ট্রিট, ফ্ল্যাটবাড়ি, রৌদ্রের বিষণ্ন অ্যাপার্টমেন্ট, বিকেলের গহিন অন্তর্জ্বালা, রমণীর আটপৌরে ছায়াচ্ছন্ন মুখ, বর্ষণজ্বলা বাড়ির ড্রয়িংরুমে দুরন্ত ফড়িঙের বিমর্ষ স্তব্ধতা, সমুদ্রের গর্জনশীল ক্রন্দন, ট্রেনের হুইসেল জাহাজের ভেঁপু- অতঃপর এক আন্তর্জাতিক আকাশকে কবি বুলান্দ জাভির যেনো ঠিক জর্জেটের রুমালের মতো ভাঁজ খুলে তার কবিতার শুভ্র প্যাগোডার চূড়োয় সযত্নে দিয়েছেন বিছিয়ে। আর তার কবিতার মর্মে যে চিত্রকল্পের মার্বেলগুলো রয়েছে মনিরত্ন রাজির মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে সেসব কৈশোর জাগা রাঙা মার্বেলগুচ্ছ নিদাঘ দুপুরের মতো রেখেছেন তার খয়েরি শালিকরঙ গোধূলি ছোপানো মনের বুক পকেটে লুকিয়ে।
বুলান্দের কবিতাকে ফুঁ দিয়ে কি উড়িয়ে দেয়া যায় প্রজাপতির মতো। ঝরিয়ে কি দেয়া যায় ঝরাপাতার মতো কোনো নিঃসঙ্গ অপরাহ্নে। ফুরিয়েও যায় না বুলান্দের কবিতার কুহকডোবা মন পাখির নরোম পালকের রোঁয়ার মতো। যতদূর চোখ যায় বুলান্দের কবিতার বাইফোকাল ভালোবাসা শুধুই ঝাপসা হয়ে আসতে আসতে আবারও জেগে ওঠে সি-গালের সাদা ডানার মতো। সান্ধ্য আর মেঘলা কবিতাও আছে বুলান্দের। আর ওই কবিতার কমনরুমে শিশিরের মতো জমে হিম্ হয়ে আসা নস্টালজিক নীল বৃষ্টির ঝুঁটির মতো কাঁপতে থাকে তুষারাচ্ছন্ন রাত্রির হৃদয় আকণ্ঠ লজ্জায়। তারপর এক পড়ন্ত গোলাপের গলার ভাঁজে সিল্কের রুপোঝুরি দিনের অশেষ গল্পের মতো থাকে ফুটে। কখনো খুব আনমনে ঝর্ণার মতো ছুটেও যায় বুলান্দ জাভিরের কবিতার সাদা নুড়ি ও কংক্রিট। ইটের সোলিং করা দেবদারু পথে পথে বুলান্দের পাথর কোয়ারি কবিতার ছায়া যায় হেঁটে। হেমন্তের রৌদ্রাঙ্কিত ফিশপ্লেটে ঝরে কি পড়ে বুলান্দের কবিতার হাওয়াডোবা দিন। মস্লিন হীরের নূপুরের শব্দে কি চিত্রা হরিণ যায় ডেকে গহীন অরণ্য থেকে অরণ্যে! আর বুলান্দ জাভিরের কবিতার মিহিন মনোগ্রামে ফোটে মেহগনি! শিরিষের ঝিরিঝিরি সুর তোলে শরৎনীল সন্ধ্যার কারচুপি মেঘের ভায়োলিন। কখনো কখনো ঘুর পথে ফিরে ফিরে আসে টেলিফোন পোস্টের ঝিম্ঝিম মসৃণ শৈশব-বুলান্দেরই কবিতার ছই নৌকোর মতো। আসে গ্রাম, নগর জীবন, প্রিমিও, লংড্রাইভ, সেলফোনে বেজে ওঠা মন। বুলান্দ জাভিরের কবিতাকে আধুনিক থেকে আরা আধুনিকতম করে তোলে নানা অ্যাঙ্গেল থেকে। বুলান্দের কবিতা যেনো জলরঙে আঁকা কোনো ছবি নিবিড় বসন্তের বর্ণোজ্জ্বল প্রহরের! কখনো পোট্রেট, কখনো প্রোফাইল, কখনো, মুহূর্ত এবং কাল পরিক্রমাকে সুনির্দিষ্ট ফ্রেমের আওতায় এনে- দিয়ে যায় চন্দ্রিল ক্ল্যাপ্স্টিক। আর ওই ক্ল্যাপ্স্টিকের বর্ণিল দিবসগুলোকে কোমল আর কোমার্যের সুতোয় করে রেশমি বুনন এমনই মন কেমন করা বুলান্দের কবিতা। কবি বুলান্দ জাভিরের প্রকাশিত সাতটি কাব্যগ্রন্থের বৈশিষ্ট্যের আর্শিতে চোখ রাখলে দেখা যাবে যে- ওই আর্শির মর্মে সাতটি কবিতাগ্রন্থেই কবি বুলান্দ জাভির কবিতাকে ভিন্ন আমেজ আর ভিন্ন ইমেজের ডিসপ্লেতে নিপুণভাবে সন্নিবেশিত করেও কবিতাকে আপামর এক অন্তহীন ছন্দের গ্রাফশিটে সাজিয়েছেন নিখুঁত নির্দেশনায়। অতলান্তিকতার নির্বিশেষ মার্জিনে থেকেও যে এক অবিনশ্বর দুলুনি পাঠকের মনোজগতে দেয়া যায়- বুলান্দ জাভির তার কবিতায় ওই কাজটিই করেছেন নিরন্তর আত্মমগ্ন আবেশের চূড়োয় বসে।
বুলান্দের কবিতাকে কখনো কোনো পড়ন্ত দুপুরেও যায় পাওয়া লাল ঝাউফুল ফোটা নির্জন হাওয়ার কন্ফারেন্সে। বৃষ্টির কার্নিভাল আর লাজুক ট্রেনের ব্যুফকারে মুখোমুখি টেবিলে বসা চন্দ্রাতপ্ ভোরের মতো। কবিতাকে এভাবেই জীবন ও স্বপ্নের ক্যানভাসে এঁকে চলেছেন কবি বুলান্দ জাভির। আর নীলাঞ্জন মেঘের ড্রয়ারে রাখছেন তুলে কবিতার রত্নরাজিবীথি কৈশোরের বিজন দুপুরের মতো। নিঃসঙ্গ কোনো নয়ানজুলির জলে কাগজের নৌকোর মতো দিয়েছেন ভাসিয়ে- ভালোবাসা- বেদনার সিম্ফনি জ্বেলে।