
জীবনের মতো সাহিত্যও বহমান। জীবন ও জগতের পরিবর্তন ও বিবর্তন সময়ের সঙ্গে চলমান। জীবনের এই গতিশীলতা পৃথিবীকে সার্বক্ষণিক বাঁচায় ও সামনের দিকে এগিয়ে নেয়। পথে পথে বাধা-বিপত্তি, সংকট-সংঘাত, বিপর্যয়-পতনের পরও জীবন জেগে থাকে এবং আশায় ও উদ্দীপনায় নতুন সৃষ্টির পথ নির্মাণ করে। এভাবেই মানব সভ্যতার বিনাশ ও জাগৃতি জগতে প্রাণের সঞ্চার ঘটায়।
বাংলার ঋতু আবর্তনে প্রকৃতির রূপ-রূপান্তর ঘটে। বর্ষার পর শরতের আগমন নিসর্গে নিয়ে আসে নতুন আবহ। মাঠে ফসলের গুঞ্জরণ; আকাশে-দিগন্তে সাদা মেঘের সাঁতার, ভরা নদী-জলাশয়ে ঢেউয়ের আনন্দ, সকালে সবুজ ঘাসে শিশিরের কান্নায় শুভ্র শিউলির সিগ্ধতা এবং জীবনে আশার বসতি গড়ার প্রত্যয় লক্ষণীয়। অবশ্য নাগরিক জীবনে এসবের ছোঁয়া খুব কম। তবু একটা প্রভাব অগচরে কাজ করে। বাংলার শরতের ভিন্ন এক রূপ এঁকেছেন কবি জীবনানন্দ দাশ।
চলতি সংখ্যায় নোয়াম চমস্কির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার থাকছে সাফি উল্লাহর অনুবাদে। চলমান বিশ্ব-সংকট, সাম্রাজ্যবাদ, রাজনীতি-বিশ্বায়ন-উপনিবেশের মতো সমসায়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চিন্তাবিদ ও ভাষাবিদ নোয়াম চমস্কি। আহমদ ছফার ‘শতবর্ষের ফেরারি : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়’ প্রবন্ধটি সাহিত্যসমাজে জনপ্রিয় ও প্রভাববিস্তারি একটি লেখা। এই সংবেদনশীল রচনার পুনর্বিচার করেছেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। আশা করি পাঠক নতুন তথ্য ও চিন্তার খোরাক পাবে এখান থেকে। অন্যান্য প্রবন্ধ লিখেছেন সরকার মাসুদ, মোজাফফর হোসেন, তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী, মুহম্মদ জসীম উদ্দিন, ইলিয়াস বাবর ও শাহাদাৎ সরকার।
বর্তমান সংখ্যায় ছোটগল্প লিখেছেন মণিশ রায়, রুুহুল আমিন বাচ্চু, আবু নোমান, মঈন শেখ ও আশিক বিন রহিম। গল্পগুলোতে আমাদের জীবনের নানা মাত্রিক অভিজ্ঞতার শিল্পভাষ্য পাওয়া যায়। পাঠকের রসবোধে তৃপ্তি নিয়ে আসবে আশা করা যায়। বিশ্বসাহিত্যে নোবেলজয়ী সত্য প্রয়াত ভিএস নাইপলের সাহিত্যকীর্তি নিয়ে আহমদ মতিউর রহমান এবং ফরাসি কবিতায় সুরিয়ালিজম নিয়ে শাহরিয়ার সোহেল লিখেছেন দুটি মূল্যবান প্রবন্ধ। অন্য দিকে আফগানিস্তানে ভ্রমণ করে কান্দাহারের চিলজিনা, কফি হাউজ ও দুররানীর সমাধির চিত্ররূপময় বিবরণ দিয়েছেন মঈনুস সুলতান। আবৃত্তি সম্রাট কাজী সব্যসাচী ইসলাম সম্পর্কে জানা যাবে সৈয়দ আল জাবের আহমেদের লেখায়। গুচ্ছকবিতা লিখেছেন তিনজন কবি : মুকুল চৌধুরী, শাহীন রেজা ও পলিয়ার ওয়াহিদ।
এছাড়া নিয়মিত বিভাগগুলো থাকছে। সেখানেও নতুনত্ব ও বৈচিত্রের সমাহার ঘটানো হয়েছে।
এই শরতে সকলের মাঝে শুভ্রতা ও সজীবতা জাগ্রত হোক- এই শুভ কামনা রইলো।